মাঙ্কি : দড়ি বাবুলকে বড় ভালো লাগল আমার

বসন্ত তার পাশে বিস্কুট আর চা নামিয়ে রাখল। দূর থেকে সেই দৃশ্য দেখে মাঙ্কি উৎসুক হয়ে উঠল। বসন্ত জিজ্ঞেস করল—বান্দররে খাবার দিব? কলা?
দড়ি বাবুল জিজ্ঞেস করল— কী বললা?
বান্দররে কলা দিব?
ওরে বান্দর বলতেছ ক্যান! ওর নাম নাই? আমি কি তোমারে কলেরা বলি?
না।
তাইলে?… ওর নাম ধইরা বলো।
মাঙ্কিরে খাবার দিব?
ওরে জিজ্ঞাসা করো।
বসন্ত মুখ ফেরাল মাঙ্কির দিকে— মাঙ্কি আসো, কলা খায়া যাও।
মাঙ্কি প্রায় উড়ে এসে দড়ি বাবুলকে জড়িয়ে ধরল। দড়ি বাবুল বসন্তকে বলল— আর কুনো দিন যদি ওরে বান্দর বলছ, ওর সঙ্গে তোমার কোর্ট ম্যারেজ করাইয়া দিব।
বসন্তের পকেটে কলা ছিল। সেটা সে বের করামাত্র মাঙ্কি ছিনিয়ে নিল। দড়ি বাবুল সেই দৃশ্য হাসি মুখে দেখতে দেখতে বলল— বসন্ত, তুমি এখন যাও। না ডাকলে আসবা না। আমি আর মাঙ্কি এখন খেলব। মাঙ্কি খেলবা?
মাঙ্কি বলল — চিই-ই।
কী খেলবা? মাঙ্কি-মাঙ্কি খেলবা?
মাঙ্কি সজোরে মাথা দোলাল।
২
মাঙ্কি উপন্যাসের পাতায় দড়ি বাবুল আর তার দুই সহচর বসন্ত ও মাঙ্কি ছাড়াও আছেন নাদিরা বেগম। আছে তার ছেলে কায়সার।
একদিন নাদিরা বেগম তার ছেলে কায়সারের কপালে চুমু খেয়ে বললেন, ভালোবাসলে, যেই মানুষটারে ভালোবাসো, তার পক্ষে আর তোমাদের ভালোবাসার পক্ষে বাপ, এইভাবে দাঁড়াবা।
আরেকদিন নাদিরা বেগম তার ছেলে কায়সারকে বলেছিলেন, জীবনে কিছুই নিশ্চিত না। তোমরা দুজন দুইজনরে বিশ্বাস করো। কিন্তু জীবনে কিছুই নিশ্চিত না বইলা সব সম্ভব। সেই জন্য বলি, বিশ্বাস যদি সে কখনো ভাঙে, ভাঙবে। তুমি তারে যে বিশ্বাস দিছ সেইটা ভাঙবা না।
কেন নাদিরা বেগম তার পুত্র কায়সারকে এই কথা দুটো বলেছিলেন?
শেষে কায়সার কি প্রেমিকা নাজিয়ার পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিল?
নাকি নাজিয়ার বিশ্বাস ভেঙে ছিল?
৩.
এই উপন্যাসে আরও আছেন নাজিয়ার বাবা মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান। মেয়েকে তিনি অনেক ভালোবাসেন।
আরও আছেন মাহমুদ, পত্রিকার সাংবাদিক। দেড়শ টাকায় তাকে ব্যবহার করা যায়।
আছে দড়ি বাবুলের প্রতিপক্ষ সার্কাস শহীদ!
এই খেলায় কে জেতে? কে হারে?
৪.
জীবন মানুষকে কখন কোন পরিস্থিতির সামনে এনে দাঁড় করাবে তা কেউ জানে না। তবে নিয়তি থেকে কেউ পালাতে পারে না, কখনও কেউ পারেনি।
মানুষ তার ভাগ্যের নির্মাতা। একশ ভাগের ৯৫ ভাগ। যেখানে দায় কেবল তার। অন্যকে দোষ দেওয়া চলে না।
এই বইটা পড়ে এবিষয়টা আমি আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করলাম।
মাঙ্কির পাতায় দুইটি পরিবারের অথবা কয়েকটা মানুষের জীবনের গল্পে জেনে বুকের ভেতর কেমন করে উঠতেই মন বলল— এই জীবনের অনেক রঙ, যার সবটা আমরা জানি না। যেটুকু জানি তাতেই আমরা চমকে উঠি।
দড়ি বাবুলের পরিচয় গোপন করতে চেয়েছিলাম, শেষে সিদ্ধান্ত পাল্টালাম, দড়ি বাবুল একজন মাস্তান, অনুরক্ত মাস্তান, তার বিশ্বাসের জায়গা বড়ই টনটনে। দড়ি বাবুলকে বড় ভালো লাগল আমার। কেমন একটা মায়া পড়ে গেছে এই মানুষটার প্রতি।
আহা রে কায়সার আর তার প্রেমিকা নাজিয়া এখন কোথায় আছে? কেমন আছে?
ওদের দু-হাত কী এই সমাজ-সংস্কার আলাদা করে দিতে পেরেছিল, নাকি ওরা জীবনভর পালিয়েই বাঁচল?
নাকি ওরা বেঁচে ফিরতে পারেনি আর…
কী জানি, জানি না ত…
সবকিছু জানা মানুষের সাধ্য নেই।
লেখকরা অনেক কিছু দেখতে পায়, অনেক কিছু জানলেও,
কায়সার আর নাজিয়ার শেষ পরিনতি বলার ক্ষমতা কী লেখকের আছে?
এই প্রশ্নের উত্তর বইয়ের পাতায় তুলে রেখেছেন ডিয়ার লেখক।
পাঠক এখন বইয়ের পাতায় মুখ ডুবিয়ে দিক…
৫.
একবসায় পড়ার মতো আরেকটা উপন্যাস পড়ার আনন্দ উপহার দেওয়ার জন্য লেখক মঈনুল আহসান সাবের সাহেবকে আবারও টুপি-খোলা অভিবাদন জানাই।
মাঙ্কি
মঈনুল আহসান সাবের
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০১২
প্রকাশন : দিব্যপ্রকাশ
প্রচ্ছদ : আহসান সাজিদ
মূল্য : ১০০ টাকা
