‘ছোটদের আরব্য রজনীর সেরা গল্প’ কী শিখলাম?

‘আলিফ লাইলা ওয়া লাইলা’ কথাটি বর্তমান একাবিংশ শতাব্দীর শিশু কিশোররা না শুনেছে এমন শিশু কিশোর খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আচ্ছা প্রথমে যেটা দিয়ে শুরু করলাম সে বিষয়টির অর্থ বলা যাক। ‘আলিফ লাইলা ওয়া লাইলা’ কথাটির বাংলা অর্থ ‘এক হাজার এক রাত্রি’। আর এই এক হাজার এক রাত্রির গল্প নিয়ে এখন অবধি পৃথিবীতে নানান ভাষায় বিভিন্ন গল্প লিখিত হয়েছে। লেখকেরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে নিজ নিজ ভাষায় গল্প গুলো সুন্দর আর সাবলীল ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। আমি আমার এই লেখাই ঠিক তেমনি বাংলা সাহিত্যের দুইজন লেখকের লেখনিতে উঠে আসা আরব্য রজনীর গল্প সংক্ষেপে তুলে ধরলাম। তাঁরা হলেন আমীরুল ইসলাম ও আহমাদ মাযহার। আর তাঁদের পুনর্কথিত বই ছোটদের আরব্য রজনীর সেরা গল্প। বইয়ের মোট ৭টি গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি গল্পের মাঝে যে পরিমাণে শিক্ষনীয় বিষয়ে সমাবেশ করে আছে তা গল্প না পড়লে বোঝানো বেশ কষ্টকর হবে। তারপরেও আমি চেষ্টা করছি যদি কোনোভাবে একটু বোঝাতে পারি। মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে আমি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রকাশনীর কাজে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এমন চমৎকার একটি বই প্রকাশ করে পাঠকের পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য । যে চিন্তা থেকে বইটি প্রকাশিত হয়েছিল সেটির সুফল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পেয়েছে বা পাচ্ছে বলে আমার ধারণা।

বইটির প্রথম গল্প গল্প শুরুর গল্প নামে একটি গল্প দিয়ে । সেখানে দেখা যায় একজন বাদশাহ খুব ভালো ভাবে তার রাজ্য পরিচালনা করছে। একটা সময় দেখা যায় রাজার প্রিয় ব্যক্তি তার স্ত্রী তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আর সেজন্য রাজা আর প্রজাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে না। সে তখন প্রতিদিন নতুন একটি মেয়ে বিয়ে করে এবং পরদিন তাদের হত্যা করে। এভাবে রাজ্যে সব সুন্দরী মেয়ের মৃত্যু হয়। উজরি চিন্তা করে আজ বাদশাহের সামনে সে কীভাবে যাবে। কোন মেয়ে তো সে আজ সংগ্রহ করতে পারেনি। সেময় তার দুই মেয়ে তাকে বলে বাবা তোমার কী হয়েছে। বাবা সব কথা খুলে বললে বড় মেয়ে শাহরাজাদা তাকে বলে বাবা তুমিই তো বলেছিলে শোকে-দুঃখে ভেঙে পড়া উচিৎ নয়। তারপর শাহরাজাদা বাদশাহের সঙ্গে বিয়ের জন্য যায় এবং তার ছোট বোনকে কিছু বিষেয় শিখিয়ে যায়। বিয়ের পর দুনিয়াজাদা সে আলোকে শাহরাজাদার কাছে যায় এবং রাজার অনুমতি নিয়ে গল্প শুনতে চাই। একটা সময় দেখা যায় গল্প শেষ হয় না , কিন্তু রাজা ঘুমিয়ে পড়ে পরের দিন বাকি অংশ শুনবে এমন কথা বলে। এভাবে শাহরাজাদা এক হাজার এক রাত্রি বাদশাহকে গল্প শুনিয়ে রাজ্যের কন্যাদের রক্ষা করে। এবং বিপদে বা দুঃখে কোন সময় ভেঙে না পড়ে দৃঢ় মনোবল নিয়ে সম্মুখে অগ্রসর হলে ভালো ফল পাওয়া যায় । এটি শিশু কিশোরদের মানবিক, দৃঢ়চেতা, বুদ্ধিমান হতে শেখাবে।

দ্বিতীয় গল্পে দেখবো এক ‘জেলে ও দৈত্য’ এর ঘটনা । যেখানে জেলে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলছে কিন্তু কোন মাছ পাচ্ছে না। পঞ্চমবার যখন জাল ফেলে মাছের আশায় তখন একটি পিতলের কলস উঠে আসে। এই দেখে জেলে খুবই খুশি হয়। অনেক দামি কিছু পাবার আশায় যখন সে কলসের মুখ খোলে দেখা যায় ধোঁয়ার একটি কুণ্ডলী তার ভেতর থেকে বেরিয়ে তার সম্মুখে বড় দৈত্যের রূপ ধারণ করেছে। সেই দৈত্য জেলেকে খেয়ে ফেলবে এমন কথা বলছে। জেলে প্রথমে তার কথাই ভয় পেলেও তাকে কৌশলে আবার বন্দী করে এবং পরে সে জানতে পারে কলসে বন্দী থাকা সেই দৈত্যের আসল ঘটনা। জেলেকে দৈত্য অনেক অনুনয় বিনয় করে কিন্তু প্রথমে তার মন গলে না। অনেক সময় পরে তার মন নরম হয় এবং জেলে দৈত্যকে ছেড়ে দেয়। এবার দৈত্য জেলেকে একটি সুন্দর জলাধারার কথা বলে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বলে এখানে এসে সে যদি নিয়মিত জাল ফেলে তাহলে তার মাছের কোন অভাব থাকবে না। এমন করেই জেলের সংসারে সুখ ফিরে আসে। গল্পের মাঝে বিপদে পড়ে ভীত না হয়ে কিভাবে নিজেকে বা ঐ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তার একটি ইঙ্গিত দেখা যায়। বর্তমানে আমাদের শিশু-কিশোরদের দেখা যায় তারা কোন কাজ করার সময় ভাবতো না এমনকি তাদের অভিভাবকও যদি কোন বিষয় বলে তাহলেও তারা সেগুলো শুনতে চায়না। যার ফলে তারা অনেক সিন্ধান্ত ভুল করে ফেলে। তাই শিশু কিশোরদের মনে এই সকল গল্প গুলো তাদের বুদ্ধিমান এবং সংযমী হতে শেখাবে এটা আমার বিশ্বাস।

তৃতীয় ‘আলাদিনের‌ আশ্চর্য প্রদীপ গল্পে দেখা যায় , চীনদেশের এক গরিব দরজির পরিবারের কথা। পরিবারে দরজি তার স্ত্রী আর ১৫ বছর বয়সী একটি ছেলে যার নাম আলাদিন। তার বাবার মৃত্যুর পর তার মা সংসারের ভার নিলেও একদিন ঘটে এক আজব ঘটনা। তাদের বাড়িতে আসে তার বাবার ভাই পরিচয়ে এক দরবেশ। সে আলাদীনকে শহরে তার দোকানে নিয়ে কাজ দেবার কথা বলে। কিন্তু ঘটে অন্য ঘটনা। দরবেশ তাকে নিয়ে বনে যায় এবং একটি কুয়ো দেখিয়ে তাকে সেখানে নামিয়ে দেই একটি প্রদীপ তুলে আনার জন্য। কিন্তু ধূর্ত জাদুকর আলাদিনের কাছে সে উঠে আসার আগেই সেটি চাই এবং হাতে পাওয়া মাত্রই আলাদিনকে গুহায় ফেলে দিয়ে গুহার মুখ আটকে দেই। কিন্তু তাতে আলাদিনের কোন সমস্যা হয় না। একটা সময় তার হাতে থাকা আংটিটা প্রদীপের ছোঁয়া পাওয়া মাত্র এক দৈত্য এসে হাজির হয়। আলাদিন প্রথমে ভয় পেলেও সে পরে দৈত্যের মা্ধ্যমে আবার ফিরে আসতে পারে এবং একটা সময় তাদের অনেক সম্পদ হয়। একদিন সে রাজার মেয়েকে বিয়ে করবে বলে সংকল্প করে কিন্তু বাঁধা হয় উজির। তবু কোন কিছুই তাকে আটকাতে পারে না । সে ঐ দৈত্যের মাধ্যমে সব কিছু জয় করে নেই এবং সুখে শান্তি বাস করতে থাকে। এখানে আলাদিনের এই ঘটনা থেকে শেখা যায় কীভাবে বিপদ থেকে উদ্ধার হওয়া যায় অথবা কীভাবে কোনো উপায়ে ভালোভাবে সম্মুখে বিপদ দেখেও শান্ত থেকে কাজ করা যায়। ধৈর্য ধরে বুদ্ধি খুঁজলে নিরাশ হওয়া লাগে না। আমাদের বর্তমান তরুণেরা কোন কাজে ধৈর্য ধরতে চাই না। তারা যত দ্রুত পারে কাজ শেষ করতে চাই। তাতে করে যা হবার তাই হয়। কাজ বেশি ভুল হয়। আর যত বেশি ভুল হয় তত তার মাথা গরম হতে থাকে আর সব দোষ হয় পরিবারের উপর নয় তো শিক্ষকের উপর। শিক্ষার্থী যত ধৈর্য ধরে চলতে পারবে তার ভবিষ্যৎ তত ভালো হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধারণ করার  কৌশল শেখার জন্য এমন গল্প পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

চতুর্থ গল্পে আমরা দেখতে পাই, ‘চম্বুক পাহাড়ের গল্পে’। এই গল্পের মূল চরিত্র বাদশাহ কাসিবের পুত্র কালান্দার। এই গল্পে কালান্দরের হাতে অন্য এক সাহাজাদার মৃত্যু হবে সেই ভবিষ্যৎ বাণী করেন এক গনক। আমরা বাদশাহ কালান্দরকে দেখতে পাই সে সমাজের মানুষের কথা ভাবে, আর একবার বাণিজ্য তরি নিয়ে যাওয়ার সময় তার জাহাজ যে সময় ভেঙে চুরমার তখন সে নিজে কোন মতে  প্রাণে বেঁচে যায়। এরপর নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে পিতলের মুর্তির জন্য এই অবস্থা শুধু তাদের না এর আগে আরও অনেকের হয়েছে তার থেকে রক্ষা করতে সে নিজেই চম্বুক পাহাড়ের উপর থেকে পিতলের মুর্তি পানিতে ফেলে দেই। কিন্তু শেষে আমরা দেখতে পাই নিয়তির বিধান কেউ যে খণ্ডাতে পারে না সেদৃশ্য। গনকের কথা মতো অন্য এক রাজ্যের বাদশাহের পুত্রকে বাদশাহ নির্জন দ্বীপে লুকিয়ে রাখে বাদশাহ কালান্দরের থেকে নিজ সন্তানকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু দৈব বসে সেখানে আগে থেকেই বাদশাহ কালান্দর অব্স্থান করছিল তার সহায় সম্বল সব হারিয়ে। পরে সে যখন দেখতে পেল এক শাহাজাদাকে একটি গুহায় বন্দী মতো করে রেখে গেল তখন সে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য সেখানে গেল, এবং শাহাজাদার থেকে সব বিষয় জানল। কালান্দর জানতে পারে সে এখানে চল্লিশ দিন থাকবে। এরমধ্যে যদি তার মৃত্যু না হয় তাহলে তার বাবা তাকে আবার চল্লিশ দিন পর এসে নিয়ে যাবে। আর এই চল্লিশ দিন মূলত কালান্দরের থেকে সে লুকিয়ে থাকবে। এই কথা কালান্দর শোনার পর সে তাকে বলল, আমি তোমাকে কেন মারব। তারপর তাদের দুইজনের বেশ ভাব হয়ে গেল নির্জন দ্বীপে। কিন্তু চল্লিশতম দিনে যেয়ে যা হবার তাই হল। শাহাজাদার যে দিন চলে যাবে নির্জন গুহা থেকে, সেদিন কালান্দর তার জন্য ভালো ভালো সব খাবারের আয়োজন করল। কিন্তু শাহাজাদা তরমুজ খেতে চাইল। কালান্দর সঙ্গে সঙ্গে তরমুজও নিয়ে আসল। তারপর সেই তরমুজ কাটার চাকু ঢুকে যায় শাহাজাদার বুকে এবং গনকের কথা সত্যি হয়ে যায়। যার মধ্যে দিয়ে নিয়তির কথা স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে।

পঞ্চম ‘জাদুর ফুলদানি গল্পে আমরা দেখবো দামেস্কো শহরে এক তাঁতি। তার দুইজন স্ত্রী। বড় স্ত্রীর দুই মেয়ে এবং ছোট স্ত্রীর এক মেয়ে। শুরু থেকেই বড় দুই বোন ছোট বোনকে হিংসার চোখে দেখত।  কিন্তু ছোট বোন ছিল খুব ভালো। সে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা করত, তাদের কথা মান্য করে চলত। একদিন দেখা গেল ছোটবোন বাজার থেকে একটি জাদুর ফুলদানি কিনে এনছে। সেটা অন্য কেউ জানে না। সেই জাদুর ফুলদানির কাছে যা চাওয়া হয় তাই সে এনে দেই। ছোট বোনের মনে যা চাই সেটা সে জাদুর ফুলদানির মাধ্যমে পূরণ করে। কিন্তু সে কথাগুলো সে কাউকে বলতে পারে না। একদিন ছোটবোনের সঙ্গে এক শাহাজাদার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ছোট বোন ভাবে তার বড় দুই বোনের তো খুব কষ্ট এখন তাহলে তাদের ঐ ফুলদানিটি দিয়েদি। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সে ভালো কাজের জন্য সব দিয়েছে। কিন্তু যাদের মনে সব সময় কুচিন্তায় ডুবে থাকে তারা কি কোনো দিন ভালো কিছু করতে পারে? বড় দুই বোন সুযোগ পেয়ে এবার সেই ছোট বোনকেই জাদুর ফুলদানির সাহায্যে চড়ুই পাখি বানিয়ে দেই। পরে শাহাজাদা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাই। সব কিছু ছোট বোন জানত কিন্তু সে তার বোনদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেনি শাহাজাদা যখন জানতে চাই তখন। একটা বিষয় স্পষ্ট তা হল যার মন সুন্দর বা যার মন মহৎ সে এমনটিই করবে। আর যার মন কুৎসিত সে কোনো না কোনো ভাবে শাস্তি পেয়ে যাবে। এই জাদুর ফুলদানি গল্প থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।

ষষ্ঠ ‘সিন্দাবাদের সাত অভিযান’ নামক গল্পে একজন পরিশ্রমী মানুষের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আমরা পরিশ্রম ছাড়া অনেকে বড় হতে চাই, কিন্তু সেই বড় হওয়া কতটা স্বার্থক? সিন্দাবাদের সাত অভিযান গল্পে দেখা যায় সিন্দাবাদ তার নামের আর এক কুলি সিন্দাবাদের সঙ্গে তার এই অভিযানের কথা বর্ণনা করছে। সিন্দাবাদের প্রথম অভিযানে তিমি মাছর একটি ঘটনা দেখা যায়। দ্বিতীয় অভিযানে রক পাখি আর হিরা সংগ্রহের কাহিনি দেখা যায়। তৃতীয় অভিযানে বাঁদর দ্বীপে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা ও একই সাথে দ্বিতীয় অভিযানে হারিয়ে যাওয়া তার মালপত্র ফিরে পাই। চতুর্থ অভিযানে সব কিছু হারিয়ে নির্জন দ্বীপে উঠে অতপর তার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন পর তার স্ত্রীর মৃত্যু হলে স্ত্রীর লাশের সঙ্গে তারও কবরে যেতে হয়। এবং কিভাবে সেখান থেকে তিনি বেঁচে ফিরলেন তার একটি বর্ণনা তিনি দিয়েছেন। পঞ্চম অভিযানে যাত্রা বিরতি করে তার সঙ্গীরা কীভাবে রক পাখির আক্রমণের শিকার হল সে বিষয়ে তিনি বর্ণনা করছেন। সেখানে থেকে কোন রকমে বেঁচে বাণিজ্য করার জন্য বাঁদর দ্বীপে বাদরের সাহায্যে নারকেল পাড়ার দৃশ্য, তার ঘাড়ে চড়ে বেড়ানো এক বৃদ্ধের কাহিনি তিনি সুন্দর এবং সাবলীল ভাবে তুলে ধরেছেন। ষষ্ঠ অভিযানে দেখা যাবে বাগদাদের বাদশাহ খলিফা হারুনা রশিদের সঙ্গে তার সখ্যতার একটি বিষয়। এবং শেষ সপ্তম অভিযানের সময় খলিফা হারুনা রশিদের মালামাল তার আর এক বন্ধুকে পাঠাতে সে যখন সমুদ্র যাত্রা করে তার পর তাদের যে ভয়াভব পরিস্থির মুখোমুখি হতে হয় তার বিবরণ এবং তার বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে তার বিয়ে আর এই ধনী হয়ে উঠার কথা দেখা যায়। তার সাত অভিযানের প্রতিটাতেই তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, সাহস আর পরিশ্রম করার মানসিকতার ছবি দেখা যায়। পরিশ্রম ছাড়া কোনোদিন সফলতা আসতে পারে না। তাই আামাদের পরিশ্রমী হওয়া উচিত। পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাজে বিত্তবান হওয়া দরকার অবৈধ কোনো ভাবে নয়। তাহলে আমরাও সিন্দাবাদের মত শান্তিতে দিন কাটাতে পারব।

সপ্তম ‘আলিবাবনামক গল্পে দেখা যায় লোভের তাড়নায় মানুষের কীভাবে মৃত্যু হয় তার দৃশ্য। গল্পের শুরুতে দেখা যায় বৃদ্ধ এক চাষির দুই ছেলে কাসিম আর আলিবাবা। বাবার মৃত্যুর পর জমিজমা সমান ভাবে ভাগ করে নিলেও তাদের সংসার ভালোভাবে চলছিল না। একদিন আলিবাবা বনে কাঠ কাটতে গেলে গুপ্তধনের সন্ধান পাই। যদিও সেগুলো কোন গুপ্তধন ছিল না সেগুলো ছিল চল্লিশজন দস্যুর অন্যায়ভাবে উপার্জন করা সম্পদ। আলিবাবা তিনটি গাধার পিঠে করে যা পেরেছে সেখান থেকে সম্পদ নিয়ে এসেছে। কিন্তু সে কথা গোপন থাকে নি বেশি সময়। সে কথা তার বড়  ভাই হিংসুটে কুটিল বু্দ্ধির অধিকারী কাসিম জানতে পারে। একদিন কাসিমও সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয় সেই সম্পদ আনার জন্য, কিন্তু সমস্যা হয় যে গুপ্ত গুহায় সম্পদ লোকানো ছিল সেখান থেকে বের হওয়ার নিয়ম সে ভুলে যায়। একটা সময় দস্যূরা চলে আসলে তারা কাসিমকে কেঁটে ছয় টুকরো করে দেই। আর বাইরে থাকা গাধাগুলোকে হত্যা করে। পরে আলিবাবা জানতে পারলে এ নিয়ে তেমন কোন খবর যাতে না রটে যায় সেজন্য সে মর্জিনার পরামর্শে চলতে থাকে। সমস্যা হয় এবার দস্যু সরদারকে নিয়ে। সে তার খোয়া যাওয়া মাল ফিরে পেতে মরিয়া। কিন্তু দেখা যাবে একে একে তার সব দস্যুদের মৃত্যু হবে। এবং অতি লোভের জন্য শেষ পর্যন্ত দস্যু সরদারের ও মৃত্যু হয় মর্জিনার তরবালির আঘাতে। সর্বশেষ দেখা যাবে নির্লোভী আলিবাবা গুপ্ত গুহা থেকে সব সম্পদ নিয়ে গরীব-দুখি মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেই। এবং তারাও সুখে বাস করতে থাকে। এখানে দেখা যায় আলিবাবা চাইলে নিতে পারতো সব সম্পদ একা। কিন্তু সে সেটা না করে সব গরীব দুখিদের মাঝে সেই সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছে। তার যতটুকু প্রয়োজন সে ততোটুকু গ্রহণ করেছে। গল্পের মাঝে দেখা যায় বেশি লোভ করার জন্য একে একে একচল্লিশ জন মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে সঙ্গে আরও কিছু প্রাণীর জীবন ও বিপন্ন হয়েছে নিষ্ঠুর ভাবে। সমসাময়িক সময়েও অতিলোভের কারণে অতি বেশি ক্ষমতার জন্য দুনিয়া জুড়ে যুদ্ধ সংঘাত লেগেই আছে। আলিবাবা গল্প আমাদের সংযমী হতে শেখায়। সংযমী মানুষের সামান্য কষ্ট হলেও দীর্ঘদিন তারা টিকে থাকতে পারে তাদের আচার-আচারণ, কর্মের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন