‘দ্যাট ফিফটিন মিনিটস’ পড়া শেষ করে, তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বলেছি, ভালোই তো গল্পগুলো…

কদিন আগে এক সিনিয়র লেখক বললেন, আমার বইটা পড়বেন। এর দুইদিন পরই সে-ই বইটা একটা দীর্ঘ রিভিউের লিংক পেলাম। রিভিউটা পড়লাম।
পড়ে, মনেমনে বললাম, লেখকের বইটা আর পড়তে হবে না। উপন্যাসের পুরোটাই রিভিউতে ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে দেখলাম।

সে যাকগে, অনেক আগে-ই দ্যাট ফিফটিন মিনিট বইটা পড়ে রেখে দিয়েছিলাম, কিন্তু অলসতার দরুণ পাঠপ্রতিক্রিয়া লেখা হয়নি, এর ফাঁকে আরও নানান ঝুটঝামেলায় ডানা মির্জার বইটার পাঠঅনুভূতি লেখা হয়ে উঠছিলো না, এভাবে প্রতিদিন ভাবি লিখবো, আবার ভাবি, না, আজ থাক, কাল। এই করতে করতে অনেক দিন কেটে গেল।

আজ একপ্রকার খাতা-কলম নিয়ে বসে গেলাম, কিন্তু লেখা শুরু করতে পারছিলাম না। অগ্যতা বইটা আবার পড়লাম। শিল্পী তুলি ভাইয়ের সুন্দর প্রচ্ছদটির দিকে অনেক্ষণ তাকিয়ে থেকে মনেমনে বললাম, হে তুলি ভাই, আপনি সবার প্রচ্ছদ মন দিয়ে সুন্দর করে করেন, বাট আমার বইয়ের প্রচ্ছদ করার সময় হয়ত মনেমনে ভাবেন, ধুর, মাসুম বিল্লাহ’র বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে এত ভাবার কিছু নাই, কিছুমিছু করে দিলেই হলো…! হা হা…

এই পর্যন্ত লিখে একা-একা এক চিমটি হাসলাম, পরে বইয়ের পাতা উল্টিয়ে উৎসর্গ পাতাটা পড়তেই মন খারাপ হয়ে গেল। লেখক ডানা মির্জাকে বলি, হেই, আপনি এই বইটা আর কিছুদিন আগে কেন প্রকাশ করেননি? কেন? যদি করতেন, তবে আপনার মা বইটা দেখে যেতে পারতেন, বইটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখতেন, দুপুরে, রাতে বইটা মাথার বালিশের কাছে রেখে ঘুমোতেন! মায়ের জন্য প্রার্থনা।

বইয়ে মোট ১৫টি গল্প রয়েছে। ছোট ছোট গল্প। ব্যক্তিগতভাবে এইরকম আমি ছোটগল্প আকারে ছোট-ই পড়তে পছন্দ করি। জীবনের ছোট ছোট অনুভূতি নিয়ে এক-একটা গল্প। মানুষের জীবনের কোনো একটা থিম/দৃশ্য/ঘটনাকে আমি অস্বীকার করতে পারি না, বাতিল করে দিই না। আমার কাছে প্রতিটা মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ, মূল্যবান। বিষয়টা লেখকের কাছে, লেখকের চোখেও যে আরও বেশি গুরুত্ববহ, দামী তা এই ডানা মির্জার লেখা দ্যাট ফিফটিন মিনিটস বইটার প্রতিটি ছোট গল্প তার উদাহরণ।

লেখক একদম সহজ, সরল আঙ্গিকে সেইসব ছোট ছোট দৃশ্য, ঘটনাকে লেখকের চোখ দিয়ে লিখেছেন। তার এই সততাই আমাকে বেশি মুগ্ধ করেছে। লেখাগুলো পড়ে এটা আবার নিশ্চিত হওয়া গেল যে, এই গল্পগুলো ডানা মির্জার লেখা। এটাই তার লেখার স্টাইল। গল্পগুলো পড়ার সময় আমাকে হোঁচট খেতে হয়নি, লেখকের লেখা, লেখার কৌশল আমাকে বিরক্ত করেনি। বরং বইটা পড়তে শুরু করে খুব অল্প সময়ে পুরো বইটা পড়ে শেষ করেছি এক বসায়।
এবং পড়া শেষ করে, তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বলেছি, না, খারাপ না, ভালোই তো, ভালোই ছিল গল্পগুলো।

প্রথম গল্পটা এই বর্তমান সময়ের, চরম বাস্তবতার গল্প। এখনকার ছেলেমেয়ের মধ্যে কখন প্রেম হয়, আর কখন ভেঙে যায় তা তারা নিজেরাই টের পায় না। গল্পের থিমটা নতুন না, কিন্তু লেখকের লেখার ধরণটা নতুন, দারুণ স্মার্টলি লেখাটা লিখেছেন লেখক। মোটেও ভণিতা নেই লেখায়। এ লেখাটা আমার খুব ভালো লেগেছে।

‘অতঃপর’ গল্পটায় কায়েস এত সহজে আত্মহত্যা করল!? হ্যাঁ, করল, মানুষ এমনই। তবে বিন্দুর মানসিকতাও ঠিক বোঝা গেল না। এই ব্যাপারটাতে আরেকটু ফোকাস পেলে হয়ত মন্দ হতো না। আর গল্পের নাম অন্য আর কিছু হতে পারত কিনা!

আর হ্যাঁ বইয়ের ৩ নম্বর গল্পটা বইয়ে না রাখলে তেমন ক্ষতি হত না। এটা আমার একান্ত অভিমত।

বইয়ের চতুর্থ গল্প ‘আহা!’ গল্প আসলেই আহা, খুব সুন্দর। পড়ে খুব মুগ্ধ হয়েছি। গল্পের শেষটার জন্য লেখককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

অন্যরকম আবহের গল্প ‘অরিন্দমের চিঠি।’ ভালো চেষ্টা লেখকের।

৭ম গল্প ‘ইচ্ছেপূরণ’ এ গল্পের জাফরের আত্মহত্যাটা ঠিক জুতসই মনে হয়নি আমার। তনুকে স্বার্থপর মনে হয়েছে। তাই গল্পটাকে আমি মনে রাখতে চাই না। হা হা…

‘মা’ গল্পটা চিরচেনা গল্প। নতুন করে জানা ও পড়া। এই তো।

‘ওবায়েদ উল্লাহ’ গল্পটা আসলে গল্প নয়, নিদারুণ বাস্তব। বর্তমান সমাজে মাদরাসার কদর বেড়ে গেছে, কিন্তু ভেতরের বিষটা কেন যেন সবাই উপেক্ষা করতেছে, কেন? ভয়ে? কিন্তু লেখকদের তো ভয় পেলে চলে না। তাদের লিখতেই হয়। দুঃখ একটাই, লেখকরা অন্ধের দেশে চশমার ফেরিঅলা। হায়।

গল্প আরও আছে, আপনারা বইটা পড়বেন। এই পড়াটাই আপনার দায়িত্ব।

আসুন, বইটা নিয়ে লেখক ডানা মির্জার ছোট্ট কথা শুনি-

১৫টি  ভিন্ন স্বাদের গল্প নিয়ে আমার প্রথম বই দ্যাট ফিফটিন মিনিটস । এখানে আছে একজন ঈশিতার খুব অদ্ভুত উপায়ে বন্ধু খুঁজে পাওয়া অথবা ছোট্ট ওবায়দুল্লাহর বাবা-মা হারিয়ে খুব আদর, ভালোবাসা পাবার এক অতৃপ্ত বাসনার গল্প। ১৫টি গল্পের কোনটি হাসাবে, কোনটি মন খারাপ করে দেবে আবার কোনটি এক গা শিরশিরে অনুভূতি দিবে। আশা রাখছি গল্পগুলো পাঠকের ভালো লাগবে। এবং অধীর অপেক্ষায় আছি পাঠকের মুল্যবান মন্তব্যের।


বইয়ের নাম: দ্যাট ফিফটিন মিনিটস
লেখক : ডানা মির্জা
প্রকাশক : স্বপ্ন’ ৭১ প্রকাশন
প্রকাশকাল : ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২২
মুল্য : ২০০.০০ টাকা
বইটি পাওয়া যাবে কাঁটাবনের স্বপ্ন ‘৭১ অফিসে ও রকমারি ডটকমে।
সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন  : +৮৮০১৭৩৭৩৭৩৮৬০।

আরও পড়ুন