মেলার সময় বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনড় অবস্থান ও ভাড়ায় ছাড়ের প্রস্তাব: প্রকাশকরা সম্মত হননি

বইমেলা ২০২৬ সালের সময় নির্ধারণ প্রসঙ্গে আজ মঙ্গলবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির সঙ্গে প্রকাশকদের প্রতিনিধিদলের একসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারের পক্ষে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ শুরু করার বিষয়ে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রকাশকদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি— নির্বাচনী বাস্তবতা, মেলার প্রস্তুতির জন্য আদৌ কোনো সময় না পাওয়া, প্রেস অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকা, মেলা শুরু হবার পরপরই পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় ‘ঈদের পরে মেলা’ আয়োজনের বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্মত হয়নি।
প্রকাশকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প করোনা মহামারীর সময় থেকেই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে গিয়েছে। গত এক বছরের স্থবির অর্থনীতিতে বইয়ের বিক্রি একদমই হ্রাস পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিশ্চিত লোকসানের মুখে বিপুল পরিচালনা ব্যয়ের আর একটি মেলায় অংশ নিতে অধিকাংশ প্রশাসক সম্মত নন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলায় প্রকাশকদের স্টল ভাড়ার ওপর ৫৫% মওকুফ করা হবে। তবে প্রকাশকদের পক্ষ থেকে ভাড়ার ১০০% মওকুফ এবং স্টল ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণ ব্যয়ে সরকারি ভর্তুকি প্রদানের যে দাবি জানানো হয়েছিল, মন্ত্রণালয় তাতে অসম্মতি জ্ঞাপন বা অপারগতা প্রকাশ করেছে।
প্রকাশকদের মূল আপত্তি কেবল ‘ভাড়া’ নিয়ে ছিল না, তাদের আপত্তি ছিল মেলার ‘সময়সূচি’ নিয়ে। নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠন পরবর্তী সময়, রোজার বন্ধে পাঠকশূন্য মেলায় ৫৫% কেন, ১০০% ভাড়া মওকুফ করলেও প্রকাশকদের লগ্নিকৃত পুঁজি (বই ছাপা, কর্মীদের বেতন, ডেকোরেশন) উঠে আসবে না। একটি ‘প্রাণহীন’ মেলা আয়োজনের সরকারি সিদ্ধান্তের দায়ভার প্রকাশকরা নিতে পারবেন না।
প্রকাশনা একটি শিল্প। এর আর্থিক হিসেব নিকেষ এর ওপর কয়েক লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। মন্দার কারণে বহু প্রকাশক ব্যবসা সীমিত করতে এবং দক্ষ জনশক্তি ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন।
বাংলাদেশে প্রকাশনা শিল্পের সবচেয়ে বড় আয়োজন বইমেলা। এই আয়োজনে লোকসান হলে ইতোমধ্যেই রুগ্ন এই শিল্পটি একেবারে বিপন্ন হবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের বাস্তবতা উপলব্ধি করে জাতীয় বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পটি রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।
