বেগম রোকেয়ার জাগরণে আমরা কি সত্যিই জেগে উঠেছি?

বেগম রোকেয়া। প্রতিকৃতি : নিয়াজ চৌধুরী তুলি

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত যেন আমাদের সময়-সীমা ভেদ করে ওঠা এক আলোকরেখা—যার দীপ্তি শুধু নারীজাগরণের ইতিহাসে নয়, মানবমুক্তির গভীরতম উচ্চারণেও স্পষ্ট। তিনি ছিলেন মানুষের বিশেষ করে অবরোধবাসিনী নারীর চিন্তাকে জাগিয়ে তোলার অনিঃশেষ শক্তি; একদিকে দৃঢ় প্রতিবাদ, অন্যদিকে কোমল মানবতা। সীমাবদ্ধ সমাজের কুয়াশা ভেদ করে তিনি দেখিয়েছিলেন—নারীর শিক্ষা মানে শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়, আত্মজ্ঞান; শুধু স্কুলের দরজা খোলাই নয়, মনের অশিক্ষার অন্ধকার  ছিন্ন করা।

রোকেয়ার ভাষা ছিল শাণিত, কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মহৎ,অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকা মানুষকে ধীরে ধীরে আলোতে ফিরিয়ে আনা। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, দেহে নয়, মানুষকে শিকলবন্দি করা হয় চিন্তায়; তাই তিনি শিক্ষাকে বানিয়েছিলেন মুক্তির প্রথম শলাকা। সুলতানার স্বপ্ন–এ তিনি যে দূরের আকাশ কল্পনা করেছিলেন, সেখানে নারী-পুরুষের ভারসাম্য শুধুই ন্যায় নয়, এক গভীর মানবিক ঐক্য।

রোকেয়ার সাহস ছিল নিঃসঙ্গ, কিন্তু সেই নিঃসঙ্গতা থেকেই জন্ম নিয়েছিল পরিবর্তনের উন্মাদ শক্তি। তিনি দেখিয়েছিলেন—সমাজকে বদলাতে উচ্চস্বরে চিৎকার নয়, দরকার ধারালো বোধ, দরকার যুক্তির স্থির দীপ্তি।

আজও রোকেয়া আমাদের শেখান: মুক্তি কোনো শেষবিন্দু নয়, বরং অবিরাম যাত্রা—নিজেকে আর সমাজকে প্রতিনিয়ত পুনর্গঠনের সাহসী প্রতিজ্ঞা। তাঁর আলো আমাদের সময়কে এখনো পরীক্ষা নেয়—আমরা কি সত্যিই জেগে উঠেছি?

রোকেয়া ইসলাম : কবি ও সমাজকর্মী

আরও পড়ুন