‘এক মুঠো নব্বই’ নব্বই দশকের মানুষের স্মৃতির স্মারকচিহ্ন!

ইন্টারনেট কী বিষয়, তখনো কেউ জানে না। মোবাইল ফোন এলেও সেটি সাধারণের নাগালের বাইরে। বাসা-বাড়ির ছাদে ডিশ এন্টেনা লাগিয়ে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের আবির্ভাব বিনোদন দুনিয়া বদলে দিয়েছিল। কম্পিউটার জিনিসটা এই দেশের মানুষের নাগালের মধ্যে এলো আরও পরে।
উত্তাল রাজনীতির সময়—
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠারও। দুই দুটি অবাধ নির্বাচনের কাল। আবার রাজনৈতিক অস্থিরতারও। টেলিভিশন নাটকের চরিত্র ‘বাকের ভাই’ হয়ে উঠলেন মানুষের কল্পলোকের বীর। আইসিসি ট্রফি জিতে ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবে স্বীকৃতি। একই সঙ্গে ফুটবল থেকে মানুষের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। মানুষের চিন্তা-ভাবনা, রুচিবোধে বিস্তর পরিবর্তন আসার কাল। সেই সঙ্গে সময়টা অনেক দুঃখবহ ঘটনারও। ৯০ দশক বহুভাবেই নষ্টালজিয়ার। এই বইয়ের গল্পগুলো সেই স্মৃতিকে সামনে নিয়ে আসবেই।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ভয়াল ঘূর্ণিঝড় তছনছ করে দিয়েছিল দেশের উপকূল। প্রাণ হারিয়েছিল লাখো মানব সন্তান। ক্ষতি হয়েছিল বিলিয়ন ডলার। সে সময়ের বিচারে সেই ক্ষতি ছিল বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য বিরাট ব্যাপার। নব্বই দশকের বড় ঘটনা এটি। এ দশকের শুরুতে দেশে এসেছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। ‘নব্বই’ স্মরণীয় আরও অনেক কারণে। বাকের ভাইকে মনে আছে? বিটিভির কোথাও কেউ নেই ধারাবাহিক নাটকের প্রধান চরিত্র। জায়গা করে নিয়েছিল দেশের মানুষের হৃদয়ে। নাটকের শেষ পর্বে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বিমূঢ় করেছিল গোটা দেশকে। টেলিভিশনের সামনে বসে কেঁদেছিল মানুষ। এ প্রজন্মের কাছে অবিশ্বাস্য লাগতে পারে, কিন্তু এটাই সত্যি। বাড়ির ছাদে ডিশ এন্টেনা লাগিয়ে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল দেখার শুরু যেমন এই দশকে, ঠিক তেমনি আরও অনেক স্মৃতি ছড়িয়ে আছে নব্বই জুড়ে। আইয়ূব বাচ্চু, জেমসের মত নগরবাউলদের জনপ্রিয়তির শিখরে ওঠা, বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। নব্বই দশকের এমন অনেক স্মৃতির অ্যালবামই যেন এই ‘এক মুঠো নব্বই‘…
সূচিপত্র
- কাম অন এভরি বডি স্মাইল
- চলো বদলে যাই ও আমাদের নগরবাউলেরা…
- একজন বাকের ভাই
- এত তাড়া ছিল সালমান শাহ?
- ভয়াল ২৯ এপ্রিল
- বাড়ির ছাদে ‘ডিশ অ্যান্টেনা’
- কর্ডলেসে প্রেম ও ১৪ টাকা মিনিটের মোবাইল
- হুমায়ুননামা
- জয় আবাহনী, জয় মোহামেডান
- ক্ষমা করে দিও ইয়াসমিন
- পুরো দেশ উৎসবে মেতেছিল যেদিন
- গণতন্ত্র, নির্বাচন ও অন্যান্য
- ইত্যাদি… ইত্যাদি
- সহজসরল সেই দিনগুলো।
এই বইয়ের লেখক নাইর ইকবাল আমাদের প্রতিনিধি হয়ে জানাচ্ছেন, নব্বইয়ের দশক ছিল আমার বেড়ে ওঠার কাল। আটপৌরে সেই সময়টা কখনোই ভুলতে পারে না। ইন্টারনেট জিনিসটা কী তখনো সেভাবে জানি না। জীবনযাত্রা এখনকার মত ‘ছুটে চলা’র নয়, বরং অনেকটাই ধীরলয়ের। স্কুলে যাই, বাড়ি আসি, বিকেলে খেলতে যাই। ক্লান্ত শরীর নিয়ে সন্ধ্যায় পড়তে বসা। কিছুক্ষণ পরই টিভিতে নাটক কিংবা অন্য কোনো অনুষ্ঠান। বিনোদন বলতে একটাই মাধ্যম—বিটিভি। যা দেখতে বলে, দেখি সেটিই। স্যাটেলাইট চ্যানেলের আবির্ভাব। এমন একটা জীবনে চোখের সামনে ঘটতে দেখছি কত ঘটনা। রাজনীততি, খেলাধুলা থেকে শুরু করে কত জায়গায়।
একটা সময় খেয়াল করলাম, বন্ধুবান্ধব কিংবা অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে সেই সময়ের গল্পগুলো বলতে আনন্দ পাচ্ছি। যারা নব্বইয়ের দশক দেখেননি, তারাও খুব আগ্রহ নিয়ে শোনেন আমার বলা গল্পগুলো। সেই গল্পগুলোই একটা সময় লিখে ফেললাম। এক মুঠো নব্বই বইটা সেই গল্পগুলো নিয়ে। আমার দেখা নব্বইয়ের দশক নিয়েই। এই বইটি দিয়ে যদি পাঠকের স্মৃতিকাতারতাকে উসকে দিতে পারি, তাদের সেই দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিতে পারি, তবেই পরিশ্রম সার্থক।
বই : এক মুঠো নব্বই
লেখক : নাইর ইকবাল
ধরণ : স্মৃতিচারণামূলক
প্রকাশন : স্বপ্ন’৭১ প্রকাশন
প্রচ্ছদ : আরাফাত করিম
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২৪
মূল্য : ২৫০ টাকা
বইটি পাওয়া যাবে কাঁটাবনের স্বপ্ন ‘৭১ অফিসে ও রকমারি ডটকমে।
সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন : +৮৮০১৭৩৭৩৭৩৮৬০।
