বজলুর রহমান স্মৃতিপদক পেলেন সাহাদাত পারভেজ

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতায় বজলুর রহমান স্মৃতিপদক পেলেন দেশ রূপান্তরের আলোকচিত্র সম্পাদক সাহাদাত পারভেজ।


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতায় বজলুর রহমান স্মৃতিপদক পেলেন দেশ রূপান্তরের আলোকচিত্র সম্পাদক সাহাদাত পারভেজ। ‘একটি আইকনিক ছবির ভ্রান্তি’ শিরোনামের প্রতিবেদনের জন্য ২০২৪ সালের ‘প্রিন্ট মিডিয়া’ ক্যাটাগরিতে তিনি এই পুরস্কার লাভ করেন। প্রতিবেদনটি গত বছর ৪ এপ্রিল দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রকাশের পর প্রতিবেদনটি সুধীজনের নজরে আসে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ‘ইলেকট্রনিক মিডিয়া’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পান একাত্তর টেলিভিশনের হেড অব নিউজ মো. শফিকুল আহমেদ।

আজ শনিবার বিকেলে ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই বিজয়ীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সংবাদ সম্পাদক বজলুর রহমান বাংলাদেশের দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। তার প্রয়াণের পর ২০০৯ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য বজলুর রহমান স্মৃতিপদক প্রবর্তন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী ও মফিদুল হক। জুরি বোর্ডের সাবেক সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকীর প্রয়াণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন ত্রপা মজুমদার।

সাহাদাত পারভেজের শংসাপত্র পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও জুরি সদস্য রোবায়েত ফেরদৌস। শংসাপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেদনের বিষয়বৈচিত্র্য, নতুনত্ব, সংগৃহীত তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা এবং শব্দ ও ভাষার ব্যবহার বিচারকদের চমৎকৃত করেছে। বিচারকমণ্ডলী প্রতিবেদকের এই সত্যাগ্রাহী, গবেষণাপ্রবণ ও অনুসন্ধিৎসু মনেরও তারিফ করেছে। ইতিহাসের ক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। ভুল তথ্য ইতিহাসে বিভ্রান্তি তৈরি করে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ক্ষেত্রে বিশেষ সচেতনতা প্রয়োজন। ইচ্ছাকৃত না হলেও মুক্তিযুদ্ধের কিছু ছবি নিয়ে ভ্রান্তি আছে। তেমনই একটি ছবি যা একাত্তরের বলে বহুল প্রচলিত- সেটি একাত্তরের নয় বলে প্রতিবেদক তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তথ্য-প্রমাণসহ তুলে ধরেন। বিশেষ তাৎপর্যবহ এ কাজটি একটি অনবদ্য দলিল হয়ে থাকবে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করায় বিচারকমণ্ডলী দেশ রূপান্তর পরিবারকেও ধন্যবাদ জানান।

মো. শফিকুল আহমেদের শংসাপত্র পাঠ করেন জুরি সদস্য সাংবাদিক সোহরাব হাসান।

আরও পড়ুন