লাসলো ক্রাসনাহোরকাই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনে বাংলাদেশের কবি লেখকদের মন্তব্য

নোবেলের অন্য শাখার পুরস্কারের চেয়ে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার নিয়ে বাংলাদেশের কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের আগ্রহের শেষ নেই। পুরস্কার ঘোষণা আগে চলতে থাকে, কে এবার নোবেল পেতে পারে তার ওপরে আলোচনা। এবারেও তা ছিল। অবশেষে ঘোষণা এলো হাঙ্গেরিয়ান লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি সাহিত্যে দেশেটির দ্বিতীয় নোবেলজয়ী। ২০০২ সালে ঔপন্যাসিক ইমরে কার্তেজ এই পুরস্কার অর্জন করেন। পুরস্কার ঘোষণার পর পরের শুরু হয় সামাজিক মাধ্যমে কবি, সাহিত্যিকদের নানা মন্তব্য। কয়েকজনের মন্তব্য তুলে ধরা হলো-
কবি শামীম আজাদ বলেন, ‘অবিশ্বাস্য ঘটনা। গত বছরও সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার পর আমি বাসে করে বার্ড বুকস এসে প্রথম বইটি কিনেছিলাম। আজ ঘোষণা শুনলাম সবাই এক সঙ্গে সাহিত্যে নোবেল পেলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই আর আমি কিনলাম এই বুকশপে তাঁর প্রথম বই।’
এবারের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনে হাঙ্গেরির যোগ্য লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই অভিনন্দন জানিয়ে কবি দিলদার হোসেন বলেন, ‘২০২৫ সালের বিশ্বের যোগ্যতম লেখক হিসেবে এবার নোবেল জয়ী হয়েছেন তিনি। হাঙ্গেরি দেশটির ক্রীড়া, সংস্কৃতি-সাহিত্য, বীরত্ব ও ঐতিহ্যেপূর্ণ জাতি হিসেবে আমরা বাংলাদেশের পক্ষে আনন্দিত ও গর্বিত।’
অনুবাদক, শিক্ষক ও লেখক এলহাম হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারকে জিতবে-এ নিয়ে সারা বিশ্বে একরকম বাজি ধরাধরির প্রতিযোগিতা চলে। আমাদের এখানেও। আর এই বাজিতে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রায় শতভাগ। শেষে এসে সব হিসেব-নিকেশ পাল্টে যায়। এ বছরেও তাই ঘটেছে। এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন হাঙ্গেরির লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। সাহিত্যের মধ্যে যেমন থাকে নান্দনিকতা, তেমনি থাকে বাস্তবতার সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকার রসদ, যা মানুষকে আশার ভেলায় ভাসতে, অনিশ্চয়তা, ভয় ও নৈরাজ্যকে জয় করে সামনে এগিয়ে যেতে প্রণোদনা দেয়। এসবের সবই আছে লাসলো ক্রাসনাহোরকাই-এর সাহিত্যে। নোবেল কমিটি তাঁর সাহিত্যের কোন দিক বিবেচনায় তাঁকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করেছেন, সে- ঘোষণাতেও একই কথা ধ্বনিত হয়েছে। নোবেল কমিটির মনে করেন, তাঁর সাহিত্যকর্মে পাঠককে টানার অমোঘ শক্তি রয়েছে, এবং চারপাশে চলতে থাকা তা-বলীলা ও ভীতির মধ্যেও তিনি শিল্পের শক্তির কথা জোরালো ভাবে ঘোষণা করেন। তাঁর এ বিজয়ে বইচারিতা আনন্দিত ও তাঁকে অভিনন্দন জানায়। বইচারিতা বিশ্বাস করে, তাঁর নোবেল জয় বাংলা সাহিত্যকে হাঙ্গেরীয় সাহিত্যের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়া বা আন্তঃগ্রন্থিকতা স্থাপনে উৎসাহ জোগাবে।
অনুবাদক আলম খোরশেদ তাঁর সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘হাঙ্গেরির বিখ্যাত, বিশ্বনন্দিত কথাসাহিত্যিক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই (জন্ম: ৫ জানুয়ারি ১৯৫৪) এবছর নোবেল পেলেন। তাঁর একটি দুর্দান্ত গল্প অনুবাদ করেছিলাম বছরখানেক আগে। সেটি ছাপা হয়েছিল কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক আলীম আজিজ সম্পাদিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ইজেল এর ৭ সেপ্টেম্বর সংখ্যায়। তার কোনো আন্তর্জাল লিঙ্ক হাতে আসেনি বলে পুরো গল্পটাই এখানে উদ্ধার করে দিলাম: বেশি বড় নয়, সাকুল্যে চোদ্দশ শব্দ। পড়ে দেখুন; বর্তমান বাংলাদেশি সমাজের করুণ বাস্তবতা, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং শ্রেণিবৈষম্যের অভিশাপ ও অভিঘাতের অনুরণন শুনতে পাবেন। শুভ পাঠ। পুনশ্চঃ লাসলোর এই গল্পের ইংরেজি অনুবাদটি আমাকে যোগাড় করে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া-প্রবাসী লেখক ও অনুবাদক জনাব ফজল হাসান। এই সুযোগে তাঁকে জানাই আমার অফুরান ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
লেখক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সাহিত্যে নোবেলজয়ী লেখককে অভিনন্দন’
গবেষক ইমরান উজ জামান বলেন, ‘সাহিত্যে নোবেল পেলেন হাঙ্গেরীর সাহিত্যিক লাসলো। লাসলো ক্রাসনাহোরকাই এর লেখা উল্লেখ্য করার মতো বই দ্য মেলানকোলি অফ রেজিস্ট্যান্স হাঙ্গেরির একটি ছোট্ট শহরে সার্কাসের দল আসে। খবর ছড়িয়ে পড়ে, সার্কাসের মানুষদের একটি দুষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। শহরবাসীরা যে কোনো ধরনের শৃঙ্খলার কার্যাদি থেকে দুরে থাকতে চায়। তারা গান, ব্রহ্মাণ্ডবিদ্যা, ফ্যাসিবাদ আঁকড়ে থাকে। সার্কাসকে কেন্দ্র করে শহরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এই দ্য মেলানকোলি অফ রেজিস্ট্যান্স এর মূল বিষয় ।’
লেখক ও কবি আবু সাঈদ বলেন, লাসলো ক্রাসনাহোরকাইকে অভিনন্দন। তাঁকে এইবারের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘তাঁর সুনিশ্চিত ও দিব্যদৃষ্টিপূর্ণ সাহিত্য সম্ভারের কারণে, যা এই মহাবিপর্যয়ময় আতঙ্কের কালে শিল্পের শক্তির কথা শোনায়।’
কবি আয়শা জাহান নূপুর বলেন, ‘সাহিত্য নোবেল পুরস্কার পেলেন হাঙ্গেরিয়ান লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই! হাঙ্গেরি থেকে এর আগেও আরও একজন এই পুরস্কারের গৌরব অর্জন করেছেন। পৃথিবীর এই ক্রান্তিকালে শিল্পের শক্তির কথা লিখবার মতো কলম আছে বলেই আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের কোনো পরাজয় নেই। লাসলো ক্রাসনাহোরকাই, আমাদের অভিবাদন গ্রহণ করুন।’
লেখক মারুফ ইসলাম বলেন, ‘এবার সাহিত্যে নোবেল গেল হাঙ্গেরিতে। কংগ্রাচুলেশনস মাই ডিয়ার কলিগ!’
