আগমনী যখন স্ক্রিনে 

পকআসার খবর একসময় জানাত শরৎ—নীল আকাশ, সাদা মেঘ, কাশফুল আর শিউলির গন্ধে।  মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ সেই আগমনীকে পৌঁছে দিত বাঙালির ঘরে ঘরে। এখন সেই শরতের আকাশের পাশে জ্বলে ওঠে মোবাইলের নীল পর্দা, চণ্ডীপাঠের সুর ছড়িয়ে পড়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে, আর মায়ের মুখ এক মুহূর্তে পৌঁছে যায় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। ঋতু বদলায়নি, উৎসবও বদলায়নি; বদলে গেছে তাকে দেখার, ছুঁয়ে থাকার এবং স্মৃতিতে ধরে রাখার মাধ্যম।

একসময় পুজোর আগমন বোঝা যেত পাড়ার রাস্তায় বাঁশ ওঠার শব্দে, মণ্ডপের কাঠামো তৈরির ব্যস্ততায়, নতুন জামার গন্ধে, দোকানের আলোয়। পুজো যত এগিয়ে আসত, ততই বদলে যেত শহর ও মফস্‌সলের চেহারা। আজ সেই প্রস্তুতির অনেকটাই শুরু হয়ে যায় পর্দায়। মণ্ডপের নকশা, প্রতিমার প্রথম ছবি, আলোকসজ্জার ঝলক, নতুন পোশাকের ছবি—উৎসবের আবহ তৈরি হতে থাকে বাস্তবের মণ্ডপে পা রাখার আগেই। পুজো যেন এখন আসার আগেই দেখা দিতে শুরু করে।

দুর্গাপুজো বরাবরই পরিবর্তনের উৎসব। বাঙালির পুজোর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই উৎসব কোনও একটি জায়গায় স্থির হয়ে থাকেনি। জমিদারবাড়ির অন্তঃপুর থেকে পুজো বেরিয়ে এসেছে বারোয়ারি মণ্ডপে, পাড়ার মোড়ে, শহরের রাস্তার পাশে। তারপর এসেছে থিম পুজো। প্রতিমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিল্প, স্থাপত্য, আলোকসজ্জা, কারিগরি কল্পনা। একটি মণ্ডপ আর শুধু মায়ের আবাস নয়, হয়ে উঠেছে শিল্পীর ভাবনার প্রকাশ। সেই বিবর্তনের ধারাতেই এখন যুক্ত হয়েছে আর একটি নতুন পরিসর—ভার্চুয়াল মণ্ডপ।

মণ্ডপে মানুষের ভিড় যেমন আছে, তেমনই সেই মণ্ডপের ডিজিটাল দর্শকও আছে। কলকাতার কোনও বিখ্যাত পুজোর সামনে হয়তো রাতভর মানুষের ঢল। একই সময়ে সেই পুজোর ছবি, ভিডিও কিংবা লাইভ সম্প্রচার দেখছেন পৃথিবীর অন্য প্রান্তে বসে থাকা অসংখ্য মানুষ। কেউ মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ মোবাইলের পর্দায়। দুজনের অভিজ্ঞতা এক নয়, কিন্তু দুজনেই একই উৎসবের দর্শক।

বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের কাছে এই দ্বৈত জগৎ একেবারেই স্বাভাবিক। তাদের কাছে অনলাইন আর অফলাইন দুটি আলাদা পৃথিবী নয়। একই মুহূর্ত বাস্তবে ঘটে, আবার সঙ্গে সঙ্গে তার একটি ডিজিটাল জীবনও তৈরি হয়। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় নতুন পোশাক পরা থেকে দশমীর বিসর্জন—পুজোর প্রতিটি দিন যেন নিজের সঙ্গে একটি ক্যামেরা বহন করে। নতুন জামা শুধু আয়নার সামনে দেখার বিষয় নয়, তা হয়ে ওঠে ‘পুজো লুক’-এর ছবি। মণ্ডপ শুধু ঠাকুর দেখার জায়গা নয়, হয়ে ওঠে ছবির পটভূমি। বন্ধুত্ব শুধু আড্ডার স্মৃতি নয়, একটি দলবদ্ধ ছবির ফ্রেম। পুজোর রাত শুধু রাত জাগার গল্প নয়, একটি রিলের দৃশ্য।

এই নতুন প্রজন্মের কাছে পুজো যেন একসঙ্গে উৎসব এবং কনটেন্ট। ‘দেখা’ আর ‘দেখানো’-র মাঝখানের দূরত্ব ক্রমশ কমে এসেছে। একসময় ঠাকুর দেখে বাড়ি ফিরে বন্ধুদের বলা হত—কোথায় কী দেখলাম। এখন সেই গল্পের সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় ছবিও। কোনও মণ্ডপ ভালো লেগেছে? তার ছবি। কোনও প্রতিমা মুগ্ধ করেছে? তার ভিডিও। অষ্টমীর অঞ্জলি মনে রাখার মতো? সঙ্গে সঙ্গে স্টোরি। নবমীর রাত অসাধারণ? রিল তৈরি হয়ে গেল। স্মৃতি তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রকাশও ঘটে যাচ্ছে।

 ‘লাইক’ শব্দটি পুজোর অভিধানে একটি নতুন অর্থ তৈরি করেছে। একটি ছবি কতজন দেখল, কতজন ভালোবাসার চিহ্ন রেখে গেল, কতজন মন্তব্য করল—এসব এখন ডিজিটাল আনন্দের মাপকাঠি। পুজোর দিনগুলিতে একটি নতুন পোশাকের ছবি যেমন অপেক্ষা করে প্রশংসার, তেমনই একটি মণ্ডপের ছবিও অপেক্ষা করে দর্শকের প্রতিক্রিয়ার। লাইক যেন অদৃশ্য এক করতালি। আগে প্যান্ডেলের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ বলত, ‘দারুণ হয়েছে।’ এখন সেই প্রশংসা জমা হয় সংখ্যায়।

এই সংখ্যারও নিজস্ব এক মনস্তত্ত্ব আছে। কারও পোস্টে একশো লাইক, কারও পাঁচশো, কারও কয়েক হাজার। কারও রিল মুহূর্তে ছড়িয়ে যায়, কারও ছবি থেকে যায় সীমিত দর্শকের মধ্যে। উৎসবের সঙ্গে জনপ্রিয়তার এই যোগসূত্রটি একেবারেই নতুন। পুজো শুধু দেখা হচ্ছে না, কতজন দেখল সেটিও যেন একটি গল্প হয়ে উঠছে।

মণ্ডপ নির্মাণের মধ্যেও এই পরিবর্তনের ছাপ পড়েছে। আগে শিল্পী ভাবতেন, মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে মণ্ডপটি কীভাবে দেখবেন। এখন সেই ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্যামেরার চোখ। কোন জায়গাটি ছবিতে সবচেয়ে ভালো ফুটবে, কোথায় আলো পড়লে প্রতিমার মুখ আরও উজ্জ্বল হবে, কোন কোণ থেকে পুরো মণ্ডপের সৌন্দর্য ধরা যাবে—এসবও নকশার অংশ হয়ে উঠেছে। ড্রোন ক্যামেরা আকাশ থেকে মণ্ডপ দেখছে, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ঘুরে দেখাচ্ছে ভিতরের দৃশ্য, লাইভ স্ট্রিমিংয়ে দূরের দর্শকও যেন সেই ভিড়ের মধ্যে উপস্থিত।

মণ্ডপের বাস্তব স্থাপত্যের পাশে তৈরি হয়েছে তার ডিজিটাল প্রতিরূপ। এই ডিজিটাল প্রতিরূপের দর্শকও কম নয়। কলকাতার পুজো দেখছেন লন্ডনের কোনও বাঙালি তরুণ। নিউইয়র্কের কোনও ছাত্র নিজের পাড়ার মণ্ডপের লাইভ সম্প্রচার দেখছেন। দুবাই, সিঙ্গাপুর, টরন্টো কিংবা মেলবোর্নে থাকা বাঙালি পরিবার মোবাইলের পর্দায় দেশের পুজোর ছবি খুঁজছেন। তাঁদের কাছে ভার্চুয়াল পুজো নিছক প্রযুক্তি নয়; অনেক সময় তা ঘরের গন্ধের কাছাকাছি যাওয়ার একটি পথ।

দূরত্বেরও তো নিজস্ব এক দুঃখ আছে। পুজোর সময় কলকাতায় ফিরতে না পারার দুঃখ, পাড়ার মণ্ডপে যেতে না পারার দুঃখ, মায়ের মুখোমুখি দাঁড়াতে না পারার দুঃখ। সেই দুঃখের ভিতর দিয়ে যখন একটি লাইভ ভিডিওয় নিজের চেনা মণ্ডপ দেখা যায়, তখন স্ক্রিনের আলোও অদ্ভুতভাবে আপন হয়ে ওঠে। একটি ফোনের ছোট্ট পর্দায় হয়তো দেখা যায় পাড়ার পুরনো রাস্তা, পরিচিত প্রতিমা, চেনা মানুষ। হাজার মাইল দূরে বসেও মনে হয়, উৎসবটি পুরোপুরি হাতছাড়া হয়নি।

ভার্চুয়াল পুজোর সবচেয়ে মানবিক দিকটি এখানেই। পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির মধ্যে এটি একটি নতুন সেতু তৈরি করেছে। দেশের পুজো বিদেশে পৌঁছচ্ছে, বিদেশের পুজো দেশের ঘরে ফিরছে। লন্ডনের কোনও কমিউনিটি হলের দুর্গাপুজোর ছবি কলকাতার মানুষ দেখতে পাচ্ছেন, আবার কলকাতার কোনও পাড়ার আরতির দৃশ্য পৌঁছে যাচ্ছে লন্ডনের বাঙালি পরিবারের কাছে। একসময় যে পুজো ছিল একটি পাড়ার, একটি শহরের, এখন তার দর্শক পৃথিবীজুড়ে।

মা দুর্গার এই নতুন মণ্ডপের কোনও দরজা নেই। সেখানে প্রবেশের জন্য লাইন নেই, পাস নেই, ভৌগোলিক সীমা নেই। একটি ক্লিকেই দূরের মানুষ কাছে চলে আসে। দেবীর মুখ একটি ছোট স্ক্রিনে ভেসে ওঠে, আর সেই মুখের সঙ্গে জেগে ওঠে বহু দূরের স্মৃতি।

এই ভার্চুয়াল পৃথিবীর ভিতরেই পুজোর আর একটি দৃশ্য তৈরি হয়েছে। মণ্ডপের ভিড়ের মধ্যে চার-পাঁচজন বন্ধু পাশাপাশি দাঁড়িয়ে, অথচ প্রত্যেকের চোখ আলাদা একটি স্ক্রিনে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ স্টোরি বানাচ্ছেন, কেউ অন্যের পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। একই জায়গায় থেকেও প্রত্যেকে যেন নিজের নিজের ছোট্ট ডিজিটাল ঘরে। একসময় পুজোর ভিড় মানুষকে মানুষের কাছে নিয়ে আসত। এখন সেই ভিড়ের মধ্যেও তৈরি হতে পারে এক অদৃশ্য দূরত্ব।

পুজোর আড্ডারও বদল ঘটেছে। একসময় চায়ের দোকানে বসে পাড়ার মানুষ আলোচনা করতেন—কে এল, কার নতুন জামা কেমন, কোন পুজোর প্রতিমা ভালো। এখন সেই আলোচনার পাশে এসেছে ফিড, স্টোরি, রিল। কে কোথায় গেল, কী পরল, কোন মণ্ডপে ছবি তুলল—সবকিছুই দেখা যাচ্ছে। বাস্তবের মানুষকে দেখার পাশাপাশি অদৃশ্য এক জনসমাজও উপস্থিত থাকে ফোনের ওপারে।

বিজয়ার কোলাকুলির জায়গাতেও ডিজিটাল শুভেচ্ছার বিস্তার ঘটেছে। আগে বিজয়া মানে বাড়ি বাড়ি যাওয়া, প্রণাম করা, মিষ্টি খাওয়া, আলিঙ্গন। এখন সেই সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একসঙ্গে পাঠানো অসংখ্য শুভেচ্ছাবার্তা। একই ছবি, একই লেখা, একই ডিজিটাল কার্ড কয়েক ডজন মানুষের ফোনে পৌঁছে যায়। সম্পর্কের ভাষা বদলায়, কিন্তু তার ভিতরে থাকা স্মৃতির প্রয়োজনটি থেকে যায়।

পুজোর অর্থনীতিও এই পরিবর্তনের বাইরে নেই। জেন-জি-র পুজোর বাজার এখন শুধু গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, নিউ মার্কেট বা শপিং মলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পোশাকের ছবি দেখে অনলাইনে অর্ডার, ইনস্টাগ্রাম স্টোরে গয়না, মোবাইল অ্যাপে খাবার, ডিজিটাল পেমেন্টে কেনাকাটা—সব মিলিয়ে পুজোর বাজারও স্ক্রিনে উঠে এসেছে। বিজ্ঞাপনদাতারা জানেন, নতুন প্রজন্মের চোখ এখন অনেকটাই মোবাইলের পর্দায়। তাই পুজোকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল প্রচার, ইনফ্লুয়েন্সার কনটেন্ট, পুজো লুকবুক, ফুড গাইড, মণ্ডপ ভ্রমণের ভিডিও।

একটি পুজো এখন শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি বিশাল সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক দৃশ্যপট। আর সেই দৃশ্যপটের একটি বড় অংশ তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল পরিসরে। পুজোর সবচেয়ে গভীর মুহূর্তগুলি এখনও কোনও অ্যালগরিদমে ধরা পড়ে না। শরতের বিকেলে মণ্ডপের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আলো, ধূপের ধোঁয়ার মধ্যে প্রতিমার মুখ, ঢাকের তালে হঠাৎ থেমে যাওয়া কথাবার্তা, অষ্টমীর ভিড়ে পরিচিত কারও সঙ্গে আকস্মিক দেখা, দশমীর বিকেলে বিসর্জনের আগে মায়ের মুখের দিকে শেষবার তাকিয়ে থাকা—এই মুহূর্তগুলির কোনও লাইক সংখ্যা নেই।

ডিজিটাল দুনিয়া তাদেরও ছায়া তৈরি করে। একটি ছবি হয়ে যায় স্মৃতি। একটি ভিডিও হয়ে যায় সময়ের দলিল। একটি পোস্ট কয়েক বছর পর হঠাৎ ফিরে এসে মনে করিয়ে দেয়—এই দিনটিতে আমরা কোথায় ছিলাম, কার সঙ্গে ছিলাম, কী পরেছিলাম, কোন মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম।

এখানেই ভার্চুয়াল পুজোর সবচেয়ে অদ্ভুত সৌন্দর্য। পুজো শেষ হয়ে যায়, মণ্ডপ ভেঙে যায়, আলো খুলে নেওয়া হয়, প্রতিমা বিসর্জনে চলে যায়। কিন্তু ডিজিটাল পর্দায় পুজোর একটি অংশ থেকে যায়। ছবির ভিতরে থেকে যায় এক টুকরো শরৎ। ভিডিওর ভিতরে থেকে যায় ঢাকের শব্দ। পুরনো পোস্টের ভিতরে থেকে যায় কোনও এক বছরের অষ্টমী।

সময়ের সঙ্গে মানুষের স্মৃতি সংরক্ষণের পদ্ধতিও বদলেছে। একসময় ছিল চিঠি, পরে অ্যালবাম, তারপর ভিডিও ক্যাসেট, সিডি, এখন ক্লাউড ও সোশ্যাল মিডিয়া। দুর্গাপুজো সেই পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে চলেছে। দেবী প্রতিবছর নতুন প্রতিমায় আসেন, কিন্তু মানুষের স্মৃতি তাঁকে ধরে রাখে পুরনো ছবিতে।

আজকের দুর্গাপুজোকে শুধু মণ্ডপের পুজো বলে দেখা যায় না। এটি একই সঙ্গে মাটির এবং পিক্সেলের, ঢাকের এবং নোটিফিকেশনের, ভিড়ের এবং ভার্চুয়াল দর্শকের। জেন-জি সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান মুখ। তাদের হাতে মোবাইল, চোখে নতুন পৃথিবী, অথচ পুজোর আবেগের ভিতরেই তারা খুঁজে নেয় নিজের পরিচিত শরৎকে।

মহালয়ার ভোরে এখনও চণ্ডীপাঠ বাজে। কাশফুল এখনও দোলে। শিউলি এখনও ঝরে। মণ্ডপে এখনও ধূপ জ্বলে, ঢাক বাজে, দেবীর ত্রিনয়ন জেগে ওঠে। শুধু সেই জাগরণের ছবি এখন একসঙ্গে অসংখ্য পর্দায় ছড়িয়ে পড়ে।

কেউ মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ মায়ের ছবি দেখছেন। কেউ সেই ছবি তুলছেন। কেউ ছবিতে লাইক দিচ্ছেন। কেউ আবার হাজার মাইল দূরে বসে সেই লাইভ সম্প্রচার দেখে মনে মনে ফিরে যাচ্ছেন নিজের পাড়ার শরতে।

দুর্গাপুজো তাই আর শুধু একটি জায়গায় ঘটে না। তার একটি মণ্ডপ থাকে মাটিতে, আর একটি মণ্ডপ তৈরি হয় মানুষের স্মৃতি ও স্ক্রিনের আলোয়। সেই নতুন মণ্ডপে ঢাকের শব্দ শোনা যায় না, ধূপের গন্ধ পাওয়া যায় না, মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সেই শিহরণও নেই। তবু সেখানে ছড়িয়ে থাকে এক অন্যরকম উপস্থিতি—একটি ছবির, একটি স্মৃতির, একটি দূরত্ব পেরিয়ে আসা অনুভূতির।

শরৎ তার পুরনো আকাশ নিয়েই ফিরে আসে। শুধু সেই আকাশের দিকে তাকানো চোখের পাশে এখন আর একটি চোখ জেগে থাকে—মোবাইলের ক্যামেরার চোখ। আর সেই চোখের এক ক্লিকেই মায়ের মুখ ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

মা চলে যান, স্ক্রিনে থেকে যায় তাঁর এক টুকরো শরৎ।

দীপক সাহা শিক্ষক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন