দ্য দা ভিঞ্চি কোড-রহস্য আর রোমাঞ্চের এক গোলকধাঁধা

দু’হাজার বছরের পুরনো সত্যকে চিরতরে নির্মূল করার জন্যে একই দিনে চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।
ইতিহাসের এমন এক সত্য যা জানাজানি হয়ে গেলে হাজার বছরের ইতিহাস লিখতে হবে নতুন করে, প্রতিষ্ঠিত ধর্মমতের ভিত্ত কেঁপে যাবে।
সত্যটি লালন করে আসছে যে গুপ্ত সংঘ- সেই গুপ্ত সংঘের সদস্য ছিলেন আইজ্যাক নিউটন, ভিক্টর হুগো, বত্তিচেল্লি আর লিওনার্দো দা ভিঞ্চির মতো বরেণ্য ব্যক্তি।
অন্যদিকে উগ্র ক্যাথলিক সংগঠন ‘ওপাস দাই’ সেই সত্যকে চিরতরে নির্মূল করার আগেই ঘটে যায় এমন সব ঘটনা যার ঘটনাচক্রে একটি মারাত্মক মিশনে জড়িয়ে পড়েন হারভার্ডের সিম্বোলজিস্টের এক প্রফেসর রবার্ট ল্যাংডন।
পাঠকের মনোজগত নাড়িয়ে, হৃদস্পন্দন কাঁপিয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে বইটি।
এর কাহিনী আবর্তিত হয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এর ধর্মীয় প্রতীক বিদ্যার অধ্যাপক রবার্ট ল্যাংডন ও সোফি নেভুর প্যারিস এর ল্যুভ জাদুঘরে ঘটে যাওয়া একটি খুনের ঘটনার তদন্ত নিয়ে।
একটি দুই হাজার বছরের পুরনো ভয়াবহ গোপন তথ্য জেনে যান এবং হলি গ্রেইল এর সন্ধানে পদে পদে বিপদের মুখোমুখি হতে থাকেন।
যার ফলশ্রুতিতে বেরিয়ে আসে যিশুর সাথে ম্যারি ম্যাগদালিন এর বিয়ে হয়েছে কি হয়নি এ নিয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা এবং ‘প্রায়োরি অব সাইওন’ এবং ‘ওপাস দাই’ এর মধ্যকার চলমান এক দ্বন্দ্বের কথা।
বইয়ের শুরুতেই লিখা- “All descriptions of artwork, architecture, documents, and secret rituals in this novel are accurate.” অর্থাৎ, “এ উপন্যাসে বর্ণিত সকল চিত্রকলা, স্থাপত্য, নথি এবং গোপন প্রথা সত্য।”
Ashington Post এর রিভিউতে বলা হয়েছে ‘এই বই যদি আপনার নাড়িস্পন্দন বাড়াতে না পারে, তবে আপনার উচিত ডাক্তার দেখানো।’
কথা মিথ্যে নয়, আমিও সাংসারিক ব্যস্ততার ফাঁকগলে তিন-বৈঠকেই বইটি পড়া শেষ করেছি।
সে-যাইহোক, বইটি পড়া শেষে আমারও মতামত হলো, দা ভিঞ্চি কোড…অবশ্যই প্রথম থেকে শেষ পযর্ন্ত বানানো, উদ্ভাবিত এবং নির্মিত কল্পসাহিত্য।’
বইটি পড়ার সময় প্রতিটা মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, এর শেষে নিশ্চয়ই এমন কোনো অভাবনীয় টুইস্ট বা চমক অপেক্ষা করছে যা আমার চিন্তার জগৎকে ওলটপালট করে দেবে। গল্পের গতিপ্রকৃতি আর রহস্যের যে পাহাড় লেখক তৈরি করেছিলেন, তাতে শেষটা নিয়ে আমার প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বইয়ের শেষটা আমার সেই প্রত্যাশার সাথে পুরোপুরি মেলেনি। সমাপ্তিটি আমার কাছে কিছুটা সাদামাটা বা প্রত্যাশার চেয়ে কম চমকপ্রদ মনে হয়েছে। রহস্যের যে তীব্র উত্তাপ শুরু থেকে অনুভব করেছিলাম, শেষদিকে এসে যেন তার কিছুটা ভাটা পড়েছে। এ কারণেই পুরো বইটা দারুণ উপভোগ্য হলেও, শেষের দিকে আমাকে পুরোপুরি তৃপ্তি দিতে পারেনি।
আর হ্যাঁ, শেখ আবদুল হাকিম আমাদের সেরা একজন অনুবাদক। তার অনুবাদের সঙ্গে আমরা পরিচিত। আমার মনে হয়, এ বইটা তার অনুবাদ করা বলেই পড়তে ভালো লেগেছে আমার। ঝরঝরে, হোঁচটহীন অনুবাদ। ড্যান ব্রাউনের পরের বই লস্ট সিম্বল, ইনর্ফানো ঘরে আছে কিন্তু পড়া হচ্ছে না, অনুবাদক ভিন্ন বলে!
দ্য দা ভিঞ্চি কোড
মূল লেখক: ড্যান ব্রাউন (যুক্তরাষ্ট্র)
অনুবাদক: শেখ আবদুল হাকিম
প্রকাশনী: সালমা বুক ডিপো
প্রকাশকাল: ১৮ মার্চ ২০০৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮০ পৃষ্ঠা
