ছোট্ট ইঁদুরের বাঁচার লড়াই

ঝুম বৃষ্টি—ঝমঝমিয়ে পড়ছে তো পড়ছে-ই! মতিঝিলের রাস্তাঘাট তো আজ আস্ত নদী হয়ে গেছে। আকাশ কেন আজ এমন অঝোর ধারায় কাঁদছে, ভেবেই পাচ্ছে না পুচকে ইঁদুরটা। সে তার গর্তের ভেতর ভয়ে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। কিন্তু দেখতে দেখতেই তার ছোট্ট ঘরটা পানির নিচে তলিয়ে গেল! ভয়ে পুচকের বুকটা কেঁপে উঠল।
চারদিকে শুধু ঘোলা পানির ঢেউ। খুব ভয় করছে পুচকের; কী করবে, কোথায় পালাবে—কিছুই ভেবে উঠতে পারছে না সে। হঠাৎ ঢেউয়ের দোলায় ভেসে এল একটা পুরোনো চটি জুতো। পুচকের মনে হলো—আরে! এ তো এক জাদুর জাহাজ! সে তার ছোট্ট হাত দিয়ে চটিটাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
শুরু হলো পুচকের বাঁচার লড়াই। পানির স্রোত ওকে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে। স্রোত ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, পুচকে জানে না। কখনো মনে হচ্ছে সে কোনো বিশাল সমুদ্রে হারিয়ে গেছে, আবার কখনো মনে হচ্ছে পরের ঢেউটাই বুঝি ওকে পানির অতলে টেনে নেবে।
পাশ দিয়ে মানুষ চলে যাচ্ছে, রিকশা আর গাড়ির চাকার ঢেউগুলো বড় বড় পাহাড়ের মতো তার দিকে ধেয়ে আসছে। ভয়ের চোটে পুচকের বুক ধড়ফড় করছে, কিন্তু সে চটিটা আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। পুচকে ভাবছে, আকাশে তো মেঘ থাকবেই, বৃষ্টিও ঝরবে। কিন্তু এই বৃষ্টির পরেই তো মিষ্টি রোদ উঠবে!
পানির স্রোতে চটিটা যখন দুলছে, হঠাৎ একটা বড় ঢেউ এসে ওকে ডুবিয়ে দিল। ওর মনে হলো, আর বুঝি বেঁচে থাকা হলো না! কিন্তু চটিটাকে সে ছাড়ল না। ওর ছোট্ট শরীরে কী যে অসীম শক্তি! না, চটিটা আবারও ভুস করে ভেসে উঠল পানির উপরে।
মতিঝিলের বৃষ্টিভেজা বিকেলে, মানুষের পায়ের পুরোনো চটি স্যান্ডেলের ওপর দাঁড়িয়ে পুচকে ইঁদুরটা যেন এক জাহাজের নাবিক হয়ে এগিয়ে চলেছে।
পুচকে শেষ পর্যন্ত ডাঙা খুঁজে পাবে কি না, তা আমি জানি না। তবে যতক্ষণ ওর শরীরে প্রাণ আছে, ততক্ষণ ও লড়ে যাবে। এই ব্যাপারে আমি একশ ভাগ নিশ্চিত।

ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের কি মনে হয়? আমাদের এই ছোট্ট বন্ধুটি কি কোনো শুকনো ডাঙায় পৌঁছাতে পারবে, নাকি ঢাকা শহরের কোনো ড্রেনের ভেতর হারিয়ে যাবে?

১৪ জুলাই ২০২৬খ্রি.

আরও পড়ুন