বিধ্বংসী প্রহর, পর্ব— ১২

ঝামেলা একটা লেগেছে। নিরাপত্তার জন্য গেটে নতুন করে যে আরেকজন যুবককে পাঠানো হয়েছে এটা নিধির জানা ছিল না। এই অপরিচিত ব্যক্তি সকালে নিধিকে গেট আগলে ‘কোথায় যাচ্ছেন’ জিজ্ঞেস করায় এবং নাম ধাম খাতায় লিখতে বলায় নিধি রেগে যায়। কথা বাড়ে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে নিধি তার গালে চড় বসিয়ে দেয়। এতে যুবকটাও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। বেশ কষ্টে নিজেকে সামলে নেয়। এরপর সে নিধিকে জানায় যে ইন্সপেক্টর জিলানী তাকেও গেটে ডিউটি দিয়েছেন।
রুস্তম একা পারছিল না। দিনে এবং রাতে দু শিফটে ডিউটি করা তার একবার পক্ষে দুঃসহ এবং দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছিল। শুধু গেটে ডিউটিই তো নয়, ইন্সপেক্টর জিলানীর সাথে নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগ রাখা, তাঁর ব্রিফিং অনুসারে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখা, প্রয়োজনে ছবি তুলে রাখা ইত্যাদি কাজও যে করতে হচ্ছে ! সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে জিলানী নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে ভোরে নতুন একজনকে পাঠিয়ে দেন। তার নাম আদিল। নিধিকে একটু পরেই জিলানী বলতে যাচ্ছিলেন, তার মধ্যে সে এই কাণ্ডটা করে বসল!
নিধির মোবাইলে রিং বাজল। ইন্সপেক্টর জিলানীর কল দেখে নিধি ঘাবরে গেল। নতুন ছেলেটা নিশ্চয়ই তাঁর কাছে অভিযোগ করেছে! ইস্, না জানি কতোটা গরম কথা বলবে! নিধি সশঙ্কোচে ফোনটা ধরলো। জিলানীই প্রথম কথা বললেন, ‘ভালো আছেন তো ?’
‘জী ভালো আছি।’
‘আসলে একটু বিলম্ব করে ফেলেছি আপনাকে বলতে। আরও একজন নিরাপত্তা কর্মীকে ডিউটি করার জন্য ভোরবেলা পাঠিয়েছি। আদিল নাম। সে দিনে কাজ করবে, রুস্তম রাতে। একজন দিন-রাত দুই শিফ্টের ডিউটি আর করতে পারছিল না। আদিল আপনাকে চিনতে পারে নি। অনেক প্রশ্ন করেছে। আপনাকে ভীষণ রাগিয়ে দিয়েছে। আমি এই এখনই আপনাকে জানাতাম। খুব ভোরে আপনার ঘুমটা ভাঙতে চাইনি তো !’
নিধি অবাক! কী জ্বালাময়ী কথা শুনবে ভেবেছিল আর কী শুনল! এ তো মধুবর্ষণ! গোয়েন্দা অফিসার এমন ভদ্রও হয়! কিন্তু সে নিজে কী কাজটা করল! এখন নিজের কৃতকর্মের জন্য নিজেরই লজ্জা লাগছে। কেন যে রাগ কন্ট্রোল হয় না! নিধি বিনম্রকন্ঠে বলল, ‘না না, ঠিকই করেছেন। বরং আমিই খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি। আমার অন্তত চড় মারাটা উচিত হয়নি।’
‘ধন্যবাদ। শুনুন, ওরা তো মূলত: আপনার সিকিউরিটির জন্যই ডিউটি করছে। আপনি বাড়িতে একা। রাতে যদি কেউ অঘটন ঘটাতে আসে আর ওরা যদি না দেখে ? বুঝুন কী হতে পারে !’ জিলানী ভাবগম্ভীর স্বরে বললেন।
কথাগুলো কল্পনা করে নিধির কিছুটা ভীতিসঞ্চার হলো। সে বলল, ‘সরি স্যার, আমি তাদেরকে আর কিছু বলব না। আমি অনুতপ্ত। কাজটা খারাপ হয়েছে। আর হবে না।’
‘একটা কথা বলতে চাচ্ছি। এতে পরিস্থিত শান্ত হয়ে যাবে, যদি শোনেন এবং মানেন।’
‘জী, আমি তো শুনছিই। মানবও, আপনি বলুন।’
‘আদিল তো ডিউটিতে এসে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত। আপনি গেটে গিয়ে তাকে একটু সরি বলে আসেন।’
‘নিশ্চয়ই। আমি এখনই যাচ্ছি।’ নিধি ঝটপট উত্তর দিল।
‘আপনাকে ধন্যবাদ।’ জিলানী স্মিত হেসে ফোন রেখে দিলেন।
নিধি ফোন রেখেই গেটের কাছে চলে গেল। ডিউটিরত আদিলকে বলল, ‘আমি সত্যিই সরি! আপনি কিছু মনে রেখেন না।’
আদিল শান্ত কন্ঠে বলল, ‘ঠিক আছে ম্যাডাম। আমরা তো আদেশের গোলাম মাত্র।’
ড্রাইভার পিন্টুর জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে। এবার আর পিন্টু জ্ঞান হারায় নি। ইন্সপেক্টর জিলানীর জিজ্ঞাসাবাদের কৌশল বেশ নরম ; তার ভালো লেগেছে। তাকে চা-বিস্কুটও খাইয়েছে। সিআইডির লোকেরা আলাদা কোনো ইউনিফর্ম পরে না। পিন্টু দেখলো, তাদের পোশাক-আশাক তার মতোই।
ইন্সপেক্টর জিলানী পিন্টুর বক্তব্য সাদা কাগজে লিখে নিয়ে তার কেস-ডায়েরিতে রেখেছেন। পৃথকভাবে কিছু নোটও নিয়েছেন। নিধিসহ আরও কয়েকজনের বক্তব্য এরকম জবানবন্দি আকারে ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে। বক্তব্য প্রদানকারীর স্বাক্ষর নেয়ার প্রয়োজন হয় না, তাই নেন নি।
ইন্সপেক্টর জিলানী পিন্টুর বক্তব্য সাদা কাগজে লিখে নিয়ে তার কেস-ডায়েরিতে রেখেছেন। পৃথকভাবে কিছু নোটও নিয়েছেন। নিধিসহ আরও কয়েকজনের বক্তব্য এরকম জবানবন্দি আকারে ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে। বক্তব্য প্রদানকারীর স্বাক্ষর নেয়ার প্রয়োজন হয় না, তাই নেন নি।
জিলানী কয়েকজনের ফোন কল ট্র্যাকিংয়ের জন্য ইতঃপূর্বে গোপন অনুরোধপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। খসরুর ব্যাপারে সাভারের সোর্সদের অ্যালার্ট করে রেখেছেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস, খসরুকে পেলে তদন্তের একটা বৃহৎ বাতায়ন খুলে যাবে।
সিকিইরিটি গার্ড আদিলের ফোন এলো। সে তথ্য দিলো— রিফাত ইসলাম সন্ধ্যায় তার এক উকিল বন্ধুর দাওয়াতে যাবে বনানীতে। খবরটা জানিয়েছে তার কাজের ছেলে মোচন। ইনস্পেক্টর জিলানী এটা নোট করলেন।
অফিস সহকারী দিদার এসে বলল বার বার কল করেও ম্যাডাম অর্থাৎ জিলানীর স্ত্রী তাঁকে পাচ্ছে না। জিলানী ‘কেন’ বলে মোবাইল সেটের দিকে তাকিয়ে দেখেন, চার্জ শেষ। ‘ও দিস ইজ দ্য কজ’ বলে দ্রুত ব্রিফকেস খুলে পাওয়ার ব্যাংকটা বের করলেন। সেটা তাঁর মোবাইলে সংযোগ করে চার্জিংয়ে দিলেন। ইত্যবসরে তিনি একটা সিগারেট ধরালেন। লম্বা একটা টান দিয়ে নীরবে ব্রেইন স্টর্মিং করতে থাকলেন।
ইন্সপেক্টর জিলানী স্ত্রীকে ফোন করার জন্য মোবাইল সেটটা হাতে নিলেন। অমনি সাজিয়ার ফোন এলো। এ যেন ভাবনার সাথে ভাবনার মিলন। খুব প্রয়োজন না হলে সাজিয়া অফিস টাইমে ফোন করে না।
‘কাজে আছ ?’ সাজিয়া জিজ্ঞেস করল।
‘তাতে কী ! বেগমের ফোন। কাজ থাকলেও সব ‘ফ্রিজ’।’
‘না না, তা কেন ?’ সাজিয়া হেসে বলল।
‘নাভিদ খেয়েছে ?’
‘হ্যাঁ, এই তো খেলো। শোনো, শাদাবএর বার্থডে’র দাওয়াতে কি যেতে পারবে ? বান্ধবী এ নিয়ে দুবার ফোন করল। সময় করতে না পারলে ইনসিস্ট করব না।’
‘ক’টায় যেন ?’
‘সন্ধ্যা সাতটায়। বনানীর এক রুফটপ রেস্তোরাঁয়।’
‘সাজিয়া, তোমার বান্ধবীর হাজবেন্ড অ্যাডভোকেট হাসান না ?’
‘ঠিক। এডভোকেট অ্যান্ড নোটারি পাবলিক।’
‘আচ্ছা, সন্ধ্যায় রেডি দেখো। ও, প্রেজেন্ট ?’
‘ওটা আমি রেডি রেখেছি।’
‘যাক, প্রেজেন্ট কেনার বিড়ম্বনা গেলো। থ্যাংক ইউ ম্যাডাম।’
‘ওয়েলকাম।’
সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় জিলানী এবং সাজিয়া ছেলে নাভিদসহ নিমন্ত্রণস্থলে পৌঁছালেন। সাজিয়ার বান্ধবী তাদের অভ্যর্থনা জানালেন। ছাদের ওপর নির্মিত রেস্তোরাঁ। সুসজ্জিত এবং দৃষ্টিনন্দন। বিশাল হল। প্রায় অর্ধেক অতিথি চলে এসেছে। ছেলে শাদাবের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে ফুল ও বেলুন দিয়ে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। হাল্কা মিউজিক চলছে। বিশেষ টেবিলে রাখা আছে মোমবাতি সজ্জিত সাদা-চকোলেট রঙের ‘বার্থডে কেক’।
অনেকে বসে আছে, অনেকে দাঁড়িয়ে। ওয়েটার ঘুরে ঘুরে কোল্ড ড্রিংক সার্ভ করছে। জিলানী পরিবার একসঙ্গে দাঁড়িয়ে। জিলানী কোল্ড ড্রিংক খান না, সাজিয়াও না। ছেলে নাভিদ ঠিকই এক গ্লাস কোক নিলো। সাজিয়া সুন্দর একটি শাড়ি পরে এসেছে। বেশ কয়েকজনের চোখ তার দিকে। জিলানী সব লক্ষ্য করছেন। সাজিয়ার কানের কাছে এসে বললেন, ‘এই, শাড়িতে তোমাকে সুন্দর লাগছে।’ সাজিয়া মৃদু হেসে বলল, ’থ্যাংকস।’
জিলানীর চোখ গিয়ে পড়ল একটু দূরে, যেখানে অ্যাডভোকেট হাসান এবং রিফাত ইসলাম আলাপ করছে। জিলানীর মনে পড়ল গার্ড আদিলের কথাগুলো। তাহলে রিফাত এই দাওয়াতে এসেছে ! জিলানী এগিয়ে গেলেন। অ্যাডভোকেট হাসানের সঙ্গে তাঁর মোটামুটি আলাপ পরিচয় রয়েছে।
জিলানীর চোখ গিয়ে পড়ল একটু দূরে, যেখানে অ্যাডভোকেট হাসান এবং রিফাত ইসলাম আলাপ করছে। জিলানীর মনে পড়ল গার্ড আদিলের কথাগুলো। তাহলে রিফাত এই দাওয়াতে এসেছে ! জিলানী এগিয়ে গেলেন। অ্যাডভোকেট হাসানের সঙ্গে তাঁর মোটামুটি আলাপ পরিচয় রয়েছে।
‘আরে.. অ্যাডভোকেট সাহেব। কেমন আছেন ?’জিলানী বললেন।
‘ভালো আছি ভাই। আই অ্যাম সো হ্যাপি যে আপনারা এসেছেন।’ অ্যাড: হাসান বললেন।
জিলানী রিফাতের দিকে তাকালেন। বললেন,‘কেমন আছেন রিফাত সাহেব?’
‘জী, আছি একরকম।’ রিফাতের জবাব।
‘ও, তোমার পরিচয় আছে জিলানী সাহেবের সঙ্গে ?’
অ্যাডভোকেট হাসান রিফাতকে জিজ্ঞেস করলেন।
‘আছে একটু আধটু। আচ্ছা হাসান, আমাকে একটু যেতে হবে।’ রিফাত হঠাৎ করে যেতে চাইল।
‘এতো জলদি কেন রে ?’ হাসান জানতে চাইলেন।
‘জরুরি কাজ আছে। সময় থাকলে পরে আবার আসব।’
‘তুমি সিআইডি ইন্সপেক্টর দেখে ভয় পেলে না তো ?
অ্যাড. হাসান হাসতে হাসতে বললেন।
‘গোয়েন্দা তো, পেতেও পারি।’ রিফাত একটা মেকি হাসি দিল। তারপর ‘আসি’ বলে স্থান ত্যাগ করল।
জিলানী মনে মনে বললেন, ‘সে আর আসবে না।’
‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ’— বিশেষ টেবিলের কাছে সমস্বরে আওয়াজ। কেক কাটা হচ্ছে। হাততালি পড়ছে। জিলানী দেখেন তাঁর স্ত্রী খোশদিলে তার বান্ধবীদের সঙ্গে কথা বলছে। নাভিদ কেক খাচ্ছে আর আলাপ করছে শাদাব ও অন্য বন্ধুদের সাথে। মাঝে মাঝে সেলফি তোলা হচ্ছে। অধিকাংশই তার ক্লাসফ্রেন্ড। বেশ হার্দিক পরিবেশ।
ইত্যবসরে খাবারের জন্য ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বুফে ডিনার। ছত্রিশ পদের খাবার। এখন হলজুড়ে ছুটোছুটি করছে খাবারের ঘ্রাণ। শুরু হলো লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ। দু’ জায়গায় লাইন হলো দুটো। জিলানী তাঁর স্ত্রী পুত্রসহ প্লেটে প্লেটে খাবার নিয়ে টেবিল-চেয়ারে বসলেন।
অ্যাডভোকেট হাসান ঘুরে ঘুরে সবার দিকে খেয়াল রাখছেন, ফরমাল হাসি উপহার দিচ্ছেন। ইন্সপেক্টর জিলানী খাবার নিয়ে তার পূর্বপরিচিত আরেক অতিথির পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন। কুশল বিনিময় করলেন। একসময় অ্যাডভোকেট হাসান সেখানে এসে দাঁড়ালেন।
‘রিফাত সাহেবের মিসেস সাথে এলেন না যে ?’ জিলানী জিজ্ঞেস করলেন।
‘ওর বউ তো আমেরিকায়।’
‘বেড়াতে গেছে কি ?’
‘বলে তো তাই। আমি শুনেছি অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রবলেম।’
‘আচ্ছা, ডিভোর্স হয়নি তো ?’
‘বোধ হয় না। আসলে এ ব্যাপারে বেশি জিজ্ঞেস করি না। সেও বলে না।’
‘বন্ধু মানুষ, মিলিয়ে দিতে পারেন তো। বন্ধুই তো বন্ধুর উপকার করে।’
‘উপকার তো করেই যাচ্ছি। সেদিনও তো একটা সম্পত্তির পাওয়ার অব এটর্নি তৈরি করে দিলাম।’
‘নোটারি পাবলিক হিসাবে ?’
‘হ্যাঁ।’
জিলানীর খটকা লাগল। রিফাত কার সম্পত্তির জন্য পাওয়ার অব এটর্নি করেছে! তিনি অ্যাড. হাসানকে জিজ্ঞেস করলেন,‘পাওয়ারটা রিফাত সাহেবকে কে দিলো? কোথায় কার সম্পত্তির জন্য দিলো ?’
‘এই তো ধানমন্ডিতে। তার এক প্যারালাইজড আত্মীয়ের। আসলে আমার ডিটেইলস মনে নেই। কেন বলুন তো ?’
‘আপনি বললেন সে জন্য জিজ্ঞেস করলাম আর কি !’
‘ও আচ্ছা।’ এ কথা বলে অ্যাডভোকেট হাসান হলের অন্য প্রান্তে চলে গেলেন।
‘ধানমন্ডি’ শব্দটা সঙ্গে সঙ্গে ইন্সপেক্টর জিলানীর মস্তিষ্কে খট্ করে স্ট্রাইক করল। চোখ দুটো কপালে উঠল। যা ধারণা করবার, তিনি করে ফেললেন। ধারণাটা দ্রুত বিশ্বাসে পরিণত হতে লাগল।
জিলানী চটজলদি একটা ওয়াশরুমে ঢুকলেন। দরজা লাগিয়ে দিলেন। বেসিনের পানির ট্যাপ হাল্কা করে ছেড়ে দিলেন, যাতে একটু পানির শব্দ হয় এবং দরজার বাইরের কেউ তার কথা শুনতে না পায়।
পকেট থেকে মোবাইল সেটটা বের করে তাঁর এক সহযোগীকে কল লাগালেন। কল রিসিভ করা হলো।
‘আসসালামু আলাইকুম স্যার।’ ওপাশ থেকে।
‘ওয়ালাইকুম সালাম। শোনো, তোমরা রেডি থাকো।ভোরে মিশন। উইপন রাখবে। ওয়াকিটকি নেবে। ডিটেইলস পরে।’
চলবে….
