শব্নম্ ইয়াসমিন এর তিনটি কবিতা

মেঘালাপ
মনের মধ্যে হরেক রকম মেঘ জমে যে কত,
সে মেঘ থেকেই বৃষ্টি ঝরে শ্রাবণ ধারার মতো।
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শেষে মনের আকাশ ফাঁকা,
লাল মলাটের অঙ্ক খাতায় ঘুড়ির ছবি আঁকা।
আঁকতে যদি ভালোবাসো, আঁকলে না হয় ছবি,
সারাদিনের ক্লান্তি শেষে মাথার পাশে রবি।
ছোট্ট একটা জীবন রে ভাই, তাতেই এত মানা,
আছে আবার সমাজ নামক হানাদারের হানা।
তাইতো বলি, এসব ছেড়ে মনের সুখে বাঁচো,
কজন তোমার খোঁজ রাখে গো, তুমি কেমন আছো?
এমন করেই চলবে জীবন যেমন করে চলে।
নিন্দুকেরা চিরটা কাল মন্দ কথাই বলে।
সেসব কথায় কান দিলে যে পুরো জীবন মাটি।
নিজের জীবন নিজের হাতেই বানাতে হয় খাঁটি।
প্রত্যক্ষণ
রক্তের টানও ফিকে হয়ে আসে সময়ের ব্যবধানে।
চাঁচা-ছোলা যত অপ্রিয় সত্য, মন কি সহজে মানে?
মানে না বলেই কবিতারা আসে, দু পয়সা তার দাম।
সমাজের গড়া মাপকাঠি দিয়ে মাপিনা কারোর নাম।
ভালো’র তকমা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে হেঁটেছি খানিক পথ।
বাকি পথখানা পাড়ি দিতে গিয়ে শুধু থাকি যেন সৎ।
পরিবার থেকে ব্যালট বাক্সে প্রতিবাদ জেগে থাক।
মানচিত্রের কোনায় কোনায় সততারা জিতে যাক।
অনিত্য
সময় বড় বেয়াক্কেলে, ধার সে কারোর ধারে না,
মানুষ শত হিসেব কষেও তার সাথে ঠিক পারে না।
পারার কথাও সবটা তো নয়, না পারারাও সঙ্গী হয়,
বিফল হলেই ব্যর্থ জীবন, এটাও কিন্তু সঠিক নয়।
সঠিক-বেঠিক এসব হিসেব শেষ হবে না কোনদিন,
জীবনও তো একটারে ভাই, সেও তো নয় অন্তহীন।
তাই জুড়ে থাক স্মৃতির পাতায় রংবেরঙের ছবির সারি,
মুহূর্তদের সঙ্গী করেই আমরা যেন বাঁচতে পারি।
শব্নম্ ইয়াসমিন : কবি
