বাংলা ভাষা ‘ধ্রুপদী’ ভাষা হিসেবে ভারতে মর্যাদা পাওয়ায় ছায়ানট কলকাতার বিশেষ আয়োজন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ‘পুবের কলম’ পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলা ভাষা ‘ধ্রুপদী’ ভাষা হিসেবে ভারতে মর্যাদা পাওয়ায় ছায়ানট (কলকাতা) কলকাতার উইসডম্ ট্রি ক্যাফেতে আয়োজন করে ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ-মরি বাংলা ভাষা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের।
গত ৩ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাসহ মারাঠি, পালি, প্রাকৃত ও অসমীয়া ভাষাকে ধ্রুপদি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর আগে সংস্কৃত, তেলেগু, তামিল, মালয়ালম, কন্নড় ও ওড়িয়া ভাষাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। বাংলা ভাষা ‘ধ্রুপদী’ ভাষা হিসেবে মর্যাদা পাওয়ায় স্বভাবত বাঙালিদের খুশি খবর। এই আনন্দঘন মুহুর্তেকে স্মরণ করার জন্য ছায়ানট (কলকাতা)র এমন আয়োজন।

আলোচনা হিসেবে ছিলেন কলকাতার ইন্সটিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের (আইএলএসআর) অধিকর্তা ড. স্বাতী গুহ। ছবি: সংগৃহীত
বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হয়ে যাওয়া অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন কলকাতার ইন্সটিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের (আইএলএসআর) অধিকর্তা ড. স্বাতী গুহ, স্কুল অব লিঙ্গুস্টিক স্টাডিজের অধ্যাপক অমিতাভ দাস ও লিঙ্গুইস্টের ড. রাজীব চক্রবর্তী। আলোচনাসভাটি পরিচালনা করেন রয় চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ‘পুবের কলম’ পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান। দীর্ঘদিন ‘বাংলা’ ভাষাকে কাজের মাধ্যম হিসেবে নির্বাচন করার জন্য ৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সংবর্ধিত করে ছায়ানট (কলকাতা)। লেখক ও প্রতিবিম্ব পত্রিকার সম্পাদক প্রশান্ত মাজী, বাচিক শিল্পী এবং রেডিও ব্যক্তিত্ব রাজা দাস, ক্যুইজ মাস্টার দেবাশীষ সরকার, শব্দবাজির প্রতিষ্ঠাতা রয় চৌধুরী সম্মানিত হন এই সন্ধ্যায়।

আলোচকবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত
‘বাংলা’ ভাষা নিয়ে বিভিন্ন কবির লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন ছায়ানটের বাচিকশিল্পীরা। কবিতা আবৃত্তি করেন স্বপ্নিকা দাস রায়, স্বর্ণিকা দাস রায়, তিস্তা দে, অরণ্য স্পন্দন ভদ্র, সুকন্যা রায়, দেবযানী বিশ্বাস, সুজল দত্ত, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী, দেবলীনা চৌধুরী, সৃজিতা ঘোষ, সোনালী সাহা চৌধুরী, অভিদীপ্তা পাল, সোহালিয়া সিং, শ্রীকান্ত গোস্বামী, অনিন্দিতা ঘোষ এবং মৌমিতা ঘোষ। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল বাংলা শব্দের মজাদার খেলার অনুষ্ঠান শব্দবাজি।

অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করে ক্ষুদ্রে আবৃত্তিকার। ছবি: সংগৃহীত
অনুষ্ঠান শেষে প্রশান্ত মাজী সম্পাদিত ‘প্রতিবিম্ব’ পত্রিকার ৫০ বছর উপলক্ষ্যে নির্মিত অরিন্দম সাহা সরদার পরিচালিত ‘একটি তরবারির রূপকথা’ (স্বল্পদৈর্ঘ্যের কথাচিত্র) প্রদর্শিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা ও পরিচালনার করেন ছায়ানটের সভাপতি সোমঋতা মল্লিক।
