‘লেজকাটা টিকটিকি’ কিশোরদের একটি দারুণ উপন্যাস

টিকটিকি আমি পছন্দ করি না।
আই হেট টিকটিকি।
ইচ্ছে করে সবগুলোকে মেরেটেরে ভর্তা করে ফেলি। কিন্তু টিকিটিকি আমি এতই অপছন্দ করি যে, ওদের দিকে ফিরে তাকাতেও ভয় হয়, অস্বস্তি লাগে, এমনকি ওদের ছবির দিকেও আমি চোখ রাখি না। সেজন্যে ওরা এখনও আমাদের বাসায় দিব্যি ঘর-সংসার করে যাচ্ছে নিশ্চিন্তে। মাঝেমধ্যে ওদের দেখলে মনে হয় ওরা-ই বাড়িওয়ালা আর আমি ভাড়াটিয়া।

এইরকম একটা অবস্থার মধ্যে হাতে এসে পড়ল একটা— লেজকাটা টিকটিকি!
তোমরা ভাবো তো একবার, আমার অবস্থা এখন কেমন ভয়ংকর?
ব্যাটা একদম আমার হাতের উপর এসে পড়েছে, ওটাকে সরাতেও পারছি না। কী যে করি!

লেখকরাও যেন কেমন, বইয়ের নাম দিয়েছে— লেজকাটা টিকটিকি!
উ: আর কোনো নাম কী ছিল না?
বইটার লেখক আবার দন্ত্যস রওশন।
তাকে আমি আবার ভালো পাই, তিনি-ও আমাকে বিশেষ স্নেহটেহ্ন করেন। তিনি ছোটদের জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর গল্প লিখেন। সে গল্পগুলো আমি পড়ি, ভালো লাগে। 
কী মুশকিল কী মুশকিল!

আমি আবার বইখাদক। বই পেলে-ই খেয়ে ফেলি। মানে পড়ে ফেলি।
তার উপর বইটা লিখেছেন প্রিয় একজন লেখক।
কিন্তু বইটার টপিক হচ্ছে টিকটিকি, তাও আবার লেজকাটা! উঃ
শরীর শিরশির করছে, ঘিনঘিন করছে…

যা থাকে কপালে, বইটা হাতে নিলাম, পড়লামও!!
কী দারুণ, কী দারুণ!

ছোট মামা, ছোট চাচা, ছোট মাচু— নোটমুদ্দি! সকালবেলা দড়াম করে দরজা লাগাতে গিয়ে একটা ছোট টিকটিকির লেজ কাটা গেল। 
কী সর্বনাশ!
তারপর কাটা লেজটার ছটফটানি দেখে দুঃখও হয়েছিল বেশ নোটমুদ্দির।

এবার আমারও ওই লেজকাটা টিকটিকিটার জন্য একটু মন খারাপ হলো, আহা বেচারা! লেজটা কাটা পড়ল!

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো সে-ই লেজকাটা টিকটিকিটা আর ছোট্টটি নেই—
ওটা এখন বিরাট সাইজের একটা টিকটিকিতে পরিণত হয়েছে। দেখতে ঠিক প্রায় কুমিরের মতো। 
একরাতে সে টিকটিকিটা ছোট চাচুর রুমে আসে। ছোট চাচুকে মামা বলে ডাকে। এসে সোফায় বসে। ছোট চাচুও বলল, তা ভাগনে তোমার অবস্থা এমন হলো কেন?

তখন টিকটিকিটা বলল, মামা তুমি যখন সকালে দরজা বন্ধ করলে, আর অমনি আমার লেজটা খসে পড়ল। তারপর তোমার ওপর এবং সব মানুষের ওপর আমার ভীষণ রাগ হলো। আমি যতই রাগি, ততই বড় হতে থাকি। রাগতে রাগতে আর বড় হতে হতে এখন আমি আস্ত একটা কুমির হয়ে গেছি, মাচু।

এরপর ছোট চাচু ওটাকে চা খেতে দেয়। লেজকাটা কুমিরটাকে ভাগনে হিসেবে মেনে নেয় বলে টিকটিকিটা অনেক খুশি হয়। এবং লেজকাটার দুঃখ ভুলে যায়। এই ভালোবাসার ফলে টিকটিকিটা মানে কুমিরটা ছোট চাচুকে একটা গিফট পেজেন্ট করে।
একটা আংটি।
একটা আশ্চর্য আংটি।
আংটিটা কথা শোনে।
ওকে যা বলা হবে ও তা-ই করে দেবে।

কী তোমরা কি মনে করছো গল্প শেষ?
না, গল্প তো সবে শুরু হলো। এখনও কত ঘটনাই বাকি…
সব বলে দিলে তোমরা আর পড়বে কী? পড়বে কেন?
তাই না?

তো আংটিটা পেয়ে ছোট চাচুর মনে হলো— কিছু একটা চাওয়া যেতে পারে, কিন্তু কী চাওয়া যায়? সে মনে মনে একটা বাচ্চা হাতি চাইল। 
ওমা, অবাক কান্ড! ঘরের মধ্যে একটা হাতির বাচ্চা। বাচ্চা হাতিটা শুঁড় তুলে চাচুকে বলছে, সালাম বাচু। আপনি ভালো আছেন?
ছোট চাচু এবার নিশ্চিন্ত হলো, আংটিটা আসলে নকল নয়।

তারপর?
তারপর কতশত কান্ডকারখানা, উফ, তোমরা না দেখলে বিশ্বাস করবে না।
তোমরা দ্রুত বইটা পড়ে নিও কেমন?
নয়ত পরে পস্তাবে, যে, এত সুন্দর একটা বই কেন পড়লাম না!

ও হ্যাঁ ভালো কথা, তোমরা কী জানো যে, এই ‘লেজকাটা টিকটিকা’ বইটা আমাদের দেশের জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী ও শিশুসাহিত্যিক ধ্রুব এষ পড়েছেন?
শুধু তাই না, তিঁনি বইটি পড়া শেষে এটাও বলেছেন— বইটা আমি পড়েছি। পিওর ফ্যান্টাসি খুবই কম লেখা হয়েছে বাংলায়। দন্ত্যস রওশন এই অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দানে ব্রতী হয়েছেন।

আরও পড়ুন