সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে বিভাজনকারীদের আমি পছন্দ করি না: রাষ্ট্রপতি

সাম্প্রদায়িকতাকে সামনে রেখে যারা বিভাজন করে তাদের আমি মোটেও পছন্দ করি না, এটা কোনো রাজনৈতিক আদর্শ হতে পারে না—এমনটাই মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি যতদিন কর্মক্ষম আছি, জনগণের জন্য কাজ করে যাব। আমি ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনো রাজনীতি টানি না। সব দলেই আমার বন্ধু আছেন। সবার সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। আমি সর্বদলীয় হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি সর্বসাধারণের।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে শিকড় থেকে এসেছি, যে শিকড় থেকে আমার বেড়ে ওঠা, সেই শিকড়কে আমি ধরে রাখতে চাই।’ এ সময় ঠাকুরগাঁওকে সাম্প্রদায়িকতা ও মাদকমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এ লক্ষ্য অর্জনে সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতাও কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা

মতবিনিময় কালে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব‍্যাপক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। জানান, দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রুটে নতুন রাস্তার কাজে প্রায় ১৫শ কোটির একটি বাজেট ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে, আগামী বছরে ঠাকুরগাঁও মেডিক্যাল কলেজে যাতে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে সে লক্ষ্যে জোরে সোরে কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যাতে স্বচ্ছতা থাকে সেজন্য সাংবাদিকদের সোচ্চার হয়ে ভুল-ভ্রান্তি ধরিয়ে দিতে বলেছেন।

এছাড়া আগামী মাস থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য বঙ্গভবন পরিদর্শনের ব্যবস্থার কথাও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম।

পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতনকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা কঠিন।

সাংবাদিকদের যথাযথ কল্যাণ ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে না পারাকে সমাজের জন্য দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে তিনি পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরামের সদস্যদের অভিনন্দন জানান। দেশ ও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পাশে থাকার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলায় গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে সজাগ থাকা এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সাফল্য ও অর্জনগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে ফোরামের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরামের নেতারা দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। তাঁরা পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

পাশাপাশি সংগঠনের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন এবং গুরুতর অসুস্থ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁরা। এ সময় রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সংগঠনটির সমৃদ্ধি ও সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মানিক মুনতাসির ও সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সংগঠনটির ৪৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন