সাহিনা মিতার কবিতাগুচ্ছ

খুদেকাব্য

কি হয়?
পড়লে কিছু অনিত্য পাঠ
বুঝলে কিছু সহজ সরল?
দেখলে দুচোখ উদার খুলে
অনিয়মের হিসেব ভুলে?
কি হয়?
ভাসলে খানিক তুলোর মেঘে
প্রেমের আবীর গাত্রে মেখে?

যেজন ডুবে-ভাসে রুদ্ধশ্বাসে
সেই জীবনের আশে-পাশে
রাখলে তারে ভাসিয়ে খানিক,
কি হয়?
ডাকলে তারে বুকের কাছে?

তোমার জীবন ভরা পূর্ণমানে,
কি হয়?
এক বিকেলের নৈমিত্তিক খাতার
পাতায় পূর্ণ মানের নিম্মে পেলে!?

যক্ষপ্রিয়া

যুগল ঠোঁটের ভার বহন করে যে প্রজাপতি
পৌঁছে গেলো তোমার বুকের বামে
এই কালিদাস যুগে সে আমার মেঘদূত
মনেরেখ প্রিয়, এই বর্ষায় ফিরতী খামে
না যদি পাঠাও তোমার উষ্ণওম,
ফেরবার এসে দেখবে,
এই অলকায় আহত ময়ুরমতো পেখম ঝড়িয়ে
প্রায়মৃত পরেআছে তোমার নিদ্রাহত যক্ষপ্রিয়া!

দ্বৈত উপলক্ষ্য

স্বার্থক জীবন রচনা কালোত্তীর্ণ সাহিত্য রচনা নয়!
লেখকের জ্ঞান আর শ্রমের সমান তার সৃষ্টশিল্প,
জীবন! সেতো শিল্পউত্তীর্ন শত সাহিত্যের সমাহার,
রচনায় লেগে যায় সহস্র সুন্দর হাত, প্রেম, প্রতিজ্ঞা
আর একটি জীবন! জুড়ে থাকে একাধিক জীবনের
সঙ্গ আর সংস্পর্শ, ত্যাগ আর স্বপ্ন, শক্তি ও সাহস!
পান্থ! অধ্যায় থেকে অধ্যায়ের এমন সফল সমাপন
সবার জন্যে তো নয়!

ওহে সুন্দর, শান্তিবর্তক!
মম মৃতের জিয়নকাঠি!

কেউ যদি ভুল করে ভেসে যায় অপার মুদ্ধতায়,
ডুবে যায় তব বিশেষ বিশেষণে, সে দায় বর্তে না
কেবল তারই উপর! সে দায় আপনার স্রষ্ঠার,
লালনকারী পিতা-মাতা, ধারণকারী প্রিয়তমার!
কিছুদায় আপনারও বর্তায় এমন বিশেষ বিশেষণের
সোনালী খাঁচায় চিরদিন নিজেকে আটকে রাখার জন্যে!

প্রতিমা প্রেম

সব প্রেম এক নয়,
দেবতার তরে যে প্রেম,সে প্রেমে থাকে না শরীরের সংযোগ!
লোকে তবু ভুল বলে, বামন বাড়ায় হাত যুবতী চাঁদের পানে
আমিও বামন, বাড়াইনি অযাচিত হাত, আমার চাঁদের পানে!

তবে কিনা, জোছনাবতী হলে চাঁদ
জগতের তাবৎ প্রাণি ও অপ্রনীর সাথে
বামনেরও থাকে সে সুন্দরে চিরতরে ডুববার অধিকার!

আবেদন

শুধু প্রেমের প্রতি, টানের প্রতি-
জলাতঙ্কের উপসর্গ নিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছেন বৈভবের বিকেল?
এদিকে রাজ্যের প্রেমানুভব, প্রতিদিন গড়াই প্রাসাদ, একক অলংকারে!

আহা সামন্ত সমাজ! বধির ভয়,
তুই কোন দিন খুলে দিবি তাঁর অন্তরে গেঁথে রাখা বিঁষদাঁত!
বলে দিবি, জগতের শ্রেষ্ঠ সুন্দর কারো একার কি করে হয়?!

আগুনশ্বাস

কে পুড়ে, কেন পুড়ে গেরস্থ বসতীর চালা?!
উঠুনে খড়ের গাঁদা, পোয়াতী ভেড়ার পাল!
শিশুর দুধের বাটি, গোয়ালের গরু,
পুড়ে পুড়ে ছাই হয় শ্বাসের বাতাশ!

ভাত পুড়ে, মাছ পুড়ে,
উনুনে বলক আসা আমিষ পাতিল পুড়ে,
মানুষের প্রতিলোকমা ভরে উঠে ভয়ে!
পানযোগ্য জল পুড়ে, গাত্রের বসন পুড়ে,
পুড়ে পুড়ে কালো হয় যুবতীর লাজ।

একমাত্র ভ্যানপুড়ে, শ্রমিকের পেশী পুড়ে!
মালোপাড়া মন্ডা-মুদি দোকানের মাল পুড়ে,
মন পুড়ে, জন পুড়ে, বারন্ত গাছ পুড়ে
হাটু-মাথা এক হওয়া বৃদ্ধার চুল পুড়ে!
কবরে কবরে আজ পুড়ে যায় লাশ!!

তারা কারা! যারা ফেলে আগুনের শ্বাস!
পৃথিবীর বুক পুড়ে, খোদার আরশ পুড়ে,
আগুন জ্বালিয়ে পুড়ে কবরের লাশ!

পঁচিশের পাঁয়তারা

মানুষেরা হারিয়েছে সৃষ্টিরস!
খোদার ঘোষনালব্দ শ্রেষ্ঠত্ব-
এখন বরঞ্চ হায়েনার হাতে থাক!
সন্নাসী সময় যাক পার হয়ে যাক!

আহা শ্রেষ্ঠ!
আহা সৃষ্টি, শ্রেষ্ঠত্ব!
মানুষ অবয়ব
ও মাংসাশী!

এই যে শবদেহ! মৃতের অতীত
তারা কি ছিলো না তোমার সজাতি?
কোনদিন দেখা হয়নি চোখাচোখি?
কথা হয়নি মুখোমুখি অথবা আত্মায়?

আহা! কি উত্তাপ!
দাবানল! কি উদগিরণ!
জলন্ত রক্তগিড়ি!
জ্বলে যায়, পুড়ে যায়
তাপেরও শরীর!

কে কোথায় কেড়ে নেয় কবরের মাটি!
কাফনের ধুতি! গলিত শবদেহ সম্মান!
কোথায় বসেছে কবে মৃতের বিচারালয়?
প্রান্তিক পঁচিশ, মনে রেখো, মনে রেখো
ইতিহাস! এইখানে একদিন হয়েছিল
লাশের কারাবাস!

আরও পড়ুন