সোনিয়া তাসনিম-এর ‘বিপ্রতীপ’

সমরেশ মজুমদারের উত্তরাধিকার ও কালবেলা পড়ার পর থেকে অনিমেষ আমার সবচেয়ে প্রিয় সাহিত্যিক চরিত্রগুলোর একটি। আজও অনিমেষের কথা ভাবলে রক্তের ভেতর শিহরণ জেগে ওঠে। অনেক সময় মনে হয়, আমিই যেন অনিমেষ। ডুয়ার্সের চা-বাগানের সেই কিশোর, যে কলকাতায় এসে এক উত্তাল সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়; যে স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের আদর্শিক টানাপোড়েন, বামপন্থী রাজনীতি, ছাত্র আন্দোলন এবং নকশালবাড়ির অগ্নিঝরা দিনগুলোর ভেতর দিয়ে নিজের বিশ্বাস ও পরিচয় খুঁজে বেড়ায়—তার গল্প আজও আমাকে রোমাঞ্চিত করে তোলে ।
ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমিতেও যে পরিবর্তন আসে, এবং তরুণ সমাজ যে রাজনীতিতে জড়িয়ে পরে, সেই বিষয়টি তুলে ধরে লেখিকা সোনিয়া তাসনিম বড় কলেবরে নতুন একটা উপন্যাস নিয়ে এসেছেন।
“বিপ্রতীপ”।
এই উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী কিছু মানুষ, যাদের পৃথিবী পুনর্নির্মাণ করার স্বপ্ন একসময় ক্ষমতার নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ায়। তরুণ ইফতি ও সুতপার সমাজ বদলের চিন্তা একইসাথে তাদের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন, সালু ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মইদুলের আপসহীন আদর্শ, ছাত্রনেতা আরিফ থেকে শ্রমিক নেতা হানিফ—প্রতিটি চরিত্র যেন একটি সময়, একটি বিশ্বাস এবং একটি সংগ্রামের প্রতিনিধি।
একটি শ্রমিক হ/ত্যা কাণ্ডকে ঘিরে সত্য গোপনের চেষ্টা, শ্রমিকদের প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনের বিস্তার—এসব মিলিয়ে উপন্যাসটি ইতিহাসের যন্ত্রণামুখর সময়কেও মনে করিয়ে দেবে।
সমাজতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমতার স্বপ্ন বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঢেউ এদেশেও আছড়ে পড়েছিল।
“বিপ্রতীপ” সেই ইতিহাসেরই এক সাহিত্যিক পুনর্পাঠ হতে পারে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বামপন্থী রাজনীতির এক উত্তাল সময় পার করেছে। সেই সময়কে প্রোটাগনিস্ট ধরে আশা করছি আমরা একটা চমৎকার উপন্যাস পাঠ করতে পারব।
