মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হওয়ার ঘটনাবলির সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত বয়ান

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় আকস্মিক কোনো ঘটনা ছিল না। নানা ঘটনার পথপরিক্রমায় এটি ছিল ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি। মুক্তিযুদ্ধকে অনিবার্য করে তোলার কাজটি করেছে পাকিস্তানি শাসক-সামরিক জান্তা ও রাজনীতিকেরাই। এই অনিবার্য পরিণতি ত্বরান্বিত হওয়ার ঘটনাপ্রবাহ খুব কাছ দেখেছেন ড. কামাল হোসেন। ১৯৬৬ সালের শেখ মুজিবুর রহমানের বাঙালির মুক্তির সনদখ্যাত ঐতিহাসিক ছয় দফা থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগপর্যন্ত ঘটনাবলির একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও এই ইতিহাসের একজন সহযাত্রী এবং কোনো কোনো ঘটনার ইতিহাস নির্মাতাদেরও একজন তিনি। ড. কামাল হোসেন তাঁর মুক্তিযুদ্ধ কেন অনিবার্য ছিল বইটিতে তুলে ধরেছেন যুদ্ধের সেই নিকট পরিপ্রেক্ষিত টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ইতিহাস ও তার ভেতরকার নানা ঘটনা।

উল্লেখ্য, কামাল হোসেনের মূল ইংরেজি লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র—এর ১৫তম খণ্ডে। পরবর্তী সময়ে এর বাংলা অনুবাদ দৈনিক ভোরের কাগজ—এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ভোরের কাগজ প্রকাশনীর বইটি বাজারে না থাকায় প্রথমা থেকে নতুন করে এটি প্রকাশিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন সংকলিত ও সম্পাদিত এবং ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থাবলী বইয়ে প্রায় চার হাজার বইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২৩ সালের অমর একুশে বইমেলা পর্যন্ত আরও অন্তত দুই হাজারেরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ইতিহাসবিদ, গবেষক, যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাঁদের বইতে মুক্তিযুদ্ধকে তুলেছেন ধরেছেন বিভিন্ন আঙ্গিকে। প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর অধিকাংশই স্মৃতিচারণামূলক। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থগুলো ইতিহাসের উপাদান হিসেবে মূল্যবান। কিন্তু অধিকাংশ স্মৃতিচারণা আমিত্বর [আমিই সব করেছি, সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল আমারই] প্রাধান্য বেশি। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের নির্মোহ ইতিহাস হয়ে ওঠার মতো গ্রন্থের সংখ্যা খুবই কম। এ ক্ষেত্রে ড. কামাল হোসেনের মুক্তিযুদ্ধ কেন অনিবার্য ছিল গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ। বর্ণিত প্রায় সব কটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অনেক ঘটনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার পরও সে ইতিহাস লিখতে গিয়ে তার বর্ণনায় আমিত্বর প্রাধান্য দেখা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ এই ইতিহাসে যাঁর যা ভূমিকা ছিল, সবার কথাই উঠে এসেছে গ্রন্থে। ড. কামাল হোসেন প্রতিটি বিষয়ই লিখেছেন সত্য ইতিহাসের কাছে দায়বদ্ধ একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে।

মাত্র ৯৫ পৃষ্ঠার গ্রন্থটিতে মুক্তিযুদ্ধের খুব ভেতরের ঘটনার কথা নেই, তবে এটি ১৯৭১ সালের ঘটনা জনযুদ্ধ হয়ে ওঠা কেন অনিবার্য হলো—আছে তার বিস্তারিত বিবরণ। ড. কামাল হোসেন গ্রন্থটি শুরু করেছেন ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তানের লোকবল ও ভূখণ্ড দুটোই হারানো এবং যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) অরক্ষিত রাখার কারণে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে বাঙালিদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি দিয়ে। তিনি লিখেন, পূর্বাঞ্চলে বাঙালিরা যুদ্ধের প্রতি পুরোপুরি ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাল।…তারা নিজেদের অনাবৃত ও অরক্ষিত বোধ করল। বন্ধুভাবাপন্ন চীনাদের দেওয়া আশ্বাসের ওপরই পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার ভার ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল—ভুট্টোর এ রকম উক্তি বাঙালিদের সামন্যই সান্ত্বনা দিতে পেরেছিল। [পৃ. ১১-১২]

পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানকে বঞ্চিত রাখার কারণে বাঙালিদের যে উপলব্ধি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তার আলোচনা ধরে লেখক প্রবেশ করেছেন ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে বিরোধী দলের সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ছয় দফা’ পেশ করার ইতিহাসে। এই পর্বে তিনি তুলে ধরেছেন ছয় দফার অন্তরঙ্গ ও আদ্যোপান্ত ঘটনাবলি।

 ১৯৬৬ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বিরোধীদলীয় বাঙালি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানান। সে বৈঠকে বঙ্গবন্ধু আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনসহ কিছু দাবিনামা পেশ করতে চেয়েছিলেন, যা ছিল ছয় দফার পূর্বগামী। এই দফাগুলো সুনির্দিষ্ট করে তৈরি করেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ। কিন্তু নূরুল আমিনসহ প্রবীণ বাঙালি নেতারা ছয় দফার পূর্বগামী এই দাবিনামা পেশের বিরোধিতা করেন।

শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অবস্থানে অটল থেকে কীভাবে ছয় দফা পেশের মূল পর্বে অবতীর্ণ হলেন—এরপর লেখক দিয়েছেন তার বর্ণনা। সেই বছরের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে বিরোধী দলের সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা পেশ করতে চাইলে তাতে পশ্চিমা নেতারা সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলন ত্যাগ করেন এবং বিবৃতি আকারে সংবাদমাধ্যমে ছয় দফা তুলে ধরেন। বিবৃতিটি ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা কর্মসূচি—‘আমাদের বাঁচার দাবি’ শিরোনামে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়—এটি ‘দেশের দুই অংশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের মৌল নীতিমালা।’

পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা ছয় দফাকে নিয়েছিলেন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ তৎপরতার অংশ হিসেবে। সামরিক শাসক আইয়ুব খান ঘোষণা দিয়েই অস্ত্রের ভাষায় ছয় দফার জবাব দেন। এরপর লেখক বর্ণনা দিয়েছেন—ছয় দফাকে কেন্দ্র করে আইয়ুব খানের হীন ষড়যন্ত্রের আইনি পদক্ষেপ ‘আগরতলা মামলার’ প্রেক্ষাপটসহ ভেতরকার ঘটনা। তিনি লিখেন—

…[ছয় দফার প্রতি] বাঙালিদের সমর্থনসূচক মনোভাব সঠিকভাবে উপলব্ধি করে শেখ মুজিব ও তাঁর আওয়ামী লীগ ছয় দফা কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরলেন। আন্দোলন দ্রুতই দানা বাঁধতে শুরু করল। ফলে ১৯৬৬ সালের ১৮ এপ্রিল শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করা হলো এবং ৯ মে তাঁর বিরুদ্ধে দেশরক্ষা আইনে (ডিফেন্স অব পাকিস্তান রুলস, সংক্ষেপে ডিপিআর) আটকাদেশ জারি করা হলো। ছয় দফার সমর্থনে এবং শেখ মুজিবের মুক্তির দাবিতে ৭ জুন বিক্ষোভ দিবস ডাক দেওয়া হলো। বলপ্রয়োগে আন্দোলন দমন করতে তৎপর হলো আইয়ুব সরকার। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলো। নিহত হলো কয়েকজন। বিপুলসংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হলো। সে সময় বাঙালির প্রধান মুখপত্র হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত সংবাদপত্র দৈনিক ইত্তেফাক নিষিদ্ধ করা হলো; এর সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন (মানিক মিয়া) গ্রেপ্তার ও তাঁর ছাপাখানা বাজেয়াপ্ত কর হলো। [পৃ. ২০]

এরপর সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ বেশ কিছু কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে শেখ মুজিবসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। ড. কামাল হোসেন এই মামলার সূত্রেই শেখ মুজিবুর রহমানের সংস্পর্শে আসেন। তিনি ছিলেন এই মামলায় আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী। পরবর্তী সময়ে তাঁর ভূমিকা কেবল আইনজীবীর মধ্যে সীমিত থাকেনি। উনসত্তরের গোলটেবিল বৈঠক, খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কিংবা একাত্তরের মার্চে মুজিব-ইয়াহিয়া আলোচনায় তিনি একজন পরামর্শদাতা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাই ইতিহাসের এই অংশ কামাল হোসেন বর্ণনা করেছেন শুধু ইতিহাস লেখক হয়েই নয়, একই ইতিহাসের নির্মাণের অংশীদার হিসেবে, ঘটনার ভেতর থেকে।

ছয় দফার দাবি ও আগরতলা মামলার প্রত্যাহারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালিদের পাকিস্তানি সরকারবিরোধী মনোভাব তীব্র আকার ধারণ, এই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব প্রদান, তোফায়েল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতার জাতীয়ভাবে উঠে আসা ও পরিচিত লাভ এবং সর্বোপরি শেখ মুজিবুর রহমানের বাঙালিদের একক নেতা হয়ে ওঠা, বঙ্গবন্ধু উপাধির প্রদানের আলোচনা, লৌহমানবখ্যাত আইয়ুব খানের পতন এবং আরেক সামরিক জান্তা ইয়াহিয়ার উত্থানের আলোচনার মধ্য দিয়ে লেখক পাঠককে নিয়ে গেছেন ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগমুহূর্তের উত্তেজনাপূর্ণ ইতিহাসে।

এরপর—১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়, ক্ষমতা হস্তান্তরে আলোচনার নামে ইয়াহিয়া প্রশাসনের টালবাহানা এবং পশ্চিম পাকিস্তানে তখনকার সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিক জুলফিকার আলী ভুট্টো কীভাবে ক্ষমতার আশায় রাজনীতি ভুলে গিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণিত গণহত্যার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আবির্ভূত হলেন, লেখক দিয়েছেন তার বর্ণনা।

গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ—ঘোষণায় কী থাকা উচিত, কী থাকা উচিত নয়—ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি লেখক এমনভাবে বর্ণনা করেছেন, পাঠকের মধ্যেও সাসপেন্স তৈরি হবে।

ছাত্রনেতারা তখন স্বাধীনতার চেতনায় বিভোর, চরম জঙ্গিমনোভাবাপন্ন এবং একেকজন আগুনের স্ফুলিঙ্গ। ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা ঘোষণার ব্যাপারে ছাত্রনেতার তীব্র চাপ সামাল দেন এবং বঙ্গবন্ধু এককভাবে কারও মতামত না শুনে সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেই। পরিচয় দিলেন তখনকার উত্তেজনাকর সময়ের সবচেয়ে কুশলী ও বিচক্ষণ রাজনীতিকের।

লেখক লিখেছেন, ‘৭ মার্চ জনসভার জন্য দলীয় অবস্থান বিবেচনার উদ্দেশ্যে ৬ মার্চ শেখ মুজিবের বাসভবনে আওয়ামী লীগ নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হলো। সারা দেশে প্রত্যাশা দেখা দিয়েছিল যে ৭ মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন।…বৈঠকে শেখ মুজিব বিভিন্ন সদস্যের বিভিন্ন মত শুনলেন, তবে নিজের অভিমত সংরক্ষিত রাখলেন।

‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছিল শেখ মুজিবের ওপর।…খোলাখুলিভাবে স্বাধীনতার ঘোষণার ফলাফল সতর্কতার সঙ্গে হিসেব করে দেখা হলো। সেনাবাহিনী একটি সামরিক হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজছিল এবং এ ধরনের কোনো ঘোষণা যে তাদের সেই সুযোগটিই জোগাবে, তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল।’ [পৃ. ৭৫ ও ৭৬]

বাস্তবতা উপলব্ধি করে সিদ্ধান্ত বঙ্গবন্ধু নিজেই নিলেন। ৭ মার্চের ভাষণে প্রত্যক্ষ স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলেও তিনি বাদ রাখেননি কোনো কিছুই। ভাষণে মূল বাক্যটি ছিল: এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ বিচক্ষণ বক্তব্যের মাধ্যমে একদিকে যেমন সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা সেনাবাহিনীকে বাঙালিদের ওপর আক্রমণ চালানোর অজুহাত বা সুযোগ তৈরি থেকে বঞ্চিত রাখলেন, অপর দিকে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ধরে রাখলের স্বাধীনতার প্রশ্নে বাঙালিদের অগ্নিমূর্তিকেও।

গ্রন্থের শেষের দিকে কামাল হোসেন লিখেছেন আলোচনার নামে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার টালবাহানার কথা। ভেতরে চলছে বাঙালিদের ওপর হামলার প্রস্তুতি। পাকিস্তানিরা সকল আলাপ-আলোচনার ব্যর্থ করে দিয়ে সামরিক অভিযান চালায়। ফলে কামাল হোসেনের ভাষায়, ‘মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে।’

২৫ মার্চের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ওই রাতেই পাকিস্তানি সৈন্যরা বাঙালি জনগণের ওপর আক্রমণ চালাল এবং গণহত্যা ও রক্তস্নান শুরু হলো, যা এড়ানোই ছিল আলাপ-আলোচনা চালানো ও দর-কষাকষির মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক মীমাংসায় পৌঁছানোর প্রয়াসের প্রধান লক্ষ্য।’ [পৃ. ৯৫]

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এত বিশাল ঘটনার ইতিহাস বলতে গিয়ে ড. কামাল হোসেনের পরিমিতবোধ প্রশংসনীয়। এত বড় ইতিহাস অল্পকথায় নির্ভরযোগ্য করে তুলতে দেখিয়েছেন মুনশিয়ানা।

অল্প বর্ণনায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস জানতে হলে বইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় বড় অনেক বইয়ের চেয়ে ছোট্ট এই গ্রন্থের আলোচনা বেশি তথ্যবহুল ও বস্তুনিষ্ঠ।

মুক্তিযুদ্ধ কেন অনিবার্য ছিল
ড. কামাল হোসেন
প্রচ্ছদ: অশোক কর্মকার
প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা
প্রকাশকাল: জুন ২০১৬
৯৫: পৃষ্ঠা

বাশার খান, লেখক ও গবেষক

আরও পড়ুন