AI-এর যুগে শিক্ষক কি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ছেন?

৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস। পৃথিবীর বহু দেশে এই দিনটি শুধু শিক্ষকদের সম্মান জানানোর দিন নয়, শিক্ষা ও শিক্ষকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবারও একটি সুযোগ। কিন্তু এই বছরের শিক্ষক দিবসে সেই ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি নতুন এবং অস্বস্তিকর প্রশ্ন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI যখন মুহূর্তের মধ্যে উত্তর দিতে পারে, কঠিন বিষয় সহজ করে বুঝিয়ে দিতে পারে, ভাষান্তর করতে পারে, রচনা লিখতে পারে, অঙ্ক কষতে পারে, এমনকি একজন শিক্ষার্থীর ভুলও চিহ্নিত করে দিতে পারে, তখন শিক্ষকের প্রয়োজন কতটা? আগামী দিনের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক কি ধীরে ধীরে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বেন?
প্রশ্নটি যতটা প্রযুক্তির, তার চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষার। কারণ একজন শিক্ষক আসলে কী করেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বোঝা যায়—শিক্ষক কেবল তথ্য দেন না। তথ্য এখন মোবাইল ফোনের পর্দায়, সার্চ ইঞ্জিনে, ডিজিটাল লাইব্রেরিতে এবং AI-এর অসংখ্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে আছে। কিন্তু তথ্য আর জ্ঞান এক জিনিস নয়; জ্ঞান আর প্রজ্ঞাও এক নয়। একটি শিশু কী জানবে, কেন জানবে, কীভাবে জানবে এবং সেই জ্ঞানকে জীবনে কীভাবে ব্যবহার করবে—এই প্রশ্নগুলির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিক্ষকের ভূমিকা। তাই AI শিক্ষার পদ্ধতি বদলে দিতে পারে, কিন্তু শিক্ষকের প্রয়োজনকে একেবারে মুছে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
দুই বাংলার শ্রেণিকক্ষেই এই পরিবর্তনের চিত্র ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী যেমন AI ব্যবহার করে রচনা, অ্যাসাইনমেন্ট বা কোনো জটিল বিষয়ের ব্যাখ্যা তৈরি করছে, পশ্চিমবঙ্গের স্কুল-কলেজেও একই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। শিক্ষক কোনও একটি বিষয় নিয়ে লিখতে দিলে শিক্ষার্থী কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই AI-এর সাহায্যে সুন্দর ভাষায় উত্তর তৈরি করে ফেলছে। বাইরে থেকে দেখলে খাতা নিখুঁত। বাক্য সুন্দর, তথ্য সাজানো, যুক্তিও আছে। কিন্তু শিক্ষক যখন জিজ্ঞেস করছেন—‘তুমি নিজের ভাষায় বিষয়টা একটু বোঝাও তো’, তখন অনেক সময় সেই নিখুঁত উত্তরের আড়ালে দেখা যাচ্ছে গভীর শূন্যতা। ছাত্রটি উত্তরটি জমা দিয়েছে, কিন্তু উত্তরটি সে কতটা বুঝেছে, সেই জায়গাতেই প্রশ্ন।
একজন শিক্ষক বলছিলেন, আগে খাতা দেখে তিনি বুঝতেন ছাত্র কোথায় ভুল করেছে। এখন অনেক সময় তাঁকে বুঝতে হচ্ছে ছাত্র আদৌ উত্তরটি নিজে লিখেছে কি না। কারণ AI-এর তৈরি লেখা সাধারণত ভাষায় অনেক বেশি পরিপাটি। কিন্তু মৌখিকভাবে একই বিষয় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ছাত্র আটকে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষকের কাজ কমার বদলে এক অর্থে আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাঁকে এখন শুধু উত্তর যাচাই করলেই হচ্ছে না; উত্তরটির পেছনে শিক্ষার্থীর নিজস্ব চিন্তা আছে কি না, সেটিও যাচাই করতে হচ্ছে।
আরেক শিক্ষক জানালেন, AI-এর কারণে কিছু শিক্ষার্থী পড়াশোনার পরিশ্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে। আগে একটি প্রবন্ধ লিখতে হলে বই খুলতে হতো, তথ্য খুঁজতে হতো, নিজের ভাষায় ভাবতে হতো। এখন কয়েকটি নির্দেশ লিখেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে কয়েকশো শব্দের উত্তর। এতে সময় বাঁচছে ঠিকই, কিন্তু চিন্তার অভ্যাসটি কি তৈরি হচ্ছে? শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যদি হয় প্রশ্ন করা, যুক্তি তৈরি করা এবং নিজের ভাষায় প্রকাশ করতে শেখা, তাহলে শুধু প্রস্তুত উত্তর পাওয়া সেই শিক্ষাকে কতটা এগিয়ে দিচ্ছে?
তবে এর উল্টো ছবিও আছে। অনেক শিক্ষকই বলছেন, AI-কে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি শিক্ষকের সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। কোনও জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা, বিভিন্ন উদাহরণ তৈরি করা, পাঠ পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করা, শিক্ষার্থীর স্তর অনুযায়ী অনুশীলনী তৈরি করা—এসব ক্ষেত্রে AI শিক্ষকের সময় বাঁচাতে পারে। একজন শিক্ষক যদি একই সময়ে তিরিশ, চল্লিশ বা তারও বেশি শিক্ষার্থীকে পড়ান, তাহলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা করে উপকরণ তৈরি করা সহজ কাজ নয়। AI সেখানে সহায়ক হাতিয়ার হতে পারে।
কিন্তু শিক্ষক নিজে সেই হাতিয়ারকে কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেটাই মূল বিষয়। প্রযুক্তি শিক্ষককে প্রতিস্থাপন করবে, না শিক্ষক প্রযুক্তিকে নিজের কাজে ব্যবহার করবেন—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালকুলেটর আসার পরে গণিতের শিক্ষক অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাননি। ইন্টারনেট আসার পরে গ্রন্থাগারের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়নি। একইভাবে AI আসার পরেও শিক্ষক অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া খুব তাড়াহুড়ো হবে।
কারণ শ্রেণিকক্ষ কেবল তথ্য আদান-প্রদানের জায়গা নয়। সেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরি হয়। একজন শিক্ষক বুঝতে পারেন কোন ছাত্রটি আজ চুপচাপ বসে আছে, কে হঠাৎ মনোযোগ হারিয়েছে, কে প্রশ্ন করতে লজ্জা পাচ্ছে, কে বাড়ির সমস্যার কারণে পড়ায় মন দিতে পারছে না। একটি AI হয়তো সঠিক উত্তর দিতে পারে, কিন্তু একটি শিশুর নীরবতার কারণ সবসময় বুঝতে পারে না। শিক্ষক পারেন, কারণ তিনি শুধু ছাত্রের উত্তর শোনেন না—ছাত্রকেও দেখেন।
দুই বাংলার বাস্তব শিক্ষাব্যবস্থায় এই মানবিক ভূমিকার গুরুত্ব আরও বেশি। কলকাতার আধুনিক স্কুল থেকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের বিদ্যালয়—সব জায়গায় প্রযুক্তির সুযোগ সমান নয়। কোথাও দ্রুতগতির ইন্টারনেট আছে, কোথাও একটি স্মার্টফোনই পরিবারের একমাত্র ডিজিটাল সম্পদ। কোথাও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত AI ব্যবহার করতে পারছে, আবার কোথাও এখনও বই, খাতা ও ব্ল্যাকবোর্ডই শিক্ষার প্রধান অবলম্বন। ফলে AI-নির্ভর শিক্ষা নিয়ে কথা বলার সময় ডিজিটাল বৈষম্যের বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। প্রযুক্তি যদি নতুন শিক্ষাব্যবস্থার দরজা খুলে দেয়, তবে সেই দরজা যেন কেবল সচ্ছল পরিবারের সন্তানদের জন্য না খোলে—সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শিক্ষকের নিজের অবস্থান। আজকের শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পড়ান না। তাঁকে প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হয়, নথিপত্র তৈরি করতে হয়, বিভিন্ন রিপোর্ট দিতে হয়, অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়, পরীক্ষার খাতা দেখতে হয়, বিদ্যালয়ের নানা দায়িত্ব পালন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষকতার বাইরের কাজ তাঁদের সময়ের বড় অংশ নিয়ে নেয়। সেখানে AI যদি কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ কমিয়ে শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থীর জন্য আরও সময় ফিরিয়ে দিতে পারে, তবে সেটি শিক্ষকতার জন্য হুমকি নয়; বরং সুযোগ।
কিন্তু এই সুযোগকে বিপদে পরিণত করতে পারে অতিরিক্ত নির্ভরতা। AI-এর উত্তর সবসময় নির্ভুল নয়। কখনও ভুল তথ্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করতে পারে, কখনও অসম্পূর্ণ তথ্যকে পূর্ণাঙ্গ বলে মনে হতে পারে। তাই AI ব্যবহার করলেও যাচাই করার অভ্যাস জরুরি। আর সেই যাচাইয়ের শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষকের। ছাত্রকে শুধু ‘AI ব্যবহার করো’ বলা যথেষ্ট নয়; তাকে শেখাতে হবে—AI যা বলছে, সেটি সত্য কি না কীভাবে বুঝবে। কোন তথ্য গ্রহণ করবে, কোনটি প্রত্যাখ্যান করবে, কোন উৎসকে বিশ্বাস করবে—এই বিচারবোধই ভবিষ্যতের শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।
শিক্ষার উদ্দেশ্য যদি শুধু পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া হতো, তাহলে হয়তো AI অনেকটাই শিক্ষকের জায়গা নিতে পারত। কারণ পরীক্ষার উত্তর তৈরি করা, তথ্য সাজানো, অনুশীলন করানো—এসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি দ্রুত এবং কার্যকর। কিন্তু শিক্ষা তার চেয়ে অনেক বড়। একজন শিক্ষক একটি শিশুকে শুধু ইতিহাসের সাল বা বিজ্ঞানের সূত্র শেখান না; তিনি তাকে ব্যর্থতার সঙ্গে লড়তে শেখান, ভুল থেকে শিখতে শেখান, অন্যের মতকে সম্মান করতে শেখান, নিজের মত প্রকাশ করতে শেখান। কখনও একটি ছাত্রকে একটি বইয়ের দিকে ঠেলে দেন, কখনও একটি প্রশ্ন করেন, আবার কখনও শুধু বলেন—‘চেষ্টা করো, তুমি পারবে।’ এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলিই অনেক সময় একটি মানুষের ভবিষ্যৎ বদলে দেয়।
একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর বিষয়জ্ঞানই নয়, তাঁর ছাত্রকে চিনতে পারার ক্ষমতা। একই প্রশ্নের উত্তর একজন ছাত্র একবারেই বুঝতে পারে, অন্যজনকে হয়তো পাঁচবার অন্যভাবে বুঝিয়ে বলতে হয়। একজন শিক্ষক সেই পার্থক্যটি ধরতে পারেন। তিনি জানেন কোথায় থামতে হবে, কোথায় উদাহরণ দিতে হবে, কোথায় কঠোর হতে হবে, আবার কোথায় একটু নরম হতে হবে। শিক্ষা শেষ পর্যন্ত একটি মানবিক প্রক্রিয়া। আর মানুষের এই জটিলতাকে কেবল অ্যালগরিদম দিয়ে সম্পূর্ণ বোঝা এখনও সম্ভব হয়নি।
তবে এটাও সত্য যে AI-এর যুগে শিক্ষকের পুরনো ভূমিকা আর যথেষ্ট নয়। আগামী দিনের শিক্ষককে প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে। তাঁকে AI সম্পর্কে জানতে হবে, তার সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে এবং শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীলভাবে তা ব্যবহার করতে শেখাতে হবে। শিক্ষককে হয়তো আর সব প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ রাখতে হবে না। বরং তাঁকে শেখাতে হবে কীভাবে সঠিক প্রশ্ন করতে হয়, কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হয় এবং কীভাবে পাওয়া তথ্যকে নিজের চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। অর্থাৎ শিক্ষক ধীরে ধীরে ‘উত্তরের ভাণ্ডার’ থেকে ‘চিন্তার পথপ্রদর্শক’-এ পরিণত হবেন।
এখানেই AI-এর যুগে শিক্ষকতার নতুন অর্থ তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তি শিক্ষকের জায়গা দখল করার বদলে শিক্ষকের কাজের প্রকৃতি বদলে দিতে পারে। যে শিক্ষক প্রযুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করবেন, তিনি হয়তো সময়ের সঙ্গে পিছিয়ে পড়বেন। আর যে শিক্ষক প্রযুক্তির কাছে নিজের ভূমিকা পুরোপুরি ছেড়ে দেবেন, তিনিও শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাবেন। প্রয়োজন মাঝের সেই পথটি—যেখানে AI থাকবে শিক্ষকের পাশে, শিক্ষকের জায়গায় নয়।
আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবসে তাই শিক্ষককে শুধু ফুল, শুভেচ্ছা বা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি সুন্দর বাক্য দিয়ে সম্মান জানানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন শিক্ষকতার বাস্তব সমস্যাগুলির দিকে তাকানো। শিক্ষকের কাজের মর্যাদা বাড়ানো, তাঁদের অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক চাপ কমানো, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া, প্রযুক্তির সুযোগ পৌঁছে দেওয়া এবং সর্বোপরি শিক্ষককে একজন পেশাজীবী হিসেবে সম্মান করা—এই বিষয়গুলিও আলোচনায় আসা জরুরি। কারণ একটি দেশের ভবিষ্যৎ তার প্রযুক্তির মানে যতটা নির্ভর করে, তার শিক্ষকদের মান ও মর্যাদার উপরও ততটাই নির্ভর করে।
আজ হয়তো AI কয়েক সেকেন্ডে এমন একটি উত্তর দিতে পারে, যা লিখতে একজন ছাত্রের এক ঘণ্টা লাগত। আগামী দিনে সেই সময় আরও কমবে। প্রযুক্তি আরও শক্তিশালী হবে। হয়তো এমন দিনও আসবে, যখন AI শিক্ষার্থীর শেখার ধরন বুঝে ব্যক্তিগত পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করবে। কিন্তু তবুও একটি প্রশ্ন থেকে যাবে—সে শেখার উদ্দেশ্য কী? একজন মানুষ কেন জানবে, কেন প্রশ্ন করবে, কেন সত্যের পক্ষে দাঁড়াবে, কেন অন্যের কষ্ট বুঝবে? এই ‘কেন’-এর উত্তর কোনও যন্ত্র একা দিতে পারে না।
আগামী দিনের শ্রেণিকক্ষে হয়তো ব্ল্যাকবোর্ডের পাশে থাকবে স্মার্ট স্ক্রিন, শিক্ষকের হাতে থাকবে AI-এর সহায়তা, আর ছাত্রের সামনে খুলে যাবে জ্ঞানের এক প্রায় সীমাহীন জগৎ। কিন্তু সেই সীমাহীন জ্ঞানের ভিতর থেকে সত্যকে বেছে নেওয়া, ভুলকে স্বীকার করা, প্রশ্ন করতে শেখা এবং মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষা এখনও মানুষের কাছেই থাকবে। বাংলাদেশের গ্রাম থেকে পশ্চিমবঙ্গের মফস্সল, শহরের আধুনিক শ্রেণিকক্ষ থেকে প্রত্যন্ত বিদ্যালয়—একজন শিক্ষক প্রতিদিন সেই কাজটিই করে চলেছেন। কখনও একটি বই হাতে তুলে দিয়ে, কখনও ভুল উত্তর শুধরে দিয়ে, কখনও দুর্বল ছাত্রটির পাশে একটু বেশি সময় দাঁড়িয়ে, আবার কখনও শুধু একটি বাক্যে—‘তুমি পারবে’—একটি শিশুর ভিতরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়ে।
তাই AI-এর যুগে প্রশ্নটি হওয়া উচিত নয়—‘শিক্ষক থাকবেন কি থাকবেন না?’ বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—‘মানুষকে মানুষ করে তোলার দায়িত্ব আমরা কার হাতে রাখব?’ প্রযুক্তি জ্ঞানের দরজা আরও প্রশস্ত করবে, শেখার পথ আরও দ্রুত করবে, কিন্তু সেই পথে কোন দিকে এগোতে হবে, কেন এগোতে হবে এবং অন্য মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে এগোতে হবে—সেই শিক্ষা দিতে একজন মানুষেরই প্রয়োজন হবে।
AI হয়তো মানুষকে অসীম তথ্যের কাছে পৌঁছে দেবে, কিন্তু মানুষ হয়ে ওঠার পথ দেখাতে—আজও একজন শিক্ষকেরই প্রয়োজন।
দীপক সাহা শিক্ষক ও কলামিস্ট, পশ্চিমবঙ্গ
