যুক্তরাজ্যে নতুন ও উদীয়মান লেখকদের সাহিত্য উৎসব

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির এক্সচেঞ্জ বিল্ডিংয়ে শনিবার, ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হলো নতুন ও উদীয়মান লেখকদের সাহিত্য উৎসব। আর্ট কাউন্সিল অব ইংল্যান্ড পৃষ্ঠপোষকতায় এই উৎসবটি আয়োজন করে দেশিব্লিটজ। দেশিব্লিটজ একটি এশিয়ান সাংস্কৃতিক সংস্থা।
উৎসবে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন নাদিম আহমেদ, রুকশানা চেনয়-হরউড, হামিশ মরজারিয়া, মুহাম্মদ ইদ্রিশ ও বিলাল আকরাম। আলোচনার পাশাপাশি পাঠকের প্রশ্নের উত্তর দেন। সেখানে ইংল্যান্ডের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা সংস্থার প্রতিনিধিরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লেখক, পাঠক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তরুণ ও উদীয়মান লেখক, সাংবাদিক ও বই বিক্রয়তাদের প্রতিনিধিরা।

উদীয়মান লেখকদের সাহিত্য উৎসবের পোস্টার। ছবি: desiblitz ওয়েবসাইট থেকে
নাদিম আহমেদ দুটি বই লিখেছেন। তাঁর প্রথম বই স্ট্রুট টু সাকসেস। সত্য ঘটনা উপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় বই ডুমড ইন দুবাই লিখেন। এই বই দুটি বাস্তব জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, দুঃসাহসিক মনোভাবকে প্রতিফলিত করে। নাদিম আহমেদ বিবিসি রেডিও ল্যাঙ্কাশায়ারে তার কর্মজীবন শুরু করে। তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভ্রমণ চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র এবং জীবনধারার বৈশিষ্ট্য উপস্থাপনায় নানা স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তিনি বলিউডের কিং অফ বলিউড চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং তার অ্যালবাম বিউটিফুল ড্রিমসসহ আত্মা-প্রশান্তিদায়ক সঙ্গীত সৃষ্টি করেন। তিনি পাঠকদের তাঁর জীবন সর্ম্পকে তুলে ধরেন।
একেই ভাবে লেখক রুকশানা চেনয়-হরউড তাঁর লেখা লাইফ অন এ পোস্টকার্ড বইয়ের জীবনের যুদ্ধ, দুঃসাহসিক কাজের কথা তুলে ধরেন। বইটি পাঠকদের বিচিত্র, জীবনের চেয়ে বড় চরিত্র এবং মজার দৃশ্যের সঙ্গে তিনি পাঠকদের পরিচয় করে দেন।
রুকশানা চেনয়-হরউড জন্মগ্রহণ করেন ইংল্যান্ডে । বেড়ে ওঠেন ভারতের হায়দ্রাবাদে। পড়াশোনা শেষে করে আবার ফিরে যান যুক্তরাজ্যে। ভ্রমণের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। একজন পিপল ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট এবং লিডারশিপ কোচ, চেনয়-হরউড তাঁর প্রথম উপন্যাসে ভ্রমণ ও লেখার প্রতি তাঁর আবেগকে একত্রিত করেছেন। কথাসাহিত্য ও আত্মজীবনীর ভারসাম্য বজায় রেখে লাইফ অন এ পোস্টকার্ড একটি অসাধারণ উপন্যাস।
দ্য কার্স অফ মুজিরিসের লেখক হামিশ মরজারিয়া। এটি একটি ঐতিহাসিক থ্রিলার। প্রথম শতাব্দী ও বর্তমান ভারত এবং রোমে চিত্রায়ন করেনছে এই থ্রিলারে। হামিশের জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তর লন্ডনে। তিনি সর্বদা প্রাচীন ইতিহাস ও বর্তমানের সঙ্গে সংযোগ করে পাঠকদের মুগ্ধ করেন।

‘দ্য মেকিং অব বাংলাদেশ এস আই সো এইট’ বইয়ের লেখকের সঙ্গে আরেক লেখক। ছবি: সংগৃহীত
দ্য মেকিং অব বাংলাদেশ এস আই সো এইট বইটিতে লেখক মুহাম্মদ ইদ্রিশ তুলে ধরেছেন ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রাম কথা। তিনি ব্যক্তিগতভাবে যা দেখেছেন তা এই বইয়ে উল্লেখ করেছেন। যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনির সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ এবং নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন। মুক্তিবাহিনীর সংগ্রামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পরাজয়ের পর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেই সময় ইদ্রিশের বয়স ছিল ২১ বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রাজনীতি এই পরিস্থিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো প্রত্যক্ষ করেন। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক লাভের জন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার আধুনিক প্রচেষ্টার বিপরীতে তিনি সেইসব স্মৃতিগুলো এই বইটি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

উপস্থিত পাঠকের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত
যদিও তিনি একজন ইতিহাসবিদ বা পেশাদার লেখক নন, মুহাম্মদ ইদ্রিশ তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে ঘটনাগুলো উপস্থাপন করেছেন।
বিলাল আকরাম বার্মিংহামের একজন কথাসাহিত্যিক, কবি, চিত্রনাট্যকার এবং কথ্য শব্দ শিল্পী। তিনি তাঁর প্রথম অপরাধমূলক উপন্যাস লিখছেন ‘প্রোফাইল অব দ্য ডেড।’ তিনি সম্প্রতি সৃজনশীল লেখায় এমএ সম্পন্ন করেন। একটি সাপ্তাহিক নিউজলেটার চালান। যা লেখক ও সৃজনশীলদের অনুপ্রাণিত করে।
উৎসবে লেখকরা তাঁর অভিজ্ঞতার সঙ্গে বইয়ের কিছু অংশ উপস্থিত পাঠকদের পড়ে শোনান। শতাধিক পাঠকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী পামেলা জব্বার।
