তৈমুর খানের গুচ্ছকবিতা

১ 

ব্যবধান

একটু আগেও কথা বলছিল
একটু আগেও পৃথিবী দেখছিল
একটু আগেও বুঝতে চাইছিল
            কোন জিনিসের কত দাম
এখন লোকটা আর কিছুই বলে না
কিছুই দেখে না
কোন জিনিসের কত দাম
           জানার প্রয়োজন নেই তার

২ 

পালতোলা নৌকা

পালতোলা নৌকা আসলে আমাদের দেহই
আমরা দেহবাদী হয়েই ভেসে চলেছি
                                  এপার থেকে ওপার
মাঝখানে অনেক ঢেউ
               দুলতে দুলতে যাচ্ছি
                   গান গাইতে গাইতে যাচ্ছি
                     ভবিষ্যৎ গুছিয়ে নিয়ে যাচ্ছি

 ৩

ভিক্ষা

শুধু করুণার ভিক্ষা আর কিছু নয়
হাত পেতে আছি
               সব মরালগ্রীবা পাত্রপাত্রী
আলো-অন্ধকারে জামা পরে
      চলে যাচ্ছি এক একটি অনুষ্ঠানের দিকে
সভ্যতার রাস্তায় বিপন্ন মানবাত্মার ক্রন্দন
আজও যুদ্ধের কাছে ভিক্ষা চায়—
আজও রক্তপাতের কাছে ভিক্ষা চায়—
আজও ধ্বংসের কাছে ভিক্ষা চায়—
শান্তি দাও, সহানুভূতি দাও, বেঁচে থাকা দাও…

জড় পদার্থ বিবেক

কত উল্লাস আছে তোমাদের!
দারুণ মজা আর খুশির ফোয়ারা
কত বিক্রমের অভিষেক…
আলোর যুবতীরা নক্ষত্র চোখে চায়
ঝিকিমিকি ভরা আকাশ তোমাদের
আমাদের কেউ বেঁচে নেই
উল্লাস কেনার সামর্থ্য নেই
আমাদের জড় পদার্থ বিবেক
উপলব্ধির পাড়ায় এসেও নীরব
অবেলার পুকুর ঘাটে স্নান করতে নেমে
শুধু খুঁজে চলেছে হারানো ইতিহাস…

অনুমান

একটা অনুমান আর একটা অনুমানের কাছে যায়
রাস্তায় কত পীড়ন থাকে তার
বজ্রপাত অথবা অন্ধকার
বাঁচতে বাঁচতে সেও যাদুবাস্তব
খসে খসে পড়ে তার বোধের পালক
তবু দেখে চাঁদের জোৎস্নায়
অব্যয়ের পাশে এখনও ক্রিয়া বিরাজমান
একটি সরল বাক্য জটিল বাক্য হয়ে উঠতে পারে
কমপক্ষে যৌগিকও
পৃথিবীটা হয়তো ক্লাসরুম…

   ৬

প্রেমিক

একটি নারীও কি তবে একটি বাঁশি?
নিশির প্রহরে নিশা জাগে
কেঁপে কেঁপে উঠি আমি
কম্পন আসতে থাকে তার অনুরাগে
সব দিঘি মৃতপ্রায়, কোথাও দিঘির ঘাট নেই
উচ্ছল রাজকীয় পথে নামে না সখীর দল
চরভূমি জুড়ে স্মৃতির ছায়ারা চলাফেরা করে
আমারও ঘোড়া নেই, সব কাল্পনিক তরোয়াল
এই পথে আজও ইতিহাস—বিক্রম! বিক্রম!
নারীর মুখ ভেসে ওঠে, অথবা মাধুর্যময় সুর
একা একা আমি হেঁটে যাই
আর উড়তে থাকে আমার অনুভূতির ভ্রমর…

অপমান

কত অপমানের সঙ্গে দেখা হয়!
রাস্তায় বেরোলেই সঙ্গী অপমান
নিজের বলতে ওই অপমানটুকু
তোমরা চা খাওয়াও
অথবা পোলাও বিরিয়ানি পরোটা কাবাব
সব হজম হয়ে যায়, শুধু অপমান থাকে
একটি গরিব বাড়ি, অপমান আর আমার সহবাস
কলঙ্ক আমাদের সন্তান—
রোজ ওকে চাঁদে পাঠাই সব লোক জানে
রোজ রোজ নির্মাণ করি নতুন চন্দ্রযান!

আরও পড়ুন