নারায়ণের জীবন কোনোমতে চলে যায়

আধো আধো চোখ খুলে দেখি, যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই সবুজ। হালকা শীতের আভাস সঙ্গে মিষ্টি সুবাস। কুড়িগ্রামে পৌঁছে চলে গেলাম আরডিআরএস অতিথিশালায়। জায়গাটা বেশ ছিমছাম, দালান কাঠামো বেশ পুরনো। জানতে পারলাম, এখানে বিদেশিরা এলে থাকেন। আমাদের অফিসের প্রধানের গ্রামের বাড়িও কুড়িগ্রামে। তিনি এখানে এসে প্রশান্তিতে মহাখুশি। অতিথিশালায় আামাদের গ্রহণ করেন নারায়ণ দাদা। তিনি অতিথিশালার ঠিক পাশেই ছোট্ট একটা ঘরে থাকে। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাত রান্না কাজে নিয়োজিত।
প্রথম দিন থেকেই দেখলাম, তাঁর খাবারের সুনাম শোনার জন্য চোখমুখ উন্মুখ হয়ে থাকেন। সরল মুখে মিটমিট করে হাসেন। রাতে সবাই যখন ব্যাডমিন্টন খেলছে। তখন দাদা হাসিমুখে দাঁড়িয়ে, আমি অতিথিশালায় বিশাল পুরনো বটগাছ তাকিয়ে দেখছিলাম, দাদাকে দেখে বললাম আপনি কী এ ঘরে থাকেন? বটগাছের ওপাশে ছোট্ট ঘর আছে দুটা, উনি হন্তদন্ত হয়ে বলে, ‘আপা ভেতরে দেইখেন না, ছোট্ট ঘর আমার। কোনো মতে থাকি। আপনাদের দেখার জন্য না আপা।’ উনি এ জায়গায় একাই থাকেন, পরিবার দূরে। বেশ ছিমছাম করে থাকেন। গ্রামের বাড়ির কথার জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রংপুরের পীরগাছার তাম্বুলপুর গ্রামে।’
‘কি করে এত সুন্দর রান্না করতে জানলেন?’
‘আপা রান্না চাকরিটা পেয়ে শিখেছি।’
আপনার নিজের রান্নার আপনার কাছে কেমন লাগে?
‘নিজের রান্না তো আর কি বলব? লোকে তো ভালোই বলে।’
‘এখানে কাজ করতে কেমন লাগে?’
‘অতিথি এলে ভালো লাগে। খাওয়া দাওয়াটাও ভালো হয়। নাহলে তো ঠিক চারটা ডাল-ভাত খেয়ে দিন চলে যায়।’
‘দাদা কত বেতন পান, সেটা দিয়ে চলে?’
‘আপা, যাই পাই তা দিয়ে টেনেটুনে চলে। মাসে ১৩-১৪ হাজার টাকা পাই। মেহেমান এলে কিছু বকশিস পাই। এভাবে কোনোমতে চলে যায়। পরিবার থাকে একটু দূরে। ছুটি পেলে তাদের কাছে যাই।’ কতগুলো শুনতে শুনতে বেশ মায়া লাগছিল। আহারে কী কষ্টটাই না করে!
সাদিয়া ইসলাম, রাজশাহী
