হাজারীবাগে প্রথম নারীদের জন্য বাংলাদেশ বুক অলিম্পিয়াড

আমরা শুধু জ্ঞান অর্জনের জন্য বই পড়ব না, আমাদের অনুধাবন চর্চা করার জন্য বই পড়ব, তাহলে আমরা জীবন সার্থক হবে। শুধু মাত্র বই পড়ে তথ্য জানাটার চেয়ে অনুধাবন করা জরুরি।
‘স্বপ্ন দেখি বই পড়ি’ এই স্লোগানে মুক্ত আসরের উদ্যোগে বাংলাদেশ বুক অলিম্পিয়াড কমিটির আয়োজনে আজ সকালে রাজধানীর হাজারীবাগ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বুক অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি পর্ব-২ অনুষ্ঠানে অনুবাদক ও শিক্ষক এলহাম হোসেন এই বক্তব্য দেন।
সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত পরিবেশেনার মধ্যে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ যারা ছেড়ে গেছেন তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক ও শব্দঘর সম্পাদক মোহিত কামাল।

মোহিত কামাল বলেন, ‘আমরা মোবাইল দেখব কিন্তু সেটা সব সময়ে দেখব না, বই পড়ব, খেলাধুলা কবর, উল্লাস করব, তাহলে আমাদের মন বিকাশিত হবে।’
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট থেকে ভিডিওর মাধ্যমে অংশ নেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান। তিনি বলেন, ‘এই বুক অলিম্পিয়াডে যারা অংশ গ্রহণ করছো তাদের তিনটি কথা জানা দরকার বই সর্ম্পকে। প্রথমত, বই হচ্ছে মানুষের আজীবনের বন্ধু। বই কখনো মানুষকে ছেড়ে যায় এবং বই কখনো তোমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে করে না। দ্বিতীয়ত, এই বইয়ের মাধ্যমে তুমি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ-অঞ্চল, বিভিন্ন মানুষ, মানুষের যাপিত জীবন, সাংস্কৃতিক ও তার সাহিত্য এগুলোকে জানতে পারবে। তৃতীয়ত, এই বুক অলিম্পিয়াডে একটা কথা বলা হয়েছে, ‘বই পড়ি, স্বপ্ন আঁকি।’ বই মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, বই মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগায়, বই মানুষকে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

এছাড়া অনুষ্ঠানের বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বুক অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, আলোকচিত্রী ও লেখক সাহাদাত পারভেজ, হাজারীবাগ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আমান উর রশিদ, শিক্ষক মুস্তারিন আক্তার, আমিই নজরুল এর পরিচালক উম্মে রুমা ট্রফি, সহ পরিচালক সংগীতা পাল, কবি শাহনাজ পারভীন মিতা, বাংলাদেশ বুক অলিম্পিয়াডে সমন্বয়ক আয়শা জাহান নূপুর, যোগাযোগ সমন্বয়ক আবুল বাশার মিরাজসহ প্রমূখ।

শিক্ষার্থীরা গান, আবৃত্তি ও নাচ পরিবেশন করে। বুক অলিম্পিয়াডে ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সেখান থেকে ২২ জনকে জয়ী করা হয়। তাদের বই ও সনদ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল বই প্রদর্শনী। বাংলাদেশ বুক অলিম্পিয়াড আয়োজনে সহযোগিতা করে স্বপ্ন ’৭১ প্রকাশন, বইচারিতা, কাঠবিড়ালি ও শব্দঘর।
