রাজনৈতিক কাঁটাতারে ফের বিদ্ধ বাঙালির আত্মিক বন্ধন

কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশ থাকছে না। আগেও বহুবার ছিল না। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে, এটা মোটেই বড় কোনো বিষয় নয়। দুই দেশের ক্ষেত্রেই সমান ভাবে প্রযোজ্য। ভারতে বইমেলায় না এলে বাংলাদেশের প্রকাশনা ব্যবসা লাটে উঠবে, অথবা, কলকাতার বইমেলা রসাতলে যাবে, বিষয়টা তেমন নয়। তবু হইচই শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর কলকাতার বইমেলায় বাংলাদেশের অনুপস্থিতি এখানকার সাধারণ মানুষের আবেগেও সজোড়ে আঘাত করেছে। এই সাধারণ মানুষরা কেউই অবশ্য রাজনৈতিক জগতের কেউকেটা নন। তাঁরা বড়জোর সাহিত্যপ্রেমী। ইদানিং বাংলাদেশ প্রেমীও বলা যায়। তাঁদের কারও রাষ্ট্র পরিচালনায় সামান্য ভোটদান ছাড়া আর কোনো অধিকার নেই। কিন্তু তাঁরা বিশুদ্ধ বাঙালি। তাঁদের মন খারাপ, খুব খারাপ। কারণ তাঁরা চাইছিলেন, বাঙালির আত্মীয়তাকে আরও গভীরে নিয়ে যেতে। সীমান্তের দুঃশাসন ভুলে বুকের ভালোবাসা দিয়ে তৈরি করতে চেয়েছিলেন আত্মীয়তার নতুন অভিধান।
আমাদের দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. তপোধীর ভট্টাচার্য প্রায়ই বলেন, ‘বাঙালি মানে বাঙালি। বাঙালি কখনও হিন্দুও হয় না, মুসিলমও না’। তাঁর কথাকে ধার করে বলতে চাই, ‘বাঙালি বাঙালিই। ভারতীয় বা বাংলাদেশি মোড়কে বাঙালির অস্মিতা বা আবেগকে রাজনৈতিক কাঁটাতার দিয়ে রুখে দিলে বাঙালিয়ানার রক্তপাত হয়। সেই রক্তপাতে ক্ষতি হয় বাংলার সাধারণ মানুষের’। নেতারা সুরক্ষিত থাকেন, ক্ষতি বিক্ষত হই আমরা।
মুক্তিযুদ্ধের বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা বাদ দিলে, ভারতে বাস করা বাঙালিরা ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি, বাংলাদেশের বাঙালিদের বিষয়ে অনেকটাই উদাসীন। অথচ, ভারতের বাঙালিদের বেশিরভাগেরই শিকড়, আমার নিজেরও, বাংলাদেশেই রয়েছে। অথচ, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক-সব ক্ষেত্রেই এপারের বাঙালিরা ওপার সম্পর্কে অনেকটাই অজ্ঞ ও উদাসীন ছিলেন বহুকাল। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ অনেকটাই দূরে ঠেলে দিয়েছিল নিজেদের প্রিয় জনদরকেও। সেই বিভাজন রেখাকে আরও শক্তিশালী করে ধর্মীয় উন্মাদনার ফেরিওয়ালার। তাই এপারের বাংলা সিনেমার ম্যাটিনি আইকন উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন থেকে শুরু করে, সংগীত শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়রা ঢাকায় নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারলেও পদ্মাপারের মানুষদের কলকাতায় কলকে পেতে বেশ সময় লাগে। শামসুর রাহমানসহ হাতে গোনা মাত্র দু-একজনের নামই আগে বলতে পারতো পশ্চিমবঙ্গের আটপৌড়ে বাঙালিরা। অথচ, বাংলাদেশে অমিতাভ বচ্চন থেকে শাহরুখ খান, লতা মঙ্গেস্কর থেকে মোহম্মদ রাফি বহুকাল ধরেই সমান জনপ্রিয়। সৌরভ বা সচিনকে নিয়ে ঢাকায় যে উন্মাদনা দেখেছি, তেমনটা কোথায় সাকিব আল হাসানদের নিয়ে এপারের বাঙালি মননে!
গত আড়াই দশকে অবশ্য পরিস্থিতি অনেকটা বদলছে। মোশারফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, জয়া হাসানদের সিনেমার মতই কলকাতায় হুমায়ুন আজাদ বা ইমদানুল হক মিলনদের পাঠক বাড়ছে। সবচেয়ে বড় কথা, নাক উঁচু কলকাতায় বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। গঙ্গা ও পদ্মাপারের মানুষদের মেলামেশার হাত ধরে দুপারে পর্যটনেরও নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে বহু ভুল ধারনা বদলে গিয়েছে কলকাতার মন থেকে। তাই বহু ছেলেমেয়ে বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছে আজকাল। ঢাকার মতই এপারেও বেশ আড়ম্বরের পালিত হচ্ছে একুশে উৎসব, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা নববর্ষেও লেগেছে বাংলাদেশি মাটির গন্ধ। গত আড়াই দশকে কলকাতার রীতিমতো সম্ভ্রম আদায় করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আর এর প্রধান কারণ মানুষের সঙ্গে মানুষের মেলামেশার সুযোগ বৃদ্ধি। সেই মেলামেশার হাত ধরে দুপারের মানুষ গড়ে তুলেছেন নিজেদের আত্মীয়তা। কাঁটাতারের বেড়া সেই আত্মীয়তার দুর্নিবার আকর্ষণকে বিন্দুমাত্র বাধা দিতে পারেনি।
আত্মীয়তার হাত ধরে দুপারের বাঙালিরা বেশ মেতে উঠেছিলাম আনন্দযজ্ঞে। হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ আর চেতনায় নজরুলকে সঙ্গে নিয়ে দুপারেই আয়োজিত হয়েছে হাজারও উৎসব। প্রতি শীতেই কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাস বইমেলা ও চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশকে এখানকার মানুষের মনের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে। পদ্মার ইলিশ নিয়ে কলকাতায় হয়েছে বাঙালিয়ানার হরেক আয়োজন। ভুনা খিচুরি আজ কলকাতার সীমানা ছাড়িয়ে জেলায় জেলায়ও জনপ্রিয়। চাইনিজ খাবার ভুলে কলকাতার বাঙালিরা আবার ফিরতে শুরু করেছিলেন কচুর শাক আর শুঁটকি-ভর্তার বাঙালিয়ানায়। ভিসার বিরক্তি কাটিয়ে তাই দুই পারের মানুষই মেতে উঠেছিলাম বাঙালিয়ানার অভিন্ন হৃদয়ের বাঁধনছাড়া উচ্ছাসে। সেই উচ্ছাসই আগস্ট পরবর্তীতে হাওয়াই বাজির মতো চুপসে গিয়েছে। একজন অতি সাধারণ মানুষ হিসাবে মনে করি, বাংলাদেশে যা হয়েছে বা হচ্ছে, তা সেখানকার ১০০ শতাংশ অভ্যন্তরীন বিষয়। সে দেশের মানুষ নিজেরাই নিজেদের ভালোমন্দ বোঝার মতো যথেষ্ট সাবালক। রক্ত দিয়ে তাঁরা স্বাধীনতা এনেছেন। তখন তাঁরা ডাক দিয়েছিলেন, আমাদের রাষ্ট্রনেতারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন তাঁদের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা আমার পক্ষে শোভনীয় তো নয়ই, বরং ধৃষ্টতা। ভালো করেই জানি, ভারত সরকারের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণে আমার বিন্দুমাত্র প্রভাব খাটানোর ক্ষমতাটুকুও নেই। অতি সাধারণ একজন মানুষ। আছে শুধু বাংলাদেশের অগণিত বন্ধু ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি বুক ভরা ভালোবাসা। তবু শুধু এইটুকুই বলতে চাই, পরিবর্তিত পরিস্থিতি মানুষের সঙ্গে মানুষের মেলামেশার ক্ষেত্রে বিস্তর প্রতিবন্ধকতার জন্ম নিয়েছে। এটা কাম্য নয়। এতে ক্ষতি হচ্ছে, দুই পারের বাঙালিদেরই। মনে রাখতে হবে, এপারের বাঙালিদের স্বাধীনতার বয়স কিন্তু অনেকটাই বেশি। জনসংখ্যাও। রয়েছে বিশাল আয়তন ও জনসংখ্যা। প্রাচুর্যও কম নয়। তাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতিতে বোধহয় ক্ষতির বহরটা ওপারেই বেশি হবে। সেই ক্ষতির ভারমুক্তিতে প্রয়োজন মানুষের সঙ্গে মানুষের মেলামেশার স্বাভাবিক গতিধারাকে আবারও ফিরিয়ে আনা। কিন্তু আনবে কে? আমরা তো সাধারণ লোক!
আসা যাক কলকাতা বইমেলায়। বাংলাদেশকে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে কলকাতা বইমেলার অবদানও অনেক খানি। ২৮ বছর ধরে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার বাংলাদেশিদের স্টলে থেকেছে উপচে পড়া বইপ্রেমীর ভীড়। কিন্তু এবার থাকছে না বাংলাদেশের কোনও স্টল। একই মাতৃভাষার প্রতিবেশী না থাকলেও থাকছে আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পেরু, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়ার মতো দেশ, যাদের সঙ্গে সাধারণ বাঙালির কোনও আত্মিক যোগ নেই। অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের জার্মানি এবারের কলকাতা বইমেলার থিম দেশ।
পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড কলকাতা বইমেলার আয়োজক সংস্থা। গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিপ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সরকারি কারণেই বাংলাদেশকে বইমেলায় প্যাভেলিয়ন দেওয়া যাচ্ছে না। সরকার মানে দিল্লি ও ঢাকার শাসকেরা ২৮ জানুয়ারি সল্টলেকের মিলনমেলা প্রাঙ্গনে শুরু হবে বইয়ের এই উৎসব। ১২ দিন পর ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে মাইনাস বাংলাদেশ কলকাতার বই পার্বন। স্টলের জন্য ১৩০০ আবেদন এসেছিল। ১০৫০ টি আবেদনে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। গতবার ১৮ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। বাংলাদেশ প্যাভেলিয়নে গতবারও ভীড় সামলাতে হিমশিম খান বই বিক্রেতারা। গিল্ডের হিসাবে গতবার ২৯ লাখেরও বেশি বইপ্রেমী কলকাতার এই বইমেলায় এসেছিলেন। বিক্রি হয়েছিল ২৮ কোটি রুপির বই।
এবার কলকাতা বইমেলার আগেই শুরু হচ্ছে ৪৩ তম আগরতলা বইমেলা-২০২৫। সেখানেও এবার ব্রাত্য বাংলাদেশ। আগরতলার উপকন্ঠে হাঁফানিয়ায় ২ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি চলবে এই বইমেলা। প্রতিবারই আগরতলা বইমেলার মূল আকর্ষণ থাকে বাংলাদেশ। ত্রিপুরার মানুষদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আত্মীয়তার থেকেও গভীরতর। ক্রামগত সেই সম্পর্কের বাঁধন ছাড়া উন্নতি হতে দেখা গিয়েছে গত আড়াই দশক ধরে। কিন্তু সেখানেও বইতে শুরু করেছে অনিশ্চয়তার দমকা হাওয়া। বইমেলাতে বাংলাদেশ আসছে না, এটা ধরেই নিয়েছেন মেলার আয়োজকরা। ফলে বইমেলার জৌলুস অনেকটাই কমছে। তার থেকেও বড় কথা, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি নিয়েও চিন্তিত বুদ্ধিজীবী মহল। কলকাতা চিরকাল ঢাকাকে নিয়ে উন্নাসিক হলেও ত্রিপুরা কিন্তু চিরকাল বাংলাদেশকে তাঁদের আত্মীয় হিসাবেই মনের চিলেকোঠায় আগলে রেখেছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার ভূমিকা তাই বাংলাদেশ আজও ভুলতে পারেনি।
আসলে, পারষ্পরিক দোষারোপ বা অনাস্থা প্রকাশের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতারা তাদের কার্যসিদ্ধি করতে পারেন। আবার নেতারাই তো রাষ্ট্রের আসল পরিচালক। কিন্তু মানুষের আবেগকে বিষবিদ্ধ করা বোধহয় কারও পক্ষেই মোটেও শোভনীয় বা কাম্য নয়। দুপারের অগণিত মানুষ যে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তোলার মহান ব্রত হাতে তুলে নিয়েছিলেন, সেটাই আজ ক্ষত-বিক্ষত। দুপারের শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের মধ্যে যাতায়াত ও মেলামেশার যে পরিবেশ গত আড়াই দশকে তৈরি হয়েছিল, সেটাকে ধ্বংস করলে আমার মনে হয় না কোনও দেশেরই লাভ হবে। বরং দুই দেশের সিনেমা বা সাহিত্যের আদানপ্রদান, যৌথ সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, সাংবাদিকদের মত বিনিময় থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষদের মধ্যে অবাধ মেলামেশার সুযোগ করে দিলে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। দূর হবে অনেক বিভ্রান্তিুও।
২০০০ সাল থেকে নিয়মিত বাংলাদেশ যাতায়াতের সুবাদে, সেখানকার সর্বস্তরের, সর্ব মতবাদের, সর্ব ধর্মের, সর্ব পেশার মানুষদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে বারবার মনে হয়েছে, ওপারের সাধারণ মানুষও সীমান্তের কাঁটাতারের শাসন মানতে নারাজ। দেওয়াল লিখন অনমুধাবন করেছি, বন্দুকের নল দিয়ে সীমান্ত শাসন করা যায়, মানুষের মনকে নয়। যে আতিথেয়তা সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছ থেতে পেয়েছি, সমস্ত ধর্ম ও মতবাদের মানুষরা যে আপ্যায়ণ করেছেন ওপারে, তাতে করে ছোটবেলার থেকে লালিত বহু কল্পকথা উবে গিয়ে একটি সুন্দর ও প্রাণবন্ত বাংলাদেশকে উপলব্ধি করতে পেরেছি। সুন্দর বাংলাদেশ মানে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি জনভূমি নয়, সুন্দর মন মানসিকতার মানুষদের ব্যবহারে সমৃদ্ধ একটি প্রাণবন্ত জনবসতি। সত্যিই বাংলাদেশ আমার কাছে আজ তাই প্রকৃত অর্থেই সোনার বাংলা। কিন্তু সেই সোনার বাংলাকে সকলের সামনে তুলে ধরার বদলে খাঁচায় বন্দি করে রাখার যেমন কোনও যুক্তি নেই, তেমনি তাঁর প্রকাশে বাধা দেওয়াও ঠিক নয়, এটা একৈান্তই আমার ব্যক্তিগত মত।
বইমেলা আসলে উপলক্ষ্য মাত্র। বন্ধুত্বের প্রতীক বলা যেতে পারে। আমার মনে হয়, সবধরনের মেলামেশার উপাদান উন্মুক্ত করে দেওয়াটাই সময়ের দাবি। একমাত্র তাতেই মুছবে অবিশ্বাস আর অনাস্থার বিষবাষ্প। শুনতে পেলাম, কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার বন্ধ হলেও ঢাকার আন্তর্জাতিক বইমেলায় ভারতের জন্য দরজা খোলা থাকছে। স্বাগত। দরজা বন্ধ রাখা কখনওই সভ্য জগতের জন্য কাম্য হতে পারে না। উদার বাতাস ঢুকতে দিতে হবে আমাদের মগজ থেকে মগজাস্ত্রে, তাতেই মুক্তি মিলবে বিদ্বেষ ও বিভাজনের বেড়াজাল থেকে।
