নজরুল শিল্পী ও গবেষক সোমঋতা মল্লিককে শিলচরে সংবর্ধনা

ভারতের শিলচরের কাছাড় কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন সমিতি কলকাতার ছায়ানটের সভাপতি, নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও গবেষক সোমঋতা মল্লিককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

কাছাড় সমিতির উদ্যোগে শিলচরের ঐতিহ্যবাহী গান্ধীমেলা ও প্রদর্শনীতে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিরল চিত্র প্রদর্শনী কক্ষে গত ২৯ মার্চ, শনিবার সন্ধ্যায় এক ছিমছাম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। সমিতির সভাপতি শিহাবুদ্দিন আহমদ তাঁকে উত্তরীয় ও ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। সঙ্গে তাঁর মা ছায়ানট সদস্য সুরূপা মল্লিকে উত্তরীয় দিয়ে সম্মান জানান উপদেষ্টা প্রাক্তন অধ্যক্ষ দীপংকর চন্দ।

পরে নজরুল গবেষককে নিয়ে এক মত বিনিময় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। উদযাপন সমিতির কয়েকজন সদস্য এবং নজরুলের বিরল চিত্র সংগ্রাহক মশহুরুল বারী(সুমিত)ও উপস্থিত ছিলেন। নজরুল জীবনের বিরল প্রদর্শনী দেখে নজরুল গবেষক সোমঋতা নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, গত সতেরো বছর ধরে কলকাতার বুকে ছায়ানট গঠন করে কাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে আমাদের সংগঠন। আসমের শিলচরে নজরুল প্রেমীরাও সংগঠিতভাবে কাজ করার খবর পেয়ে তিনি শুধু এই প্রদর্শনী এবং নজরুল প্রেমীদের সাথে পরিচিত হতে এখানে ছুটে এসেছেন। তাঁর এই অঞ্চলে আসার আরও একটা কারণ নজরুল ইসলাম ১৯২৬ সালে গৌহাটী – বদরপুর – কুলাউড়া হয়ে সিলেট ভ্রমন করেছিলেন। কাজী নজরুল এখানে কী কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সে তথ্যও যোগাড় করাও সফরের উদ্দেশ্য। এখানে এসে চিত্র প্রদর্শনী আয়োজক সমিতির কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ। এরজন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান এবং তাদের সংগঠনের নজরুল ও দেশবন্ধুর বাণী ও চিত্র সংবলিত একটি টেবিল ক্যালেন্ডার আয়োজক সংস্থার সভাপতি শিহাবুদ্দিন আহমদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন।


এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, কলকাতার নজরুল প্রেমীদের সংগঠন ২০০৮ সালের মাঝামাঝি পথচলা শুরু করে। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা এক হাজারের অধিক। শুধুমাত্র কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী কিংবা প্রয়াণ দিবস পালন নয়, সারা বছর ধরেই তারা নজরুলের সৃষ্টি নিয়ে চর্চা করে থাকেন। প্রতিবছর কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও প্রতিমাসে বৈঠকী আড্ডা,সেমিনার ইত্যাদি আয়োজন করা হয়ে থাকে। উদ্দেশ্য নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে আরও বেশি করে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। ছায়ানটই কলকাতায় প্রথম শুরু করে নজরুল মেলা। এছাড়া হায়দ্রাবাদেও নজরুল উৎসবের আয়োজন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ উর্দু একাডেমিতে ১৪ টি ভাষায় নজরুল কবিতা উৎসবের আয়োজন করেছিল ছায়ানট। নজরুল স্মৃতিবিজড়িত জায়গাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নজরুল প্রেমীদের অবগত করাও ছায়ানটের কার্যক্রম বলে জানান সোমঋতা।

আলিপুর জেল মিউজিয়ামে ছায়ানট কলকাতার উদ্যোগে নজরুল কক্ষ নির্মাণ,নৈহাটি স্টেশনে নজরুল স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন,নজরুল স্মৃতিবিজড়িত গ্রেস কটেজে বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদযাপন ছাড়াও নবদ্বীপে নজরুল স্মৃতিকে সকলের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্য নিয়েই ছায়ানটের উদ্যোগে রাধা মদনমোহন জিউর মন্দিরে নজরুল স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় নজরুলের জীবন ও সৃষ্টি সম্পর্কিত ১৩ টি অডিও অ্যালবাম তৈরি করেছে ছায়ানট সংস্থা। এমনকী নজরুলের জন্মস্থান চুরুলিয়ার ওপর একটি ৫৫ মিনিটের তথ্যচিত্র তৈরি করেছে সংস্থা।


এদিনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ১২৫ তম নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন কমিটির কর্মকর্তা শিক্ষাবিদ সুব্রত নাথ,দীপংকর চন্দ,মিলন উদ্দিন লস্কর,মশহুরুল বারী,তমোজিৎ সাহা,ভবতোষ চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উৎসব উদযাপন আয়োজক সমিতি আগামী ১ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় শিলচর প্রেমতলার দ্বিজেন্দ্র -ডলি ভবনে নজরুল গবেষক সোমঋতা মল্লিককে নিয়ে এক আড্ডারও আয়োজন করা হয়েছে।

মিলন উদ্দিন লস্কর, শিলচর, ভারত

আরও পড়ুন