নজরুল ইসলামের ‘লাঙল’: শতবর্ষ পরে এক নিবিড় পাঠ

নিবিড় পাঠ : ২
‘লাঙল’ পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালের ২৩শে ডিসেম্বর, বুধবার (৮ই পৌষ ১৩৩২)। এই সংখ্যায় :
‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ- সম্প্রদায়ের’এর স্থলে
‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-দল’এর সাপ্তাহিক মুখপত্র মুদ্রিত হয়েছে।
প্রথম পৃষ্ঠাতেই ঘোষিত হয়েছে নজরুলের ‘কৃষাণের গান’এর কথা । রয়েছে তিনটি বিজ্ঞাপন: ১. মানিকতলার ‘প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউসের’ প্রবর্ত্তকের ‘বিবেকানন্দ সংখ্যা’ প্রকাশিত হবে পৌষ মাসের শেষে। ২. রয়েছে ৩৭নং হ্যারিসন রোডের থিয়েটারের দ্রব্যাদির সরবরাহকারী ‘দি কোহিনুর ডেকোরেটিং এণ্ড পেন্টিং ওয়ার্কস’এর বিজ্ঞাপন ; এবং ৩. একটি ‘To Let’- এর ঠিকানাবিহীন এ্যাড।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে , প্রথম সংখ্যার মতোই– ক) লোহার বীম ও বরগার এবং বন্দুক বিক্রির বিজ্ঞাপনদ্বয়। খ) রয়েছে প্রায় অর্ধপৃষ্ঠা জুড়ে, লাঙলের পুস্তক বিভাগ থেকে হেমন্তকুমার সরকারের বই ; এবং ৮৬এ, লোয়ার সার্কুলার রোডের বাসিন্দা সুলেখিকা মিসেস আর.এস. হোসেন (রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন)এর বইয়ের বিজ্ঞাপন । লেখিকার বাসস্থানের ঠিকানাকেই প্রাপ্তিস্থান বলা হয়েছে, তাঁর বই:
১.পদ্মরাগ (উপন্যাস) ১ টাকা ৮ আনা; ২.ক.মতিচুর ১ম খণ্ড- ১ টাকা; এবং খ. মতিচুর ২য় খণ্ড- ২ টাকা।
তৃতীয় পৃষ্ঠায়, প্রথম সংখ্যার মতোই মুদ্রিত হয়েছে: হালচাষরত চাষীর লোগো এবং চণ্ডীদাসের মানবতার বাণী : ‘শুনহ মানুষ ভাই…।’ রয়েছে শ্রী গিরিজাকান্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ: ‘মাটীর মোহ’ ; শেষ প্যারায় তিনি লিখেছেন : ‘লাঙল’ ভারতের প্রাচীন কৃষক মজুরের বাহন ও বাহক তো বটেই, তাছাড়া আজ ভারতবর্ষের নিরন্ন দরিদ্রের মুখের গ্ৰাস সে-ই জুগিয়ে দিবে – এবং সেই সঙ্গে তার চিন্তার অন্ন, প্রাণের খোরাকও উৎপন্ন করিবে।’ এই পৃষ্ঠাতেই মুদ্রিত হয়েছে নজরুলের ‘কৃষাণের গান’ কবিতাটি। আদতে এটি মূলতই দীর্ঘ একটি গান। কবি নজরুলের প্রচণ্ড শারীরিক অসুস্থতার কারণে, হেমন্তকুমার সরকার , কবিকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে হুগলি থেকে, তাঁর কৃষ্ণনগরের বাসভবনে নিয়ে আসেন এবং কবির চিকিৎসাসহ তাঁদের সমস্ত দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সময়ে, ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ এবং ৭ তারিখে , কৃষ্ণনগরের টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয় ‘নিখিল বঙ্গীয় প্রজা সম্মিলনের’ অধিবেশন। অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তায় নজরুলের উপর। কলকাতা থেকে সম্মেলনে যোগ দেন মুজফ্ফর আহমদ, কুতুবউদ্দীন আহমদ, শামসুদ্দীন হুসয়ন, আব্দুল হালিম এবং সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর। নজরুল ইসলাম ছিলেন অভ্যর্থনা সমিতির সর্বাধিনায়ক। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনের দায়িত্বও ছিল তাঁর। হুগলিতে থাকার সময়ে তিনি ‘কৃষাণের গান’ শীর্ষক দীর্ঘ গানটি রচনা করেন (অগ্ৰহায়ণ ১৩৩২) । এবং এটি প্রকাশিত হয় ‘লাঙলের’ দ্বিতীয় সংখ্যায় অর্থাৎ ১৯২৬ সালের ১লা জানুয়ারি। (এই বিখ্যাত গানটিকে মুজফ্ফর আহমদ এবং অরুণকুমার বসু, তাঁদের গ্ৰন্থে , ভ্রমবশত ‘কৃষকের গান’ বলে উল্লেখ করেছেন। ) সেই গানটিই, অধিবেশনের উদ্বোধনী সঙ্গীত হিসেবে কবি পরিবেশন করেন। এই অনুষ্ঠানেই, এই ‘সম্মেলনী’ থেকে কংগ্রেসের সংশ্রব ছিন্ন করে, লেবার স্বরাজ পার্টি, আলাদা রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে — নাম দেওয়া হয় : ‘Bengal Peasants and Workers Party’ (বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দল)। দলের সভাপতি হন : অতুলচন্দ্র গুপ্ত ; সহসভাপতি নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত ; সম্পাদক কুতুবউদ্দীন আহমদ । মজদুর শাখার দায়িত্বে থাকেন হেমন্তকুমার সরকার ; কৃষক শাখার দায়িত্বে ছিলেন সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর। নজরুল ইসলামকে রাখা হয় একজন সদস্য হিসেবে।
২৬ পংক্তি বিশিষ্ট ঐ বিখ্যাত গানটির শেষ স্তবক ছিল এই রকম :
‘জাগ্ রে কৃষাণ সব ত গেছে কিসের বা’ আর ভয়
ক্ষুধার জোরেই করব এবার সুধার জগৎ জয়
বল্ সবে ভাই, বল্ কৃষাণের বল্ লাঙলের জয়,
দেখবে এবার সভ্যজগৎ চাষার কত বল ।।’
‘লাঙল’এর এই সংখ্যায়, মার্ক্সবাদী রাজনৈতিক লেখার সূচনা হয়, দুটি রচনা দিয়ে:
একটি প্রবন্ধ, অন্যটি অনুবাদ। ‘কার্ল মার্কস’ শীর্ষক প্রবন্ধটি লেখেন দেবব্রত বসু । প্রবন্ধটি জায়গা নিয়েছে ৫ম থেকে ৮ম পৃষ্ঠা পর্যন্ত। ৮ম-৯ম পৃষ্ঠায় রয়েছে: ঋষীকেশ সেন রচিত ‘বাংলার কৃষকের কথা’ থেকে সংকলিত অংশ ‘প্রজাস্বত্ব আইন’ । ১০ম ও একাদশ পৃষ্ঠায় ‘খবরদারি’ পর্যায়ে মুদ্রিত হয়েছে দেশের নানা ধরনের খবরাখবর। একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠায়, ‘খড়কুটো’ পর্যায় থেকে জানা যায় বেশ কয়েকটি চুম্বক সংবাদ :
১. ‘কংগ্রেস উপলক্ষে ‘লাঙল’ এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে । আগামী ৬ই জানুয়ারী কবি নজরুলের আর একটি অপূর্ব্ব কবিতা নিয়ে ‘লাঙল’ আবার বেরুবে ।’ (প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, লাঙলের তৃতীয় সংখ্যা বের হয় ৭ই জানুয়ারি ; ৬ই জানুয়ারি নয়।)
২. ‘কবি নজরুল ইসলাম এখন অসুস্থ। তাঁর শরীরটা একটু সারলেই তিনি কাউন্সিলের প্রজাদলের সম্পাদক হেমন্তকুমার সরকারের সহযোগে প্রজা আন্দোলন উপলক্ষে মফস্বলে ঘুরবেন। যাঁরা তাঁদের চান, অনুগ্ৰহ করে এখনই পত্র দিবেন। ’
৩. ‘ জানুয়ারী মাস হতে কলিকাতার পার্কে পার্কে প্রজা-আন্দোলন সম্বন্ধে প্রতি রবিবারে সভা হবে । বিখ্যাত বক্তাগণ বক্তৃতা করবেন এবং কাজী নজরুল ও মণিবাবুর গান সকল সভাতেই হবে।’
৪. ‘প্রজার দুর্দ্দশা ও প্রতিকারের উপায় দেখাবার জন্যে আমাদের আপিস হতে কতকগুলি ম্যাজিক লণ্ঠনের ছবি তৈরী করানো হচ্ছে। এইগুলি শেষ হ’লেই লাঙলের কর্ম্মসচিব শ্যামসুদ্দীন হুসেন (বি:দ্র:/ শুদ্ধ নাম : শামসুদ্দীন হুসয়ন) সাহেব ম্যাজিক লণ্ঠন নিয়ে মফস্বলের ডাকে বেরোবেন।’
৫. ‘শ্রমিক ও প্রজা স্বরাজ দলের সাহায্যার্থ আগামী ৭ই জানুয়ারী বৃহস্পতিবার এলবার্ট হলে (বি:দ্র: বর্তমানে কফি হাউস/প্রবন্ধকার) একটি Variety Entertainment হবে।বাংলা,হিন্দী, উর্দু, ইংরাজী, ফরাসী, জার্ম্মান, প্রভৃতি জগতের নানা ভাষায় গান গাওয়া হবে। কলিকাতার খ্যাতনামা কয়েকজন বিখ্যাত ভদ্র-মহিলা ও ভদ্র-মহোদয় অনুগ্ৰহপূর্ব্বক তাঁদের সঙ্গীত কলাকৌশল প্রদর্শন করতে স্বীকৃত হয়েছেন। প্রত্যেক ইস্কুলে কলেজে ও আপিসে টিকিট বিক্রীর জন্য লোক চাই। সাহায্যকারীগণ অনুগ্ৰহ করে ‘লাঙল’ অফিসে এসে দেখা করবেন।’
এই সংখ্যা থেকেই , স্বনামধন্য রুশ সাহিত্যিক, ম্যাক্সিম গোর্কির জগদ্বিখ্যাত উপন্যাস ‘Mother’ এর বাংলা অনুবাদ ‘মা’ প্রকাশের সূচনা হয়– অনুবাদক: নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়। দ্বাদশ পৃষ্ঠায়, পাঠকদের জ্ঞাতার্থে,অনুবাদক ‘মা’ উপন্যাসের একটি সংক্ষিপ্ত-মননশীল ভূমিকাও লিখে দিয়েছেন। ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ পৃষ্ঠায় মূল কাহিনীর ভাষান্তরের প্রথমাংশ মুদ্রিত হয়।
চতুর্দশ পৃষ্ঠার শেষের দিকে দুটি ছোট বিজ্ঞাপন আছে : প্রথমটি ‘পাত্র পাত্রী আবশ্যক’ এবং দ্বিতীয়টি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গ্ৰন্থ: ‘ভারতে জাতীয় আন্দোলন’ এর।
পঞ্চদশ পৃষ্ঠার বিজ্ঞাপনগুলো প্রথম সংখ্যারই পুনর্মুদ্রণ। ষোড়শ পৃষ্ঠায়ও বিজ্ঞাপন: লাঙল পত্রিকার বিজ্ঞাপনের হার, লাঙল বুক এজেন্সীর বইয়ের আনন্দ সংবাদ ; লাঙল বুক এজেন্সীর বিজ্ঞাপনে যুক্ত হয়েছে নতুন বই– শৈলেশনাথ বিশী প্রণীত গ্ৰন্থত্রয় : ১.বোলশেভিকবাদ ২.চিত্তকথা ৩. নরনারী; এবং পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘নীল পাখী’ শীর্ষক শিশুতোষ গ্ৰন্থের পূর্ববৎ বিজ্ঞাপন।
নিবিড় পাঠ ৩
[‘লাঙলের’ জনপ্রিয়তা দিন দিন ব্যাপকভাবে বাড়তেই থাকে। তাই ‘লাঙলের’ তৃতীয় সংখ্যায় মুদ্রিত ‘খড়কুটো’ পর্যায়ে (পৃ.১৪), সংক্ষিপ্ত সংবাদে বলা হয় : ‘ প্রথম সংখ্যার ৫ হাজারের মত ‘লাঙল’ দ্বিতীয় সপ্তাহে, বেরুতে না বেরুতে সমস্ত বিক্রী হয়ে যাওয়ায়, গ্ৰাহকগণের আগ্ৰহাতিশয্যে আমরা দ্বিতীয় সংখ্যার দ্বিতীয় সংস্করণ বাহির করি। কিন্তু তাতেও না কুলোনোতে মফঃস্বলের অনেক জায়গায় কাগজ পাঠান হয়নি। আশা করি বর্ত্তমান সংখ্যা হ’তে নিয়মিতভাবে সর্ব্বত্র কাগজ পাঠাতে পারব।’]
লাঙল এর তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়, দু’সপ্তাহ পেরিয়ে ১৯২৬ সালের ৭ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার (২৩শে পৌষ ১৩৩২)।
১ম পৃষ্ঠাতেই জানানো হয় : ‘ এই সংখ্যায় আছে কবি নজরুল ইসলামের ‘সব্যসাচী’ । দুটি
পুরনো বিজ্ঞাপনের সঙ্গে মুদ্রিত হয়েছে কবি নজরুলের ‘সাম্যবাদী’র বিজ্ঞাপন ; তাতে বলা হয়েছে : ‘ পুস্তকাকারে নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী বাহির হইয়াছে। দাম: মাত্র দুই আনা। প্রাপ্তিস্থান লাঙল কার্য্যালয়।’ দ্বিতীয় পৃষ্ঠায়ও পুরনো তিনটি বিজ্ঞাপন মুদ্রিত হয়েছে।
তৃতীয় ও চতুর্থ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে নজরুলের বিখ্যাত কবিতা: ‘সব্যসাচী’ ।
কবিতাটিতে, ৯টি স্তবক রয়েছে । ‘সব্যসাচী’ রচিত হয় ১৩৩০সালের কার্তিক মাসে।পরে এটি ১৯২৭ সালের জুলাই মাসে (শ্রাবণ ১৩৩৪) কবির ‘ফণিমনসা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
কবিতাটির উল্লেখযোগ্য শেষাংশ :
‘মশা মেরে ঐ গরজ কামান– ‘বিপ্লব মারিয়াছি ।
আমাদের ডানহাতে হাতকড়া, বাম হাতে মারি মাছি !
মেনে শত বাধা টিকটিকি হাঁচি ,
টিকি দাড়ি নিয়ে আজো বেঁচে আছি !
বাঁচিতে বাঁচিতে প্রায় মরিয়াছি, এবার সব্যসাচী,
যাহোক একটা দাও কিছু হাতে,একবার মরে বাঁচি ! ’
৫ম ও ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে নজরুলের অস্বাক্ষরিত রচনা: ‘পোলিটিক্যাল তুবড়ি বাজি’। এই প্রবন্ধটিকে,নজরুল ইসলামের ‘রাজনৈতিক বামপন্থী মতাদর্শ ও দুঃসাহসিক বিশ্লেষণের অন্যতম’ উদাহরণ বলা যায়। এটি , কানপুরে অনুষ্ঠিত, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ৪১তম বার্ষিক অধিবেশন নিয়ে লিখিত কবির একটি বিদ্রূপাত্মক রচনা। একে সম্পাদকীয় বলেই গণ্য করা যায়। এই সংখ্যাতেই, সম্মেলনের বিবরণ ও ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির গঠনতন্ত্র মুদ্রণ করে নজরুল ইসলাম এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করলেন; শিরোনাম: ‘ভারতীয় প্রথম কমিউনিস্ট কনফারেন্স, কানপুর ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির গঠননীতি।’
৬ষ্ঠ থেকে ৮ম পৃষ্ঠাব্যাপী মুদ্রিত হয়েছে, দেবব্রত বসুর ধারাবাহিক রচনা: ‘লেনিন ও সোভিয়েট রুষিয়া।’ ৯ম ও ১০ম পৃষ্ঠায় রয়েছে, নৃপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় অনূদিত ধারাবাহিক উপন্যাস: ‘মা’ । ৯ম পৃষ্ঠার উপরের দিকে রয়েছে , একটি কার্টুন, সঙ্গে ৮ পংক্তির একটি কবিতা :
‘তোমরা কাটো মাথায় টেরী
মোদের রক্তে নেয়ে উঠে,
তোমরা চড় জুড়িগাড়ী
মোদের সকল লুটেপুটে ,
আমরা চষি তোমার জমি
আমরা জোগাই তোমার ভাত,
আমরা আজ খালি পেটে
ভাবছি দিয়ে মাথায় হাত।’
একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে ইন্দ্রজিৎ শর্ম্মার, শেকফের ভাবাবলম্বনে লিখিত গল্প: ‘নাগরিক’। ত্রয়োদশ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে, ঋষীকেশ সেনের ‘বাংলার কৃষকের কথা’ থেকে সংকলিত ‘প্রজাস্বত্ব আইন’/প্রজার কথা।’
‘খড়কুটো’ পর্যায়ের টুকরো খবর থেকে জানা যায় দলের নানান কথা। একটি সংবাদে বলা হয়েছে :
‘ আগামী ১৭/১৮ই জানুয়ারী ময়মনসিংহ সহরে জিলা কৃষক ও শ্রমিক কনফারেন্স বসবে। এজন্য হিন্দু মুসলমান সকল সম্প্রদায়-ভুক্ত ব্যক্তিগণকে নিয়ে অভ্যর্থনা কমিটি গঠিত হয়েছে। সহস্র সহস্র প্রতিনিধি সভায় যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন।
কাজি নজরুল ইসলাম ও শ্রীযুত হেমন্তকুমার সরকার মহাশয়কে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। কাজি সাহেব সুস্থ থাকলে হেমন্তবাবুর সঙ্গে নিশ্চয়ই উপস্থিত হবেন।’
পঞ্চদশ পৃষ্ঠায় রয়েছে ৭টি বিজ্ঞাপন। নজরুল ইসলামের বইয়ের বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে :
‘বাহির হইল/বাহির হইল/নজরুল ইসলামের ছায়ানট/ মূল্য মাত্র: পাঁচসিকা মাত্র ।/ কবির অন্যান্য পুস্তক: সাম্যবাদী: দুই আনা; রাজবন্দীর জবানবন্দী (যন্ত্রস্থ) ।’
১৬নং পৃষ্ঠায় রয়েছে : লাঙলের বিজ্ঞাপনের হার, লাঙল বুক এজেন্সির এবং পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্পের বই ‘নীল পাখী’র পুরনো বিজ্ঞাপন।
নিবিড় পাঠ ৪
‘লাঙল’এর চতুর্থ সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালের ১৪ই জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার (৩০শে পৌষ,১৩৩২)।
পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে তিনটি বিজ্ঞাপন ও দুটি নোটিশ। প্রথম নোটিশে জানানো হয়েছে : ‘ আগামী বারে জনৈক কারারুদ্ধ আদর্শ দেশভক্তের পুণ্য-চরিত্র চিত্রণে লাঙলের বিশেষ সংখ্যা বাহির হইবে। এই নোটিশ থেকে জানা যায় : ‘লাঙল’ পত্রিকার আগামি বিশেষ পঞ্চম সংখ্যা সাজানো হচ্ছে দেশভক্ত সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে।
দ্বিতীয় নোটিশে জানানো হয়েছে ,দলের আর্থিক সাহায্যার্থে এলবার্ট হলে যে বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজনের কথা ঘোষিত হয়েছিল, নজরুল ইসলামের অসুস্থতার কারণে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার বিষয়ে – নোটিশে লেখা হয় : ‘ কাজি সাহেবের অসুস্থতার জন্য এলবার্ট হলে ভ্যারাইটি এন্টারটেইনমেন্টস্ আপাতত স্থগিত রাখিতে হইল। যাঁহারা টিকিট কিনিয়াছেন, অনুগ্ৰহপূর্ব্বক বিক্রেতাগণের নিকট জমা দিলে টাকা ফেরৎ পাইবেন।’
রয়েছে দুটি বিজ্ঞাপন ; প্রথমটি : জে.এন. ঘোষের গ্ৰামোফোন ও হারমোনিয়াম বিক্রি বিষয়ক।দ্বিতীয়টি ‘ সমগ্ৰ বঙ্গ ও আসাম হিন্দু বিবাহ সমিতি’র — ঠিকানা: ৩৭নং হ্যারিসন রোড (ম্যানেজার কে. সমাজপতি, বি.এ.)।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে তিনটি পুরনো বিজ্ঞাপনের পুনর্মুদ্রণ।
এছাড়া মুদ্রিত হয়েছে দেবব্রত বসুর ধারাবাহিক রচনা: ‘লেনিন ও সোভিয়েট রুষিয়া’ (পৃ:৬-৮)।
নীচে রয়েছে একটি কাঠের ব্লক; তারসঙ্গে কবিতার দুই পংক্তি :
‘শক্তি আছে সাহস আছে নাইকো জ্ঞান-দৃষ্টি ভাই ,
অজ্ঞানের অন্ধকারে পথ-হারা আজ পান্থ তাই।’
৯ম ও ১০ম পৃষ্ঠায় রয়েছে নৃপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের অনূদিত ম্যাক্সিম গোর্কির ধারাবাহিক উপন্যাস ‘মা’। একাদশ পৃষ্ঠায় ‘খবরদারী’ পর্যায়ে রয়েছে চারটি টুকরো খবর ।
দ্বাদশ পৃষ্ঠায় ‘খড়কুটো’র প্রথম সংবাদে বলা হয়েছে : ‘কবি নজরুল ইসলাম পীড়িত অবস্থায় কৃষ্ণনগরে আছেন। তাঁর ঠিকানা : নজরুল ইসলাম, কৃষ্ণনগর, নদীয়া।’
এই পৃষ্ঠাতেই মুদ্রিত হয়েছে ‘ বীরভূম প্রজা- সম্মেলন /কীর্ণাহারের অধিবেশন’-এর বিস্তারিত
সংবাদ। ১৩নং পৃষ্ঠায় আছে : ‘হাওড়া জেলা প্রজা সম্মিলন’ এবং ‘ভারতীয় প্রথম কম্যুনিস্ট কনফারেন্স/কানপুর/ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টির গঠননীতি’– ১৪নং পৃষ্ঠায় গিয়ে শেষ হয়েছে এই দীর্ঘ প্রতিবেদন। এই পৃষ্ঠার দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু হয়েছে : ‘বগুড়া জেলা প্রজা কনফারেন্স’-এর সংবাদ ; শেষ হয়েছে ১৫নং পৃষ্ঠায়। এই পাতাতেই মুদ্রিত হয়েছে দুটো পুরনো বিজ্ঞাপন। আর ১৬নং পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে ‘লাঙল’-এর বিজ্ঞাপনের হার ও লাঙল বুক এজেন্সীর বইয়ের বিজ্ঞাপন।
নিবিড় পাঠ ৫
দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র বসুর ত্রিশতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে, লাঙলের পঞ্চম সংখ্যাটি
‘সুভাষ সংখ্যা’ রূপে প্রকাশিত হয় ১৯২৬সালের ২১শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার (৭ই মাঘ১৩৩২)।
এই বিশেষ সংখ্যায় অর্থাৎ ‘সুভাষ-সংখ্যা’য় মুদ্রিত হয়েছে, সুভাষচন্দ্রের ছবিসহ তাঁর ঊনত্রিশ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনী, কর্মপন্থা নির্ধারণ ও চিঠিপত্র। এছাড়াও রয়েছে কিছু অন্যান্য বিষয়ও । এই সংখ্যায় আছে : ‘জন্মোৎসবে’ (কবিতা), দেশভক্ত সুভাষচন্দ্র বসু, সুভাষচন্দ্রের পত্রাবলী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ সম্বন্ধে সুভাষচন্দ্রের চিঠি, নজরুল ইসলামের পত্র, সাম্যবাদী সম্মেলনের সভাপতির ভাষণ: ‘কমিউনিজম ও বলশেভিজম’ , কমিউনিস্ট পার্টি গঠন, পুস্তক সমালোচনা, বাংলার কৃষকের কথা, রবীন্দ্র-উদ্ধৃতি । তৃতীয় ও চতুর্থ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে নরেন্দ্র দেবের ‘জন্মোৎসবে’ কবিতা । পঞ্চম থেকে সপ্তম পৃষ্ঠা অবধি রয়েছে সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মকুণ্ডলি, বাল্যকাল এবং কর্মপন্থা।৮ম থেকে ১০ম পৃষ্ঠা পর্যন্ত ছাপা হয়েছে ৭ খানা চিঠি। দশম থেকে দ্বাদশ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মুদ্রিত হয়েছে, দেশবন্ধু সম্পর্কে সুভাষচন্দ্রের একটি দীর্ঘ পত্র। এরপরেই রয়েছে একটি বক্স নোটিশ: ‘আগামী বারে সুভাষচন্দ্রের বিলাতের পত্র বাহির হইবে।’ ১৩নং পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে নজরুল ইসলামের একটি সংবেদনশীল পত্র। ১৭-১৮ জানুয়ারি, ময়মনসিংহের প্রজা ও শ্রমিক সম্মেলনে কবির যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সম্মেলনে যেতে না পারায়, হেমন্তকুমার বসুর হাতে একটি লিখিত পত্র দেন , সেটা তাঁকে পাঠ করে শোনাবার জন্য। নজরুল তাঁর পত্রে লিখেছিলেন: আপনারা আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা গ্ৰহণ করুন। আমার আন্তরিক ইচ্ছা ছিল, আপনাদের এই নব জাগরিত প্রাণের স্পর্শে নিজেকে পবিত্র করিয়া লইব, ধন্য হইব। কিন্তু দৈব প্রতিকূল হওয়ায় আমার সে আশা পূর্ণ হইল না। আমার শরীর আজও রীতিমত দুর্ব্বল, একস্থান হইতে অন্যস্থানে যাইবার মত শক্তি আমার একেবারেই নাই। আশা করি আমার এই অনিচ্ছাকৃত অক্ষমতা সকলে ক্ষমা করিবেন।’ এরপর ময়মনসিংহ সম্পর্কে তাঁর স্মৃতি ও স্মৃতি- কাতরতার কথা উল্লেখ করেছেন কবি চিঠির শেষ অনুচ্ছেদে : ‘আজ কৃষাণের দুঃখে , শ্রমিকের কাৎরানীতে আল্লার আরশ কাঁপিয়া উঠিয়াছে। দিন আসিয়াছে, বহু যন্ত্রণা পাইয়াছ ভাই – এইবার তাহার প্রতিকারের ফেরেশতা দেবতা আসিতেছেন। তোমাদের লাঙল, তোমাদের শাবল তাঁহার অস্ত্র , তোমাদের কুটীর তাঁহার গৃহ ! তোমাদের ছিন্ন মলিন বস্ত্র তাঁহার পতাকা, তোমরাই তাঁহার পিতা মাতা। আমি আপনাদের মাঝে সেই অনাগত মহাপুরুষের শুভ আগমন প্রতীক্ষা করিয়া আপনাদের নব জাগরণকে সালাম করিয়া নির্নিমেষ দৃষ্টিতে তাকাইয়া আছি, ঐ বুঝি নব দিনমণির উদয় হইল ! ইতি ।’
এই পৃষ্ঠার শেষাংশে বক্স-আকারে আছে রবীন্দ্রনাথের কবিতার উদ্ধৃতি। ১৪নং পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে, কানপুরে অনুষ্ঠিত সাম্যবাদী সম্মিলনে সভাপতির ভাষণ: ‘কমিউনিজম ও বলশেভিজম।’
১৫নং পৃষ্ঠায় রয়েছে নজরুল ইসলামের ‘ছায়ানট’ কাব্যগ্রন্থের বিজ্ঞাপনসহ তিনটি বিজ্ঞাপন এবং ‘কম্যুনিস্ট পার্টি গঠন’ সংক্রান্ত একটি সংবাদ ও ঋষীকেশ সেনের, ‘বাঙলার কৃষকের কথা’ গ্ৰন্থের পাঠ-প্রতিক্রিয়া।
১৬নং পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে পুরনো বিজ্ঞাপন। ‘লাঙল বুক এজেন্সি’ থেকে নতুন দুটি পুস্তক প্রকাশের বিজ্ঞাপনও এবার যুক্ত হয়েছে : ১.ইউরোপের দর্পহারী মহাবীর গাজী আবদুল করিম ; ২. মোস্তাফা কামাল পাশা।
১৫নং পৃষ্ঠায় রয়েছে : ৩৭নং হ্যারিসন রোড-এর ‘লাঙল’ কার্যালয়ে ‘কম্যুনিস্ট পার্টি গঠন’-এর সংবাদ। সংবাদটির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেটি এখানে উদ্ধৃত করা হলো :
‘ সকলেই জানেন ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে কানপুরে ভারতীয় কম্যুনিস্টগণের প্রথম সম্মিলন হয়েছিল। স্থির হয়েছে বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই : প্রবন্ধকার) কম্যুনিস্ট পার্টির একটি কেন্দ্র কার্য্যালয়, আর কানপুর, কলিকাতা, লাহোর ও মাদ্রাজে পৃথক পৃথক শাখা কার্য্যালয় স্থাপন করা হবে । বাংলা দেশ হতে প্রতিনিধি হিসাবে একমাত্র রাধামোহন গোকুলজী উপস্থিত ছিলেন। আমিও উপস্থিত ছিলুম বটে কিন্তু, আমি গিয়েছিলুম আলমোড়া হতে। কলিকাতায় কার্য্যালয় স্থাপন করা ও বাংলা দেশে পার্টি গঠন করার ভার আমার ওপরে দেওয়া হয়েছে। আমার স্বাস্থ্য মোটেও ভাল নয়। সংযুক্ত প্রদেশের কারাগারে ক্ষয়রোগে ভুগে ভুগে যখন মরণাপন্ন অবস্থায় পৌঁছেছিলুম তখন ভারত গবর্ণমেন্ট আমায় মুক্তি দিয়েছেন। তারপরে কুর্ম্মাচলের আলমোড়াতে তিন মাস থেকে যদিও চলা-ফেরার শক্তি কতকটা ফিরে পেয়েছি, তথাপি এই ঘৃণিত ব্যাধি হতে একেবারে মুক্ত হতে এখনো পারিনি এবং আর কখনো পারব কিনা তা-ও জানিনে।এ অবস্থায় কলিকাতায় থাকা আমার পক্ষে শ্রেয়ষ্কর ত নয়ই, পরন্তু সম্ভবপরও হয়তো হয়ে উঠবে না। তবে,আমার একার অভাবে বাংলা দেশে কম্যুনিস্ট পার্টির গঠন স্থগিত থাকা কিছুতেই উচিত হবে না। বাংলায় যাঁরা কম্যুনিস্ট আছেন তাঁরা সমবেত হয়ে পার্টি গঠন করুন, এই সনির্ব্বন্ধ অনুরোধ আমি তাঁদের জানাচ্ছি। কম্যুনিস্ট হতে বলা এদেশের আইন অনুসারে অপরাধ নয়। বাংলা দেশের কম্যুনিস্টগণ পার্টি গঠন সম্বন্ধে কতদূর কি করতে রাজি আছেন তা আমায় জানালে আমি বড় বাধিত হব। মুজফ্ফর আহমদ, ৩৭নং হ্যারিসন রোড, কলিকাতা।’
নিবিড় পাঠ ৬
‘লাঙল’এর ৬ষ্ঠ সংখ্যা প্রকাশিত হয়, ১৯২৬সালের ২৮শে জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার (১৪ই মাঘ ১৩৩২)।
পত্রিকার ৩য়-৪র্থ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত, ৪২টি পংক্তিবিশিষ্ট একটি দীর্ঘ কবিতা: ‘গাড়োয়ানের গল্প’।
পূর্ব ঘোষণানুসারে, ৫ম -৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় রয়েছে : ‘সুভাষচন্দ্রের বিলাতের পত্রাবলী’। ঐ পাতার অবশিষ্টাংশে আছে বক্স-আকারে রবীন্দ্রনাথের, ৬পংক্তির কবিতার উদ্ধৃতি। ৭ম-৮ম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে দেবব্রত বসুর ধারাবাহিক রচনা : ‘লেনিন ও সোভিয়েট রুষিয়া’। পৃষ্ঠার অবশিষ্টাংশে রয়েছে, বক্স-আকারে রবীন্দ্রনাথের ৬পংক্তির কবিতার উদ্ধৃতি। ৯ম-১০ম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে মুজফ্ফর আহমদের তাৎপর্যবহ প্রবন্ধ : ‘কোথায় প্রতিকার? ’ উপসংহারে লেখক বলেছেন : ‘একটি মাত্র জিনিস – কম্যুনিজম – আজ ভারতবর্ষকে ধ্বংস হতে রক্ষা করতে পারে। কম্যুনিস্টরা মনুষ্যত্বটাকে বড় বলে মানে, সাম্প্রদায়িক ভেদ-বুদ্ধির প্রশ্রয় তারা একেবারেই দেয় না।’ পৃষ্ঠার শেষাংশে :
‘ময়মনসিংহ জেলা কৃষক শ্রমিক সম্মিলন’ শিরোনামে মুদ্রিত সংবাদে বলা হয়েছে : ‘গত ১৭/১৮ই জানুয়ারি তারিখে ময়মনসিংহ সহরে এক বিরাট কৃষক-শ্রমিক সম্মিলন হইয়া গিয়াছে। কলিকাতা হইতে শ্রীযুক্ত হেমন্তকুমার সরকার, এম.এল.সি. ও মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়
মহাশয় নিমন্ত্রিত হইয়া সভায় যোগদান করেন।বঙ্গ ও আসাম প্রদেশী মৎস্যজীবী-সভার
সম্পাদক শ্রীযুক্ত রমণীমোহন বিশ্বাস ও ম্যাজিক লণ্ঠনের প্রবক্তা , শ্রীযুক্ত জ্ঞানাঞ্জন নিয়োগী মহাশয়ও সভায় বক্তৃতা করিয়াছেন। কিশোরগঞ্জের মৌলবী শাহ আবদুল হামিদ সভাপতির আসন গ্ৰহণ করেন।
মণিবাবু কাজি নজরুল ইসলামের কয়েকটি গান করিলেন, কাজি সাহেবের পত্র ও কবিতা হেমন্ত বাবু পাঠ করেন।’
১২নং পৃষ্ঠায় আছে ‘খড়কুটো’। ১৩ থেকে ১৫নং পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে নৃপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় অনূদিত ম্যাক্সিম গোর্কির
ধারাবাহিক উপন্যাস: ‘মা’। ১৫নং পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে তিনটি পুরনো বিজ্ঞাপন। ১৬নং পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে শুধুই বিজ্ঞাপন।
নিবিড় পাঠ ৭
‘লাঙল’-এর ৭ম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়,
৪ঠা ফেব্রুয়ারি ১৯২৬, বৃহস্পতিবার (২১শে মাঘ ১৩৩২)। পত্রিকার ৩য় থেকে ৫ম পৃষ্ঠা অবধি ছাপা হয়েছে, বরিশালের অশ্বিনীকুমারকে নিয়ে লেখা নজরুল ইসলামের দীর্ঘ কবিতা: ‘অশ্বিনীকুমার’। কবিতাটি ১৩৩১ সালের মাঘ মাসে রচিত হয়।পরে কবিতাটি, ১৯২৭ সালের ২৯শে জুলাই প্রকাশিত, কবির ‘ফণিমনসা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবিতার শেষ স্তবকটি প্রণিধানযোগ্য :
‘হে প্রেমিক, তব প্রেম বরিষায় দেশে
এল ঢল বীর-ভূমি বরিশাল ভেসে।
সেই ঢল সেই জল বিষম তৃষায়
যাচিছে ঊষর বঙ্গ তব কাছে হায় !
পীড়িত এ বঙ্গ পথ চাহিছে তোমার,
অসুর নিধনে কবে আসিবে আবার !’
৬ষ্ঠ এবং ৭ম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে, নৃপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় অনূদিত , ম্যাক্সিম গোর্কির ধারাবাহিক উপন্যাস : ‘মা’। ৭ম থেকে ৯ম পাতা অবধি রয়েছে, ঋষীকেশ সেনের ধারাবাহিক রচনা: ‘ বাংলার প্রজাস্বত্ব বিষয়ক বিধি’। পাতার শেষাংশে আছে একটি কার্টুন এবং বক্স-আকারে, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ৪পংক্তিবিশিষ্ট ব্যঙ্গ কবিতা।
১০-১১ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে দেবব্রত বসুর ধারাবাহিক রচনা: ‘লেনিন ও সোভিয়েট রুষিয়া’।১১নং পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে: কৃষ্ণনগরের টাউন হলে , ৬ও ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত, নিখিল বঙ্গীয় প্রজাসম্মিলনীর দ্বিতীয় অধিবেশনের কর্মসূচি।১৯২৬সালের ৩১ জানুয়ারি, অভ্যর্থনা সমিতির সম্পাদক হেমন্তকুমার সরকার এই কর্মসূচির কথা জানিয়ে দেন। দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে (৭ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬, রবিবার) বক্তাদের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছেন : কাজী নজরুল ইসলাম।
১১নং পৃষ্ঠায় মুদ্রিত ‘খড়কুটো’ থেকে জানা যায় : ‘বিশ্ব-কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকায় যাচ্ছেন।ঢাকা সহরে কবি-সম্বর্দ্ধনার জন্য যথেষ্ট আয়োজন হচ্ছে। ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির কমিশনারদের এক বৈঠকে ঠিক হয়েছে যে, কবি সেখানে পৌঁছলে মিউনিসিপ্যালিটি থেকে তাঁকে অভিনন্দন-পত্রদেওয়া হবে।’
১২-১৩নং পৃষ্ঠায় ‘খবরদারী’ পর্যায়ে রয়েছে ,
সংবাদ সমূহ।১৩নং পৃষ্ঠার শেষাংশ থেকে ১৫নং পৃষ্ঠা পর্যন্ত মুদ্রিত হয়েছে, কুতবুদ্দীন আহমদের: ‘কার্ল মার্কসের শিক্ষা’। এটি লেখকের ইংরেজি রচনার ভাষান্তর।এই পৃষ্ঠায়ই
মুদ্রিত হয়েছে চারটি বিজ্ঞাপন। ১৬নং পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে, লাঙল পত্রিকার এবং লাঙল বুক এজেন্সীর পুরনো বিজ্ঞাপন সমূহ।
নিবিড় পাঠ ৮
পত্রিকার ৮ম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে ১৯২৬সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার (২৮ শে মাঘ ১৩৩২)।
প্রথম পৃষ্ঠায়ই নোটিশাকারে জানানো হয়:
‘এই সংখ্যায় ডাক্তার নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তের সভাপতির অভিভাষণ’ মুদ্রিত হয়েছে । এছাড়াও এ পৃষ্ঠায় আছে তিনটি বিজ্ঞাপন ; রয়েছে বরেন্দ্র লাইব্রেরী প্রকাশিত এবং সতীশচন্দ্র সেন প্রণীত ‘বাংলার অভিনব নাটক কাদম্বরী’র প্রকাশ- সংবাদ । দ্বিতীয় পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে পুরনো বিজ্ঞাপন সমূহ।১১নং পৃষ্ঠা জুড়ে মুদ্রিত হয়েছে, কৃষ্ণনগরে ৬ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ‘নিখিল বঙ্গীয় প্রজা-সম্মিলনী’র দ্বিতীয় অধিবেশনের সভাপতি নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তের ভাষণ।১৪নং পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে, সুকুমার চক্রবর্তী ও সুরেশ বিশ্বাসের :‘চীনের নবজন্ম’ শীর্ষক একটি দীর্ঘ ধারাবাহিক অনূদিত রচনা ; নিবন্ধটি শেষ হয়েছে ১৭নং পৃষ্ঠায় গিয়ে। রচনাটি ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়েছিল ‘Forward’ পত্রিকায় ১৯২৪ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর ।
এই পৃষ্ঠার শেষাংশে মুদ্রিত হয়েছে দুটি পুরনো বিজ্ঞাপন। ১৮নং পাতায় আছে : দুটি পুরনো এবং দুটি নতুন বিজ্ঞাপন।
নিবিড় পাঠ ৯
‘লাঙল’-এর নবম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার (৬ই ফাল্গুন ১৩৩২)। প্রথম পাতাতেই জানিয়ে দেওয়া হয় : ‘এই সংখ্যার বড়ো আকর্ষণ, নজরুল ইসলামের কবিতা ‘শ্রমিকের গান’।
এছাড়া, প্রথম পৃষ্ঠায় আছে তিনটি পুরনো বিজ্ঞাপন। দ্বিতীয় পৃষ্ঠায়, পাতা জুড়ে রয়েছে বিজ্ঞাপন ; নতুন বইয়ের বিজ্ঞাপন থেকে জানা যায় : মেটকাফ্ প্রেস থেকে বেরিয়েছে: মনীন্দ্রনাথ ঘোষের ‘ নারীর দাবী’।
তৃতীয় ও চতুর্থ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে নজরুল ইসলামের ‘শ্রমিকের গান’ । কৃষ্ণনগরে ১৯২৬সালের ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গীয় প্রজা সম্মিলনের (দ্বিতীয় অধিবেশনের ?) দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ৭ই ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে, কবি এই গানটি নিজেই সুরারোপ করে পরিবেশন করেন। গানটির নীচে রচনার তারিখ রয়েছে : ২০শে মাঘ ১৩৩২, কৃষ্ণনগর।পরে ১৯২৬সালের ২৫শে অক্টোবর (কার্তিক ১৩৩৩) এই গান/কবিতাটি , বর্ম্মণ পাবলিশিং হাউস থেকে প্রকাশিত কবির ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়। গানটির উল্লেখযোগ্য শেষাংশ :
‘ আবার নূতন করে মল্লভূমে
গর্জ্জাবে ভাই দল-মাদল।
ধর্ হাতুড়ি, তোল্ কাঁধে শাবল
ঐ শয়তানী চোখ কলের বাতি
নিবিয়ে আয় রে ধ্বংস-সাথী !
ধর্ হাতিয়ার সামনে প্রলয় রাতি রে!
আয় আলোক-স্নানের যাত্রীরা আয়
আঁধার নায়ে চড়বি চল্ ।
ধর্ হাতুড়ি তোল্ কাঁধে শাবল।’
দায়বদ্ধতার সঙ্গে দরদ মিশিয়ে, শ্রমিক শক্তির রাজনৈতিক তৎপরতা ও তাৎপর্য ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। আর সেকারণেই গানটির এতো গুরুত্ব।
৫ম থেকে ৮ম পৃষ্ঠা অবধি রয়েছে, দেবব্রত বসুর ধারাবাহিক রচনা: ‘লেনিন ও সোভিয়েট রুষিয়া’ । পৃষ্ঠার শেষাংশে আছে লাঙলের ম্যানেজারের একটি বিজ্ঞাপন ; তাতে বলা হয়েছে, লাঙলের নিজস্ব ছাপার মেশিন কেনার কথা : ‘প্রিন্টিং মেশিন আবশ্যক/ পুরাতন, অথবা কার্য্যোপযোগী একটি ডবল ডিমাই বা ডবল ক্রাউন প্রিন্টিং মেশিন এবং হাফ-ক্রাউন সাইজ ট্রেডল মেশিন আবশ্যক।’
৯ থেকে ১৪নং পৃষ্ঠা পর্যন্ত ছাপা হয়েছে ঐ সম্মিলনের গঠন প্রণালী। সম্মিলনে গৃহীত, ৪নং প্রস্তাবে বলা হয় : ‘কবি নজরুল ইসলাম পরিচালিত – ‘লাঙল’ পত্রিকাকে, কৃষক ও শ্রমিক দলের মুখপত্র রূপে আপাতত গ্ৰহণ করা হউক।’
১৫নং পৃষ্ঠায় ‘খড়কুটো’র সংবাদভাষ্যে জানানো হয় : ‘নজরুল ইসলাম/ কাজী নজরুল ইসলাম সাহেব কৃষ্ণনগরেই থাকেন। ব্যক্তিগতভাবে চিঠি-পত্র তাঁকে, পো: কৃষ্ণনগর, জিলা: নদীয়া ঠিকানাতেই লিখতে হবে। ‘লাঙল’ অফিসের ঠিকানায় তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে পত্র লিখলে সে পত্র সময় মত তিনি পাবেন না।’ আর একটি সংবাদে , লাঙলের ৩৭নং হ্যারিসন রোডে, বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দলের বৈঠকের কথা জানিয়ে বলা হয়েছে : ‘বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দল/বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দলের কার্য্যনির্ব্বাহক সমিতির প্রথম বৈঠক আগামী ২১শে মার্চ তারিখে পূর্ব্বাহ্ন ৮ টা ৩০ মিনিটের সময় দলের অফিস ৩৭নং হ্যারিসন রোড, কলিকাতায় বসবে/হেমন্তকুমার সরকার/ সম্পাদক/বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দল ।’
১৬নং পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে অন্যান্য সংখ্যার মতোই পুরনো বিজ্ঞাপন।
নিবিড় পাঠ ১০
পত্রিকার দশম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার (১৩ই ফাল্গুন ১৩৩২)।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে ম্যাক্স বিয়ার্-এর :‘সোশালিজম কাকে বলে ?’ ৪র্থ থেকে ৮ম পৃষ্ঠা পর্যন্ত রয়েছে : ‘চীনের নবজন্ম’ – এর প্রথমাংশ মুদ্রিত হয়েছিল পত্রিকার ৮ম সংখ্যায় । ৮ম পৃষ্ঠার বাকি অর্ধাংশ জুড়ে রয়েছে ‘ খড়কুটো’।
৯ম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে : ‘ শচীন সান্যালের উপর আবার অর্ডিন্যান্স’ শীর্ষক একটি সংবাদ। ৯ম থেকে ১৩ নং পৃষ্ঠাতে মুদ্রিত হয়েছে ঋষীকেশ সেনের ধারাবাহিক প্রবন্ধ : ‘বাঙলার প্রজাস্বত্ব বিষয়ক বিধি’ । ১৪নং পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে, মুজফ্ফর আহমদ লিখিত ‘ বিবিধ প্রসঙ্গ’ শিরোনামে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংবাদ। ১৪ এবং ১৫নং পৃষ্ঠায় রয়েছে মুজফ্ফর আহমদের লেখা প্রবন্ধ : ‘শ্রেণি-সংগ্ৰাম’।
১৫ এবং ১৬ নং পৃষ্ঠাতে আছে পুরনো ৮টি বিজ্ঞাপন। এই সংখ্যায় নজরুল ইসলামের কোনো রচনা বা সংবাদ নেই।
—
নিবিড় পাঠ ১১
‘লাঙল’ একাদশ সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালের ৪ঠা মার্চ, বৃহস্পতিবার (২০শে ফাল্গুন ১৩৩২)। পত্রিকার ১ম পৃষ্ঠায় ৩টি এবং ২য় পৃষ্ঠায় ৬টি পুরনো বিজ্ঞাপন মুদ্রিত হয়েছে। ৩য় ও ৪র্থ পৃষ্ঠায় রয়েছে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের কবিতা: ‘চাষার ব্যারিষ্টার’। ৫ম ও ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে, নৃপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় অনূদিত ম্যাক্সিম গোর্কির ধারাবাহিক উপন্যাস ‘মা’।
সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ: ‘হিন্দু-মুসলমান’, রয়েছে ৭ম ও ৮ম পৃষ্ঠায় । প্রবন্ধের উপসংহারে লেখক বলেছেন : ‘আজকের দিনে পৃথিবীর সমস্যাই হচ্ছে উৎপাদন ও বণ্টনের সমস্যা,আর এই সমস্যার সমাধানের উপর হিন্দু-মুসলমান সমস্যার সমাধান নির্ভর করে।’
৯ম পৃষ্ঠায় রয়েছে, আর.নেফ্টের প্রবন্ধ : ‘সোশালিজম’। এছাড়া আছে, অতুলকৃষ্ণ ঘোষ এবং উপেন্দ্রনাথের, মুক্তির বিষয়ে দুটো সংবাদ। দশম ও একাদশ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে আলতাফ আলীর প্রবন্ধ: ‘ভারত কি চায় ?’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন: ‘শাসনতন্ত্র আমাদের হাতে না আসা পর্যন্ত আমাদের দু্ঃখ কষ্ট ও দুর্দ্দশার অবসান হবে না।’ ১২ এবং ১৩নং পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে ঋষীকেশ সেনের ধারাবাহিক রচনা: ‘বাঙলার প্রজাস্বত্ব বিষয়ক বিধি’ র ষষ্ঠতম পর্যায়। রয়েছে ‘ বিবিধ প্রসঙ্গ’ শিরোনামে সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা দুটি সংবাদভাষ্য।১৪নং পৃষ্ঠার শুরুতে রয়েছে ‘খড়কুটো’ । ১৪ এবং ১৫নং পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে ৭টি পুরনো বিজ্ঞাপন।
শেষ পৃষ্ঠায় (১৬) রয়েছে পাতা জুড়ে একটি বিজ্ঞাপন : নজরুল ইসলামের অসুস্থতার কারণে এলবার্ট হলে আয়োজিত যে অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছিল, সেই অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানানো হয়েছে : ‘বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক-দলের সাহায্যের জন্য বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ১৯২৬ সালের ৬ই মার্চ (২২শে ফাল্গুন, শনিবার) সন্ধ্যা ছয়টায় কলেজ স্কোয়ারের এলবার্ট হলে। টিকিটের মূল্য তিন টাকা, দুই টাকা,এক টাকা।’
এই সংখ্যায় নজরুল ইসলামের কোনো লেখা নেই।
নিবিড় পাঠ ১২
‘লাঙল’-এর দ্বাদশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে দু’সপ্তাহ পার করে : ১৮ই মার্চ ১৯২৬, বৃহস্পতিবার (৪ঠা চৈত্র ১৩৩২)। এই সংখ্যা থেকেই লাঙলের লোগোটি বন্ধ করে দেওয়া হয় ; লেখা হয় : ‘লাঙল বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক- দলের সাপ্তাহিক মুখপত্র ।’
‘Langal : A Weekly organ of The Bengal Peasants and Workers Party.’ নোটিশে জানানো হয়: ‘এই সংখ্যায় আছে কার্ল মার্কসের পত্র’। এছাড়া প্রথম পৃষ্ঠায় আছে তিনটি বিজ্ঞাপন। দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে পাঁচটি বিজ্ঞাপন। লাঙল বুক এজেন্সী জানিয়েছে : ‘নজরুল ইসলামের নূতন কবিতার বই সাম্যবাদী দুই আনা, ছায়ানট পাঁচসিকা এবং রাজবন্দীর জবানবন্দী দুই আনা।’ এই সংখ্যার তিন থেকে পাঁচ পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপা হয়েছে, কবি নজরুলের ‘জেলেদের গান’।
গানটি রচিত হয়েছে কৃষ্ণনগরে, ১৯২৬সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি (১৩৩২)। ১১ই এবং ১২ই মার্চ, মাদারীপুরে অনুষ্ঠিত হয় ‘নিখিল বঙ্গীয় আসাম প্রদেশীয় মৎস্যজীবী সম্মিলনী’র তৃতীয় অধিবেশন।ঐ অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে, উদ্বোধন- সঙ্গীত হিসেবে কবি এই গান পরিবেশন করেন। গানটি ১৯২৬সালের ২৫শে অক্টোবর প্রকাশিত কবির ‘সর্ব্বহারা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।এখানে ‘জেলেদের গান’ নামের পরিবর্তে নামকরণ করা হয়েছে ‘ধীবরদের গান’। গ্ৰন্থভুক্তিতে , গানটির মধ্যে প্রচুর পাঠান্তর পরিলক্ষিত হয়।
৬ষ্ঠ ও ৭ম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে মুজফ্ফর আহমদের প্রবন্ধ: ‘কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন’।
৭ম থেকে ১০ম পৃষ্ঠা অবধি বঙ্গানুবাদে প্রকাশিত হয়েছে , কার্ল মার্কসের ‘ইংরেজ অধিকৃত ভারতবর্ষের একটি চিত্র’। এরপরেই রয়েছে ‘লাঙলের’ ম্যানেজারের ‘কৈফিয়ৎ’, তাতে বলা হয়েছে: ‘প্রেস পরিবর্ত্তন করা হেতু গত সপ্তাহে ‘লাঙল’ বের হয়নি অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদিগকে হঠাৎ প্রেস বদলাতে হয়েছে।’ এই পৃষ্ঠাতেই ছাপা হয়েছে সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘স্বরাজ্যদল’ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন। ১১ এবং ১২নং পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে, নৃপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় অনূদিত ম্যাক্সিম গোর্কির ধারাবাহিক উপন্যাস ‘মা’ ।
১৩নং পৃষ্ঠায়, ছাপা হয়েছে ‘ ভূম্যধিকারিত্বের বিলোপ’ শিরোনামে একটি পুস্তক-পর্যালোচনা ।
১৪ এবং ১৫নং পৃষ্ঠায় রয়েছে ‘খড়কুটো’ এবং ‘খবরদারি’ । ‘নিখিল বঙ্গীয় ও আসাম প্রদেশীয় মৎস্যজীবী সম্মিলনী’ শিরোনামের সংবাদভাষ্য থেকে জানা যায় : ‘গত ১১ই ও ১২ই মার্চ্চ তারিখে ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর সহরে মৎস্যজীবী সম্মিলনীর তৃতীয় অধিবেশন হয়।
১০ই মার্চ সন্ধ্যায় সভাপতি শ্রীযুত হেমন্তকুমার সরকার মহাশয় স্টীমার যোগে আসেন। তাঁর সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম, শ্রীযুত বসন্তকুমার
মজুমদার ও শ্রীমতী হেমপ্রভা মজুমদার ছিলেন।…কাজী সাহেবের গানে সকলেই মুগ্ধ হয়েছিলেন।’
১৫নং পৃষ্ঠায় রয়েছে ৪টি বিজ্ঞাপন।১৬নং পৃষ্ঠার সবটা জুড়ে রয়েছে বিজ্ঞাপন। রয়েছে, ডি.এম.লাইব্রেরী কর্তৃক প্রকাশিত নজরুল ইসলামের বইয়ের বিজ্ঞাপনও।
নিবিড় পাঠ ১৩
দ্বাদশ সংখ্যা থেকেই(১৮ই মার্চ) ‘লাঙল’ পত্রিকা ,’বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দলে’র মুখপত্র রূপে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করে; এবং পুরনো ‘কৃষক-লোগো’টিও তুলে দেওয়া হয়। এই সময়, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌত্র এবং তরুণ রাজনৈতিক কর্মী সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই দলে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন। মুজফ্ফর আহমদ তাঁকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ‘আশীর্ব্বচন’ সংগ্ৰহ করতে বলেন। একদিন সকালে, রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে তিনি তা লিখিয়ে এনে দেন। ‘লাঙল’-এর ত্রয়োদশ সংখ্যা থেকে তা পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হতে শুরু করে। কবির অমূল্য ‘আশীর্ব্বচন’টি উল্লেখ করা
হলো :
‘জাগো জাগো
ধরো তব মরুভাঙা হল
বল দাও ফল দাও
স্তব্ধ কর ব্যর্থ কোলাহল।’
বিশ্বভারতীর গ্ৰন্থাগারিক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় এবং সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতিতে এর পাঠান্তর পরিলক্ষিত হয়। পাঠান্তরে, ‘বল দাও ফল দাও’-এর স্থানে‘প্রাণ দাও শক্তি দাও’ রয়েছে ।
ত্রয়োদশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬সালের ২৫শে মার্চ বৃহস্পতিবার (১১ই চৈত্র ১৩৩২)।
এই সংখ্যায় পত্রিকার প্রধান পরিচালকের নাম হিসেবে নজরুল ইসলামের উল্লেখ থাকে বটে, কিন্তু সম্পাদক হিসেবে মুদ্রিত হয় গঙ্গাধর বিশ্বাসের নাম। এই সংখ্যাটি বিশেষ মৎস্যজীবী সংখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হয়। ১ম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয় দুটি বিজ্ঞাপন। ২য় পৃষ্ঠাতেও ছাপা হয় পুরনো ৫টি বিজ্ঞাপন ; এর মধ্যে ৪টি বইয়ের বিজ্ঞাপন, বাকিটি থিয়েটার সামগ্ৰী সংক্রান্ত।
৩য় থেকে ৮ম পৃষ্ঠায় রয়েছে , মাদারীপুরে অনুষ্ঠিত (১১ই এবং ১২ই মার্চ /২৭শে ও ২৮শে ফাল্গুন) ‘ নিখিল বঙ্গীয় ও আসাম প্রদেশীয় মৎস্যজীবী সম্মিলনে’, সভাপতি হেমন্তকুমার সরকারের অভিভাষণ । ৮ম ও ৯ম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে, মুজফ্ফর আহমদের লেখা ‘কারাগার সম্বন্ধে দেশের ঔদাসীন্য’ শীর্ষক প্রতিবেদন ।
৯ম থেকে দ্বাদশ পৃষ্ঠায়, বঙ্গানুবাদে প্রকাশিত হয়েছে, কার্ল মার্কসের ধারাবাহিক : ‘ইংরেজ অধিকৃত ভারতবর্ষ’। দ্বাদশ সংখ্যায় মুদ্রিত হয়েছিল তাঁর প্রথম পত্রখানি। এটি তাঁর দ্বিতীয় পত্র – রচনাকাল ১৮৫৩ সাল। ১২ থেকে ১৪নং পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে, নৃপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় অনূদিত ম্যাক্সিম গোর্কির ধারাবাহিক উপন্যাস ‘মা’ । ১৪নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘বিবিধ প্রসঙ্গ’ শিরোনামে মুজফ্ফর আহমদের লেখা বিভিন্ন সংবাদ। এরপর রয়েছে, কৃষক ও শ্রমিক সভার সংবাদ এবং ‘খড়কুটো’ । শেষ দুটি পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে পুরনো বিজ্ঞাপন সমূহ।
এই সংখ্যাতেও নজরুল ইসলামের কোনো লেখা নেই।
নিবিড় পাঠ ১৪
‘লাঙল’-এর চতুর্দশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে দু’সপ্তাহ পরে, ১৯২৬সালের ৮ই এপ্রিল, বৃহস্পতিবার (২৫শে চৈত্র ১৩৩২)।
প্রথম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে, রবীন্দ্রনাথের ‘আশীর্ব্বচন’ এবং দুটি পুরনো বিজ্ঞাপনের পুনর্মুদ্রণ। ৩য় থেকে ৫ম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে মুজফ্ফর আহমদের লেখা ‘খোলা চিঠি’। চিঠিটির শেষাংশে আছে : ‘ আজকের দিনে দেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের সর্ব্বপ্রধান কাজ হচ্ছে দেশকে মহাত্মা গান্ধীর সকল প্রকার প্রভাব হতে মুক্ত করা।’ ৫ম পৃষ্ঠার শেষাংশে মুদ্রিত হয়েছে : ‘ময়মনসিংহ কৃষক ও শ্রমিক-দল’-এর সংবাদ ।
৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় রয়েছে, ‘ কমনওয়েলথ অফ্ ইন্ডিয়া ও কমরেড সাকলাৎওয়ালা’ এবং ‘পুস্তক- পরিচিতি’। ৭ম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে, ‘লাঙল’ পত্রিকায় নজরুল ইসলামের শেষ কবিতা: ‘সর্ব্বহারা’। পাঁচটি স্তবকে রচিত এই কবিতার, শেষ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পংক্তি দেওয়া হলো :
‘মাঝিরে , তোর নাও ভাসিয়ে
মাটীর বুকে চল্ !
শক্ত মাটীর ঘায়ে হউক
রক্ত পদতল।
প্রলয়-পথিক চ’লবি ফিরি
দ’লবি পাহাড়-কানন-গিরি !
হাঁকছে বাদল ঘিরি ঘিরি,
নাচছে সিন্ধুজল।
চল্ রে জলের যাত্রী এবার
মাটীর বুকে চল্।।’
৮ম -৯ম পৃষ্ঠায় ‘যুগ-সন্ধি’ শীর্ষক প্রবন্ধটি লিখেছেন সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর। দশম ও একাদশ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে নৃপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় অনূদিত ম্যাক্সিম গোর্কির ধারাবাহিক উপন্যাস ‘মা’ । দ্বাদশ থেকে চতুর্দশ পৃষ্ঠা অবধি ‘বিবিধ প্রসঙ্গ’ লিখেছেন সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর। চতুর্দশ থেকে পঞ্চদশ পৃষ্ঠায় ‘কলকাতায় দাঙ্গা’ শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে , কলকাতায় দাঙ্গার সংবাদ। সংবাদে বলা হয়েছে :
গত শুক্রবার হতে ধর্ম্ম কলিকাতা শহরে আপনার স্বরূপ প্রকাশ করেছে, অর্থাৎ হিন্দু আর মুসলমানে মারামারি রক্তারক্তি খুবই হচ্ছে। হ্যারিসন রোডের কোনো মসজিদে মুসলমানরা যখন
তাদের খোদার নামে নামাজ পড়ছিল তখন আর্য্য সমাজের একদল লোক সেই পথ দিয়ে
তাদের খোদার নামে বাজা ও শাঁখ বাজিয়ে যাচ্ছিল। তাতে তাঁদের ধর্ম্মের কাজ বন্ধ
হয়ে যায়। এই নিয়েই নাকি সর্ব্বপ্রথমে মারামারির সূত্রপাত ঘটে।…মুসলমান হিন্দুকে মারছে আর হিন্দুরা মারছে মুসলমানকে।’
‘২২শে চৈত্র সোমবার’ শীর্ষক শিরোনামে লেখা হয়েছে :
‘শ্রীযুত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ীতেও প্রায় ৫০জন মুসলমান আশ্রয় নিয়েছিল।
এইজন্য অ-বাঙালী হিন্দুগণ ঠাকুর বাড়ী ঘেরাও করেছিল।তারা বলছিল যে,
মুসলমানদের তাদের হাতে ছেড়ে না দিলে তারা ঠাকুর বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেবে।
পুলিশের নিকটে ফোন করাতে কনস্টবল ও গোরা পল্টন যখন আসে তখন এসকল
লোক পালিয়ে যায়।’
১৫ এবং ১৬নং পৃষ্ঠায় আছে সুরেশ বিশ্বাস সংকলিত ‘সোশালিজম কাহাকে বলে’ শিরোনামে কতগুলো উদ্ধৃতি। ১৬ এবং ১৭নং পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে ‘খড়কুটো’ এবং ‘পল্লী’ পত্রিকার আসন্ন প্রকাশের সংবাদ । ১৮ থেকে ২০পৃষ্ঠা পর্যন্ত, তিন পাতা জুড়ে রয়েছে নতুন ও পুরনো বিজ্ঞাপন।
নিবিড় পাঠ ১৫
‘লাঙল’ পত্রিকার শেষ সংখ্যাটি ( পঞ্চদশ সংখ্যা) প্রকাশিত হয় ১৯২৬সালের ১৫ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার (২রা বৈশাখ ১৩৩৩)। প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে, ‘রবীন্দ্রনাথের আশীর্ব্বচন’ । ‘লাঙল’ লোগোর কাঠের ব্লকের অর্থাৎ বর্ণলিপির পরিবর্তন ঘটেছে ; সঙ্গে রয়েছে কাস্তে ও হাতুড়ির সিম্বল। রয়েছে পুরনো বিজ্ঞাপনের পুনর্মুদ্রণ। দ্বিতীয় পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপা হয়েছে চারটি বিজ্ঞাপন।৩য় থেকে ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠা অবধি মুদ্রিত হয়েছে ‘দেশের বাণী’ থেকে মুজফ্ফর আহমদের ‘ধর্ম্ম ও রাষ্ট্র’ শীর্ষক নিবন্ধ। ৬ষ্ঠ ও ৭ম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে দুটি সংবাদ : ১. নৈহাটি গৌরীপুর জুটমিলে নৃশংস কাণ্ড; ২.একটা কিছু কর (মিসেস এম.রহমান)।
অতি সম্প্রতি কলকাতায় ঘটে যাওয়া দাঙ্গা নিয়ে ৭ম ও ৮ম পৃষ্ঠায়, ‘ধর্ম্ম রক্ষায় হিন্দু মুসলমান’ শীর্ষক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন লিখেছেন সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর।৮ম থেকে ১০ম পৃষ্ঠা অবধি রয়েছে, দাঙ্গার প্রেক্ষিতে হিন্দু মুসলমানের সংঘাত নিয়ে মুজফ্ফর আহমদ লিখিত ‘বিবাদ’ শীর্ষক একটি তাৎপর্যবহ বিশ্লেষণাত্মক রচনা । একাদশ পৃষ্ঠাতেও মুদ্রিত হয়েছে,দাঙ্গা নিয়ে ‘ধর্ম্মবিভীষিকা’ শিরোনামে , স্বাক্ষরবিহীন একটি প্রতিবেদন । ১২ থেকে ১৫নং পৃষ্ঠায় রয়েছে, ‘বৃটিশ সোশ্যালিস্ট দল ও ভারতবর্ষ’
শিরোনামে স্বতন্ত্র শ্রমিক দলের অভিমত ; সুকুমার চক্রবর্তী এবং সুরেশ বিশ্বাস লিখিত ‘নির্য্যাতন, বিপ্লব ও তাহার প্রতিক্রিয়া’ ; এবং শাহ্ লিখিত ‘একজন শ্রমিকের বৎসরে খাদ্যের পরিমাণ।’
১৭ এবং ১৮নং পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে :১.’বিবিধ প্রসঙ্গ’, ২. ‘ভারতীয় জাতীয় দল’ এবং ৩. ‘বলশেভিক ষড়যন্ত্রের অভিযুক্ত’ শীর্ষক তিনটি সংবাদ-ভাষ্য। ১৮নং পৃষ্ঠায় রয়েছে ‘খড়কুটো’।১৯ ও ২০নং পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে নতুন ও পুরনো ৮টি বিজ্ঞাপন।
এই সংখ্যাতেও নজরুল ইসলামের কোনো লেখা ছাপা হয়নি।
‘লাঙল’ এবং ‘গণ-বাণী’ একাকার
‘গণ-বাণী’র প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালের ১২ই আগস্ট, বৃহস্পতিবার (২৭শে শ্রাবণ ১৩৩৩)। পত্রিকার সম্পাদক হলেন মুজফ্ফর আহমদ। প্রথম পৃষ্ঠায় ‘আমাদের কথা’ শিরোনামে সম্পাদক লিখেছেন: ‘বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দল ‘গণ-বাণী’র প্রকাশ ভার গ্ৰহণ করেছেন । এই দলের পূর্ব্ব-প্রকাশিত ‘লাঙল’ , ‘গণ-বাণী’র সহিত একীভূত হয়ে গেছে। ‘লাঙল’-এর গ্ৰাহক যাঁরা হয়েছিলেন ‘গণ-বাণী’ তাঁরা পাবেন। বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দলের নিজের ছাপাখানা ছিল না বলে ‘লাঙল’ প্রকাশে অনেক অসুবিধে ভোগ করতে হচ্ছিল, অপরের ছাপাখানা হতে কিছুতেই ঠিক সময়ে কাগজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে বাধ্য হয়ে বিগত ১৫ই এপ্রিলের পর থেকে কাগজ বন্ধ করে দিতে হয়।… দলের অন্যতম সদস্য ও সম্পাদক মৌলবী কুতবুদ্দীন আহমদ সাহেব নিজে একটি ছাপাখানা করেছেন। তাঁরি ছাপাখানা হতে ‘গণ-বাণী’ ছাপা হয়ে বের হলো।’
গণবাণীর প্রথম সংখ্যাতেও নজরুল ইসলামের কোনো উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়নি।
