গ্রেস কটেজে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্মরণ অনুষ্ঠান

মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ সালের ৩ জানুয়ারি বন্ধু হেমন্ত সরকারের আমন্ত্রণে সপরিবারে কৃষ্ণনগরের গোলাপট্টিতে আসেন। ওই বছরেই নজরুল থাকতে শুরু করেন চাঁদ সড়ক এলাকায় গ্রেস কটেজে। ছিলেন ১৯২৮ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই বসবাসকাল কবির সৃষ্টিশীল জীবনের অন্যতম গৌরবময় সময়। এখানেই রচিত হয় মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস, সূচনা হয় বাংলা সঙ্গীতে ‘গজল’ গানের।
কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত এই গ্রেস কটেজ ২০১২ সাল থেকে হেরিটেজ বিল্ডিং হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। সেখানে ‘সুজন বাসর’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে নজরুল পাঠাগার। নিয়মিতভাবে সেখানে নজরুলবিষয়ক নানা অনুষ্ঠান হয়। কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯ – ১৯৭৬) সারা জীবন মানবতার জয়গান গেয়েছেন। মানুষের হয়েই কলম ধরেছেন। তিনি বারেবারে লিখেছেন ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান…।’

পাশাপাশি তাঁর অনুজ কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও (১৯২০- ১৯৮৫) তাঁর কবিতায় সমকালীন মানুষের দুঃখ, দুর্দশা, অভাব, অনটনের কথাই তুলে ধরেছেন। মানুষের দুঃখে তাঁর প্রাণ কেঁদেছে প্রতিনিয়ত। সেকারণেই হয়তো নজরুলের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল হয়েছেন তাঁর কবিতায়। মনীন্দ্র রায় লেখেন,‘বীরেন্দ্রর সব কবিতাই মানুষের জন্য, মানুষের যন্ত্রণার জ্বালা তীব্র হয়ে বাজে তাঁর কবিতায়…।’
গত ২৪ নভেম্বর নজরুল স্মৃতিবিজড়িত গ্রেস কটেজে সমমনস্ক এই দুই কবির মানবতাবোধ নিয়ে ছায়ানট (কলকাতা) এবং কৃষ্ণনগর কথাশিল্প এক শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানে দুই কবি সম্পর্কে আলোচনা, গান, আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজক সংস্থা ছায়ানটের সভাপতি সোমঋতা মল্লিক স্বাগত বক্তব্যে বলেন এই দুই কবিকে নিয়ে কেন এই আয়োজন সে বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন। ‘মানুষের কবি নজরুল’ বিষয়ে আলোচনা করেন দীপাঞ্জন দে, ‘মানুষের কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’ বিষয়ে আলোকপাত করেন পীতম ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজন পাঠাগার ও নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের সম্পাদক ইনাস উদ্দীন। সোমঋতা মল্লিকের কণ্ঠে নজরুলের দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ হয়।

ছায়ানট (কলকাতা)- এর পক্ষ থেকে কবিতা আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করেন সুকন্যা রায়, দেবযানী বিশ্বাস, মিতালী মুখার্জী, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী, রাজশ্রী বসু, দেবলীনা চৌধুরী এবং অপরাজিতা মল্লিক।

আমন্ত্রিত আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত গাঙ্গুলি, দীপংকর ঘোষ, শম্পা চৌধুরী নাগ, উপাসনা মুখার্জি। দলীয়ভাবে আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন কথাশিল্প, উচ্চারণ, শিব কথোমাল্য আবৃত্তি ও শ্রুতিনাটক চর্চা কেন্দ্র এবং স্বরলিপি সঙ্গীত কেন্দ্র – এর শিল্পীবৃন্দ। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন অন্বেষা মোদক।
