শব্‌নম্‌ ইয়াসমিনের গুচ্ছকবিতা 

জীবন  কবচ

জীবন জুড়ে গদ্য থাকে, পদ্য থাকে কিছু। 
ছায়াটা তো সাথেই থাকে, হাঁটে পিছু পিছু 
দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণারা একই সুতোয় গাঁথা। 
তল খুঁজতে গেলেই কিন্তু লাগবে চোখে ধাঁধা 
মনটাকে তাই আগলে রেখো নিজের মতো করে। 
আমার আমি বেঁচে থাকুক যত্ন সহকারে।

ফিরে দেখা
হিসেবে যে বড্ড কাঁচা, পাক ধরা চুল মনে করায়।
চায়ের কাপে শান্ত চুমুক, ক্লান্তি কিছু দূরে সরায়।
কালচে আকাশ, বৃষ্টি ফোঁটা, দূরে ট্রেনের কু ঝিকঝিক,
পুরোনো সেই দেওয়াল ঘড়ি কদিন ধরেই বেগতিক।
বইয়ের ভাঁজে শুকনো গোলাপ সাজিয়ে ফেরে স্মৃতির মেলা।
হাঁটি হাঁটি পা পা করেই হারিয়ে গেল ছেলেবেলা।

এক ছুট
শৈলশহর দেখতে যাব কদিন ছুটি নিয়ে।
বসের কথায় যেতে হবে রেজিগনেশন দিয়ে।
রেজিগনেশন? সে তো কবেই লিখে রেখেছিলাম।
কান ছাপানো হাসি নিয়ে ই-মেল পাঠিয়ে দিলাম।
গোমড়ামুখো বসের তখন ভুরুর মাঝে গিঁট।
ট্রেনের রিজার্ভেশন পেয়েই মনটা আমার ফিট।
অফিস, ডায়েট শিকে তুলে যাচ্ছি কদিন ওটি।
মাঝে মাঝে জীবনও চায় বাঁধনহারা ছুটি।

স্মৃতিঘর
পুরোনো স্মৃতির ভিড়ে হারানো গাছের সারি 
ব্যালকানি, কফি কাপ, ফেলে আসা সেই বাড়ি। 
বাবা হারা দু’বছর, পুরো বাড়ি শান্ত 
তারাদের ভিড়ে তাকে খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত। 
কত কিছু ছেড়ে যায় সময়ের সঙ্গে, 
জীবন এমনই চলে ভালো আর মন্দে।

আগমনী
মা আসছেন মর্ত্যে এবার হাতির পিঠে চড়ে, 
ভোরের আলো গায়ে মেখে শিউলি ঝরে পড়ে। 
কাশের বনে কাশ ফুটেছে, খাচ্ছে হাওয়ায় দোল,
সাদা কালো মেঘের মাঝে বেজায় গণ্ডগোল। 
শরৎ এসে দিচ্ছে টোকা, আকাশের মুখ ভার 
ছিঁচকাঁদুনে বর্ষা নাকি কান মুলেছে তার। 
আবহাওয়া বলছে এসব নিম্নচাপের জের 
পুটু ভাবছে এবার পুজোয় বৃষ্টি না হয় ফের। 
পুটুরা যে সারা বছর থাকে অপেক্ষায়, 
পুজোর কদিন খেটেখুটে বাড়তি কিছু পায়। 
উৎসব তাই শান্তি আনুক, মিটিয়ে প্রয়োজন 
সবাই মিলে করি চলুন পুজোর আয়োজন।

শব্‌নম্‌ ইয়াসমিন : পেশায় একজন চিত্রশিল্পী ও ইলাস্ট্রেটর। ছোটবেলা থেকে আবৃত্তিচর্চার সঙ্গে যুক্ত। লেখালেখি পুরোটাই প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিচ্ছবি ছন্দে বাঁধার তাগিদে।

আরও পড়ুন