বিধ্বংসী প্রহর, পর্ব-৩৩

রক্ত পরীক্ষার আর প্রয়োজন নেই। জ্বর নেমে গেছে। জিলানী পরিবারের জন্য এটা একটা স্বস্তিদায়ক খবর।

খুব সকালে ডাক্তার সাহেব এসেছিলেন। বলেছেন এটা সাধারণ জ্বর। বৃষ্টিতে ভিজে অফিসে আংশিক ভেজা কাপড়ে থেকে কাজ করায় ঠাণ্ডা লেগে জ্বরটা এসেছিল। তাছাড়া লাগাতার ক’দিন শারীরিক ও মানসিক চাপ গেছে, এটাও জ্বরের জন্য দায়ী। এখন জ্বর একদমই নেই। শরীরের তাপমাত্রা, ব্লাড প্রেসার এবং পালস্ রেট স্বাভাবিক। আজকের দিনটা বিশ্রাম নিয়ে আগামীকাল থেকে অফিস করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ইন্সপেক্টর জিলানী মানতে চাচ্ছেন না। পুরো একদিনের বিশ্রাম যথেষ্ট মনে হচ্ছে তাঁর কাছে। স্ত্রীকে বলেছেন অফিসে যাবেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ পড়ে আছে। কাজকর্ম পেন্ডিং থাকলে জিলানী অস্বস্তিতে ভোগেন। কাজ তাঁকে আনন্দ দেয়। আর চ্যালেঞ্জিং কাজ তাঁকে নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে শেখায়।

আজ মি. টিটি’র জামিন বাতিলের আবেদনের শুনানি হবে। জামিন বাতিল হবে কেন—এর স্বপক্ষে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট কোর্টে উপস্থাপন করতে হবে। ভাবলেন, পাবলিক প্রসিকিউটরকে শুনানিতে রাখলে ভালো হয়। তাঁর সঙ্গে ইন্সপেক্টর জিলানীর ভালো সম্পর্ক। বললে তিনি না করতে পারবেন না।

জিলানী পিপি সাহেবকে ফোন করলেন। অনুরোধ জানালেন জামিন বাতিলের শুনানিতে তাঁকে সরকার পক্ষে থাকার জন্য। বললেন এসআই সোহরাব সকাল ন’টায় কোর্টে পৌঁছে যাবে এবং তাঁর কাছে সব তথ্যাদি দেবে। জিলানী মি. টিটি’র কুকর্মের ব্যাপারে তাঁকে টেলিফোনে অবহিত করলেন। তার দ্বারা মামলার তদন্ত বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানালেন। সব শুনে বিজ্ঞ পিপি সম্মত হলেন শুনানি করার জন্য।

কোর্টে যাবার পথে সোহরাব দেখা করতে এলো জিলানীর সাথে। জিলানীর শারীরিক অবস্থা জানতে চাইল। আজ ভালো আছেন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করল।

জিলানী সোহরাবকে একটু কাছে ডাকলেন। লো ভয়েসে বললেন,‘আমাদের গতকালকের মিশনটা আজই কমপ্লিট করতে চাই’—বলেই জিলানী একটু থামলেন। তারপর বললেন, ‘কিন্তু তোমাকে তো আবার কোর্টে থাকতে হচ্ছে।’ একটু ভেবে পুনরায় বললেন, ‘বিকেলে যাওয়া যায়। কী বলো?’

এসময় সাজিয়া রুমের ভেতরে এসে পড়ল। আলমারিটা খুলে হ্যাঙ্গারে কাপড় রাখতে রাখতে বলল,‘সোহরাব ভাই, আপনার স্যারকে একটু বোঝান তো। তার জ্বর ছাড়লেও শরীরটা পুরোপুরি ভালো হয় নি। ডাক্তার বলেছে অন্তত আজকের দিনটা বিশ্রামে থাকতে। না, মহোদয় আজই অফিস করবেন! বলেন দেখি, এ অবস্থায় কাজে যাওয়া কি ঠিক হচ্ছে?’

সোহরাব না সূচক মাথা নাড়লো। তারপর বলল,‘ভাবি ঠিকই বলছেন স্যার। কাল থেকে শুরু করেন। তাছাড়া আমার কোর্ট থেকে আসতে আসতে বিকেল গড়িয়েও যেতে পারে। আপনি টেনশনে থাকবেন। আবার বিকেলে অভিযান শুরু করলে যদি শেষ হতে আজ সারা রাত লেগে যায়! তাহলে আপনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়বেন। সবকিছু বিবেচনা করলে বেটার আগামীকাল।’

জিলানী একটু ভাবলেন। সোহরাবের কথা যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে। নাহ্ কালই যাই। এতে বউও খুশি হবে। আজ না হয় আনুষঙ্গিক কাজগুলো সেরে রাখি।

‘ঠিক আছে সোহরাব। কাল মিশন। তোমরা দু’জন সকাল আটটায় চলে এসো। আমি এখনই দরকারি সব জায়গায় ফোন করে ব্যবস্থা করে রাখছি। টুকটাক কাজ ঘরে বসেই সারবো।’ জিলানী বললেন।

শুনে সাজিয়ার মনটা প্রসন্ন হলো। বলল, তোমার জন্য একটা লেবু চা করে আনছি। সোহরাব ভাই আপনি দুধ চা খাবেন নাকি লেবু চা?’

‘থ্যাংক ইউ ভাবি, আমাকে এখনই উঠতে হচ্ছে। কোর্টে যাব।’

সোহরাব চলে গেল। জিলানী তাঁর ল্যাপটপ খুলে বসলেন। সাজিয়ার দেওয়া চায়ে চুমুক দিচ্ছেন আর ই-ফাইল দেখছেন।

কিছুক্ষণ পর মোবাইলটা বেজে উঠল। রাইসের ফোন। জিলানী কলটা ধরলেন।

‘বলো রাইস।’

‘স্যার আজ কেমন আছেন ?’

‘বেশ ভালো।’

‘মিস জেরিনদের বাড়ি থেকে বলছি স্যার। গতরাতে জেরিন দুঃস্বপ্ন দেখে ‘বাবা’ বলে জোরে চিৎকার দিয়ে উঠেছিল। ওই সময় লেডি ওয়াচার দুইজন জেরিনের বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে বুঝেছে যে জেরিন এক প্রকার আতঙ্কে আছে। সম্ভবত স্বপ্নে তার বাবাকে খুব খারাপ অবস্থা দেখেছে। একই সঙ্গে সে নিজেকেও মনে হয় ইনসেকিউরড্ ভাবছে। অবশ্য স্যার, লেডি ওয়াচার দুইজন সারাক্ষণ তার পাশেই আছে।’  রাইস বলল।

‘শোনো রাইস, স্বপ্ন যদিও স্বপ্ন, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে স্বপ্ন কিন্তু সত্যি হয়ে যায়। জেরিনের কথাগুলো পরিষ্কার বোঝা গেলে শোনা যেত সে কী বলতে চায়। তবে তার যদি নিরাপত্তার ব্যাপারে আতঙ্ক থাকে তাহলে নিরাপত্তাটা আরও টাইট করতে হবে। আমি ওখানে আরও এক সেকশন ফোর্স ইমিডিয়েটলি ডেপ্লয় করার জন্য বলে দিচ্ছি। তোমরা সবাই হোলটাইম অ্যালার্ট থাকবে। তুমি আজ পুরোটা দিন ওখানে ডিউটি করো। ঠিক আছে?’

‘জী স্যার।’ রাইস জিলানীর খুব অনুগত। যেমনটা সোহরাব। জিলানী বললেন,‘আরেকটা বিষয়, রাইস। ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট। আমাদের পেন্ডিং মিশনটা আগামীকাল। সকাল আটটায় রেডি হয়ে চলে এসো।’

‘জী, আসব স্যার। অলরেডি সোহরাব আমাকে এ ম্যাসেজটা দিয়েছে।’

‘গুড। সি ইউ।’ 

জিলানী জানে সোহরাব সব কাজে বেশ প্রম্পট্। এসব কারণেই সোহরাব এবং রাইসকে সে নিজের টিমে ধরে রেখেছে। এর আগে একেকবার একেকজনের ট্রান্সফারের আওয়াজ উঠেছিল ; জিলানী তা ঠেকিয়েছে।

বাইট্টা বকশী বেঁকে বসেছে। গত রাত থেকে এ পর্যন্ত তিন বেলা খাবার সে বয়কট করেছে। এর অজুহাত হলো তাকে দেয়া রাম ধোলাই। ধোলাই দেওয়া হলো কেন?  কারণ কোনোভাবেই বলছিল না তার অবৈধ পিস্তল সে কোথায় রেখেছে। এমনি কি আর বলে! তার ওপর সে মার্কা মারা কিলার! বড় দুর্ভাগ্য তার যে শেষ পর্যন্ত ধরা খেয়েছে।

বাইট্টা বকশীর অনন্যোপায় স্বীকারাক্তি মোতাবেক তার গোপন আস্তানা থেকে একটি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি, ১টি অকেজো টু টু বোর রাইফেল, ২টি নান চাকু, ১টি সাইকেল চেইন, ৯টি পটকা সদৃশ বোমা এবং এক পোটলা গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। সে সময় বাইট্টা বকশীকেও সাথে রাখা হয়।

মালিবাগ থানা হাজতে বাইট্টা বকশীকে গতকাল দুপুরে খাবার দেওয়ার সময়ে এক পুলিশ বলেছিল, ‘ভালো কইরা খাইয়া নে, ফাঁসি হইলে তো চিরতরে খাওয়া শেষ।’ কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে বাইট্টা বকশীর বাইট্টা মাথার ভেতরে লম্বা আগুন লেগে যায়! সে ওই পুলিশ সদস্যের গলা চেপে ধরে। আরেকটু হলে শ্বাস বন্ধ হয়ে মরেই যেতো, আওয়াজ শুনে এসআই বাবুল দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। তারপর আর যায় কোথায়! বাইট্টা বকশীকে সিলিংয়ের সাথে উল্টো করে লটকিয়ে..। সেই থেকে বাইট্টা বকশীর এক ধরনের ‘ভুখ হরতাল’ চলছে। তার আট দিনের রিমান্ডের মেয়াদও শেষ। আরেকটু পরেই তাকে কোর্টে নেয়া হবে।

ইন্সপেক্টর জিলানী এ খবরটা জেনেছেন। এসআই বাবুলকে বলেছেন বাইট্টা বকশীর কনফেশনের ধারণকৃত ভিডিও রেকর্ড সোহরাবের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। ওই কনফেশনে আসামি বলেছে যে মি.টিটি জিলানীর প্রতি গুলি চালানোর জন্য তাকে হুকুম দিয়েছিল। রেকর্ডটা জামিন বাতিলের শুনানির সময় বিজ্ঞ আদালতকে দেখানো হবে।

জিলানী বসে বসে পরিকল্পনার ছক আঁকছেন। আগামীকাল গুরুত্বপূর্ণ অভিযান। যেসব জায়গায় ফোন করার প্রয়োজন ছিল সেসব ফোন করা শেষ। এসময় রাইসের কল এলো।

‘স্যার, এক সেকশন সসস্ত্র ব্যাটালিয়ান আনসার এসেছে মিস জেরিনদের বাড়িতে। ওরা সামনের বাগানে একটা তাঁবু বসিয়েছে।’

‘ঠিক আছে। তারা ওয়েল ট্রেইনড্। ওদেরকে বাড়ির তিন দিকে বিশেষ নজর রাখতে বলো। গেট, ঘরে উঠার সিঁড়ি এবং পেছনদিকের দেয়াল।’

‘জী স্যার। এখনই বলে দিচ্ছি।’

‘রাইস, গোফরানকে চেনো তো ?’

‘গোফরান ! অ্যাঁ… পাশের গলির গোফরান, স্যার ? যে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে ?’

‘ঠিক ধরেছো। তাকে কাল সকালে তোমার কাছাকাছি রেখো। যে জায়গায় যাবো, গোফরানকেও সাথে নেবো।’

‘ওকে স্যার।’

দুপুরের খাবার দেওয়া হয়েছে মিস জেরিনকে। জেরিনের রুমে। সালেকা বুয়া আজ জেরিন ম্যাডামের পছন্দের আইটেম করেছে। আইড় মাছ কষিয়ে রান্না করেছে। সাথে চ্যাপা শুঁটকি ভর্তা। জেরিনের শারীরিক অবস্থার ক্রমোন্নতি হচ্ছে। আজ সকালে আয়া তাকে হুইল চেয়ারের পরিবর্তে তার বাহু ধরে ধরে পাশের খালি জায়গায় হাঁটিয়েছে। জেরিন বলেছে, আগামীকাল সকালে পুরো ঘরটা হেঁটে দেখবে, বিকেলে বাগানটা দেখবে। ফাটা প্রাচীর সংস্কারের কাজ এখনও হয়নি শুনে সে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অথচ ইট, বালু, সিমেন্ট সে আগেই আনিয়ে রেখেছিল।

দুপুরের খাবার দেওয়া হয়েছে মিস জেরিনকে। জেরিনের রুমে। সালেকা বুয়া আজ জেরিন ম্যাডামের পছন্দের আইটেম করেছে। আইড় মাছ কষিয়ে রান্না করেছে। সাথে চ্যাপা শুঁটকি ভর্তা। জেরিনের শারীরিক অবস্থার ক্রমোন্নতি হচ্ছে। আজ সকালে আয়া তাকে হুইল চেয়ারের পরিবর্তে তার বাহু ধরে ধরে পাশের খালি জায়গায় হাঁটিয়েছে। জেরিন বলেছে, আগামীকাল সকালে পুরো ঘরটা হেঁটে দেখবে, বিকেলে বাগানটা দেখবে। ফাটা প্রাচীর সংস্কারের কাজ এখনও হয়নি শুনে সে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অথচ ইট, বালু, সিমেন্ট সে আগেই আনিয়ে রেখেছিল।

জেরিনের মুখের অবস্থাও কিছুটা স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে। সে এখন বাবা, মা, বাগান, বাতাস, বাসা, পাকা এ ধরনের শব্দ পরিষ্কার উচ্চারণ করতে পারছে। হাসতে পারছে। কাঁদতে তো পারেই।

আয়া চামচ দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে সে জেরিন ম্যাডামকে গোসল করিয়ে দিয়েছে। জুনিয়র লেডি ওয়াচার পাশের চেয়ারে বসে দেখছে। সিনিয়র লেডি এই কেবল গেছে গোসলের জন্য। বাথরুমটা অ্যাটাচড্। সিঁড়ি গোড়ায় নিরাপত্তা ডিউটিতে নবাগত সসস্ত্র আনসার।

দরজার ওপাশে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। শরীর দেখা যাচ্ছে না, দেখা যাচ্ছে তার ওড়নার আঁচল। লেডি ওয়াচার বলল, ‘কে ?’ 

কোন সাড়া নেই।  ওয়াচার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো। কোমরে হাত রেখে দরজার দিয়ে বের হলো। দেখে, নিধি দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে। তার হাতে মোবাইল। সে আওয়াজ দিল,‘দাঁড়ান মিস নিধি।’

নিধি দাঁড়িয়ে গেলো। পেছন ফিরে তাকালো। বলল,‘কেন ? কী হয়েছে ?’

‘আপনি মিস জেরিনের রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে কী করছিলেন ? আপনাকে না নিষেধ করা হয়েছে?’

‘তোমরা কে নিষেধ করার ? জেরিন ম্যাডামকে দেখতে দাও না, সেবা করতে দাও না, কথা বলতে দাও না। কেন?  এসব কি গুনাহর কাজ? নাকি আইনের চোখে অপরাধ? ভুলে যাচ্ছ, যে ম্যাডামই আমাকে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব দিয়েছেন!’

নিধির কন্ঠ ঝাঁঝালো। প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। পারলে সব ভেঙে চুরে ফেলে! ভাবটা এমন যেন সেও এ বাড়ির মালিক।

লেডি ওয়াচারের কাছে নিধির আচরণ ভালো লাগলো না। কোনো সাসপেক্টের কাছ থেকে এ ধরনের উদ্ধত আচরণ একদম অপ্রত্যাশিত। সে নিধির কাছাকাছি দাঁড়িয়ে বলল,‘মোবাইলে কী করছিলেন? ভিডিও নাকি অডিও রেকর্ডিং?’

‘আমার মোবাইলে আমি কী করেছি সেটা তোমাকে বলব কেন?’  নিধি চিৎকার করে উঠল।

লেডি ওয়াচার অনেক কষ্টে মেজাজটা সামলে বলল,‘দেখি, মোবাইলটা দেন।’ নিধি দিলো না। লেডি ওয়াচার রেগে বলল,‘মোবাইলটা দাও।’ নিধি দিলো না। বরং বলল, ‘প্রশ্নই ওঠে না।’

এবার ওয়াচার নিশ্চিত যে মোবাইলে তাদের কোন কিছু সে ধারণ করেছে। জোর গলায় নিধিকে বলল,‘মোবাইল দে বলছি।’

এবারও নিধি মোবাইলটা দিলো না। সে মোবাইলটা তার হাত থেকে কামিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখতে গেলে লেডি ওয়াচার মোবাইলটা জোর করে নেয়ার চেষ্টা করল। উভয়ের মধ্যে ধ্বস্তাধ্বস্তি হলো। এতে মোবাইল সেটটা নিচে পড়ে গেল। ফ্লোরে পড়ে মোবাইলের স্ক্রিন ভেঙে চুর চুর হয়ে গেল।

এটা দেখে নিধির মাথায় রক্ত উঠল। সে প্রথমে ওয়াচারের চুলের গোছা ধরে টানল। তারপর তার গলা চেপে ধরল। লেডি ওয়াচার কৌশলে তার ডান হাঁটু দিয়ে নিধির তলপেটে সজোরে আঘাত করল। ব্যথা পেয়ে নিধির হাত আলগা হয়ে এলো। লেডি ওয়াচার এবার নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। ভীষণ উত্তেজিত সে। তারপর কোমরের বেল্ট থেকে পিস্তল বের করে নিধিকে গুলি করার জন্য তাক করল।

ইত্যবসরে সিনিয়রজন চলে এলো। সে জুনিয়রকে বুঝিয়ে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হলো।

নিধির কপাল ভালো। আরেকটু হলে তার প্রাণটা গিয়েছিল! তাই বলে তার তেজ স্তিমিত হয় নি। সে আঙুল উঁচিয়ে বলল, ‘বলে রাখলাম, আমাকে দেওয়া তিন দিন সময়  আগামীকাল সন্ধ্যায় শেষ হবে। দুনিয়ায় এমন কোন শক্তি নেই যে কাল আমাকে এখন থেকে যেতে আটকায়।’ৎ

নিধির কপাল ভালো। আরেকটু হলে তার প্রাণটা গিয়েছিল! তাই বলে তার তেজ স্তিমিত হয় নি। সে আঙুল উঁচিয়ে বলল, ‘বলে রাখলাম, আমাকে দেওয়া তিন দিন সময়  আগামীকাল সন্ধ্যায় শেষ হবে। দুনিয়ায় এমন কোন শক্তি নেই যে কাল আমাকে এখন থেকে যেতে আটকায়।’

ভেতরে হৈচৈ শুনে ঘরের সিঁড়ির গোড়ায় ডিউটিরত কয়েকজন সসস্ত্র আনসার সতর্ক অবস্থায় দাঁড়াল। ঘরের ভেতরে যাবার অনুমতি নেই তাদের। তাদের কমান্ডার এসে ফোনে রাইসকে জানাল। রাইস কেবলই দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিল। ফোন পেয়ে তৎক্ষণাৎ চলে এলো। ভেতরে যেয়ে ঘটনাটা শুনে ইন্সপেক্টর জিলানীকে ফোনে জানাল। জিলানী তাকে কিছু নির্দেশনা ও পরামর্শ দিলেন।

রাইস নিধিকে ভরৎসনা করলো। কিন্তু নিধির কোন ভাবান্তর নেই! রাইস নিধিকে তার রুমে ঢুকিয়ে দিয়ে দরজার বাহির থেকে তালা লাগিয়ে দিল।লেডি ওয়াচারদের বলল, তারা যেন মিস জেরিনের রুমের সম্মুখ থেকে এক চুলও না নড়ে। এরপর আনসার কমান্ডারকে বললো আজ রাতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। সে জেরিনের সাথে দেখা করে তার খোঁজ খবর নিলো এবং তাকে অভয় দান করল।

অতঃপর রাইস গৃহীত ব্যবস্থাদি জিলানীকে অবহিত করল।

কাল মিশন। জিলানীর ‘অ্যাকশন অব প্ল্যান’ তৈরি শেষ। এখন বসে বিকেলের চা-নাস্তা খাচ্ছেন। স্ত্রী সাজিয়াও রয়েছে পাশে। ছেলে নাভিদ তার রুমে ছবি আঁকছে। এসময় সোহরাবের কল এলো। জিলানী মোবাইল সেট তুলে কলটা রিসিভ করলেন।

সোহরাব বলল,‘কোর্ট থেকে বলছি স্যার। এ মামলার আসামীদের জামিন হয় নি। এমন কী গুলিবর্ষণের মামলাতেও আসামি বাইট্টা বকশী কিংবা অন্য কারও জামিন হয় নি। সব জেলহাজতে গেছে।’

‘এদের জামিন হবে না জানতাম। মি.টিটি’র জামিন বাতিলের খবর কী সেটা বলো।’  জিলানী বললেন।

‘ওই শুনানি খুব লম্বা হয়েছে, স্যার। পিপি সাহেব খুব ভালো সাবমিশন দিয়েছেন। মি. টিটি’র পক্ষে উকিল ছিলেন চারজন। বাইট্টা বকশীর জবানবন্দির ভিডিও রেকর্ডটা দেখানোর পর পরই কোর্ট আদেশ দিয়ে দেন।’ সোহরাব জানালেন।

‘আদেশ কী হয়েছে, সোহরাব ?’

‘কোর্ট মি. টিটি’র জামিন বাতিল করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।’

চলবে..

Craft narratives that ignite inspiration, knowledge and entertainment.

Proudly powered by WordPress | Walker News Template by WalkerWP

আরও পড়ুন