খুলনা শহরের বুকের ভেতর রেললাইনের ধারে যে জীবন, বৃক্ষপুরাণ তারই ধীর, নীরব দলিল

বৃক্ষপুরাণ– যেভাবে শুরু
মানুষের জীবন ঠিক ঠিক গাছপালার নমুনা, পরিচর্যায় আর অবজ্ঞায় দু’রকম করে বেড়ে ওঠে।
আর রেললাইন?
বিপরীত মানুষদের মতো একরকম করেই বয়ে যায় খুলনা, দৌলতপুর, ফুলতলা, যশোর, ভেড়ামারা, ঈশ্বরদী। তারপর কোথায় কোথায় তা আর জানা যায় না। আর জানা যায় না, রেললাইনের ধারে ধারে লম্বা সারিবাঁধা বস্তিজীবনের অতীত আর ভবিষ্যৎ। মেয়েদের কপালের টিপের মতোন। সকালে ছিল না, রাতেও থাকবে না, শুধু বিকেলে কখনো খানিকক্ষণ।…

—এ যেন এক টুকরো জীবন ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া। ফিরোজ আহমদের লেখা প্রথম লাইন থেকেই জানিয়ে দেয়, তিনি কেবল গল্প বলতে বসেননি; তিনি সময়, মানুষ ও প্রকৃতিকে এক সুতোয় বেঁধে রাখার এক গভীর শিল্পে প্রবেশ করেছেন। এই উপন্যাসে ভাষা বাহন নয়, ভাষাই চরিত্র, ভাষাই দৃশ্য, ভাষাই স্মৃতি।

এখানে মানুষকে দেখা হয় গাছের মতো করে। শিকড় কোথায় ছড়িয়েছে, ডালপালা কোনদিকে ঝুঁকছে, ঝড়ে কীভাবে কাঁপে…এই প্রশ্নগুলোই যেন উপন্যাসের ভেতরের স্রোত। মায়ের জীবনকে গাছের নার্সারির সঙ্গে তুলনা করা, রেললাইনের ধার ধরে ছড়িয়ে থাকা মানুষের অস্তিত্ব—এসব কোনো আলংকারিক কৌশল নয়; এগুলো জীবনকে বোঝার লেখকের নিজস্ব দর্শন। তিনি জীবনের দিকে তাকান দীর্ঘস্থায়ী দৃষ্টিতে, যেখানে ক্ষণিক ঘটনা নয়, বরং সময়ের ক্ষয়, অপেক্ষা আর টিকে থাকার গল্প মুখ্য হয়ে ওঠে।

এই উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক তার দৃশ্যবোধ। ফিরোজ আহমদ দৃশ্য বর্ণনা করেন না, তিনি দৃশ্যের ভেতর ঢুকে পড়েন। যেন লেখক একজন ক্যামেরাম্যান, গোপনে সবকিছু ভিডিয়ো করেছেন, আর সে ভিডিয়োতে পাঠক দেখতে পায় লোহার রেললাইন, শুনতে পায় ধাতব শব্দ, অনুভব করে দুপুরের তেরচা রোদ, গাছের ছায়ায় বসে থাকা ক্লান্ত শরীর। দেখতে পায় মোজাহার, আকলিমা, রমজান, বাবুল্যা, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ মুরব্বীকে… খুলনা শহর এখানে রোমান্টিক নয়, বাস্তব—শহর এখানে ধুলোময়, ঘাম, হিসাব, অনিশ্চয়তা আর মানুষের নীরব সহনশীলতা দিয়ে তৈরি।

চরিত্রগুলোও তেমনি, তারা বড় বড় সংলাপে কথা বলে না, কোনো নাটকীয়তা তৈরি করে না। তারা থাকে দৈনন্দিন জীবনের ভেতর। কেউ কাজ খোঁজে, কেউ স্কুলে যেতে চায়না, কেউ বাজারে দরদাম করে, কেউ রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে সময় পার করে। কিন্তু এই সাধারণতার মধ্যেই জন্ম নেয় গভীর মানবিক বেদনা ও সৌন্দর্য। লেখক সেই সাধারণ মুহূর্তগুলোকেই এমনভাবে ধরেন যে সেগুলো পাঠকের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।

বৃক্ষপুরাণ–এর ভাষা লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, এটি অনুশীলনের ভাষা নয়, অভিজ্ঞতার ভাষা। বাক্যগুলো কখনো ছোট, কখনো দীর্ঘ, কিন্তু কোথাও অপ্রয়োজনীয় নয়। উপমা আসে প্রয়োজনেই, রূপক জন্ম নেয় পরিস্থিতির ভেতর থেকেই।

উদাহরণ দিতে পারি, যেমন, ৩৫ পৃষ্ঠায়—

‘রাতের জন্য বাঁচিয়ে রাখা তরকারির কড়াইটা শূন্য গামলাটা দিয়ে ঢেকে রাখে আকলিমা। যুবতী বিধবার আরো বহু কিছু ঢাকা পড়ে যায় উপুড় করা গামলাটার তলায়। কড়াই এর মতো পৃথিবীটা ঢাকা পড়ে গামলার মতো আকাশের তলায়। ছাদ অথবা ছাউনির গামলায় চাপা পড়ে থাকে ইচ্ছা, স্বপ্ন, আকাঙ্খাসমেত মানুষ। আর মানুষের বুকের তলায় দীর্ঘ নিঃশ্বাস।’

ফলে লেখাটি কৃত্রিম সাহিত্য হয়ে ওঠে না; বরং জীবনযাপনের স্বাভাবিক প্রবাহের মতো এগিয়ে চলে।
এই উপন্যাসে প্রকৃতি শুধু পটভূমি নয়। গাছ, বাতাস, রোদ, বৃষ্টি, নদী—সবাই মিলেই এক সামাজিক বাস্তবতা তৈরি করে। মানুষ এখানে প্রকৃতির ওপর দাঁড়িয়ে নেই, প্রকৃতির ভেতরেই বসবাস করছে।
এই দৃষ্টিভঙ্গিই বৃক্ষপুরাণ–কে আলাদা করে তোলে। এটি কেবল মানুষের গল্প নয়; এটি মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের এক নিরব দলিল।

প্রথম পাতা পড়া শেষে নিজের ভেতর অনুভব করি, এ বইটা নিজের স্বভাবসুলভ দ্রুত পড়ে শেষ করে ওঠার মতো বই নয়, এটি ধীরে পড়ার মতো বই। প্রতিটি শব্দ, বাক্য সময় নিয়ে হৃদয়ঙ্গম করার জন্য মনকে প্রস্তুত করে নিতে হবে প্রথমে। কারণ, এই বইয়ের লেখার ভেতর গল্পের চেয়ে বেশি আছে জীবনবোধ, স্মৃতি আর ইতিহাসের ছায়া।

লেখক প্রথম পাতা থেকে মোজাহার, আকলিমা, রমজান, বাবুল্যা, আব্দুর রশিদ মুরব্বী, রোজিনা, রতন, মোকাররম সর্দারের জীবন ঘুরপাক খায় খুলনা শহরের রেল কোয়ার্টার, আইডবলুটি ঘাট, শঙ্খ মার্কেট, হাদিস পার্ক…জুড়ে…জীবন জীবিকার এক শান্ত চিত্ররূপ ফিরোজ আহমদের বৃক্ষপুরাণ!

খুলনা শহরের বুকের ভেতর রেললাইনের ধারে যে জীবন, বৃক্ষপুরাণ তারই ধীর, নীরব দলিল। প্রথম পাতা থেকেই ফিরোজ আহমদ আমাদের নিয়ে যান রেল কোয়ার্টার, আইডবলু ঘাট, শঙ্খ মার্কেট, হাদিস পার্কের আশপাশে, যেখানে জীবন কোনো উচ্চারণ নয়, জীবন টিকে থাকার এক দীর্ঘ অভ্যাস।

মোজাহার ছিল রেলস্টেশনের কুলি। লাল গামছা কাঁধে, চোখে চিরচেনা ক্লান্তি। সে জানত, এই শহরে কেউ কুলিকে মানুষ বলে না, কিন্তু রেল চলে তাদের ঘামেই। প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভাঙত তার, আবার কখনো মাঝরাতে। কে কোথায় যাবে, কত মাল উঠবে, তার জীবনের সময়টা ছিল অন্যের সময়ের ওপর নির্ভরশীল। তবু সন্ধ্যায় কোয়ার্টারে ফিরে আকলিমার মুখটা দেখলে তার ভেতরে একটা শান্তি নামত। এই শান্তিটুকুই ছিল তার জীবনের একমাত্র সঞ্চয়।

কিন্তু শহর দয়া করে না। একদিন সন্ধ্যায় কে বা কারা, কেউ জানে না, মোজাহারকে ধাক্কা দেয়। রেললাইন আর মানুষের শরীরের মাঝখানে তখন আর কোনো ঈশ্বর দাঁড়ায়নি। লোহার চাকার নিচে তার শরীর থেমে গেল, কিন্তু থামল না সময়। পরদিন শহর স্বাভাবিক ছিল, ট্রেন চলেছে, কুলি বদলেছে, শুধু আকলিমার ঘরটা হঠাৎ করে নিঃশব্দ হয়ে গেছে।

আকলিমা তখন একা। বিধবার শাড়ি শুধু কাপড় নয়, সে এক ধরনের সামাজিক শাস্তি। রেল কোয়ার্টারের প্রতিটি চোখ তার দিকে তাকায়, কৌতূহল, করুণা আর সন্দেহ মিলিয়ে। মোজাহারের মৃত্যু তাকে শুধু স্বামীহীন করেনি, জীবিকার মাটি সরিয়ে দিয়েছে পায়ের নিচ থেকে। তখনই স্কুলছাড়া হয় পুত্র রমজান।

সংসারের হাল ধরতে গিয়ে সে ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে শহরের অন্ধকার পথে, মাদক বিক্রির ছোটখাটো কাজ, প্রথমে ভয়ে, পরে অভ্যাসে। তার চোখে তখন আর শৈশব নেই, আছে হিসাব। দিনে কত বিক্রি হলো, রাতে কত নিয়ে ঘরে ফেরা যাবে।

এইসবের মাঝখানে দূর থেকে তাকিয়ে থাকে বাবুল্যা।

বাবুল্যা কারও আপন নয়, আবার সবার চেনা। রেললাইন, বাজার, ঘাট…সবখানেই তার আনাগোনা। সে বেশি কথা বলে না, কিন্তু সব দেখে। আকলিমার দিকে তাকালে তার চোখে কোনো লোভ নেই, আছে একধরনের মায়া, যেন সে জানে, এই নারীটা ভাঙছে, কিন্তু কাউকে বলতে পারছে না।
কিশোর রমজানকে দেখলে বাবুল্যার বুকের ভেতর মোচড় দেয়, ছেলেটার বয়স এখনো ভুল পথে যাওয়ার বয়স না। গোপনে বাবুল্যা রমজানকে ছায়া দিয়ে আগলে রাখতে চেষ্টা করে যায়, কিন্তু শেষ রক্ষা হয় কী?

আব্দুর রশিদ মুরব্বী এই দেশের স্মৃতি, বুড়ো স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে…তিনি জানেন, এই শহর কত মানুষ গিলে খেয়েছে। রোজিনা, রতন, মোকাররম সর্দার—সবাই নিজেদের মতো করে বেঁচে আছে। কেউ দোকান চালায়, কেউ দালালি করে, কেউ ক্ষমতার ছায়ায় থাকে। কিন্তু রশিদ মুরব্বী বোঝেন, এইসব জীবনের ভেতরে সবচেয়ে দুর্বলরা সবসময় সবচেয়ে নীরব।
বৃক্ষপুরাণ এখানেই আলাদা হয়ে ওঠে।

এই উপন্যাস মানুষ গাছের মতো, কেউ ভেঙে পড়ে, কেউ বাঁক নেয়, কেউ শিকড় শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকে। খুলনা শহরের এই রেললাইন, বাজার, হাদিস পার্ক—সব মিলিয়ে এক শান্ত কিন্তু গভীর জীবনচিত্র তৈরি হয়। বাইরে থেকে দেখলে শান্ত, ভেতরে ভেতরে ক্ষয়ে যাওয়া।

ফিরোজ আহমদের শক্তি এখানেই, তিনি কান্না লিখেন না, তিনি কান্নার পরিবেশ তৈরি করেন। পাঠক নিজেই বুঝে নেয়, এই জীবনগুলো বাঁচে ঠিকই, কিন্তু প্রতিদিন একটু একটু করে ক্ষয় হতে থাকে। আর সেই ক্ষয়ের মধ্যেই বৃক্ষপুরাণ ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে, একটি শহরের, একটি সমাজের, আর অসংখ্য নীরব মানুষের জীবনের পুরাণ হয়ে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বৃক্ষপুরাণ এমন একটি উপন্যাস যার শক্তি তার নীরবতায়। এটি চিৎকার করে কিছু বলে না, কিন্তু গভীরভাবে অনুভব করায়। ফিরোজ আহমদ এখানে একজন গল্পকার নন শুধু, তিনি একজন পর্যবেক্ষক, একজন জীবনপাঠক। তার লেখা পাঠককে বিনোদন দেয় না শুধু; তাকে প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়, আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, কীভাবে বেঁচে আছি, আর এই জীবনের শিকড়গুলো ঠিক কোথায় প্রোথিত।

বৃক্ষপুরাণ পড়তে পড়তে মনে হয়, এ এক ধরনের স্মরণ। মানুষকে, মাটিকে, গাছকে, আর সময়কে স্মরণ করার সাহিত্য।

এই উপন্যাস শেষ পর্যন্ত পাঠককে যে অনুভূতি দেয়, তা খুব সহজ কিন্তু গভীর, জীবন আসলে অনেকটা গাছের মতোই; নীরবে বেড়ে ওঠা, নীরবে সহ্য করা, আর নীরবে ইতিহাস হয়ে যাওয়া।

অনেকদিন পর একটা ভালো বই পড়লাম। তৃপ্তি পেলাম। আমি যেমনতর লেখা পছন্দ করি, বৃক্ষপুরাণ তেমনতর লেখা। জীবনঘনিষ্ট লেখা। লেখকের চোখে ঘুরে বেড়িয়েছি চিরচেনা খুলনা শহরের বুকে। আমাকে যথাযথ সঙ্গ দিয়েছে আকলিমা, বাবুল্যা…!

বইটা পড়া শেষে আমি অবাক হয়ে ভাবতে বসে গেলাম, মানুষের মন কত অদ্ভুত, কত ধীরে, কত নিঃশব্দে নিজের রূপ বদলায়। বৃক্ষপুরাণ–এ বাবুল্যা আর আকলিমার সম্পর্ক সেই বিস্ময়েরই এক গভীর মানবিক উদাহরণ। শুরুতে বাবুল্যার ভেতরে ছিল আকলিমার শরীরঘেঁষা এক গোপন লোভ, পারিপার্শ্বিক জীবনের স্বাভাবিক পার্থিব কামনা। আর সেই কামনার বিপরীতে আকলিমার মনে ছিল তীব্র বিরক্তি, একধরনের আত্মরক্ষার দূরত্ব।
কিন্তু সময় বড় নির্মম, আবার বড় উদারও।

দিনের পর দিন, ঘটনার পর ঘটনা, অভাবের চাপ, নীরব সহযাত্রা—এসবের ভেতর দিয়ে বাবুল্যার লোভ ধীরে ধীরে ঝরে পড়ে। আকলিমার দেহ আর তার কাছে কেন্দ্র হয়ে থাকে না; বরং কেন্দ্র হয়ে ওঠে তার ক্লান্তি, তার লড়াই, তার নীরব সহনশীলতা। একইভাবে আকলিমার বিরক্তিও একসময় ভাঙতে শুরু করে। সে টের পায়, এই মানুষটা তাকে চাইছে না, সে তাকে আগলে রাখছে; সে দখল করতে চায় না, পাশে থাকতে চায়।

এই রূপান্তরটা কোনো উচ্চারণে ঘটে না। এটা ঘটে ঠিক যেমন নিরবে, নিঃশব্দে লালশাকের ভুঁইয়ে লালশাকের চারা মাথা তোলে, কারও চোখে না পড়ে, কোনো ঘোষণা ছাড়াই। ধীরে ধীরে বাবুল্যা আর আকলিমার ভেতরে জন্ম নেয় এক অপার্থিব অনুভূতি, যেখানে কামনা নেই, আছে শ্রদ্ধা; অধিকার নেই, আছে সমীহ; আকর্ষণ নেই, আছে গভীর দরদ। এ প্রেম শরীরের নয়, জীবনের। বোধকরি, এখানেই তাদের দুজনের দ্বিতীয় জন্ম ঘটে। পুরোনো জীবনের ক্লান্ত অধ্যায় পেরিয়ে তারা পা রাখে এক নতুন ভোরে।

ঢাকার পথে ছেড়ে যাওয়া গাড়ির পাদানীতে দাঁড়িয়ে আকলিমা যখন বাবুল্যার হাত আঁকড়ে ধরে কামরায় ওঠে, সেই মুহূর্তে উপন্যাস যেন নিঃশব্দে উচ্চতায় উঠে যায়। প্রায় নতুন কমলা রঙের ব্লাউজের বুকের কাছে জমে ওঠা ঘাম কোনো যৌনতার ইঙ্গিত নয়, এ এক নতুন জীবনের উত্তেজনা, ভয় আর সাহসের সম্মিলিত চিহ্ন। ঠিক এখানেই বৃক্ষপুরাণ আর কেবল একটি জীবনকাহিনি থাকে না, হয়ে ওঠে এক মহৎ মানবিক আখ্যান।

আর একটি কথা না বললে সত্যিই অন্যায় হবে। মাত্র আশি পৃষ্ঠার একটি উপন্যাসে ফিরোজ আহমদ যে সুবিশাল চিত্রকল্প নির্মাণ করেছেন, তা বিরল। অল্প কথায়, অতিরঞ্জন ছাড়া, কোনো কৃত্রিম আবেগ না জুড়ে তিনি এঁকেছেন মানবজীবনের এক বিস্তৃত মানচিত্র, যেখানে শ্রম, প্রেম, লোভ, ক্ষয়, সহমর্মিতা ও পুনর্জন্ম একসঙ্গে সহাবস্থান করে। এত সংক্ষিপ্ত পরিসরে এত গভীর ও স্তরবহুল জীবনচিত্র বাংলা সাহিত্যে খুব বেশি দেখা যায় না।

নিঃসন্দেহে বৃক্ষপুরাণ একটি দারুণ সাহিত্যকর্ম। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই একটিমাত্র সৃষ্টিই ফিরোজ আহমদকে বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী করে রাখার জন্য যথেষ্ট। কারণ এই উপন্যাসে তিনি শুধু গল্প লেখেননি, তিনি মানুষের মন, সময় আর জীবনের নীরব রূপান্তরকে স্থায়ী ভাষা দিয়েছেন।
আর, হ্যাঁ,

আমাকে এত সুন্দর একটা বই পড়তে দেওয়ার জন্য কবি আজাদুল হক আজাদ ভাইকে অশেষ কৃতজ্ঞতা। নয়ত এ বইটা আমার পড়া হয়ে উঠত না হয়ত। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।
পাঠককে বলবো, বিশেষ করে যারা বিদগ্ধ বিশুদ্ধ পাঠক, তারা যেন বৃক্ষপুরাণ বইটি পড়েন, নয়ত পাঠকজীবনে একটু হলেও খামতি থেকে যাবে।

মাসুম বিল্লাহ : ইনসাইট কন্ট্রিবিউটর, বইচারিতা

আরও পড়ুন