এক মুঠো মাটিরযাত্রা এক অনন্ত স্মৃতির ঠিকানায় পুষ্প বৃক্ষ বিহঙ্গ প্রেমী

“ আমি গেলে তো আর ফিরব না
এই পৃথিবী রইবে নতুন
রইবে ঘুঘুর হু হু কূজন
ফুল ঝরানো শিউলিতলা
আঁকা-বাঁকা নদীর চলা
থাকবে শিশু যুবক বুড়ো
বেবাক কিছু থাকবে পড়ে
আমি শুধু থাকব না” —কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা।

“বস্তুত বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য গীতাঞ্জলি নয়, বলাকা নয়, সোনার তরী নয়। আর দাবায়ে রাখবার পারবা না” কিংবা “মাঝে মাঝে ভাবি চাষারা লাঙলের মুঠি ধরে দেশটা টিকিয়ে রেখেছে, নয়তো অসাধু আমলা, দুর্নীতিবাজ, রাজনীতিক এবং ফটকা ব্যবসায়ীরা দেশের সমস্ত মাটি মণ মেপে বিদেশে চালান দিত”(গাভি বৃত্তান্ত)—কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফার উক্তিগুলো হৃদয় স্পর্শ করে।

বর্তমান সময়ে কথাসাহিত্যিক লেখক আহমদ ছফাদের মতো স্পষ্টবাদী চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার মতো ভালো ও দরদী মানুষের বড় অভাব। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক লেখক বুদ্ধিজীবী ও আপাদমস্তক একজন মানবিক মানুষ। পঁচিশ বছর পরে নতুন ঠিকানা মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্তানে যেভাবে ফিরলেন কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা—

সকাল থেকে, ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি মনে হয় আকাশ যেন ফুঁটো হয়ে গেছে। ভেজা কংক্রিটের শহরে প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে ফেরা মানুষের মিছিল মাথায় রংবেঙের বাহারি ছাতা যেন রংধনু হাঁটছে। রিকশার হুট তুলে দিলাম বৃষ্টির ছাঁট এসে চুমিয়ে গেল। রিকশা নামিয়ে দিল সচিবালয় মেট্রোরেলস্টেশনের কাছে। রেলযাত্রা শুরু করল, রেকর্ড করা ভয়েস জানিয়ে দিচ্ছে পরবর্তী স্টেশন মিরপুর ১০ ট্রেনটির গন্তব্যস্থল উত্তরা উত্তর। বিমান গতিতে ট্রেনটি থামল মিরপুর ১০ নেমে পড়লাম। টং দোকানে গিয়ে ধোঁয়া উড়িত চায়ের কাপে চুমুক দিলাম। আকাশ কালো মেঘের বেলা একটু পড়ে ঝাঁকিয়ে নামবে বৃষ্টি। তাড়াতারি রিকশা ভাড়া করলাম রিকসাওলা বলল, মামা দশ টাকা বাড়িয়ে দিবেন। গন্তব্য মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। আগের দিন মুঠোফোনে লেখক আহমদ ছফার শির্ষ্য খুদে বার্তায় বলেছেন, “ রশীদ এনাম আগামীকাল আহমদ ছফার নতুন কবর দেওয়া হবে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। সকাল ১১টা নাগাদ। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে কাজটা হচ্ছে। আপনিও আসবেন”। বার্তাটা পেয়ে আভিভূত হলাম। প্রিয় লেখক আহমদ ছফাকে কবর থেকে তুলা হবে পঁচিশ বছর পর। নিজভূমের লেখক বুদ্ধিজীবী তাও চট্টগ্রামের প্রথম কোন বুদ্ধিজীবীর কবর স্থানান্তর হবে। একটা নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে বাংলাদেশে এই প্রথম কোন লেখকের কবর নতুন করে সমাহিত হবে।

ঘড়ির কাঁটা তখন বারোটার ঘরে ছুঁই ছুঁই করছে। শ্রাবণধারা অজোড়ে নেমেছে। নতুন কবর খনন কাজ শেষের দিকে কবরের উপরে প্লাস্টিকের তেরপাল ঠাঙানো হয়েছে। কিছু দূর হেঁটে পুরোনো কবর পাড়ের দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম। ইতিমধ্যে সলিমুল্লাহ খান স্যার এসে হাজির। আমার ছাতা ছিল না স্যার আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন এনাম ছাতার ভেতরে এসো ভিজে যাচ্ছ তুমি। স্যারকে বলল, স্যার এটা আনন্দের। ছফা স্যার তো প্রকৃতি প্রেমী ছিলেন, প্রকৃতিও আজ ভিজিয়ে দিচ্ছে সমাধি। স্যারকে বলল, মহান সৃষ্টিকর্তা যাকে ইচ্ছে রাজ্য দা করে আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নেয় এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করে আর যাকে ইচ্ছে অপমান করে। নিঃসন্দেহে লেখক আহমদ ছফার জন্য এটা সম্মানের দিন। পুরোনো কবরের পাড়ে দু একজন কোদালের কুপ মেরে চলেছেন প্রায় সাড়ে তিন হাত নিচে খোড়ার পর একজন চিৎকার করে উঠল, স্যার হাড় পাওয়া গেছে। খুব সাবধানে কোদাল কুন্তির মাধ্যেমে হাড়গুলো হলুন কফিনে তুলা হলো। কণুইয়ের কঙ্কাল, পিঠের পাঁজরের ভাঙা কিছু হাড়সহ দেহবশেষ।

বৃষ্টির ছোঁয়া এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে প্রিয় লেখকের দেহবশেষ। বুক ভেঙে যাচ্ছিল প্রিয় লেখকের জন্য একদিকে আকাশের কান্না অপর দিকে দু’নয়ন জলে ভাসিয়ে দিলাম। একসময় কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা শ্রাবণধারায় কফিনে চরে ফিরতে লাগলেন নতুন ঠিকানায়। আমরা হাঁটছি কফিনের পিছু পিছু একসময় কফিন পৌঁছল বুদ্ধিজীবী কবরস্তানে। কবরের চুতরদিকে বকুল, শিউলি, নানা জাতের ফুলের গাছ। গাছে কিছু বিহঙ্গ বৃষ্টিতে ভিজে জবুতুবু হয়ে ডাকছে। বিহঙ্গরা বুঝতে পেরেছে তাঁদের প্রিয় লেখক অনন্ত স্মৃতির ঠিকানায় সাড়ে তিন হাত মাটির কুড়ে ঘরে ফিরছেন। এ জন্যই বোধহয় আগে বুঝতে পেরে লিখে গিয়েছিলেন,“ আমার কথা কইবে পাখি করুণ করুণ ভাষে আমার দুঃখ রইবে লেখা শিশির ভেজা ঘাসে। তারার সাথে রাত জেগেছি ফুলের সাথে হৃদয় বিনিময় বলবে সবাই কেমন ছিল মধুর পরিচয়। আমার নাম বলবে মুখে মেঘের আসা যাওয়া ইন্দ্রধনু লিখবে লিখন কেমন ভালবাসে দীঘল নদী করবে রোদন সমাধিটির পাশে”। কত আবেগ দিয়ে লিখে গেছেন। আহা আজ অনেক পাঠক ভক্ত বৃষ্টিমাথায় নিয়ে প্রিয় লেখককে নতুন করে সম্মান জানাতে জড়ো হয়েছে কবরস্তানে। লেখক আহমদ ছফার কফিন যখন অনন্ত স্মৃতির ঠিকানায় নামানো হচ্ছিল, তখন উথাল পাতাল বৃষ্টি ঝরো হাওয়া শুরু হলো। কফিনের উপরে আছড়ে পড়া বৃষ্টির ফোঁটাগুলোকে খই-র দানার মতো লাগছিল। কবরে শুইয়ে দেয়ার পর আহমদ ছফা ভক্তরা হাতের মুঠোয় মাটি নিয়ে “ বিছমিল্লাহে ওয়ালা মিল্লাতে রাসুলিল্লাহ” বলে দোয়া করতে লাগল। কেউ এক গুচ্ছ রজনী গন্ধা ফুল গুজে দিল সমাধিতে। অনেক ভক্তকে কাঁদতে দেখলাম।

মতিউর রহমান এক ভক্ত এনেছে দুর্বা ঘাস, কবরে যাতে কোন পুষা প্রাণী উঠতে না পারে সে জন্য কবরের ওপর পরম মমতায় দুর্বা ঘাস লাগিয়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে চারদিকে ঘেরাও করে দিয়েছে। ঐ মুহুর্তে আমার কাছে মনে হয়েছে দেশের এবং সমাজের সবচেয়ে উচু খাতারের মানুষ হচ্ছে একজন ভালো লেখক। একজন লেখকের সবচেয়ে বড় সম্মান এ চেয়ে আর কি হতে পারে আমার জানা নেই। আমিও এক মুঠো মাটি প্রিয় লেখকের সমাধিতে দিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হলাম।


পুষ্প বৃক্ষ বিহঙ্গ প্রেমী ছিলেন কথা সাহিত্যিক আহমদ ছফা
“পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণে” লেখক বলেছেন, “ফুল ফোটানো সহজ কথা নয় শূন্য থেকে মূর্ত করা সৃষ্টির বিস্ময়। পারে সে জন ভেতর থেকে ফোটার স্বভাব যার, ফালতু লোকের ভাগ্যে থাকে বন্ধ্যা অহংকার” লেখক আহমদ ছফার বৃক্ষের প্রতি যে মায়া ভালোবাসা সত্যি অকল্পনীয়। “সবুজ উদ্ভিদের যে একটা আত্মা রয়েছে তার স্পর্শ আমার নিজের আত্মায় এসে লাগে। মুখে কোনো বাক্য আসতে চায় না। এইখানে ঈশ্বরের এই প্রাচুর্যের পাশে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকতে ইচ্ছে করে”। আহা বৃক্ষ নিয়ে কী সুন্দর অনুধাবন লেখকের। বৃক্ষের মাঝে তিনি মানুষের জীবন ও আত্মা সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। তিনি আপেল চারাকে আপেল শিশু এবং বৃক্ষচারাকে তরুশিশু বলে চমৎকার একটা উপমা উপস্থাপন করেছেন। কাক নিয়ে বলেছেন, “কাক একটু কর্কশ বটে কিন্তু কান খাড়া করে শুনলে তার ভিতর একটা চিকন রেশ পাওয়া যাবে। কেন যে পাখিটিকে নোংরা পাখি বলে আমি তো তার কারণ খুঁজে পাইনি। কাক চেষ্টায় বক ধ্যানং কাকের মতো চেষ্টা করতে হবে, বকের মতো ধ্যান করতে হবে। স্বল্পহার, স্বল্প নিদ্রা এবং গৃহত্যাগ বিদ্যার্থীর পাঁচটি লক্ষণ”। লেখক বুলবুলি পাখির সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বুলবুলি পাখি যে খাবারে ঠোকর দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে যে গানের স্বর ঝরে পড়ে সেটাকে তিনি পাহাড়ি ঝরনা বয়ে যে পাথরের ঘষা লেগে যে নরম ভেজা শব্দ-র সাথে তুলনা করেছেন”। তিনি খাঁচায় করে শালিক ও টিয়া পাখি পুষতেন। টিয়া পাখি কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন যান্ত্রিক নগরে। শালিক পাখিকে পুত্র বলে সম্বোধনও করেছেন। শালিক পাখিকে উন্মুক্ত করার পর বেশকিছুদিন পর যখন দেখলেন অন্য একটি শালিক পাখি নিয়ে পোষা শালিক যখন দেখলেন বাড়ির ছাদে তখন তিনি বলেছেন, “আমার পাখি পুত্রটি একটি বউ জুটিয়ে নিতে পেরেছে দেখে আমার খুব আনন্দ হলো”। পাখিদের শরীর থেকে পবিত্র সৌন্দর্য-র কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। “এই পুষ্প, এই বৃক্ষ, এই তরুলতা, এই বিহঙ্গ আমার জীবন এমন কানায় কানায় ভরিয়ে তুলেছে, আমার মধ্যে কোনো একাকিত্ব, কোনো বিচ্ছিন্নতা আমি অনুভব করতে পারিনি। আমি পাখি পুত্রের কাছে বিশেষভাবে ঋণী। আমার পাখি পুত্র আমাকে যা শিখিয়েছে কোনো মহৎ গ্রন্থ, কোনো তত্ত্বকথা, কোনো গুরুবাণী আমাকে সে শিক্ষা দিতে পারেনি। একমাত্র অন্যকে মুক্ত করেই মানুষ নিজেই মুক্তি অর্জন করতে পারে। আমার পাখি পুত্র মুক্ত আমি মুক্ত আমাদের সম্পর্ক থেকে প্রত্যহ অমৃত উৎপন্ন হয়। এই আকাশের জীবনের সঙ্গে আমার জীবনের যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে সেটা কি অমৃত সমুদ্রের অবগাহন নয়” ? লেখক পাখিদের ভাষা, পুষ্প-বৃক্ষের ভাষা বুঝতে পারতেন। প্রকৃতি ও শিশুদের প্রতি ছিল তাঁর জলতরঙ্গ ভালোবাসা। নিজে সংসার করেননি কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করে গেছেন, তিনি বলতেন, “সকলে আমার মধ্যে আছে, আমি সকলের মধ্যে রয়েছি। শরীরের কোনো অংশ অসুস্থ হলে যেমন পুরো শরীর অসুস্থ হয়ে যায়। তেমনই দরিদ্র ও বস্তিবাসী শিশুদের শিক্ষা বঞ্চিত করে দেশকে সমৃদ্ধ করা যাবে না”। দুঃসময় কবিতায় লিখেছেন, নদীতে বইছে বেগে খরতর খল স্রোতে দুকূলে নামছে ধ্বস, অবিরত চলছে ভাঙন, ভাঙন ভাঙন শুধু চারদিকে ভাঙনের ক্ষণ। তিনি ফুলের মতো শিশুদের মতো জীবনযাপন উপভোগ করতে পছন্দ করতেন। প্রকৃতি ও শিশুদের মাঝে নিজের জীবনকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যেন মানুষ ও প্রকৃতি একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ যেন প্রকৃতির মাঝে তরুলতা হয়ে দুলছে আর খেলছে। প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।

আহমদ ছফার নতুন সমাধিটি একেবারের বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সমাধির পাশে। কথাশিল্পী আহমদ ছফা শুধু পুষ্প বৃক্ষ বিহঙ্গের কবি ছিলেন না ছিলেন একজন মানবিক ভালো মানুষ, একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রজীবনে দক্ষিন গাছবাড়িয়া গ্রামের পাশে এঁকে বেঁকে বয়ে চলা ছোট নদী বৈরগনি খালের পাড়ে ছিল তাঁর বাড়ি। উদাস দুপুরে বৈরগনি নদীর পাড়ে বসে কবি কল্পনার রাজ্য হারিয়ে যেতেন ভাবতেন, মনের মাধুরি মিশিয়ে লিখতেন মনের ক্যানভাসে। গান ও লিখেছিলেন বেশ কয়েকটা। “ ঘর করলাম নারে আমি সংসার করলাম না আউল বাউল ফকির সেজে আমি কোন ভেক নিলাম না”।

২০০১ সালে ২৮ জুলাই বাংলাদেশের সক্রেটিস খ্যাত কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা মারা যাওয়ার পর তাঁকে কবর দেয়ার জন্য কোথাও জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সে সময় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাঁকে সেময় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্তানে দাফন করতে দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে লেখকের শেষের ঠিকানা হয়েছিল তুরাগ নদীর তীরে মিরপুর সাধারন কবরস্থানে তাও নানা অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কবার দেয়ার জন্য ঘুষও দিতে হয়েছিল ত্রিশ হাজার টাকা। গত ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আহমদ ছফার ভ্রাতুষপুত্র লেখক নুরুল আনোয়ার সিটি করপোরেশন আবেদন করলে গত ১৩ এপ্রিল ডিএনসিসির ১৪তম সভায় আহমদ ছফার কবর মিরপুর কবরস্তান থেকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। বহু প্রতিক্ষার পর গত ২২ জুলাই আহমদ ছফার দেহাবশেষ শহীদ বুদ্ধিজীবী মুক্তিযোদ্ধা কবরস্তানে ঠাঁই হয়। দীর্ঘ পঁচিশ বছর পর যেন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হলো। এটা সত্যি আনন্দেয় গর্বেরও বটে। চলতি বছরে উত্তরায় আহমদ ছফার নামে স্মরণিও স্থাপন করা হয়েছে।
এই অসম্ভব কাজটি সম্ভব হওয়ার পেছনে যার অগ্রণী ভূমিকা ছিল তাঁর নাম উল্লেখ না কলে দায় থেকে যায়। তিনি হলেন লেখক আহমদ ছফার শীর্ষ লেখক ড. সলিমুল্লাহ খান, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনসহ আরও অনেকে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো প্রিয় লেখক আহমদ ছফার নামে জার্মানির জাতীয় কবি গ্যেটোর ভেৎসলার শহরে একটি পানশালার নামকরণ করা হয়েছে। অথচ লেখক কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া গ্রামে তাঁর কোন স্মৃতি চিহ্ন নেই। ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কথাশিল্পী আহমদ ছফা স্মৃতিবিজড়িত গাছবাড়িয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগার স্থাপন, সড়কের নামকরণসহ ও চট্টগ্রামে আহমদ ছফা একাডেমি স্থাপনের জন্য চন্দনাইশ ও চট্টগ্রামের সব সম্মানিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে সবিনয় নিবেদন করছি।

রশীদ এনাম: লেখক ও গবেষক

আরও পড়ুন