আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে আমাদের চাওয়া হলো অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মতো বাংলাদেশেও বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ৫০টিরও অধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা নিয়ে বসবাস করে আসছে।
১৯৯৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ঘোষণার মধ্য দিয়ে ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের স্বীকৃতি লাভ করে। বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি, সংস্কৃতি, ভাষা ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে নির্দিষ্ট আইন ও ঘোষণাপত্র রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো জাতিসংঘে আদিবাসী অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্র (United Nations Declaration on the Rights of Indigenous People)। স্বাধীনতার এত বছর পরে এসে আমরা যদি পেছনে ফিরে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, রাষ্ট্র আমাদের আদিবাসী’দের শুধু আশ্বাস দেন কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ বা প্রতিফলন লক্ষ্য করি না।
বাংলাদেশে আদিবাসীদের জন্য আলাদা কোনো সুনির্দিষ্ট বা পূর্ণাঙ্গ অধিকার আইন নেই। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি এবং আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকারের পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো একটি অমীমাংসিত এবং সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পার হলেও চুক্তির বেশ কিছু মৌলিক শর্ত অপূরণীয় থাকার কারণে আদিবাসী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার অভিযোগ প্রায়ই উপস্থাপিত হয়।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে আমাদের প্রত্যাশা, ‘আমরা যেন এই রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে সমঅধিকার, সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারি। আমাদের সাংবিধানিক অধিকার যেন আরও সুস্পষ্টভাবে স্বীকৃত ও সুরক্ষিত হয় এবং রাষ্ট্র যেন আদিবাসী জনগণের অধিকার, পরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশ আমাদেরও। কারণ আদবাসী জাতিগোষ্ঠীর মানুষ যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, তখন তিনি তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ের পাশাপাশি এই দেশেরই নাম বহন করেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কোনো অর্জনও তাই বাংলাদেশের অর্জন।
রাষ্ট্র যদি আদিবাসী জনগণের প্রকৃত নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে, তাহলে পাহাড়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য শিশু, তরুণ, নারী ও পুরুষ আরও নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দিয়ে সমঅধিকার নিশ্চিত করাই পারে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে আমাদের দাবি বা চাওয়া হলো অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হোক সবার জন্য।আমরা এই দেশেরই নাগরিক—এই দেশ আমাদেরও।
পূর্ণা চাকমা : সমাজকর্মী
