শিশির আজমের দুইটি কবিতা

গুবরে পোকা
এক সকালে কাফকা দেখল অ গুবরে পোকা
হয়া গেছে
ব্যাপারটা এতোই স্বাভাবিক আর সাধারণ
যে এইটা নিয়া ভাববার দরকার আছে বইলা
মনে হইল না
অর কাছে
তারপর কাফকা যেদিন মারা গেল
কেউ টেরই পাইল না
কেন না গুবরে পোকাদের মৃত্যু
তেমন আহামরি কিছু না
যা হোক আমাদের মৃত্যু নিয়া আমরা ভাবিত
খুবই ভাবিত
জীবন নিয়া শঙ্কা বা ভালোবাসা নেই
আমাদের
আমরা তো গুবরে পোকা না
কেঁচো না
কী
এইটা কে বলে দেবে
আমার কবিতা আর ড্রিংক্স আর খিস্তি
‘বউরা এরকমই হয়’
আমি কইলাম
নিজেরে
সকাল ১০টায় বিছানা ছাইড়া
ব্রাশ কইরা
বেসিনে মুখ ধুইতেছিলাম
‘কোন সিনসিয়ার লোক সকাল ১০টা অব্দি ঘুমায় না
আর ব্রাশ করতে এতো টাইমও লয় না’
বউ কইল
গজগজ করতে করতে
কিচেনে হাত কামাই না দিয়া
দুনিয়াটা দিনকে দিন যাচ্ছে তাই আর বাজে হয়া যাইতেছে
আমি ভাবি
এর লাইগা
আমার
কবিতা পড়তে
ড্রিংক করতে
আর খিস্তি করত
ভালো লাগে
বউয়ের লগে এগুলা কিন্তু আমি করি না
ওা তো সুস্থ মানুষ
কোন সুস্থ মানুষের
দুনিয়া নিয়া অভিযোগ নাই
অস্বস্তি নাই
অস্বস্তি কেবল আমারই
পরশু দুপুরে
রিতারে বিছানায় নিছিলাম ১৭৯ দিন পর
১৭৯ দিন পর
এখন ও ছাব্বিশ
পরম ঔৎসুক্য নিয়া ওর কোমল টলটলে মাইদুটারে
কামিজের ভেতর থিকা
বাইর কইরা আনলাম
মুঠোয় নিলাম
যেন আস্ত দুইটা দুনিয়ার মালিক আমি
কিন্তু এ কি
এরা তো পঁচে গেছে
এই দুইটা দুনিয়া
নষ্ট হয়া গেছে
আমার তো পেটের ভিতর থিকা বমি উইঠা আসতেছে
এইটা কেন হয়
এতোদিন পর রিতারে পাইলাম
উহু
পাইলাম কই
‘রিতারা কি এমনই হয়
হয়া যায়
একদিন’
জিগাইলাম
নিজেরে
আমাদের কাছে লিখুন
বইয়ের আলোচনা, কবিতা, গল্প, ফিচার, লাইব্রেরি, সাহিত্য সমালোচনাসহ নানা বিষয়ক। লেখা পাঠাবেন: boicharita@gmail.com
