সালাহ উদ্দিন মাহমুদের কবিতাগুচ্ছ

হিম হিম অনুভূতি
যখন গ্রামের পথ-ঘাটজুড়ে নেমে আসতো শীত;
ঘন কুয়াশায় ভরে যেত সামান্য গরিবি উঠান।
আবছা আলোয় কম্পমান শিশুরা যেত মক্তবে—
সুরা ফাতিহার সুরে জেগে উঠতো ম্রিয়মান সূর্য।
বাজারের ব্যাগ হাতে ছুটে যেতেন সিরাজ দাদা,
কানটুপি-মাফলারে তাকে একদমই চেনা দায়।
তবু যেন হিম হিম অনুভূতি প্রিয়তমার মতোই—
আমাদের বুকে কাঁপন জাগায়—জাপটে ধরে।
আমার কিছু মানুষ দরকার
আমার কিছু মানুষ দরকার—
যাদের সঙ্গে হাসতে পারি;
যাদের সঙ্গে গাইতে পারি,
একজনমের গল্পগুলো
সবার কাছে বলতে পারি।
আমার কিছু মানুষ দরকার
যারা খুব বন্ধুবৎসল-উপকারী
আমার ঘরে অনুষ্ঠানে গায়ে খাটবে
সবশেষে যা থাকে তা-ই খাবে।
আমার কিছু মানুষ দরকার
তিনজনে এককাপ চা খাবে
খালি পকেটে ক্ষুধা নেই বলে
রাতভর গল্প করে কাটিয়ে দেবে।
আমার কিছু মানুষ দরকার
যারা হাসপাতালে রাত জাগবে
নাওয়া-খাওয়া চুলায় যাক
রক্ত পেতে সারাশহর চষে বেড়াবে।
আমার কিছু মানুষ দরকার
রোগের কাছে হেরে গেলে—
শোক সংবাদের মাইক ধরবে
জানাজায় সবার পেছনে
চুপিসারে চোখের জল ফেলবে।
আমাদের গল্প
মাঝরাতে ডেকে যায় একটা হুতুম প্যাঁচা;
তুমি আৎকে ওঠো যেন অকল্যাণের ভয়ে।
আমাদের গল্পের ভিড়ে উড়ে যায় রাতজাগা পাখি,
আমাদের চোখে ঘুম নেই—জমে থাকে কথারা।
দিনকানা প্যাঁচাগুলো অন্ধকারে খুঁজে পায় দিশা;
তারা সবচেয়ে বেশি চোখে দেখে রাতের গভীরে।
আমাদের গল্প থেমে যায়—তোমার থমথমে শরীর
হঠাৎ আঁকড়ে ধরে আমাকে, আমাদের নতুন গল্প
শুরু হয় আগামীর অপেক্ষায়—আলো ফুটবে বলে।
স্মৃতি রোমন্থন
গলায় যখন ট্যালকম পাউডার দেওয়ার বয়স;
তখন ভালো লেগেছিল বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়াকে।
ইংলিশ প্যান্ট পরার বয়সে থকথকে কাদায়
আটকে গেলে জাম্প কেডস; হেসে উঠতো যে মেয়েটি—
একদিন দেখা না হলে কেমন অসহ্য যন্ত্রণা হতো।
ভালোবাসার কথা বলতে না পারা মন যেন উচাটন।
যদিও প্রথম গোলাপ কেনার বয়স আমার মনে নেই,
মনে নেই প্রথম চকলেট কিংবা আইসক্রিমের কথা।
কবিতায় সেইসব স্মৃতি রোমন্থন করলেই তোমরা
বলো, ‘কী আবেগ! কী আবেগ! ছেলেটা গেলো—’
অথচ জীবন কি এর বাইরে? জানি, এসব না
বললেও হয়তো চলে—এমন করেই চলে যায় তো!
বিরহের গান
যে কথা পুষে রাখো মনে
যে ব্যথা হৃদয়ে গোপনে
তা যায় না জানা
তা যায় না দেখা
লেখা থাকে অশ্রুজলে
তা হারিয়ে যায় অতলে।
যে ভার বয় না তো কেউ
যে দিঘি তোলে না যে ঢেউ
তা যায় না বোঝা
তা হয় না সোজা
দুঃখের ফেরিওয়ালা জানে
কী সুর বাজে বিরহের গানে।
