নজরুল সংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন আর নেই

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও নজরুল সংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন আর নেই। তিনি আজ বুধবার দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।

বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে। ডালিয়া নওশীনের দুই ছেলে, একজন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে, আরেকজন স্পেনে।

ডালিয়া নওশিনের বয়স যখন ১৪ বছর। তখন তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন শব্দসৈনিক ছিলেন। এপ্রিল মাসে পরিবারে সঙ্গে কলকাতায় যান। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে গঠিত ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’য় যোগদান করে কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেন। তাদের দল প্রথমে ‘রূপান্তরের গান’ নামক গীতিনাট্যে গাইলেও পরে এই গীতিনাট্যের নাম পরিবর্তন করে মুক্তির গান নাম দেওয়া হয়। নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে সঙ্গীত পরিবেশন করার পর তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যুক্ত হন।

সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে। ডালিয়া নওশীন দেশের প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের মেয়ে।

মৃত্যুখবর পেয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন নজরুল একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা কবি তালিম হোসেনের ছোট মেয়ে নজরুলসংগীত শিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী। তিনি লিখেন, ‘‘শ্রদ্ধেয় ডালিয়া আপা এমন একজন কণ্ঠশিল্পী যিনি খুউব অসুস্থ থাকা অবস্হায়ও অপূর্ব গাইতেন। ছোট থেকে যে সুর, তাল, লয়, জোয়ারী, আবেগ, কণ্ঠের মিষ্টি কারুকাজ সমেত গায়কী….সর্বোপরি কণ্ঠের দাপট শুনে এসেছি, সেইটি আমি শেষের পরিবেশনায়ও একই শুনেছি! বলতামও তাঁকে সেটা…খুশি হতেন। মিটমিট করে তাঁর স্বভাব সুলভ হাসি দিয়ে তাকিয়ে থাকতেন। বুঝিয়ে দিতেন হয়ত…‘চর্চায় থাকার সুফল!’ আপা, অনেক শ্রদ্ধার সাথে আপনার আত্মার শান্তি কামনা করছি। আপনি বেহেশত নসীব হোন এই দোয়া…আমিন।’’

আরও পড়ুন