তোমার হল শুরু: আমার হল সারা

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ পূজা,প্রেম, প্রকৃতি, বিচিত্র, আনুষ্ঠানিক, গীতিনাট্য ও নৃত্যনাট্য প্রভৃতি বিভিন্ন পর্যায়ের গান আপন মনে রচনা করেন। তাঁর প্রতিটি গান সৃষ্টির পিছনে আবেগ, অনুভূতি, পরিবেশ, পরিস্থিতি, বিষয়, অনুভব এবং প্রেক্ষাপট রয়েছে। তাঁর রচিত ‘তোমার হল শুরু, আমার হল সারা’ গানটি বিচিত্র পর্যায়ের।

রবীন্দ্রনাথ অবলীলায় বলেছেন শুরু যেমনি রয়েছে, তেমনি সেটার সমাপ্তি অবধারিত। তবে যদি কাজের মধ্যে নিয়মানুবর্তীতা থাকে। তা হলে শুরু ও শেষের মধ্যে সামঞ্জস্যের ধারা বহমান। মানবকুল রাত্রিতে ঘরে বাতির আলোর বিচ্চুরণ উপভোগ করে। আবার প্রকৃতির অপরূপ মহিমা উপভোগ করে। ঘরের আলো এবং তারা মানুষের মনকে মায়াবি করে তোলে। কী অপরূপভাবে তিনি বলেন ‘তোমার আছে ডাঙা, আমার আছে জল’। ডাঙা ও জলের সম্পর্ক সুন্দরভাবে চিত্রিত করেন। আবার তিনি বলেন ‘তোমার বসে থাকা, আমার চলাছল’। অর্থাৎ ডাঙা তো স্থির। নদীর রাতে তো অবিরাম অক্লান্ত। তুমি তো সংগ্রহশীল। আর আমার হাতে শুধু হয় ক্ষয়। তোমার মনে ভয় রইলেও,আমি কিন্তু সাহসী।

রবীন্দ্রনাথ উল্লিখিত গানটি ৫৪ বছর বয়সে ১৩২২ বঙ্গাব্দের ২৭ চৈত্র মাসে  অর্থাৎ ইংরেজির ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দের ৯ এপ্রিল শান্তিনিকেতনে রচনা করেন। এই গানটি প্রকাশ হয় আশ্বিন ১৩২৫; প্রবাহিণী‘তে এবং অগ্রহায়ণ ১৩৩২ ‘অবসান’ অংশে।১ বিলাতি সুরের গানের নজির আলোচনায় শান্তিদেব ঘোষ লিখেছেন (রবীন্দ্রসঙ্গীত ১৩৬৯) এই গানটিতে বিলেতি চার্চ-সঙ্গীতের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এই গানটিতে চার্চ-সঙ্গীতের ধীর গাম্ভীর্য প্রকাশ পেয়েছে।২ জনপ্রিয় এই গানটি :

তোমার হল শুরু, আমার হল সারা—

তোমায় আমায় মিলে   এমনি বহে ধারা।।

তোমার জ¦লে বাতি     তোমার ঘরে সাথি—

আমর তরে রাতি,      আমার তরে তারা।।

তোমার আছে ডাঙা,    আমার আছে জল

তেমার বসে থাকা,      আমার চলাচল।

তোমার হাতে রয়,      আমার হাতে ক্ষয়

তোমার মনে ভয়, আমার ভয় হারা।।৩

রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি এই ভুবনে বড় সাথি। তাঁর সৃষ্টির নানারূপতা এক অমূল্য সম্পদ। তাই তো মানবচিত্তে শক্তিরধারা বহমান রাখতে বারবার ফিরে যেতে হয় রীবন্দ্রনাথের কাছে। রবীন্দ্রনাথ শিখেয়েছেন বৈচিন্ত্য।

তথ্যসূত্র :

১.     প্রবীর গুহ ঠাকুরতা, রবীন্দ্রসঙ্গীত মহাকোষ, প্রথম প্রকাশ, নভেম্বর ২০১৩, প্রকাশক, দে‘জ পাবলিশিং, কলকাতা, পৃ. ৬১৩

২.     ঐ, পৃ. ৫৭৩

৩.    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গীতবিতান, প্রকাশ, প্রথম সাহিত্য সৌরভ সংস্করণ, ২০০৩, প্রকাশক, সাহিত্য সৌরভ, ঢাকা, পৃ. ৩২২

পীযূষ কুমার ভট্টাচার্য্য : লেখক ও নজরুল গবেষক, বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন