নানা বর্ণের ছবিতে অসাধারণ এই চরিত্রটির একটা জীবন্ত রূপ ফুটে উঠেছে

বন্ধুবর প্রফেসর সিরাজুল ইসলামের সূত্রে হাতে এল ২০২৪ সালের ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার ঈদ-শারদ উৎসব সংখ্যা ১৪৩১। প্রথমে ভেবেছিলাম, আর-পাঁচটা উৎসব সংখ্যার মতো এটিরও প্রধান আয়োজন হবে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, রম্য রচনা ইত্যাদি। কিন্তু পত্রিকায় চোখ বুলোতেই ভুল ভাঙল। এই সংখ্যাটি মূলত গড়ে উঠেছে একটি বিশেষ বিষয়কে অবলম্বন করে। বিষয়টি হল একজন বিশিষ্ট মানুষ, মোস্তাক হোসেন।
সত্যি কথা বলতে কী, এই নামের মানুষটি সম্পর্কে আমার পূর্ব-ধারণা কিছু ছিল না। ‘উদার আকাশ’-এর এই সংখ্যাটি পড়ে আমি বুঝতে পারলাম, আমার জানার পরিধি কত ছোট, জানতে পারলাম আজকের দুনিয়ায় এই পশ্চিমবঙ্গেও এমন বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বপূর্ণ মানুষও আছেন, যাঁর নাগাল পাওয়া অসম্ভব নয়, যাঁর অবদান ছড়িয়ে রয়েছে আমাদের চারপাশে, যিনি বিত্তের সঙ্গে চিত্তের মিলনসাধন করেছেন, যিনি ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি আর জনহিতৈষিতাকে এক আশ্চর্য সমন্বয়ে যুক্ত করেছেন।
পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার মোস্তাক হোসেন এই সময়ের এক দক্ষ এবং সফল শিল্পপতি। কিন্তু তাঁর এই সাফল্য তিনি কেবল নিজের সীমানায় আবদ্ধ রাখেননি, ছড়িয়ে দিয়েছেন সমাজের বিভিন্ন সেবাকর্মে। এইরকম এক বিস্ময়কর মানুষটির বেড়ে ওঠা, তাঁর স্বপ্ন, সাধনা, সংগ্রাম, সফলতা ও সেবাকর্মের প্রতি অনুরাগ, এইসব নিয়ে এই সংখ্যায় কলম ধরেছেন বহু লেখক। সব মিলিয়ে নানা বর্ণের ছবিতে অসাধারণ এই চরিত্রটির একটা জীবন্ত রূপ ফুটে উঠেছে। যাঁরা তাঁকে জানেন, তাঁরাও এই সংখ্যা পড়ে তাঁকে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ পাবেন, আর আমার মতো যাঁরা এই প্রথম তাঁকে জানতে পারছেন তাঁরা বিস্ময়ে হতবাক হবেন, এত দেরিতে জানার জন্য আক্ষেপ করবেন।
মোস্তাক হোসেনের অসামান্যতা কোথায় তা ভূমিকায় পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন পবিত্র সরকার। তারপর অশোক দাশগুপ্ত, ড. মইনুল হাসান, কবীর সুমন, মৌসুমী বিশ্বাস, হারাধন চৌধুরী, ড. গৌতম নিয়োগী, মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমদাদুল হক নূর, ড. মীর রেজাউল করিম, কাজী খায়রুল আনাম এবং এইরকম আরও অনেকের লেখায় নানা ক্ষেত্রে মোস্তাক হোসেনের অবদানের পরিচয় উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, ইতিহাসে তাঁর স্থানটি কীভাবে নির্দিষ্ট হতে পারে তারও একটি রূপরেখা এইসব লেখার মধ্য থেকে আমরা খুঁজে পাচ্ছি।
মোস্তাক হোসেন এই সংখ্যার কেন্দ্রীয় বিষয় হলেও আরও কয়েকটি মূল্যবান লেখা সংখ্যাটির গৌরব বৃদ্ধি করেছে। এই প্রসঙ্গে বিশেষ করে বিদ্যাসাগর এবং নজরুল বিষয়ক লেখা দুটির কথা বলতে হয়। কবিতাগুলি পড়েও বেশ তৃপ্তি পেলাম। ‘উদার আকাশ’-এর সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁদের উদ্দেশে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই এইরকম একটি স্মরণীয় সংখ্যা উপহার দেওয়ার জন্য।
উদার আকাশ
সম্পাদক: ফারুক আহমেদ
ঘটকপুকুর, ভাঙড়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-৭৪৩৫০২
মূল্য: ২৬০/-
কথা: +৯১ ৭০০৩৮২১২৯৮
অমল পাল, ডিরেক্টর রবীন্দ্রভবন এবং অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতন
