রেজাউদ্দিন স্টালিনের তিনটি কবিতা

নামতা
আষাঢ় গেল শ্রাবণ এলো,
জীবন তবু এলোমেলো।
ভাদ্রে ভাবি ঠিক হবে সব,
আশ্বিনে ঘর-জানলা নীরব।
কার্তিকে নেই কহুকেকা,
অগ্রহায়ণে দায় যে টেকা।
পৌষে ভাবি উষ্ণ হবো,
মাঘ এসে কয় জাড় তাড়াবো।
ফাল্গুনে ফুল ফুটল বলে,
চৈত্র রাগে উঠল জ্বলে।
বৈশাখে বুক ভাঙে ঝড়ে,
জৈষ্ঠ্য দুখের নামতা পড়ে।
ওরা বাড়ি ফিরছিলো
ওরা বাড়ি ফিরছিল
কখনো দৌড়ে কখনো হেঁটে
একটা বিষাদ-নদীর বুক চিরে
এগুচ্ছিল
অনেকদূর কিন্তু ওদের মনে হলো
কত কাছে
পৃথিবীর বিখ্যাত সব শহর থেকে স্মৃতিস্বপ্নের
ঝুড়িভর্তি শব্দ নিয়ে ছুটছিল
পেছনে পারমাণবিক চুল্লী
সামনে বজ্রনারীর নৃত্য
মাঝে মাঝে ফণা তুলছে ঢেউ
ভ্রুক্ষেপহীন দৌড়ে বাড়ি ফিরছিল
বুকের মধ্যে লুকানো সেই অমূল্য
ঘরে ফেরার খাতা
স্বাধীনতার গানে ভরা পৃষ্ঠা
পৃথিবীর সমান দামী
দীর্ঘশ্বাসে দৌড়াচ্ছে ওরা
কখনো বুক দিয়ে দৌড়াচ্ছে কখনো হামাগুড়ি দিয়ে
সামনে দিগন্তের পর্দায় ভেসে উঠছে
শত বছরের গ্লানি আর লজ্জার ছায়াছবি
ঝাপসা হয়ে যায় চোখ
মাতৃভূমি প্রিয় মাতৃদেশ অন্ধকারে
কবিতার জোনাক সাক্ষী
ওরা বাড়ি ফিরছিলো একা
দান্তে যেভাবে ফিরেছিলো ফ্লোরেন্স থেকে পিতৃভূমিতে
মধুসূদন প্যারিস থেকে কলকাতায়
লোরকা নিউইয়র্ক থেকে আন্দালুসিয়ায়
সেজেয়ার ফ্রান্স থেকে মার্তিনিকে
ওরা বাড়ি ফিরছিল কত বছর ধরে কেউ জানে না
একটা অসীম মাথায় নিয়ে ফিরছিল ওরা
নক্ষত্রের উপর পা ফেলে ফেলে
হয়তো একশো বছর
কিংবা তারও কিছু বেশি সময়
বাড়ি ফিরছিল
একটা আগুন-নদীর বুকচিরে
একটা বরফ-নদীর বুক চিরে
একটা রক্ত-নদীর
এক হাজার এক রাত্রি
ও মেয়ে শান্ত
তার স্তব্ধতায় ভরে যায় হৃদয় সৈকত
ধীর গতি দীপ্তি মেলে সে দেখে
অবিশ্রান্ত সবুজ
ঘুরে ঘুরে মরে যায় মৌমাছি
স্তনের অগ্নিশিখায়
স্বচ্ছতোয়া ঝর্ণা নামে হাসির ছটায়
অবুঝ নক্ষত্র যত
পদতলে আত্মাহুতি দেয়
চুলের রহস্য নিয়ে ক্রমে ক্রমে
পেকে ওঠে আরব্য রজনী
ভ্রু পল্লবে ভোর আত্মস্থ করে
সোনার আবহ
এক হাজার এক রাত্রির ম্যারাথনমগ্ন গল্প অনিঃশেষ থাকে
ও মেয়ের প্রতিটি মৌনতা মৃত্যু ডেকে আনে
