ফ্রান্সিস বেকনের জ্ঞানতত্ত্বের পর্যালোচনা

স্যার ফ্রান্সিস বেকন (১৫৬১ –১৬২৬) একাধারে একজন ইংরেজ দার্শনিক, আইনজ্ঞ, কূটনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার পথপ্রদর্শক। আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করলেও তিনি বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের প্রবক্তা এবং জ্ঞানান্ধতা ও গোঁড়ামি বিরোধী দার্শনিক হিসেবে সুখ্যাত।

ফ্রান্সিস বেকনের দর্শনকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা যায়। তাঁর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, অভিজ্ঞতাবাদ, জ্ঞানতত্ত্ব, রাজনীতি কিংবা আধুনিকতার ধারণা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিস্তৃত আলোচনা সম্ভব। তবে আধুনিক দর্শনের ইতিহাসে বেকনের সবচেয়ে স্থায়ী উত্তরাধিকার নিহিত রয়েছে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক চিন্তায়। আধুনিক বৈজ্ঞানিক মানসিকতা, অভিজ্ঞতানির্ভর অনুসন্ধান এবং পরীক্ষাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার যে ভিত্তি আজও বিদ্যমান, তার অন্যতম নির্মাতা হিসেবে বেকনের নাম উচ্চারিত হয়। একই সঙ্গে তাঁর দর্শনের এমন কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে, যা পরবর্তী দর্শন, মনোবিজ্ঞান এবং জ্ঞানবিজ্ঞানের আলোকে নতুনভাবে মূল্যায়িত হয়েছে। এই আলোচনার উদ্দেশ্য সেই সীমাবদ্ধতাগুলোকেই বিশ্লেষণ করা।

বেকনের দর্শন ইউরোপীয় বৌদ্ধিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড়ের সূচনা করেছিল। মধ্যযুগীয় কর্তৃত্বনির্ভর জ্ঞানব্যবস্থার পরিবর্তে তিনি অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষাকে জ্ঞানের প্রধান উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। তাঁর মতে, প্রকৃতিকে বুঝতে হলে মানুষের উচিত পূর্বধারণা, ধর্মীয় কর্তৃত্ব কিংবা প্রাচীন দার্শনিকদের অন্ধ অনুসরণ পরিহার করে সরাসরি প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়া। এই কারণেই তাঁকে আধুনিক অভিজ্ঞতাবাদের অন্যতম জনক এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রাথমিক তাত্ত্বিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বেকনের মতে, পৃথিবী সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য জ্ঞান অর্জনের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা এবং সেই তথ্যকে সুসংগঠিত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার সাহায্যে বিশ্লেষণ করা। এই প্রক্রিয়াকে তিনি আরোহী যুক্তি (Induction) নামে অভিহিত করেন। আরোহী যুক্তির মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে ধাপে ধাপে সাধারণ নীতিতে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। তাঁর দৃষ্টিতে বিজ্ঞান কেবল বিমূর্ত তত্ত্বচর্চা নয়; বরং এমন একটি সক্রিয় প্রয়াস, যার উদ্দেশ্য প্রকৃতির নিয়ম আবিষ্কার করে মানবজীবনকে আরও সমৃদ্ধ ও কল্যাণকর করে তোলা। তাঁর বহুল উদ্ধৃত উক্তি—”Knowledge itself is power”—এই বাস্তববাদী মনোভাবেরই সংক্ষিপ্ত প্রকাশ।

তবে বেকনের জ্ঞানতত্ত্বের সমালোচনাও কম নয়। বিশেষত বিংশ শতাব্দীর দর্শন, জ্ঞানবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং ব্যাখ্যাতত্ত্ব (Hermeneutics)-এর আলোকে তাঁর চিন্তার কয়েকটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর মধ্যে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মানুষের জ্ঞানার্জনের পথে তিনি যে Idols বা “মূর্তি”-এর ধারণা উপস্থাপন করেন, তা মানুষের মানসিক গঠনকে প্রধানত জ্ঞানের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করে। দ্বিতীয়ত, তিনি জ্ঞানকে মূলত “আবিষ্কার” (discovery) হিসেবে ব্যাখ্যা করেন; অথচ পরবর্তী বহু দার্শনিকের মতে জ্ঞান কেবল আবিষ্কৃত হয় না, বরং মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে নির্মিত (created) হয়। এই সমালোচনার কেন্দ্রীয় বক্তব্য হলো, বেকন জ্ঞান সৃষ্টিতে মানুষের বিষয়গত (subjective) ভূমিকার গুরুত্বকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি।

এই সমালোচনা বোঝার জন্য বেকনের Idols-এর ধারণাটি সংক্ষেপে আলোচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, মানুষের মন প্রকৃতিকে নিরপেক্ষভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। বিভিন্ন মানসিক প্রবণতা, ভাষাগত বিভ্রান্তি, সামাজিক অভ্যাস এবং বৌদ্ধিক ঐতিহ্য মানুষের বিচারক্ষমতাকে বিকৃত করে। ফলে বাস্তবতা সম্পর্কে মানুষ প্রায়ই বিভ্রান্ত ধারণা গড়ে তোলে। এই বিকৃতিগুলোকেই তিনি Idols নামে অভিহিত করেন। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোকে অনেকাংশে জ্ঞানগত পক্ষপাত (cognitive biases) হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।

বেকন এই Idols-কে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছিলেন—Idols of the Tribe, Idols of the Cave, Idols of the Marketplace এবং Idols of the Theatre। প্রতিটি মানুষের জ্ঞানার্জনের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবন্ধকতার প্রতীক।

এর মধ্যে Idols of the Tribe বা “গোষ্ঠীর মূর্তি” মানুষের স্বভাবজাত সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে। বেকনের মতে, মানুষ স্বভাবতই আবেগপ্রবণ, পক্ষপাতদুষ্ট এবং অসম্পূর্ণ বিচারক্ষমতার অধিকারী। ফলে মানুষ বাস্তবতাকে যেমন আছে, তেমনভাবে নয়; বরং নিজের মানসিক প্রবণতার আলোকে দেখতে অভ্যস্ত। তিনি লিখেছিলেন, মানুষের ইচ্ছা ও আবেগ তার বোধশক্তিকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, বাস্তবতার পরিবর্তে কল্পনাপ্রসূত জ্ঞান সৃষ্টি হয়। আবেগ মানুষের উপলব্ধিকে এমনভাবে রঙিন করে তোলে যে, সেই বিকৃতি অনেক সময় মানুষের নিজের কাছেও অদৃশ্য থেকে যায়।

সপ্তদশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যের বিশেষ তাৎপর্য ছিল। সে সময়ের লক্ষ্য ছিল জ্ঞানকে ধর্মীয় কর্তৃত্ব, কুসংস্কার এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রভাব থেকে মুক্ত করা। বেকনের Idols-তত্ত্ব সেই প্রকল্পেরই অংশ। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্মাণ করা, যা ব্যক্তিগত পক্ষপাতকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণ করে প্রকৃতিকে নিরপেক্ষভাবে জানার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

কিন্তু সমকালীন মনোবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং দর্শনের আলোকে এই ধারণার পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আজ ব্যাপকভাবে স্বীকৃত যে আবেগ মানুষের চিন্তার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং চিন্তার অবিচ্ছেদ্য উপাদান। সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নৈতিক বিচার, সৃজনশীলতা এমনকি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানেও আবেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্নায়ুবিজ্ঞানী আন্তোনিও দামাসিও তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, আবেগের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেলে মানুষের যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অর্থাৎ যুক্তি ও আবেগ পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক।

একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায় বিংশ শতাব্দীর জার্মান দার্শনিক মার্টিন হাইডেগারের দর্শনে। তাঁর মতে, মানুষ কখনোই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে পৃথিবীকে উপলব্ধি করে না। মানুষ সর্বদাই কোনো না কোনো মানসিক আবহ (mood বা Stimmung)-এর মধ্যে অবস্থান করে, এবং সেই আবহই বিশ্বের প্রতি তার উপলব্ধিকে রূপ দেয়। আনন্দ, উদ্বেগ, ভয়, প্রত্যাশা কিংবা বিষণ্নতা—এসব কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; এগুলো পৃথিবীকে দেখার ভিন্ন ভিন্ন উপায়ও সৃষ্টি করে। ফলে জ্ঞানার্জনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আবেগমুক্ত হতে পারে—এমন ধারণা আজ আর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয় না।

রোমান্টিক দার্শনিকরাও একই সমালোচনা উত্থাপন করেছিলেন। তাঁদের মতে, মানুষের কল্পনাশক্তি, অনুভূতি এবং সৃজনশীলতা কোনো দুর্বলতা নয়; বরং মানব অস্তিত্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। প্রকৃত জ্ঞান কেবল পর্যবেক্ষণ বা যুক্তির ফল নয়; বরং অনুভূতি, অভিজ্ঞতা এবং কল্পনার সৃজনশীল সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই তার জন্ম হয়। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ইতিহাসও এই সত্যের সাক্ষ্য বহন করে। নতুন তত্ত্ব, নতুন প্রশ্ন কিংবা নতুন পরীক্ষার সূচনা প্রায়ই কৌতূহল, বিস্ময়, নান্দনিক বোধ কিংবা গভীর ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে উৎসারিত হয়েছে। অতএব, আবেগকে সম্পূর্ণরূপে জ্ঞানের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা মানবচিন্তার জটিল প্রকৃতিকে অত্যধিক সরলীকৃত করে ফেলে।

একই সমালোচনা বেকনের Idols of the Cave বা “গুহার মূর্তি”-র ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এগুলো মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, রুচি, অভ্যাস, সামাজিক অবস্থান এবং মানসিক প্রবণতা থেকে উদ্ভূত পক্ষপাতকে নির্দেশ করে। প্রত্যেক মানুষ যেন নিজস্ব একটি “গুহা”-র মধ্যে অবস্থান করে, যেখান থেকে সে পৃথিবীকে দেখে এবং ব্যাখ্যা করে। ফলে একই বাস্তবতাকে ভিন্ন মানুষ ভিন্নভাবে উপলব্ধি করে।

বেকনের মতে, এই ব্যক্তিগত প্রবণতাগুলো নিরপেক্ষ জ্ঞান অর্জনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তিনি লিখেছিলেন, মানুষ বিশেষ বিশেষ জ্ঞান, মতবাদ কিংবা চিন্তার প্রতি এমনভাবে আকৃষ্ট হয় যে, পরবর্তীকালে নতুন তথ্যকেও সে সেই পূর্বপ্রিয় বিশ্বাসের আলোকে বিচার করতে শুরু করে। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানকে ব্যক্তিগত আসক্তি ও পক্ষপাত থেকে মুক্ত করা।

কিন্তু পরবর্তী দর্শন এই অবস্থানকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করেনি। আধুনিক জ্ঞানতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি হলো, মানুষের ব্যক্তিগত আগ্রহ, কৌতূহল কিংবা মূল্যবোধ কেবল জ্ঞানের অন্তরায় নয়; বহু ক্ষেত্রেই এগুলো জ্ঞান সৃষ্টির প্রধান চালিকাশক্তি। কোনো বিজ্ঞানী কেন একটি নির্দিষ্ট সমস্যা নিয়ে গবেষণা করবেন, কেন একটি প্রশ্নকে অন্যটির তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করবেন, কিংবা কেন কোনো শিল্পী বা দার্শনিক একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে চিন্তা করবেন—এসব সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জ্ঞানচর্চা কখনোই সম্পূর্ণ নিরাসক্ত বা মূল্যবোধ-শূন্য কার্যক্রম নয়।

এই পর্যায়ে বেকনের দর্শনের আরেকটি মৌলিক ধারণা আলোচনায় আসে—জ্ঞানকে “আবিষ্কার” (discovery) হিসেবে দেখার ধারণা। তাঁর লেখায় বারবার এমন একটি চিত্র ফুটে ওঠে, যেন সত্য মানুষের বাইরে স্বাধীনভাবে বিদ্যমান। প্রকৃতির মধ্যে সেই সত্য ইতিমধ্যেই নিহিত রয়েছে; মানুষের কাজ কেবল ধৈর্য, পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে উন্মোচন করা। অর্থাৎ জ্ঞান যেন অপেক্ষমাণ, মানুষ কেবল তার আবিষ্কারক।

এই ধারণার পেছনে তৎকালীন ইউরোপীয় ধর্মীয় ও দার্শনিক বিশ্বদৃষ্টির প্রভাব ছিল। প্রকৃতিকে ঈশ্বরের সৃষ্টি হিসেবে কল্পনা করা হতো, এবং বিশ্বাস করা হতো যে ঈশ্বর সেই প্রকৃতির মধ্যেই তাঁর নিয়ম ও সত্য লুকিয়ে রেখেছেন। বিজ্ঞানীর কাজ হলো সেই ঐশ্বরিক নিয়মগুলোর পর্দা উন্মোচন করা। এই কারণেই বেকনের জ্ঞানতত্ত্বে “আবিষ্কার” ধারণাটি এত গুরুত্বপূর্ণ।

এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি প্রতীকী প্রকাশ দেখা যায় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Novum Organum (The New Instrument)-এর শিরোনামেও। একই সময়ে প্রকাশিত বহু বৈজ্ঞানিক গ্রন্থের নামেও “নতুন” শব্দটির পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়—যেমন গ্যালিলিওর Two New Sciences অথবা ইয়োহানেস কেপলারের A New Astronomy। এই “নতুন” শব্দটি কেবল নতুন তথ্যের ইঙ্গিত নয়; বরং এমন এক যুগের প্রতীক, যেখানে বিশ্বাস করা হচ্ছিল যে প্রকৃতির অজানা সত্যগুলো একে একে মানুষের সামনে উন্মোচিত হবে।

কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক দার্শনিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। “নতুন” বলতে প্রকৃতপক্ষে কী বোঝায়? নতুন জ্ঞান কি পূর্ব থেকেই কোথাও অস্তিত্বশীল ছিল, মানুষ কেবল সেটিকে আবিষ্কার করল? নাকি নতুন জ্ঞান মানুষের চিন্তা, কল্পনা এবং সৃজনশীল ক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বাস্তবে অস্তিত্ব লাভ করে?

এই প্রশ্নের উত্তর আধুনিক দর্শনে ক্রমশ পরিবর্তিত হতে থাকে। বিশেষত অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর রোমান্টিক চিন্তাবিদেরা যুক্তি দেন যে মানুষ কেবল প্রকৃতির নিষ্ক্রিয় পর্যবেক্ষক নয়; সে প্রকৃতির সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। মানুষের কল্পনা, ব্যাখ্যা, ভাষা এবং সৃজনশীলতা ছাড়া জ্ঞান কখনো পূর্ণতা লাভ করতে পারে না।

বেকন নিজেও এক স্থানে লিখেছিলেন, তাঁর প্রস্তাবিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মানুষের ব্যক্তিগত প্রতিভার গুরুত্বকে অনেকাংশে কমিয়ে দেয়; কারণ এটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রদর্শনযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করে। এই বক্তব্যে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানকে ব্যক্তিগত অনুমান ও স্বেচ্ছাচারিতা থেকে রক্ষা করা। কিন্তু একই সঙ্গে এটি এমন একটি ধারণাকেও শক্তিশালী করে, যেখানে মানুষের সৃজনশীল ভূমিকা তুলনামূলকভাবে গৌণ হয়ে পড়ে।

পরবর্তী জ্ঞানতত্ত্ব এই ধারণাকে সংশোধন করে। মানুষকে আর কেবল জ্ঞানের আবিষ্কারক হিসেবে দেখা হয় না; বরং তাকে জ্ঞানের নির্মাতা বা সহ-নির্মাতা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। কারণ জ্ঞান কেবল তথ্যের সঞ্চয় নয়; তথ্যের নির্বাচন, বিন্যাস, ব্যাখ্যা এবং অর্থ নির্মাণও জ্ঞানের অপরিহার্য অংশ। এই প্রতিটি স্তরেই মানুষের সক্রিয় মানসিক অংশগ্রহণ বিদ্যমান।

রোমান্টিক দর্শনের অন্যতম অবদান এখানেই। তাদের মতে, উপলব্ধি (perception), ব্যাখ্যা (interpretation) এবং কল্পনা (imagination)—এই তিনটির সৃজনশীল সমন্বয় থেকেই জ্ঞানের জন্ম হয়। মানুষ কেবল বাইরের পৃথিবীকে গ্রহণ করে না; সে পৃথিবীকে অর্থও প্রদান করে। ফলে জ্ঞান প্রকৃতি ও মানবমনের পারস্পরিক ক্রিয়ার ফল।

এই বিষয়টি পরবর্তীকালে ইতিহাসবিদ লুইস মামফোর্ড বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁর মতে, আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্বদৃষ্টি অনেকাংশে “অপূর্ণমাত্রিক” (under-dimensioned)। কারণ পর্যবেক্ষণযোগ্য তথ্যের প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে এটি মানুষের কল্পনা, নৈতিকতা, নান্দনিকতা, সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ মাত্রাগুলোকে অবমূল্যায়ন করেছে। বেকনের প্রকল্পে পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার কেন্দ্রীয় স্থান পেলেও মানবসৃষ্ট অর্থ নির্মাণের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে আড়ালে থেকে যায়।

একই সমালোচনা জ্ঞানতত্ত্ববিদ জ্যাঁ পিয়াজের চিন্তায় আরও সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে। পিয়াজের মতে, মানবজ্ঞান মূলত সক্রিয়। জানা মানে কেবল বাইরের তথ্য গ্রহণ করা নয়; বরং বাস্তবতার সঙ্গে ক্রমাগত মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে মানসিক কাঠামো নির্মাণ করা। মানুষ প্রতিটি নতুন অভিজ্ঞতাকে তার বিদ্যমান মানসিক গঠনের সঙ্গে সমন্বিত করে এবং প্রয়োজনে সেই গঠনকে পরিবর্তিতও করে। অর্থাৎ জ্ঞান কোনো প্রস্তুত বস্তু নয়, যা বাইরের পৃথিবী থেকে অপরিবর্তিত অবস্থায় মানুষের মস্তিষ্কে স্থানান্তরিত হয়; বরং জ্ঞান মানুষ ও বিশ্বের অব্যাহত পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেই নির্মিত হয়।

এই উপলব্ধি থেকে জ্ঞানকে আর একমুখী প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যায় না। প্রকৃতি মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, আবার মানুষও তার ধারণা, ভাষা, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রকৃতিকে নতুন অর্থ প্রদান করে। ফলে জ্ঞান একটি চলমান, সৃজনশীল এবং পারস্পরিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়, যেখানে পর্যবেক্ষণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ব্যাখ্যা, কল্পনা এবং সৃজনশীলতাও সমান অপরিহার্য।

তবে বেকনের দর্শনকে একমাত্রিকভাবে মূল্যায়ন করলে তার প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায় না। কারণ তাঁর চিন্তায় এমন কিছু উপাদানও রয়েছে, যা পরবর্তী যুগের আরও গতিশীল জ্ঞানতত্ত্বের দিকে ইঙ্গিত করে। বিশেষত তিনি যখন বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করেন, তখন বারবার “উপযোগিতা” (utility) এবং “মানবকল্যাণ”-এর কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বিজ্ঞানের প্রকৃত মূল্য কেবল সত্য উদ্ঘাটনে নয়; বরং সেই সত্যকে মানুষের জীবন উন্নত করার কাজে প্রয়োগ করার মধ্যেই নিহিত। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিজ্ঞান নিছক তাত্ত্বিক অনুশীলন নয়; এটি মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও একটি কার্যকর মাধ্যম।

তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উদ্ভব ঘটে। কোনো জ্ঞানকে “উপযোগী” বলা হবে—কার জন্য, কোন সমাজের জন্য, কিংবা কোন মূল্যবোধের ভিত্তিতে? উপযোগিতা কখনোই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ধারণা নয়। যে প্রযুক্তি একটি সমাজের জন্য কল্যাণকর বলে বিবেচিত হয়, অন্য একটি সমাজে তা ক্ষতিকরও মনে হতে পারে। একই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার একদিকে যেমন চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির পথ খুলে দিতে পারে, অন্যদিকে তা যুদ্ধ, নজরদারি বা পরিবেশ ধ্বংসের হাতিয়ারেও পরিণত হতে পারে। ফলে জ্ঞানের ব্যবহার অবধারিতভাবেই নৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত।

বেকন নিজেও লিখেছিলেন, বিজ্ঞানকে এমন পরীক্ষার দিকে অগ্রসর হতে হবে, যা কেবল তাৎক্ষণিক লাভ এনে দেয় না, বরং প্রকৃতিকে গভীরভাবে আলোকিত করে। আবার তিনি বিজ্ঞানের বৈধ লক্ষ্য হিসেবে মানবজীবনকে নতুন আবিষ্কার ও নতুন সম্পদে সমৃদ্ধ করার কথাও বলেছেন। এই বক্তব্যগুলোতে বিজ্ঞানের প্রয়োগমূলক চরিত্র যেমন স্পষ্ট, তেমনি মানবিক উদ্দেশ্যের প্রতিও তাঁর অঙ্গীকার প্রকাশ পায়। তবে সেই উদ্দেশ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় মানুষের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক অবস্থানের যে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেননি।

এই প্রেক্ষাপটে বেকনের জ্ঞানতত্ত্বে একটি মৌলিক পার্থক্য চিহ্নিত করা যায়—স্থির (static) এবং গতিশীল (dynamic) জ্ঞানের মধ্যে। প্রকৃতির কিছু নিয়ম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও সর্বজনীন। মাধ্যাকর্ষণ, রাসায়নিক বিক্রিয়া কিংবা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গতির মতো বহু প্রাকৃতিক নিয়ম মানুষের ইচ্ছা বা সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয় না। কিন্তু এসব নিয়ম সম্পর্কে মানুষের যে জ্ঞান, তার ভাষা, ব্যাখ্যা এবং তাত্ত্বিক কাঠামো ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃতির নিয়ম স্থির হলেও সেই নিয়মকে বোঝার মানবিক প্রক্রিয়া পরিবর্তনশীল।

আরও স্পষ্টভাবে এই পরিবর্তনশীলতা লক্ষ করা যায় মানববিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানে। মানুষ নিজেই যখন গবেষণার বিষয়, তখন গবেষক এবং গবেষণার বিষয়ের মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সমাজ পরিবর্তিত হলে মানুষের আচরণও পরিবর্তিত হয়; নতুন প্রযুক্তি, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা কিংবা নতুন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা মানুষের চিন্তা ও জীবনযাপনকে রূপান্তরিত করে। ফলে মানুষের সম্পর্কে যে জ্ঞান এক সময়ে যথার্থ ছিল, অন্য সময়ে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। এই কারণেই মানবজ্ঞানকে একটি জীবন্ত ও বিকাশমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।

মনোবিজ্ঞানে বহুল আলোচিত “রেপ্লিকেশন সংকট” (Replication Crisis) এই সত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দেখা গেছে, পূর্বে প্রকাশিত বহু বিখ্যাত মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণা পরবর্তীকালে একই পদ্ধতিতে পুনরায় পরিচালনা করলে একই ফলাফল পাওয়া যায়নি। এর পেছনে গবেষণাপদ্ধতির সীমাবদ্ধতা যেমন দায়ী, তেমনি মানুষের আচরণ, সামাজিক বাস্তবতা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানবসম্পর্কিত জ্ঞান প্রকৃতিবিজ্ঞানের অনেক নিয়মের মতো চিরস্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় নয়; বরং তা ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানবজীবনের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন রূপ ধারণ করে।

সবশেষে বেকনের Idols of the Marketplace বা “বাজারের মূর্তি”-র প্রসঙ্গে ফিরে আসা যেতে পারে। ভাষা সম্পর্কে বেকনের গভীর সতর্কতা ছিল। তাঁর মতে, ভাষা প্রায়ই এমন শব্দ ও ধারণা তৈরি করে, যেগুলোর বাস্তব ভিত্তি নেই; ফলে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। ভাষাগত অস্পষ্টতা এবং ভুল নামকরণ জ্ঞানার্জনের পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

এই পর্যবেক্ষণ আজও যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক। রাজনৈতিক প্রচার, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা দৈনন্দিন জনপরিসরে ভাষার অপব্যবহার মানুষের উপলব্ধিকে সহজেই প্রভাবিত করতে পারে। অস্পষ্ট পরিভাষা, আবেগনির্ভর স্লোগান কিংবা বিভ্রান্তিকর ভাষা সত্যকে আড়াল করার কার্যকর উপায়ে পরিণত হতে পারে। এই অর্থে বেকনের সতর্কতা এখনও মূল্যবান।

তবে একই সঙ্গে ভাষার আরেকটি দিকও রয়েছে, যা বেকনের আলোচনায় তুলনামূলকভাবে অনুপস্থিত। ভাষা কেবল বিদ্যমান বাস্তবতার বর্ণনা করে না; ভাষা নতুন বাস্তবতারও জন্ম দেয়। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, রাজনৈতিক ধারণা, আইনি কাঠামো, মানবাধিকার, গণতন্ত্র কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অসংখ্য ধারণা একসময় কেবল ভাষা, কল্পনা এবং চিন্তার মধ্যেই বিদ্যমান ছিল। পরবর্তীকালে সেই ধারণাগুলোই সামাজিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতাকে রূপান্তরিত করেছে। অর্থাৎ মানুষ প্রথমে ধারণা নির্মাণ করে, ভাষায় তাকে প্রকাশ করে, তারপর সেই ধারণাই বাস্তব জগতে কার্যকর রূপ লাভ করে।

এই অর্থে ভাষা কেবল বাস্তবতার প্রতিফলন নয়; বাস্তবতা নির্মাণেরও একটি মৌলিক মাধ্যম। সৃজনশীল কল্পনা, নতুন ধারণা এবং নতুন শব্দ ছাড়া বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনও সম্ভব নয়। প্রতিটি বৈপ্লবিক তত্ত্বের জন্ম এমন একটি কল্পনা থেকে, যা প্রথমে বাস্তবে উপস্থিত ছিল না। তাই জ্ঞানচর্চার ইতিহাস একই সঙ্গে পর্যবেক্ষণের ইতিহাস এবং কল্পনার ইতিহাস।

সমগ্র আলোচনার আলোকে বলা যায়, ফ্রান্সিস বেকনের অবদান আধুনিক বৈজ্ঞানিক সভ্যতার বিকাশে অনস্বীকার্য। পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, অভিজ্ঞতা এবং আরোহী যুক্তির ওপর তাঁর যে জোর, তা আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি নির্মাণে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে তাঁর Idols-তত্ত্ব মানুষের মানসিক পক্ষপাত সম্পর্কে এক অগ্রগামী বিশ্লেষণ, যার প্রতিধ্বনি আজকের জ্ঞানবিজ্ঞান ও কগনিটিভ মনোবিজ্ঞানেও শোনা যায়।

তবে সমকালীন দর্শনের আলোকে বেকনের জ্ঞানতত্ত্বকে আরও বিস্তৃত পরিসরে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। জ্ঞানকে কেবল বাইরের জগতের সত্য আবিষ্কারের প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং মানুষ ও বিশ্বের পারস্পরিক ক্রিয়া, ব্যাখ্যা, মূল্যবোধ, কল্পনা এবং সৃজনশীলতার সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্মাণশীল প্রক্রিয়া হিসেবেও বোঝা জরুরি। মানুষ প্রকৃতির বাইরে অবস্থান করে না; সে প্রকৃতিরই একটি অংশ। ফলে মানুষ যখন প্রকৃতিকে জানে, তখন প্রকৃতিও এক অর্থে নিজের সম্পর্কে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে জ্ঞান কোনো সমাপ্ত বস্তু নয়, বরং একটি অব্যাহত মানবিক অভিযান। সত্য কেবল আবিষ্কৃত হয় না; মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তা ক্রমাগত নতুনভাবে ব্যাখ্যাত, পুনর্গঠিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই নির্মিত হয়। সেই অর্থে ভবিষ্যৎও কেবল অপেক্ষমাণ কোনো বাস্তবতা নয়; মানবচিন্তা, কল্পনা এবং কর্মের মধ্য দিয়েই তার রূপ ক্রমাগত গঠিত হয়।

গ্রন্থপঞ্জি 

১.Abrams, M. H. The Mirror and the Lamp: Romantic Theory and the Critical Tradition. Oxford University Press, 1953.

২.Bacon, Francis. Novum Organum. Edited by Lisa Jardine and Michael Silverthorne, Cambridge University Press, 2000.

৩.Berlin, Isaiah. The Roots of Romanticism. Princeton University Press, 1999.

৪.Damasio, Antonio R. Descartes’ Error: Emotion, Reason, and the Human Brain. Putnam, 1994.

৫.Galilei, Galileo. Two New Sciences. Translated by Stillman Drake, 2nd ed., University of Wisconsin Press, 1974.

৬.Heidegger, Martin. Being and Time. Translated by Joan Stambaugh, revised by Dennis J. Schmidt, State University of New York Press, 2010.

৭.Kepler, Johannes. New Astronomy (Astronomia Nova). Translated by William H. Donahue, Cambridge University Press, 1992.

৮.Mumford, Lewis. Technics and Civilization. University of Chicago Press, 2010.

৯.Piaget, Jean. The Origins of Intelligence in Children. Translated by Margaret Cook, International Universities Press, 1952.

১০.Taylor, Charles. Sources of the Self: The Making of the Modern Identity. Harvard University Press, 1989.

১১.Westfall, Richard S. The Construction of Modern Science: Mechanisms and Mechanics. Cambridge University Press, 1977.

মাসুদুল হক: কবি, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক

আরও পড়ুন