জোনাইল বাশারের কবিতাগুচ্ছ

এই আসা-যাওয়া এই প্রস্থান
এই পথ-প্রান্তরে যেতে যেতে
দেখি সময় ফুরিয়ে যায়,
ভাবনায় উড়ে বেড়ায় একটা নীল প্রজাপতি,
তার ডানায় ভর করে দেখি বাগানের সমস্ত ফুলের বাহারি সাজ, সুবাস ছড়িয়ে যায় মাতাল হাওয়ায়।
সুরভিত পুষ্প কাননে চেয়ে দেখি ভ্রমর চুষে নিচ্ছে পুষ্পের অফুরন্ত সুধা,আমি ডানায় ভর করে দেখি সেই বিমূর্ত রূপ, স্বপ্নিল চোখে ধরা দেয় এসে মর্ত্যলোকে মূর্ত রূপে।
আমি তখনও ঘুমিয়ে আছি শতাব্দীর অতল গহ্বরে,
জেগে উঠলেই দেখি সময় অনেক কম, বছর যাচ্ছে মাসের মতো, মাস দিনের মতো, দিন ঘন্টার মতো, ঘন্টা মিনিটের ন্যায় আর মিনিট চলে যাচ্ছে ন্যানো স্যাকেন্ডে। সীমিত সময়ের ভেতর অসীমের দর্শন পেতে এই আসা-যাওয়া, এই প্রস্থান।
ফুলের ভরা যৌবনে একবার চোখ তুলে না তাকালে ফুলেদের বড় অভিমান হয়, তার এই রূপ ঐশ্বর্য কবির কাব্যে ঠাঁই না ফেলে এত আয়োজন সবি বিফল, সবি যেন বৃথা। ভুলে যেতে যেতে সেসব কথা মধ্য নিশিথে মনে পড়ে যায়।
যে রূপ সরূপের তারে কি ভুলা যায়?
তোমাকে ছাড়া
তোমাকে ছাড়া আমি লিখি না কিছু
চলে গেছো দূর দেশে, স্মৃতি ডাকে পিছু
আমার বসন্ত ছিল বাসন্তি রাঙা
আজ মন অবসন্ন, টুকরো কাঁচ ভাঙা।
তবে কি সব হেয়ালি, শুধু খেলার ছল
একবার ফিরে এসো, চোখে বয় জল।
ভেঙেছ হৃদয়, বুঝলে না মনের মত
বাস নি ভালো তবে,বাড়িয়েছ ক্ষত।
খুঁজে ফিরি সেই মুখ, ভুবন ডাঙার হাসি
অবচেতন শোক আনন্দে তবু ভালোবাসি।
তোমাকে ছাড়া আমি লিখি না কিছু
চলে গেছো দূর দেশে, স্মৃতি ডাকে পিছু।
সরু এক নদীর কাছে
বিষণ্ণ বিকেল, সুখের আশে কতটা আর সময় কাটে
সরু নদী ডাকে, ভাবছি বসে কেউ নেই বুঝি তল্লাটে
জীবন এমন, বাহির রোদ্দুর ভেতর ঘোর অন্ধকার
যে রূপ গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা বিষণ্ণ ঝর্ণার
প্লাবন বয় সরু নদী ডুবে যায়, মানুষের ব্যথার প্লাবন
সরু নদী ডুবে যায়, যখন তোমার চোখে অঝোর শ্রাবণ
তারও কিছু ব্যাথা আছে, যে তোমাকে ভালোবাসে
সুখস্মৃতি বেজায় কাঁদায়, বলতে সে দুকূল ভাসে
নদীর নিবিড় কথা আছে, নদীর নিরব ব্যাথা আছে
শুনতে কি চাও তার কথাটা,এসো তবে নদীর কাছে।
এই বৈরী বৃষ্টিতে
এই বৈরী বৃষ্টিতে মন যারে কাছে চাইরে
সে তো নেই পাশে নেই নাইরে
এই বৈরী বৃষ্টিতে মন যারে চাইরে
সে তো নেই, নাইরে _
এই বেজা বিকাল শিউলির ঘ্রাণ
রিমঝিম বৃষ্টি কেড়ে নেই প্রাণ
দক্ষিণা মাতাল হাওয়া তারে কাছে পাওয়া
কেবলই অস্থিরতা, কবে তারে পাইরে?
সে তো নেই, পাশে নেই, নাইরে _
আঁধারে কুঞ্জে পাখি করে কত কুনসুটি
আমারও সাধ জাগে হাত রাখি তার হাতে
কিছুটা খুনসুটি হোক তবে তার সাথে
সে তো নেই, পাশে নেই, নাইরে _
কোথা তারে পাইরে?
এমনি তার খেলা, করে শুধু অবহেলা
বৃষ্টিতে নক্ষত্র ঝরে, বেলা বয়ে যায় রে
সে তো নেই পাশে নেই নাইরে
কোথা তারে পাইরে?
নিশ্বাসের শব্দ চেপে বেঁচে আছি
সাত জনমের জমা দুঃখ, অবহেলার পরও বেঁচে আছি
একদিন সুদিন আসবে বলে।
দাঁত খড়মড়, শত যন্ত্রণা সয়ে নিশ্বাসের শব্দ চেপে বেঁচে আছি একদিন সব ঠিক হবে ভেবে।
জীবনের সব রঙ ফ্যাকাশে, তবুও আশায় বাঁচি একদিন সাত রঙা রঙধনু উদিত হবে জীবন আকাশে।
জীবনের সব ছন্দ সুর, অতল ব্যথা বিধুর,
ফিরবে একদিন প্রিয় বন্ধু আলীনূর।
আশায় বাঁধি বুক,
আকাশ জুড়ে মেঘ কালো হারানোর শোক।
তবুও মানুষ বাঁচে, জীবন যাচে,
সস্তা জীবন নিলামে তুলে বলে,আর কি বাকি আছে?
বলি আমি খ্যাপা পাগল,পাইলে বন্ধের নাগল
ধরা দাম তীর্থ হইতো, মুছতাম আঁখিজল।
কি করে বুঝাই তারে? খুঁজিয়া পাই না রে
তারে ভালোবেসে আমার দু-চোখ ছলছল।
আমাদের কাছে লিখুন
বইয়ের আলোচনা, কবিতা, গল্প, ফিচার, লাইব্রেরি, প্রিয় গ্রাম, সাহিত্য সমালোচনাসহ নানা বিষয়ক। লেখা পাঠাবেন: boicharita@gmail.com
