যে আমার জীবনের গল্পকে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন করেছেন

প্রার্থনার জন্য হাত তুললে প্রথমে নিজের জন্য, এরপর বাবা মায়ের জন্য, এরপর কে হতে পারেন?  বিষয়টি ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন থাকে।

আমার জীবনে প্রায়ই এক মুখ ভেসে ওঠে। আমার দাদার মতো দেখতে কিন্তু দাদা নন, এমন কী আমাদের দেশীয় নন আবার আমার ধর্মেরও নন। তাহলে কে? নিশ্চিত এই ভেবে বিস্ময় হবেন না। তিনি এমনি একজন যিনি আমাদের জীবনগল্পকে নতুন মাত্রায় যোগ করে দিয়েছেন। জ্বালিয়েছে আমার মনের ভেতরে এক স্বপ্নের প্রদীপ। তিনি আর কেউ নয়, তিনি হলে এক খ্রিষ্টান পাদ্রী। এঞ্জেল। যারা জন্য প্রতিদিন প্রার্থনা করি। তিনি আমার জীবনে এসেছিলেন এঞ্জেল হয়ে। সত্যিকারের এঞ্জেল। সেই এঞ্জেল মানুষটা যেকোনো ধর্মেরই হতে পারে, যেকোনো দেশের নাগরিক হতে পারে।

মানুষের জীবনে এমন এমন মুহুর্ত আসে, যখন সে ভিন্ন পথ খুজতে থাকে। নিজেকে আর একটু মুহুর্তের জন্য পৃথিবীতে রাখতে চায় না। ব্যর্থতার গ্লানি তাকে শেষ করতে বসে। সেই সময়ে হয়ত আমরা ভুল করে বসি। আমার জীবনও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এজন্য সবাইকে বলি, একটু সময় নিই। দেখবেন সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে। যা আজ আপনি পাননি, কাল অবশ্যই পাবেন।

আমার আর আমার এঞ্জেলের গল্পটার জন্য ফ্ল্যাশব্যাকে যাই।

আজ থেকে ১১ বছর আগে। সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করলাম। বিভিন্ন জার্নাল, পত্র-পত্রিকায় লেখা প্রকাশ হতে লাগে। কাজ করছি নানা সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। তাই হিমশিম খেতে হয়েছিল ক্যারিয়ার হিসেবে কী বেছে নিব। নানা ভাবনা-চিন্তা ভর করে। কখনো মনে হয় উপস্থাপিকা বা অভিনেত্রী, কখনো আবার মনে হয় লেখক কিংবা শিক্ষক হব। আবার এই ভেবে ভেবে রাত ভোর হয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। এসব চলতে থাকে দুই টানা মনে। এরমধ্যে ডেইলি স্টারে চোখে পড়ে নটরডেম ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি।

একেবারে শুরুতে সাহস পাচ্ছিলাম না।একা একাই আবেদন করে ফেললাম। কারণ আমার জীবনে কখনো আমাকে গাইড করার মেন্টর ছিলেন না। বুঝতে পারতাম না ঠিক কী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বছর দশেক আগে আমাদের মত মোটিভেশান দেওয়ার মত কিংবা নারীদের ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং করে এগিয়ে নেওয়ার কোনো প্রতিষ্ঠানও ছিল না। যাইহোক। আবেদন করার পর একদিন ডাক এল। ইন্টারভিউয়ের জন্য। ভীষণ অন্যরকমের এক দিন। যেদিন সকালে ইন্টারভিউ সেদিনের সন্ধ্যাটা ছিল উল্লেখ্যযোগ্য একটি দিন।

আমি  ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার মেয়ে। আমার বাবা মা খুব আধুনিক মানুষ সংস্কৃতিমান। আমাদের নিজস্ব পত্রিকা ছিল যখন আমি শিশু। সব পজেটিভ কিন্তু আমার  বাবা মা ছাড়া কেউ কখনো চাইনি আমি পড়ালেখা করি এবং আমার নিজস্ব একটা পরিচয় হোক। সেদিন অপ্রত্যাশিতভাবে আমার বাবা ও চাচার মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়।

আমার মায়ের কারণে মেয়ে হিসেবে সাহসী ও স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠেছি। সেদিনের ঝগড়াকে মিটমাট করেন আমার আরেক চাচা। বাবা চাচাদের মিলিয়ে দেই। এক মানসিক শান্তি কাজ করছিল। আমার কোনো ভাইবোন নেই, আফসোস হয়। আবার ভেবে নেই শুধু সম্পদের জন্য ভাইবোনদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব হয় তার চেয়ে ভাইবোন সম্পদ না থাকাই ভালো। এতটাই মন খারাপ হত সেই সময়ে। গোটা পরিবার, এলাকা সব কিছুর সঙ্গে সংগ্রাম দিয়ে আমার বাবা মা আমাকে ঢাকায় পড়িয়েছেন। সেই কলেজ থেকেই। তাই আমার প্রথম ইন্টারভিউ মানসিক অবস্থাটা মিলিয়ে নেন কত বড় দায়িত্ব।

আমরা মূলত ঢাকায়ই থাকি তখন নবাবগঞ্জে ছিলাম। ভোরবেলা ইন্টারভিউ দিতে চলে আসি। একদম নতুন ইউনিভার্সিটি! এসে খুব স্বাভাবিকভাবেই দেখি ডিপার্টমেন্টের অনেক বড় ভাই আপুরা। স্কলারদের ভীড়ে বয়সে কম বলে কোনো এক্সকিউজ দিতে চাই না, বলব অভিজ্ঞতায় কম কারণের আগে কখনো টিউশনিও করানো হয়নি। আর ভাবেছিলাম ওনারা ইন্টারভিউ দিচ্ছেন। আমি আসলে কেবল অভিজ্ঞতাই অর্জন করব চাকরি হবে না।

প্রথমে আমার লিখিত পরীক্ষা বসে আছি পরীক্ষার্থীর মত, সত্যি বলতে আমার কাগজপত্র ব্যতীত পড়ালেখার কোনো প্রস্তুতি ছিল না।

হঠাৎ ক্লাস রুমে এঞ্জেল ঢুকলেন এত বয়স্ক মানুষ ঠিক করে হাটতে পারেন না। কিন্তু কারও হেল্প নিবেন না। আমি জানতাম না কে ওনি কিন্তু গুড মর্নিং বললাম। ওনি আমার সঙ্গে কথা বলেন।

এরপর পরীক্ষা শুরু। বুঝতে পারলাম তিনি পরীক্ষা নিচ্ছেন আমাদের৷  তার পরিচয় তখনো জানতাম না। ভালোভাবে শুধু বিদেশি শিক্ষক এটুকুই। লিখিত প্রশ্ন দেখে একটু অবাক হলাম। সমসাময়িক দর্শনের প্রচুর প্রশ্ন, যা গভীরে পড়া হয়নি কিন্তু জানি।

সেই পড়ার আইডিয়া অনুযায়ী লিখলাম। দর্শনে এক মজার ব্যাপার মূখস্থ বিদ্যা নেই, আছে বোঝাপড়া। আসলে দর্শন অধ্যয়ন টেকনিক আছে। ভালো মন্দ বুঝি না, মন দিয়ে লিখলাম। এরপর আমাদের চা বিস্কুট খেতে দেওয়া হল। বাইরে মায়ের সঙ্গে বসে খেলাম। লেক্সাস বিস্কুট তখন নতুন এক খাবার। আনন্দ লাগছিল কেন জানি শুনলাম চা খেয়ে ভাইভা। ভেতরে ভেতরে ভয়ের কেমন জানি লাগছিল। একে একে সবাই যাচ্ছে আমি আর সাহস পাচ্ছি না।

এক বড় আপু, মোটামুটি জোর করে আমাকে ভাইভা দিতে পাঠালেন। এতটাই ভীতু ছিলাম কারণ দরজার কাছে যেও তিনবার ফেরত এসেছি।

ফাদার ডেভিড, ফাদার টম, আমাদের বিভাগের দুজন শিক্ষক ছিলেন। পরিচিত হলাম। নানা রকম মজার প্রশ্ন করলেন। প্রশ্ন করছেন আর আমি উত্তর দিচ্ছি। আবার আমরা আলোচনা করছি। ফাদার ডেভিডের একটা প্রশ্নে আটকে গেলাম। 

এটাই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।

আমি যতটুকু জানি ঠিক ততটুকু শেয়ার করলাম এবং জানার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। যখন কিছুটা শুনলাম আমিও কিছু যুক্ত করলাম এতে পুরো ভাইবাবোর্ড খুশি হয়ে গেলেন।

বের হওয়ার সময়ে, ঠিক দরজার কাছে শুনতে পেলাম-

‘সি ইজ এক্সট্রাঅরডিনারি, স্মার্ট।’
কোনো বিদেশি শিক্ষক আমাকে নিয়ে এমন মন্তব্য করছেন এতেই খুশি। বের হয়ে আপু আর মাকে হাগ দিলাম। জীবনের প্রথম ইন্টাভিউ ইয়াহু।

মানে তখন আমি এমএ পাস মানুষ কিন্তু ১০০% ম্যাচুরিটি আসে নাই। যাহোক বিকেল নাগাদ প্রকাশ হয়ে গেল আমি নটরডেম ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। ফেসবুকে পোস্ট না করলেও কীভাবে যেন সবাই জেনে ফেল। তখন জীবন সুন্দর ছিল অসংখ্য কাছের মানুষ অভিনন্দন জানাতে লাগল। নিয়োগপত্র নেওয়ার জন্য ডাকা হল। ভিসি  ফাদার বেঞ্জামিন আমাকে বললেন আমি তো আপনাকে মনে মনে খুজছিলাম, আমার খাতা বের করে দেখালেন, বললেন যদিও নিয়মে না কিন্তু আমি অনেক খুশি হাইয়েস্ট মার্ক।

কনগ্র‍্যাচুলেশনস। জবের পরীক্ষায় টপার বলে কিছু হয় জানা ছিল না। অন্যন্য ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরা ছিলেন সবার মাঝে আমি যে একটা ‘শিশু’ বলা যায় কিন্তু এবার আমার কনফিডেন্ট আলাদা। আর বরাবর আমার পোশাক আশাক ফর্মাল থাকে সেদিন থেকে ফর্মাল জীবন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু।

দেখা হল ফাদার ডেভিডের সঙ্গে। আমরা ইমেইল ও নাম্বার শেয়ার করলাম। এরপর ইমেইলে আমাদের জ্ঞানের আদান প্রদান হতে থাকে দর্শন, মুসলিম দর্শন, গাযালী নানা বিষয়ে কথাবার্তা।

তাকে অনেকে মওলানাও বলত কারণ গাযালী নিয়ে তার বইও আছে। সময় যেতে থাকল ‘রিযিক’ আসলে এক অদ্ভুত বিষয়।  কয়েক মাস কেটে গেল এনডিইউবি দর্শন বিভাগ খুলতে পারল না,  নিয়োগপ্রাপ্ত চারজন শিক্ষকের সবাই ভেঙে পড়ল আর আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং আমি আমার সোসাইটির কাছে মিথ্যে হয়ে গেলাম যেন। সবার আচরণ পালটে গেল। 

একটা অদ্ভুত মানসিক কষ্টে দিন পার হচ্ছিল। সাহস করে আমি ফাদার বেঞ্জামিনের সঙ্গে মিটিং করি। এরপর সময় কাটে অনেক। আমার পড়ালেখা চলতে থাকে ফাদার ডেভিডের সঙ্গে।

এক সময় নটরডেম কলেজে ইন্টারভিউ ডাক পাই এবং লিখিত, ভাইভা, ডেমো দিয়ে সেখানে জব পেয়ে জয়েন করি। জীবনের প্রথম বস ফাদার হেমন্তের  প্রথম কথা ছিল আপনি বিদেশে কবে যাচ্ছেন?  বরাবর স্পষ্টবাদী ছিলাম বললাম আমার গবেষণা শেষ হতে আর এক  বছর এবং কিছু জার্নাল রেডি করার ব্যাপার আছে। আশা করি দুই বছর।

ফাদার হেমন্ত আমার ভালো ‘বস’ ছিলেন গান্ধীজির মানবতবাদ নিয়ে তার পিএইচডি। একই ডিপার্টমেন্টের হওয়ায় ফাদারের সঙ্গে প্রচুর সেমিনার যুক্ত করার সুযোগ পাই। কিন্তু সেমিনারে যাওয়ার আগে প্রেপ্রারেশন স্বরূপ আলোচনা করতাম।  প্রথম বসের কাছে এই গ্রুমিং হচ্ছিল।

ডিগ্রির ক্লাসে আমার সবচেয়ে বেশি ক্লাস ছিল। উচ্চমাধ্যমিকে কম। শুক্রবার মাঝেমধ্যে হলি স্পিরিট ক্যাথলিক চার্চ বনানীতে ক্লাস নিতাম সিস্টার ও ব্রাদারদের বলা যায় তারা একটু উচ্চতর দর্শন পড়তেন। ফিলোসফি অব সাইন্স টেকনোলজি এসব ক্লাসগুলো নিয়েছিলাম। আমার ফোকাস এথিকসে ছিল সবসময়  প্রতি শুক্র শনি। ব্রিটিশ কাউন্সিলে আইএলটিএসের ক্লাস এর পাশাপাশি পেপারস রেডি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।  নটরডেম ক্লাসের গ্যাপে গ্যাপে কিংবা ছুটির পর যখন সময় পেতাম আমি ইউনিভার্সিটি গিয়ে ফাদার ডেভিডের কাছে পড়তাম।

আমার সৌভাগ্য আমি ঢাকা বসে বিশ্বের অন্যতম একজন স্কলারের সবচেয়ে স্নেহের ছাত্রী হয়ে গেলাম। সবাই আমাকে ফাদার ডেভিডের মেয়ে বলত।

বিদেশিরা কারও হেল্প নেয় না কিন্তু ফাদারের ইন্টারন্যাশনাল মিটিং অ্যাপয়নমেন্ট,  দেশি শিক্ষকদের সঙ্গে অ্যাপয়েনমেন্ট  সব কিছু আমিই সেট করতাম একসময় অনেক মোবাইলফোন কল।এটেন্ড করাও। 

কারণ ফাদার অনেক বয়স্ক ছিলেন। লাঠি ভর করে হাটতেন। ফাদারের মধ্যে আমি আমার দাদাকে খুজে পেতাম। পড়ালেখা প্রস্তুতি চলছিল… এরমধ্যে ফাদারের কাছে অন্য আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট আসতেন রেগুলার।  আমার সঙ্গে তখনও দেখা হয়নি। তিনি তার গবেষণার কাজ করছিলেন ফাদারের সঙ্গে।

ফাদার ডেভিডের সঙ্গে অনেক বিষয়ে কথা হত আর তিনিও দেখছিলেন আমার বাবা মা চায় আমি বিয়ে করে বিদেশে যাই স্মার্ট বাবা মায়েদের এই ব্যাকডেটেড চিন্তাটা আজও অনেক মেয়ের ক্যারিয়ার নষ্ট করে দিচ্ছে আমি শিউর। ফাদার ডেভিড তাই চেষ্টা করলেন তার আরেক ফেলো সে যেহেতু সিংগেল। তাহলে প্রস্তাব দিলে কেমন হয়। যেদিন সেই শিক্ষকের পরিবারের মানুষ আমাকে দেখতে এলেন ফাদার ডেভিড টিপিক্যাল বাংলাদেশি বাবার মত চুপ চাপ এবং দায়িত্বশীল ভঙ্গিতে ছিলেন। আমার বাবা মা দুজনই এই ব্যাপারটাকে আল্লাহর আশীর্বাদ ভেবে নেন।

কিছু কারণে আমি শিক্ষকের পরিবারকে না করে দিলাম। এর একটা বড় প্রভাব আমার কর্মক্ষেত্রে পড়ল। কারণ বাংলাদেশে প্রাইভেট ও পার্সোনাল লাইফগুলিয়ে দেয় আমাদের প্রিয় কোলিগরা৷

আমি পড়তে থাকলাম। ফোকাসই ছিলাম পিএইচডি করতে চলে যাওয়ার। আস্তে আস্তে দেখলাম কিছু একটা ঘটে যাচ্ছে শিক্ষকতা, চারপাশের জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা পড়ালেখা সব কিছুতে অনীহা চলে এল। প্রথমবার একাকিত্ব এল জীবনে। ফাদার আমার হাতে রুমীর বই তুলে দিয়ে বলেন যারা একা তারা কখনো একা না তাদের সঙ্গে রুমি থাকে। আমি তখনও ফেসবুকে প্রচুর লিখতাম লাইভ করতাম। তখন লাইভ নতুন এসেছে।  আস্তে আস্তে দেখতে থাকলাম আমাদের জাতীয় সমস্যা আমার বিয়ে হচ্ছে না কেন? অদ্ভুত এক সামাজিক প্রেসারে পড়ে গেলাম। পারিবারিক নয় ভয়ংকর সামাজিক চাপ। চারপাশ ফেইস করতে পারছিলাম না।

এক বছর পড়িয়ে নটরডেম কলেজ ছেড়ে দেই, ভালো লাগছিল না। এই এক বছর ফাদার ডেভিডের সঙ্গে অনেক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যাওয়া হয়েছে যেখানে পরিচিত হয়েছি বিভিন্ন দেশের স্কলারদের সঙ্গে।

একসময় ক্যারিয়ার পরিবর্তন করি। 

ফাদারের সঙ্গে যোগাযোগ কমতে থাকে। ফাদার চলে গেলেন নিজ দেশে। আমাদের যোগাযোগ ছিল ইমেইলে। আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে তার পরামর্শ ছিল। গ্রামের মেয়েদের জন্য ‘ইয়ারা প্রজেক্ট’ গড়েছি বলে তিনি গর্ববোধ করতেন তার অনেক পরামর্শ পেয়েছি।

সব কিছুর মাঝে ২০২৩ সালে আজকের দিনে ১ অক্টোবর তিনি আমাদের সবাইকে ছেড়ে ঈশ্বরের কাছে চলে যান।

আমার এখনো মনে হয় তিনি আলো হয়েই আছেন জীবনের। শিক্ষক দিবসে যাকে স্মরণ না করলেই না। নিজেকে জানো সক্রেটিস এমন মানের শিক্ষক যে নিজেকে জানতে গিয়ে এইটুক বুঝেছি আমাদের শিক্ষক মেন্টর আমাদের ছেড়ে যান না কখনো কারণ তার দেখানো পথেই আমরা চলি।

আজকের দিনে আমার অপ্রত্যাশিত আলো ফাদার ডেভিড বারেলসহ পৃথিবীর সব শিক্ষককে সম্মান জানাই।

সায়মা রহমান তুলি, গবেষক, লেখক

আরও পড়ুন