গল্পের জাদুর দেশে হারিয়ে যাক আপনার সন্তানের শৈশব

শৈশব মানে কি কেবল গাদা গাদা স্কুলের বই আর পরীক্ষার খাতার নম্বর?

একদম না। শৈশব মানে তো এক পকেট ভর্তি বিস্ময়, আর দুপুরে গাছের ছায়ায় বসে জাদুর জগতের স্বপ্ন দেখা। কিন্তু আজকের দিনে সেই জাদুর জগতটা কেমন যেন ফিকে হয়ে আসছে। আমাদের সোনামণিদের দুপুরের আনন্দ এখন বন্দি মোবাইলের নীল আলোয়, আর গেমের নেশায়। অভিভাবক হিসেবে আমরা হয়তো পরীক্ষার খাতার কম নম্বর দেখে ভয় পাই, আর তাই ভুল করে সন্তানের কল্পনার ডানাগুলো আলমারিতে তালা দিয়ে রাখি।

মাসুম বিল্লাহর নতুন গল্পগ্রন্থ ‘পালাবে হালুম’ এ লেখক এখানে কেবল গল্প বলেননি, বরং বাচ্চাদের বন্ধু হয়ে তাদের মনের গহীনে উঁকি দিয়েছেন।
এই বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে এমন সাতটি জাদুর পৃথিবী, যা আপনার সন্তানকে মোবাইলের জগত থেকে টেনে আনবে শব্দের ঘ্রাণে।

কী আছে এই বইয়ের ভেতর?

তিতলি মেয়েটা খুব অলস। তার পড়ার টেবিলে বই-খাতা সব এলোমেলো। কিন্তু সে নিজেই নিজেকে ‘ক্রিয়েটিভ জোন’ বলে চালাকি করে! সেই তিতলির ঘরের খাটের নিচে যখন ‘আইলসা ভূত’ এসে হানা দেয়, তখন কী হয়? তিতলি কি তার অভ্যাস বদলাতে পারে? এই গল্পটা পড়ে আপনার ঘরের ছোট্ট অলস সোনামণি হয়তো নিজেও হেসে খেলে ঘর গোছাতে শুরু করবে।

আবার দেখুন, ইহানের কথা। সে রাতে ঘুমাতে চায় না, ঘুমকে সে সময় নষ্ট মনে করে। তারপর এক রাতে সে ঘুমের দেশে হারিয়ে যায়। সেখান থেকে ইহান কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল? রাতের বেলা যারা ঘুমাতে ভয় পায়, তাদের জন্য এই গল্পগুলো যেন এক একটি অভয়ারণ্য।

কিংবা ধরুন, চিড়িয়াখানার সেই ছোট্ট বাঘ ‘হালুম’। সে যখন মাকে প্রশ্ন করে, ‘মাম্মি, আমরা কেন খাঁচায় বন্দি?’ তখন আমাদের মতো বড়দের বুকটা কেঁপে উঠবে। শিশুর এই সরল প্রশ্নগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পৃথিবীটা কেবল মানুষের নয়, সবার।

অভিভাবকদের প্রতি একটি ছোট্ট অনুরোধ, সন্তানকে গল্পের বই উপহার দেওয়া মানে তাকে কেবল একটি বস্তু দেওয়া নয়, বরং তার জন্য এক আকাশ সমান নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়া। যে শিশু কল্পনা করতে জানে না, সে তো সৃজনশীল হতে পারে না।

এই বইটা আপনার সন্তানের পড়ার টেবিলে থাকলে, সে কেবল শব্দ শিখবে না, শিখবে মায়া করতে, শিখবে অলসতাকে জয় করতে, আর শিখবে স্বপ্ন দেখতে।
আসুন না, ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে, সন্তানদের ফিরিয়ে আনি বইয়ের পাতায়। শব্দের জাদুতে ওদের সময় কাটুক সুন্দরভাবে। বইয়ের স্পর্শে শৈশব হয়ে উঠুক প্রাণবন্ত।
মাসুম বিল্লাহর লেখা এই গল্পগুলো আজকের অস্থির সময়ে শিশুদের মনে প্রশান্তির ছোঁয়া পৌঁছে দেবে।

স্ক্রিনের নীল আলো নয়, বইয়ের রঙিন দুনিয়াতেই বেড়ে উঠুক আমাদের সোনামণিরা।

লেখক : অরিত্র অর্ক

আরও পড়ুন