ফিরোজ আহমদের তিনটি কবিতা

দেখা হওয়া
কোটি মানুষে লণ্ডভণ্ডো এই পৃথিবী—
যেন বড়লোকের ছেলের বৌভাতের
এক বিরাট সমাগম…
সেখানে আমাদের সবার দাওয়াত।
আমি দেখলাম—
তুমি আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছো।
তার মানে—
নিশ্চিত তুমি কারো কাছাকাছি হচ্ছো।
মনে হলো—
তুমি সচেতনভাবে আমাকে দেখছোনা।
আচ্ছা, খুব সচেতনভাবে না দেখাও কি
দেখা হওয়া নয়!
একটা বৃত্ত বেয়ে এগুলেই হয়ত আবার আমরা কাছাকাছি হবো—
সেদিন ‘হঠাৎ-চোখের উজ্জ্বলতা’ নিয়ে হয়ত আমাদের কথা হবে।
না’ও হতে পারে।
জলাশয়
একটা ছবি পাঠিও—
যে ছবিটায় তুমি
গোড়ালি ডুবিয়ে সমুদ্রে দাঁড়িয়ে রয়েছ।
তোমার পোষা এলবাট্রসগুলো উড়ছে—
দুরত্বের ভারে-পকেটসাইজ হয়ে আসা
একটা বতিঘর… দূরে ।
যেন মনে হয়
চেনা অচেনা জাহাজগুলো সবই তোমার !
যে কক্ষনো সমুদ্র দ্যাখেনি—
তাকে যেন আমি বুঝিয়ে বলতে পারি…
সমুদ্র হলো—
প্রিয়তমাদের পা ধুয়ে নেবার জলাশয় ।
হাট
হাট! কোনো হাঁটবার জায়গা নয়।
যেসব দ্রব্যের জন্যে মানুষের তেষ্টা হয়—
মানুষ হাটেই সেসব হাতড়ায় ।
সেই গন্ডগ্রামে কোন্ গাছি-বৌ
পাছায় হাত মুছে গামছায় পাটালি পাতে
এই হাটবারে বিক্রি হয় তাদের হাতের ছোঁয়া ।
অচিন গরুর দুধে মিশে থাকা বাছুরের ক্ষিদে…
গয়লা’বৌ উঠে গেল… মায়ের চিমশে ওলান , তাতে —
ঢুঁশ মেরে ব্যর্থ হওয়া… দুধের আক্ষেপ…
আমরা হাট থেকে তাইই শুধু কিনি ।
লাল মোরগের সাথে আমরা কিনি—
একটা ঝুঁটিবাঁধা কিশোরীর কান্না ।
মোরগের শোকে আজ রাতে যে উপোস যাবে…
ঘুমের ভেতরে যে ফোঁপাবে ভীষণ ..আমরা তার মায়ের—
নাতিদীর্ঘ নিঃশ্বাস কিনে আনি হাট থেকে ।
দাম চড়েনি— তবু বাধ্য হয়ে বিক্রি দেওয়া ধানের বস্তায়
আমরা বোঝাই করি চাষার হতাশা…
আমিত্তি’র দোকান ঘেঁষে দাঁড়ানো
একজন খোকার আকাঙ্খা… আমরাই—
হাট থেকে কিনে নেই গরম গরম…
এই হাটবারে—
দোকানির নির্লজ্জতাও খানিক বয়ে আনি সাথে করে…
হাত আন্দাজে— লজ্জা লজ্জা ভাব করে কিনি—
বৌ’য়ের বডিস ।
এই হাটবারেই—
সফলেরা— অন্যদের ব্যার্থতাগুলো কিনতে হাটে যায় !
