বাংলাদেশের বন্ধু রঘুরাই আর নেই

বাংলাদেশের বন্ধু প্রখ্যাত চিত্রসাংবাদিক রঘু রাই প্রয়াত। আজ রোববার ভোরে তাঁর পরিবারের তরফে তাঁর মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়েছে। রঘুর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলো তুলেছিলেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
রঘুনাথ রাই ১৯৪২ সালে ১৮ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের অধুনা পাকিস্তানের ঝং নামে এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মায়ের কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন তিনি। তাঁর বাবার আগ্রহ ছিল রঘু যেন একজন ইঞ্জিনিয়ার হন। পড়াশোনা করে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দিল্লিতে সরকারি চাকরিও নিয়েছিলেন। কিন্তু ভালো লাগেনি। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শরমপাল চৌধুরী (এস পাল) আলোকচিত্রী হিসেবে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। তিনি নিজের মনের কথা দাদাকে জানালে তিনি ভাইয়ের আগ্রহ দেখে তাকে এক বন্ধুর কাছে পাঠালেন। ১৯৬২ সালে দাদার সেই বন্ধুর কাজ দেখতে গ্রামে গেলেন, ঘুরলেন আর শিখলেন নিজের মতো করে। জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে গেল আলোকচিত্রীতে।
রঘু রাই ভারতের ফটোগ্রাফি দুনিয়ায় মহীরুহ। তাঁকে ‘ফাদার অফ ইন্ডিয়ান ফটোগ্রাফি নামে অভিহিত করা হয়। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ভারতের বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী ভূষিত প্রবাদপ্রতিম চিত্র-সাংবাদিক আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ও পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালের ভোপালের গ্যাস ট্র্যাজেডিতে ছবি তুলে জীবন্ত দলিল উপস্থাপন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত বাংলাদেশ।
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের কয়েকটি আলোকচিত্র:




