বাবা

শীতের রাত। হু হু করে বাতাস বইছে, রাস্তার দুপাশে পিঠা খাওয়ার জন্য জনতার উৎসুক ভিড়! এই ছাড়া লোকজন নেই বলেই চলে। শহরটা নির্জন।
আমি আর বাবা রিকশায় চেপে বসলাস। আমি যবুথবু হয়ে, বাবা তার প্রসস্থ চাদরটা দিয়ে আমাকে আড়ষ্ট করার চেষ্টায় রিকশা এগিয়ে চলে, যেন ঠান্ডা না লেগে যায়।
আমাদের রিকশা চলছে একটা প্রশস্ত রাস্তায়। বড় বড় গাড়িগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে দিতে। ল্যাম্পপোষ্টের আলো গা ছুঁয়ে পেছনে সরে যায়।
আমার চোখে নতুন চশমা। দূরের বস্তু স্পষ্ট থেকে আরো স্পষ্ট হচ্ছে। পেছনে ফেলে আসা লোকজন, বাড়িঘর, গল্প যেন চোখের সামনে অস্পষ্ট লাগছে। একটা গুণেধরা জীবনের ধামাচাপা গল্পের মতো।
আমি রাতের আকাশে তারা খুঁজি, তারা নেই। রঙটাও কী ধূসর নাকি নীল বুঝতে পারলাম না। আমি ভাবতে থাকি, এত বড় আকাশ পৃথিবীকে চাঁদরের মতো ঢেকে রেখেছে অথচ সে একা।
আমাদের রিকশা আরও সামনে এগিয়ে চলছে, বাবা রেডিও শুনছেন, মিহি স্বরে রেডিওতে একটা গান বাজছে,‘জানে ও কাইসে লোগো কো যিনকে, পেয়ার কো পেয়ার মিলা।’
রিকশা ধীরে ধীরে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে থাকে!
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হয়তো কোনো ঘর নয়, কোনো শহর নয় বাবার নিঃশব্দ উপস্থিতি।
বছর পেরিয়ে যায়, শীতের রাতগুলোও ফুরিয়ে যায়। শুধু কিছু দৃশ্য থেকে যায় রিকশার টুংটাং শব্দ, রেডিওর মিহি সুর, আর আমার কাঁধে বাবার চাদর।
হয়তো ভালোবাসা এমনই। খুব জোরে নিজের কথা বলে না, শুধু শীতের রাতে নিঃশব্দে একটা চাদর হয়ে পাশে থাকে।
শীতের রাতের সেই চাদরের উষ্ণতার মতো, পৃথিবীর সব বাবার ভালোবাসা অটুট থাকুক।
