মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যে প্রথাবিরোধিতা, ব্যক্তি স্বাতন্ত্র‍্যবাদ ও দ্রোহ

৪.
রেনেসাঁর প্রধান বিষয় হলো মানবতাবাদ এবং ব্যক্তি স্বাতন্ত্র‍্যবাদ। মধ্যযুগীয় সাহিত্যে মানুষ ছিল দেবতার হাতের পুতুল। দেবতারা ক্রুদ্ধ হলে মানুষের পতন হতো, দেবতারা সন্তুষ্ট হলে মানুষের মঙ্গল হতো। মধুসূদন দত্ত এই দৈবশক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিকে জয়যুক্ত করেন।

মেঘনাদবধ কাব্য-এর প্রথম খণ্ডে দেখা যায়, লঙ্কার রাজা রাবণ সিংহাসনে বসে আছেন। কিন্তু তিনি কোনো পৌরাণিক রাক্ষস নন, তিনি একজন শোকার্ত পিতা, এক মহান রাজা। বীরপুত্র বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদে তিনি ভেঙে পড়েছেন। রামায়ণের খলনায়ক রাবণকে মধুসূদন তাঁর কাব্যে ‘ট্রাজিক নায়ক’ হিসেবে চিত্রিত করেন। রাবণ এখানে নিয়তির বিরুদ্ধে লড়াই করা এক অনন্য ব্যক্তি; যিনি জানেন তাঁর পরাজয় নিশ্চিত, তবুও তিনি মাথা নত করেন না।

প্রাচীন ভারতীয় আর্য সমাজে নারীর স্বচ্ছন্দ ও স্বাধীন অবস্থান ছিল। উনিশ শতকে নারীচরিত্র চিত্রণে মধুসূদনের যে দৃষ্টিভঙ্গি তা বিশেষভাবে আধুনিক চিন্তার পূর্বসূত্র। নারীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠায় মধুসূদন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মধুসূদনের কাব্যেই প্রথম নারীকে ব্যক্তি মানুষ ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যরূপে উপস্থিত হতে দেখা যায়।

উনিশ শতকে নারীচরিত্র চিত্রণে মধুসূদনের যে দৃষ্টিভঙ্গি তা বিশেষভাবে আধুনিক চিন্তার পূর্বসূত্র। নারীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠায় মধুসূদন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। উনিশ শতকের নবজাগরণের প্রেক্ষিতে সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মধুসূদনের সামাজিক ও নারীমুক্তি আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটাতে দেখা যায়। তিনি পরাধীন পরিস্থিতির ভেতরেও একটি স্বতন্ত্র “আমি” নির্মাণ করেন, যার নাম ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র‍্যবাদ। মধুসূদনের সৃষ্টিকর্মে নারী চরিত্রগুলো কেবল পুরুষের অনুগামিনী বা অবলা নয়; তারা তীব্র আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাধীনচেতা। মধুসূদনের কাব্য থেকে তা অনুসন্ধান করা যায়। যেমন ‘মেঘনাদবধ কাব্য’র নারী চরিত্রে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য লক্ষণীয়। এ কাব্যে প্রমীলা চরিত্রের মূলতত্ত্ব হচ্ছে নারীর স্বাধীনতা অর্জন ও ব্যক্তিত্ব লাভের তত্ত্ব। প্রমীলা সেই নারী যে পুরুষের সব কর্মের সঙ্গিনী। আবার আপন স্বাতন্ত্র্য মহিমাতেও উজ্জ্বল। এ কাব্যে প্রমীলার উচ্চারিত বাণী :

দানব নন্দিনী আমি; রক্ষঃ-কুল-বধূ
রাবণ শ্বশুর মম, মেঘনাদ স্বামী,                              
আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?         
(তৃতীয় সর্গ : মেঘনাদবধ কাব্য, ১৮৬১)

আবার চিত্রাঙ্গদা কেবল স্নেহাতুরা জননী নয়, উপেক্ষিতা রাজমহিষী, অন্যায়-অসহিষ্ণু, অনাচার-পীড়নপীড়িত স্বাধীন নারী-হৃদয়ের অধিকারিণী। চিত্রাঙ্গদা মেঘনাদবধ কাব্য-এ কেবল রাজমহিষীই নয়, সে অধিকারবোধ ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যে উজ্জ্বল। মেঘনাদবধ কাব্য-এ সীতা চরিত্রে ভারতীয় মাতৃরূপে তা প্রকাশিত হয়েছে। সীতা সেই চিরকালীন বাঙালি নারী যার হৃদয়ে সমবেদনা, করুণা, সহানুভূতি প্রতিনিয়ত উৎসারিত হয়েছে। ‘বাল্মীকির হাতে সীতা মানবী হয়েও দেবী। অপরদিকে মধুসূদনের হাতে সীতা দেবী হয়েও মানবী। ‘বীরাঙ্গনা কাব্যে’ পৌরাণিক নারীচরিত্রদের কণ্ঠস্বর তিনি এমনভাবে নির্মাণ করেন, যেখানে নারী কেবল পুরুষের অনুগামী নন; তিনি নিজের দাবি, দুঃখ, আশা, অভিমান ও নৈতিক অবস্থান প্রকাশ করেন। কাব্যের শকুন্তলা, তারা, দ্রৌপদী, দময়ন্তী, জনা-প্রত্যেকেই এখানে প্রথাগত মৌনতা ভেঙে নিজের কাম, প্রেম, ক্রোধ এবং অধিকারের কথা সশব্দে উচ্চারণ করেছে।

‘লক্ষ্মণের প্রতি সূর্পণখা’ পত্রে সূর্পণখা রাক্ষসী সূর্পণখা নয়, মাইকেলের হাতে এ সূর্পণখা রাজনন্দিনী। মানবীয় অনুভূতিতে-স্নেহ-প্রেম-ভালোবাসায় তার হৃদয় পূর্ণ। আবার স্বামীর বিরুদ্ধাচারণ হিন্দুধর্মে নিষিদ্ধ। কিন্তু কেকয়ী স্বামীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছে।

ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)-এ রাধা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বপূর্ণ নারী। এ কাব্যে কৃষ্ণের বিবাহিতা পত্নী রাধা, পত্নী প্রেমিকার সম্মিলিত রূপ। নারীর প্রতি মধুসূদনের যে স্বাভাবিক অনুভূতি, স্বতঃস্ফূর্ত সমবেদনা তা নিয়েই তিনি রাধাচরিত্র অঙ্কন করেন।এ চরিত্রের মাধ্যমে মধুসূদন অসামাজিক প্রেমকে সামাজিক আকার দেন। উনিশ শতকের বাংলায় নারী চরিত্রের এই মনস্তাত্ত্বিক, শারীরিক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিবেশ সৃষ্টি মধুসূদনের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র‍্যবাদের বহিঃপ্রকাশ।

৫.
মধ্যযুগের কবিগণ শুধু ভক্তদের জন্য কবিতা রচনা করেন। ভক্তরাও নতুন কিছু প্রত্যাশা করে না। তাঁদের রচনায় মানুষের স্থান একান্ত গৌণ, দেব-দেবীর কথাই মুখ্য। সেখানে মানুষ চরিত্র থাকলেও মানুষগুলো ছিল দেবতাদের হাতের ক্রীড়নক। উনিশ শতকের নবজারণের ফলে মধুসূদন আধুনিক কবিতায় এই ধারণা বদলে দেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি কেবল সাহিত্যে বিদ্রোহ করেননি, তাঁর জীবনযাপনও ছিল প্রথাবিরুদ্ধ, যার নাম দ্রোহ এবং তা বিশ্বরূপ ধারণ করেছে। মধুসূদনের দ্রোহ বহুমাত্রিক, যেমন সামাজিক, নান্দনিক, ভাষাগত, এবং আত্মপরিচয়গত। সমাজের বর্ণাশ্রয়ী রক্ষণশীলতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, ভণ্ড নৈতিকতা, এবং সাহিত্যিক জড়ত্ব সবকিছুর বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। তাঁর এই দ্রোহ সমাজ ও সমাজের ব্যক্তিকে আঘাত করে।

উনিশ শতকের রেনেসাঁসের সার্থক প্রতিনিধি ডিরোজিওর ভাবশিষ্য মধুসূদন। এ রেনেসাঁসের প্রধান প্রত্যয় মানবতাবাদ। মধুসূদনের সৃষ্টিকর্মে এ মানবতাবাদ সমহিমায় প্রতিষ্ঠিত। মেঘনাদবধ কাব্য’র কাহিনি রামায়ণ থেকে গৃহীত হলেও আধুনিক বিপ্লবী মানসে এ কাব্যে মধুসূদন প্রচলিত নিয়মকানুনের বিরোধিতা করে নতুন জীবনভাবনা ও জীবনদর্শনের কথা বলেন। এ কাব্যে মধুসূদন মৃত্যুর চেয়ে জীবনকে, জরার চেয়ে যৌবনকে, দৈবশক্তির চেয়ে মানবীয় শক্তিকে, মোক্ষলাভের চেয়ে মুক্তিপিপাসাকে বড় করে তুলে ধরেন। মধুসূদনের দৃষ্টিতে পাপাচারী রাবণও মানুষের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। তার ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বিচিত্র ও বহুমুখী। রাবণ বীর ও সাহসী পুরুষ, দেশের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। হারানো শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য শত্রুর বিরুদ্ধে সে লড়ে গেছে। আবার রাবণ লঙ্কার শ্রীহীন অবস্থা দেখে বিমর্ষ হয়ে পড়ে :

কি সুন্দর মালা আজি পরিয়াছ গলে,
প্রচেতঃ!   
(প্রথম সর্গ : মেঘনাদবধ কাব্য)

মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য-এ দ্রোহ এভাবে গভীর হয়ে ওঠে। তাঁর রাবণ, মেঘনাদ, প্রমীলা চরিত্র কেবল বিরুদ্ধপক্ষ নয়; এরা একটি বিকল্প নৈতিক জগতের প্রতিনিধি। এ কাব্যে মধুসূদন রামচন্দ্রের তথাকথিত ‘ধর্মসংস্থাপন’-এর মুখোশ খুলে দেন এবং রাবণের দেশপ্রেম ও মেঘনাদের বীরত্বকে মহিমান্বিত করেন; যা সেকালের সনাতন হিন্দু সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাসের মূলে এক বিশাল দ্রোহ।

মধুসূদনের দ্রোহ কেবল মহাকাব্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সেকালের কলকাতার সমাজেও এর পতিফলন লক্ষণীয়। উনিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে বাংলা নাট্যক্ষেত্রকে কুনাটকের কবল মুক্ত করেন মধুসূদন দত্ত। কলকাতায় নাটকের স্বাদ সংস্কৃত নাটক অনুবাদ ও অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মিটানো হচ্ছিলো। ১৮৫৮ সালে পাইকপাড়ার জমিদার সিংহদের বেলগাছিয়া রঙ্গমঞ্চে রামনারায়ণ তর্করত্ন অনূদিত ‘রত্বাবলী; অভিনয়ের আমন্ত্রিত মধুসূদন বাংলা নাটক সম্বন্ধে হতাশ হয়ে পড়েন এবং নিজেই নাটক লেখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ অবস্থায় তিনি দুঃখ করে লেখেন : “অলীক কুনাট্য রঙ্গে/ মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/ নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” এভাবে মধুসূদন নিজেকে সফলভাবে বাংলা নাটকের সঙ্গে যুক্ত করেন।  ‘একেই কি বলে সভ্যতা?’ (১৮৬০) প্রহসনে তিনি ‘ইয়ং বেঙ্গল’ দলের মদ্যপান, বেশ্যাগমন এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণকে তীব্র ব্যঙ্গ করেছেন। নবশিক্ষিত যুবকদের স্বাধীনতার নামে উশৃঙ্খলতাকে তিনি রেহাই দেননি। ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ (১৮৬০) প্রহসনে তিনি গ্রামীণ সমাজের ভণ্ড, কামুক এবং রক্ষণশীল জমিদার ‘ভক্ত প্রসাদ’-এর চরিত্র উন্মোচন করেছেন। একদিকে মুখে হরিনাম এবং গঙ্গাজলের পবিত্রতা, অন্যদিকে দরিদ্র মুসলিম প্রজাকন্যা ফাতেমার ওপর কুদৃষ্টি-তৎকালীন কুলীন হিন্দু সমাজের এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে এটি ছিল এক শক্তিশালী সামাজিক দ্রোহ। ফলে রাজা প্রতাপচন্দ্র সিংহ ও রাজা ঈশ্বরচন্দ্র সিংহের দ্বারা প্রহসন দুটির অভিনয় বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়। এতে মধুসূদনের মনে দুঃখ পেয়ে বন্ধু কেশবচন্দ্র গাঙ্গুলীকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান যে, তিনি হিব্রু বা চাইনিজ ভাষায় গ্রন্থ লিখবেন। এটিও মধুসূদন দত্তের দ্রোহের বহিঃপ্রকাশ।  

৬.

মধুসূদনের উপর্যুক্ত প্রথাবিরোধী ও দ্রোহী চরিত্রগুলোকে বিশ্বসাহিত্যের কিছু সমান্তরাল ধারার সঙ্গে তুলনা করা যায়। যেমন জন মিল্টনের ‘প্যারাডাইজ লস্ট’, লর্ড বাইরনের রোমান্টিক আন্দোলন অথবা ওভিডের ক্লাসিক্যাল রোমান সাহিত্য প্রভৃতি ছিল মধুসূদনের জন্য অনুপ্রেরণা। দেখা যায়, মেঘনাদবধ কাব্য-এ মধুসূদনের রাবণ চরিত্র মিল্টনের ‘প্যারাডাইজ লস্ট’-এর সাটান চরিত্রের মতো বীরত্বপূর্ণ ব্যক্তি স্বাতন্ত্র‍্যবাদের স্মারক। রাবণ এখানে নিছক এক চরিত্র নয়, প্রথাগত রামায়ণের রাক্ষস তথা খলনায়কের বাইরে এসে সে মানুষ এবং দেশপ্রেমিক, যা মধুসূদনের আধুনিক অনন্য এক সৃষ্টি। মধুসূদন দত্ত ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকা পরাধীন ভারতীয়দের অবদমিত চেতনাকে জাগ্রত করার চেষ্টা করেন।

৭.
মধুসূদন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ। নতুন বিষয়ই শুধু বিষয় নয়; নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন ভাষা-ব্যবহার, নতুন নৈতিক প্রশ্ন এবং নতুন আত্মসচেতনতা প্রভৃতি তাঁর রচনায় পাওয়া যায়। তাঁর কবিতায় অভিব্যক্তি, নাটকীয়তা, শিল্পের স্বাধীনতা প্রভৃতি বিশেষ মর্যাদা পায়। মধুসূদনের এজাতীয় বিষয় বাংলা ভাষার সম্ভাবনাকে প্রসারিত করে। শেক্সপীয়র, মিল্টন, বায়রন, হোমার, পেত্রার্ক প্রভৃতির প্রভাব তাঁর রচনায়  দেখা গেলেও এসব বিদেশি সাহিত্যের প্রকরণকে তিনি রূপান্তরও করেন। বাংলা কবিতায় মধুসূদন দত্ত প্রথম সজ্ঞানে শব্দের ব্যবহার করেন। তিনি শব্দের অর্থগত নয়, ধ্বনিগত বিশ্লেষণ; একটি শব্দের ধ্বনিকে বিভিন্ন শব্দের মধ্য দিয়ে পরবর্তী চরণে এবং তারও পরবর্তী চরণে প্রবাহিত করা বাংলা কাব্যে এক ভিন্ন মাত্রা দেয়। মধুসূদন প্রচলিত ব্যাকরণের নিয়ম ভেঙে শব্দের অভিনব রূপ দেন। তিনি ভাষায় নতুন নতুন নামধাতু ও ক্রিয়াপদ সৃষ্টি করেন যা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যকে মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে পৌঁছে দেন। প্রথাকে ভাঙাই তাঁর দ্রোহ। তিনি বাংলা সাহিত্যকে সচেতনভাবেই নানা মাত্রায় রূপান্তর করেন। ব্যক্তিগত জীবনের পরাজয়, সামাজিক বর্জন, অর্থকষ্ট, এবং নির্বাসনের অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যকে দুর্বল করেনি; বরং তা আরও গভীর, আরও মানবিক, আরও তীক্ষè করেছে। একুশ শতকের বাক-স্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ভ-ামির বিরুদ্ধে মধুসূদন সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা; বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগতে এক বিদ্রোহী সত্তা। প্রথাবিরোধীতা, ব্যক্তি স্বাতন্ত্র‍্যবাদ ও দ্রোহের যে আখ্যান তিনি রচনা করেন, তা একুশ শতকেও প্রাসঙ্গিক।

পড়ুন: প্রথম পর্ব

জিএম মনিরুজ্জামান : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা।

আরও পড়ুন