রবীন্দ্র জৌলুসের আড়ালে মৃণালিনীর নীরব আত্মকথা

“লেখক না হলে এই হয়। খালি খেই হারিয়ে যায়। তা হোক। এই লেখা তো কেউ কোনদিন ছাপবে না। শুধু সময় কাটানোর জন্যই লিখছি। মনের কথা জমিয়ে কোনও লাভ নেই৷ মনের কথা লিখে ফেললে মন অনেক হালকা হয়ে যায়। আর মনের কষ্টও কমে যায়।” (আমি রবি ঠাকুরের বউ, মৃণালিনীর আত্মকথা; পৃঃ ৩৮-৩৯)
লেখক রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়ের কলমের কালির শব্দের গাঁথুনিতে ফুটে ওঠা রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালিনীর অন্তরমহলের এই হৃদয়ছোঁয়া এক জীবনগাঁথা। যা বুঝি চাওয়া না পাওয়ার অভিযোগ, অনুযোগ আর সান্ত্বনার আলেখ্যে মোড়ানো এক দাম্পত্য জীবনের গহনে না পৌঁছুনোর এক নীরব মর্মভেদী মর্মজ্বালার বিচ্ছুরণ। কবিগুরুর সহধর্মিণী মৃণালিনী দেবীর মুখোশের আড়ালে প্রকটিত হয়েছে এক নিতান্তই সংসারে নিবিষ্ট আটপৌরে গৃহবধূর হৃদয়ে জমে থাকা নিশ্চুপ বেদনা কতক আক্ষেপের ধূসরতায় সাজানো শতদল।
বইটিতে লেখক মৃণালিনীর কন্ঠে চেপে যে ঘটনাপ্রবাহ পাঠকের সম্মুখে উন্মোচন করেছেন সেই দৃশ্যপটগুলো কেমন অবলীলায় আমাদের হাজির করেছে আজ থেকে সেই কতবছর পূর্বে ধূলোয় মোড়ানো ঠাকুরবাড়ির আঙিনা হতে অন্দরমহলে। মৃণালিনীর একাকীত্ব, তার মানসিক টানাপোড়েন, জীবনের সবচাইতে কাছের মানুষটি পাশে থাকা সত্তেও জীবনের বিপরীত মেরুতে তাঁর উন্মত্ত অবস্থান এ সবকিছুই ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব হতে দাম্পত্য জীবনের যে জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি আমাদের দাঁড় করায় ঠিক সেই মুহুর্তে নিজেকে কল্পনা করে আমরাও যেন ভাবতে হই কিছু অংশ কিছু দৃশ্য কিছু যন্ত্রণা, কিছু অভিযোগ যেন আজ থেকে বহুকাল পূর্বেই মৃণালিনী আমাদের ছায়া হয়েই তাঁর লেখনীতে লিখে গিয়েছেন। তাঁর বয়ানে যদিও তিনি লেখক নন। শব্দ আর বাক্যজালের রঙ, রসে হয়ত তা সার্থক কোন সাহিত্যকর্ম নয় তথাপি তাঁর এই আত্মকথন নিঃসন্দেহে সাহিত্যশাখার এক কৃতার্থ সংযোজন।
মৃণালিনীর মনের অতলে ডুবে বিষাদ সিন্ধুর অতলে গিয়ে দক্ষ ডুবুরির জন্য বিরহের প্রকোষ্ঠে লুকোন অনুযোগের মুক্তো তুলে আনা নেহাতই এক দুরূহ কার্যই বটে। আর সেই কঠিণ কাজটি সম্পন্ন করতে লেখক এখানে সফলতার আঁকড় ছুঁয়েছেন দারুণ ভাবে৷ বিশ্ব কবির অর্ধাঙ্গিনী হওয়াটা যেমন গৌরবের অলংকারে অলংকৃত শোভা তেমনি চাকচিক্য কিংবা গৌরবের অপরদিকে যে এক বেদনা বা অপ্রাপ্তির কালো ছায়ার সম্রাজ্য থইথই আঁধারে তাঁর নিঃসঙ্গতার বাঁধ ভাঙায় সেই বাস্তবতাটি এই একশত চুয়াল্লিশ পৃষ্ঠার বইটিতে বিস্তৃতি পেয়েছে। ছড়িয়েছে ব্যাপকতা৷ একজন মৃণালিনী দেবী যেন প্রচ্ছন্ন ভাবেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন সমাজের অন্তরালে থাকা এমন হাজারো মৃণালিনীর নীরব অশ্রু সম্পাত৷
উনিশ শতকের সেকালে রক্ষণশীল সমাজে একজন নারীর পরিচয় নির্ধারিত হতো মূলত তাঁর স্বামী এবং পারিবারিক পরিচয়ের মাপকাঠিতে। আমাদের উপন্যাসের রবি পত্নী মৃণালিনীর জীবনটাও ঠিক তেমনি। তাঁর জীবনে আবেগ, চাহিদা, ভালো লাগা, অভিযোগ, আক্ষেপ সবটুকুই আবদ্ধ ছিলো এক নিটোল জলের পুকুরের মতো৷ যাতে সামান্য ছুঁয়ে দিলে আলোড়ন তো জেগে উঠত৷ কিন্তু এই অস্থিরতা ছিলো ক্ষণস্থায়ী৷ উত্তাল সাগরের বাঁধভাঙা জোয়ারের তীব্রতাটুকু যে ওই জৌলুসময় জীবনের ঔজ্জ্বল্যের আগে ছিল অজানা কিংবা সাহস করে তা অতিক্রম করতে চাইলেও তা ছিলো অসম্ভব। উপন্যাসের বলুর সাথে মৃণালিনীর খানিক সুখ দুঃখ ভাগ করে নেবার যে প্রয়াস, পরবর্তীতে বলুর যে অন্তিম পরিণতি, সেটি কি তাই ইঙ্গিত করে না?
লেখক মৃণালিনীর চরিত্রের মাঝে দেখাতে চেয়েছেন, একটি প্রচ্ছন্ন জবাবদিহিতার দর্পন। প্রতিটা মানুষের একটি নিজস্ব সত্তা থাকে, যা কেবল সম্পর্কের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না৷ সেই সত্তা নিজেকে খুঁজে নিতে চায় তাঁর প্রাপ্য প্রাসঙ্গিকতায়, তাঁর একান্ত গুরুত্বের মাঝে। এই বইটিতে দু’বার মৃণালিনী দেবী ঠিক এভাবেই এটিকে নিজের মতো করে বলতে চেয়েছেন
“কেন রবি ঠাকুর, কেন তুমি বিয়ে করলে আমাকে? সেই কেন-র উত্তর আমার বর আমাকে দেয়নি৷ দিতে পারে নি। আমি লিখেছিলুম, সেই কেন-র উত্তর উঁকিঝুঁকি মারছিল ঠাকুরবাড়ির মেয়ে মহলের টিপ্পনীতে, আঁড়চোখের চাউনিতে, নানারকম বাঁকা কথার চোরাস্রোতে।
এই সবটাতেই অনুসন্ধানী আঁতশীকাঁচ মেলে নিলে যেন এক কঠিণ সত্য হাহাকার করে ওঠে তা হলো এক সরল গৃহবধূ কিংবা স্ত্রীর হৃদজমিনে রোপিত এক তীব্র বুভুক্ষা আর অভিযোগের বিশাল মহীরুহের বিস্তার। যা চারাগাছ হতে তার ব্যপ্তি বিস্তারের কলেবরে প্রশস্ত হৃদপত্রে কেবলই নীরব অভিমানের প্রশ্ন লিখে গিয়েছে। সময়ের পরিসরে ধূসর শীতের বিরহী বিকেলে তা ঝরে পড়েছে কিন্তু তা যত্নে লালন করে কেউ হৃদয়ের অনুরাগে সাজানো বইয়ের পাতার খাঁজে যত্ন করে গুঁজে নেয়নি৷ হয়তো তার প্রয়োজনও বোধ করেনি৷
আষাঢ়ের ঝুম বর্ষায় কবি যখন বিমুগ্ধ হয়ে খোলা জানালার সাথে সখ্যতা গড়ে নিতেন তখন মৃণালিনী অনুভব ছিল এমন যে যেন বৃষ্টির সঙ্গে কবিগুরুর এক গভীর সম্পর্ক তৈরী হতো৷ বৃষ্টির সাথে এমন সখ্যতা হয়তো আর কারও পক্ষে গড়ে তোলাটা যারপরনাই অসম্ভব। বৃষ্টির সাথে সুর সৃষ্টির খেয়ালে রবিঠাকুরকে মৃণালিনী আবিষ্কার করেছেন ভিন্ন কোন এক সত্তা হিসেবে। তিনি যেন সেই সময়টাতে কেবলই সৃজনের খেয়াল সৃষ্টির মাঝে সংযোগকারী কোন এক সেতু৷ যেখানে কেবল সৃজন আর সৃজিতের বন্ধন, আর বাকি সব থেকেও নেই।
“আমার কী সৌভাগ্য- এই দুই ভাবের মধ্যেই আমি ওঁকে কতবার কতকাছ থেকে দেখেছি”
এই দেখার খেয়ালে মৃণালিনী হয়তো বা কতবার নিজেকে খুঁজতে চেয়েছেন তাঁর আত্মার অতি নিকটে থাকা হৃদপুরুষের সৃষ্টির কামনা হতে বাসনার পটে, তাঁর সৃষ্টির উৎসর্গে। কিন্তু না, সে হয়ে ওঠেনি৷ কবিগুরুর জীবনের সবচেয়ে কাছে থাকা মানুষটি ক্রমে অনুধাবন করেছেন পার্থিব সংস্পর্শে তিনি একান্ত হলেও লেখকের অপার্থিব মননে জগতে তিনি দূরের মেরুতে দাঁড়ানো এক বিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব। জাগতিক আর পরাবাস্তবের তটিনীতে যেন এক অদৃশ্য দূরত্বের আচ্ছাদন তোলা ছিল। যা ছিল দুর্ভেদ্য এবং এক কঠিণ নিষ্ঠুর বাস্তবতা৷ তবে এ নিয়ে অভিযোগের বান না ছুঁড়লেও অনুযোগের তূণ হতে প্রশ্নের তীর ছুঁড়েছেন বহুবার।
যদিও সেসব “কেন” র উত্তর মেলেনি কখনও তথাপি প্রতিটি “কেন” র গল্পগুলোও তিনি জোগাড় করেছেন একটু একটু করে৷ আর তাতেই প্রশ্নমালা হতে বাঁধভাঙা আষাঢ়ের মতো উত্তরপত্র সেজেছে নানা কাহিনীতে, নানা চিত্রে, নানা ব্যঙ্গতে, নানা উপেক্ষা হতে নানা যুক্তিতে৷ আর এসব উপলব্ধি বইটিকে যেন অনায়সে সমকালীন পাঠকদের কাছে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে চমৎকার ভাবে৷
ছোট্ট এই বইটি ভাষার অলংকরণের দিক থেকেও সাবলীল ও আবেগঘন৷ কোথাও অতিনাটকীয়তা বা অতিরঞ্জিত কোন কিছুর গুলজায়েশ নেই বরং সংযত ভাষায় মনস্তাত্ত্বিক যে বর্ননার গতিধারা তা পাঠককে অতি সহজে চরিত্রের সঙ্গে যাত্রা চালিয়ে নিয়ে কেবল ক্ষান্ত হয়নি বরং মৃণালিনীর সাথে এক অদৃশ্য অনুরাগের সুঁতোয় হৃদয়ের তানকে বেঁধে নিয়েছে দৃঢ়তার সঙ্গে। দাম্পত্য জীবনের নীরবতা, অপেক্ষা, ভালোবাসা, না পাওয়ার অনুভূতিগুলো যে মর্মস্পর্শী দরদে প্রকাশিত হয়েছে তা পাঠক হৃদয়কে আলোড়িত করেছে তুমুল ভাবে৷
মূলত, রবিঠাকুরের স্ত্রী হিসেবে মৃণালিনী দেবীর সূচনা হয় খুবই অল্প বয়সে। তাও এক বিশাল সাংস্কৃতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে৷ শিক্ষাগত সীমাবদ্ধতা হতে পারিবারিক মর্যাদার মাপকাঠি, নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া, কবিগুরুর ব্যস্ত সাহিত্যজীবন পারিবারিক দায়িত্ব হতে দুই বাংলার পরিচয়ের মাঝের যে এক ফারাক, এসবের মধ্যস্ততায় মগ্ন মৃণালিনীর জীবন ছিল মূলত নানামাত্রিক সংগ্রামের এক নিপুণ আলেখ্য। এই টানাপোড়েনকে উপন্যাসে এক নিখুত সংযমী আবেগে প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে মৃণালিনী চরিত্রটি কেবল ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বে আবদ্ধ না রেখে এক সাধারণ নারীর প্রতিচ্ছবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে৷ লেখকের মুন্সিয়ানায় মৃণালিনী দেবীর আবেগকে কখনই কৃত্রিম বলে প্রতীয়মান হয়নি বরং চরিত্রের অভিজ্ঞতার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবেই প্রতিভাত করা হয়।
উপন্যাসটি রচনার মাধ্যমে লেখক কোন সরাসরি মতাদর্শের প্রচার করেননি বরং অতি সূক্ষ রূপে একজন নারীর অদেখা জীবনের লুকায়িত অব্যক্ত যন্ত্রণাকে আমাদের সম্মুখে মেলে ধরে সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে নিয়েছেন৷ মৃণালিনী দেবীর ফেলে যাওয়া হাজারো প্রশ্ন যেন আজও আমাদের নারী সমাজের সেই অংশের বেদনাকে উশকে দেয় যারা রবিপত্নীর মতো এখনও আঁধারে সাজানো ব্ল্যাকবোর্ডে অশ্রুধারায় এক বর্ণে সেই একই কৌতুহল মেটাতে চায় তা হলো “কেন?” যে কোন ইতিহাসই হোক না কেন, তার কেন্দ্রীয় চরিত্রের বিপরীতে যে এক বিকল্প বয়ানের অস্তিত্ব বিদ্যমান তাই যেন “আমি রবি ঠাকুরের বউ” বইটিতে উঠে এসেছে৷
সর্ব দিক বিবেচনায় এই বইটিকে কেবল একজন বিখ্যাত মানুষের স্ত্রীকে নিয়ে লেখা সাহিত্যকর্ম বললে সঠিক বলা হবে না, বরং এটি এক নারীর আত্মপরিচয়, নীরব ত্যাগ এবং অপ্রকাশিত অনুভূতির দলিল। যেখানে একজন স্ত্রী তাঁর অভিযোগগুলো লিপিবদ্ধ করেও শংকিত থেকেছেন এগুলো আদৌ কোন সমাধা খুঁজে পাবে কিনা অথবা এই ভেবে আশ্বস্ত থেকেছেন তাঁর এসব অনুযোগ চিরকালই থাকবে ধরাছোঁয়ার ওপারে। প্রচলিত সমাজের চিরায়িত মান মর্যাদা রক্ষার বিধান অনুযায়ী ভস্মীভূত হয়ে চরাচরে বিলীন হবে চিরতরে। রঞ্জনের কলমে আঁকা মৃণালিনীর এই যে দোদুল্যমান মানসিকতা, এটাই একজন পাঠককে পীড়িত করে নিতে যথেষ্ট। রবীন্দ্রনাথের জৌলুসের চাইতে এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মৃণালিনীর নীরব সেই জীবন যু দ্ধের বয়ান৷ আর এই জায়গাতেই বইটি পাঠককে পরিচিত নেকাবের আড়ালে থাকা মানুষগুলোকে নতুন করে চিনে নিতে বাধ্য করবে শতভাগ, এই দাবীটা যদি তুলি তাহলেও হয়তো খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হবে না৷
তবে এই ঐতিহাসিক উপন্যাসে কেবল ইতিহাস ভিত্তিক তথ্য, কাহিনীর পাশাপাশি লেখকের কল্পনা, বিবেক, যুক্তি আর লেখনী প্রবাহের সন্নিবেশিত হয়েছে বিধায় একে গবেষণা গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করলে তা মূর্খামির সামিল। বইয়ের মুখপাত অংশে লেখকের সুরে যদি বলি,
“মৃণালিনী যদি লিখতেন তাঁর আত্মকথা? সেই লুকোন আত্মকথারও বিলোপন ঘটত নিঃসন্দেহে। এমনই যে ঘটেনি এ কথাই বা কী করে বলা যায়? কী লিখতেন মৃণালিনী তাঁর লুকোন আত্মকথায়? এই উপন্যাসে সেটাই ভাবার চেষ্টা করেছি৷”
অতএব, পাঠক হিসেবে এটিকে তাই সাহিত্যমান দিয়ে বিচার করাটাই অধীক সমীচীন৷ ইতিহাসের নির্ভুল দলিল হিসেবে মোটেও নয়৷ বইটি পড়ার সময়ে এই মানসিকতার সাথে সচেতনতার সংযোগ ঘটাতে পারলেই উপন্যাসের শিল্পগুণ পাঠক হিসেবে আরও স্পষ্ট ও সহজ ভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব৷
উপন্যাসের সবচাইতে বড় সার্থকতা হিসেবে আমার মনে হয়েছে, এটি পাঠককে শুধু একটি কাহিনী পড়িয়ে ক্ষান্ত হয়নি বরং একজন মানুষ হিসেবে আমাদের ভাবতে বাধ্য করায় যে, একজন সফল সার্থক মানুষের যাপিত জীবনের আড়ালে থেকে যাওয়া অজনা গল্পগুলি লিখিত গল্প উপন্যাসের ক্লাইমেক্স থেকেও কতটা নাটকীয় আর অ-অনুমেয় হয়। প্রেমের জাগ্রত মূর্তির বাম পাঁজরের খাঁজে তাচ্ছিল্য আর অবহেলার কষ্টিপাথরের অবয়বে হৃদপিণ্ডের অস্তিত্বও তবে সম্ভব, তাই যেন অনুধাবন করিয়ে নেয় এই বইটি৷ বস্তুত সাহিত্য যখন কোন বধিরের কন্ঠস্বরকে জাগিয়ে নেয় তখন সেই অচেনা ইতিহাসের অদেখা অধ্যায়টা যেন নতুন রূপে মঞ্চে প্রকটিত হয়৷ তাই হয়তো অতীত কখনও ফুয়ায় না। “আমি রবি ঠাকুরের বউ” সমকালীন বাংলা ঐতিহাসিক উপন্যাসের ক্ষেত্রে বলা চলে, সেই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা একই সাথে আবেগ, ইতিহাস আর মানবিকতাকে এক সুষম সমন্বয়ে গ্রোথিত করে। চিন্তা-জাগানিয়া এই উপন্যাসটি নিঃসন্দেহে পাঠকককে আবেগতাড়িত করে। ভাবায়, কাঁদায়৷ নতুন করে ভাবতে শেখায়। সঙ্গে এই প্রশ্নটাও তুলে নেয়, প্রেমের দেবতারও কি তবে সীমাবদ্ধতা থাকে?
বই: আমি রবি ঠাকুরের বউ (মৃণালিনীর লুকোন আত্মকথা)
লেখক: রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়
প্রচ্ছদ: সুদীপ্ত দত্ত
প্রকাশনী: পত্র ভারতী
সোনিয়া তাসনিম ( লেখক, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট)
