মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘বুলবুল’ এর ‘সহধর্মী’ সংখ্যা প্রকাশিত

প্রগতিশীল ও মননশীল বুলবুল মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক এস.এম. সিরাজুল ইসলাম–এর উদ্যোগে প্রকাশিত হল ‘সহধর্মী’ সংখ্যা। রোববার মৌলালির রাজ্য যুব কেন্দ্রের স্বামী বিবেকানন্দ অডিটোরিয়াম হলে এই অনুষ্ঠান হয়। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রফিকুল ইসলাম, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুবের কলম–এর সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমদ হাসান ইমরানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উপাচার্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংস্কৃতি জগতকে ‘বুলবুল’ তার বিভিন্ন সংখ্যার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছে, কিন্তু তার যোগ্য মূল্যায়ন আমরা করতে পারিনি। বুলবুল সাহিত্য পত্রিকার জন্য সার্বিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। নানান প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে ‘বুলবুল’ তার নিজস্ব পথে এগিয়ে চলেছে।’
আহমদ হাসান ইমরান বলেন, ‘দীর্ঘ ৫৮ বছর ধরে প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয় বুলবুল, পাশাপাশি বইমেলা সংখ্যা, ঈদ সংখ্যা এবং ডিসেম্বর মাসে বিশেষ সংখ্যাও প্রকাশিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলা ভাষাকে ভালোবেসে, সাহিত্যকে ভালোবেসে নবীন-প্রবীন কবি,সাহিত্যিকরা ‘বুলবুল’ পত্রিকায় লেখা পাঠান। শুরু থেকেই বহু খ্যাতনামা সাহিত্যিক এই পত্রিকার জন্য কলম ধরেছেন। বুলবুল প্রকাশনীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই ‘বুলবুল’ এর এই বিশেষ প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। এই পত্রিকার পথচলা আরও দীর্ঘ হোক।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট সাহিত্যিক জাহিরুল হাসান বলেন, ‘আমরা এক দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। মানুষের মধ্যে ভালোবাসার বদলে ঘৃনাই বেশি জন্ম নিচ্ছে। সাহিত্য আমাদের অন্ধকারকে অতিক্রম করে আলোর পথে নিয়ে যায়, তাই বই পড়ার অভ্যাস অবশ্যই গড়ে তুলতে হবে।’ বুলবুল–এর সম্পাদক এস.এম. সিরাজুল ইসলাম বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের সমাজের স্বাধীনতার পর ‘বুলবুল’ ছাড়া কোনও সাহিত্য পত্রিকা নেই। এদিন তিনি সমাজে পুবের কলম দৈনিকের ইতিবাচক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। বুলবুল দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য এবং সংস্কৃতি জগতে কাজকর্ম করছে। শুধুমাত্র পত্রিকা প্রকাশ করাই লক্ষ্য নয়, বুলবুল উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করেছে। আমি যখন একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের জন্য তোড়জোড় শুরু করেছি তখনই আমার অফিসের সহকর্মী প্রয়াত শ্যামল ঘোষ আমাকে প্রথম উৎসাহ দেন ও নজরুলের প্রয়াত পুত্র বুলবুলের নামে পত্রিকা প্রকাশের অনুরোধ জানান। আমি তাঁর সেই প্রস্তাব মতই বুলবুল নামে পত্রিকা প্রকাশ শুরু করি ১৯৬৮ সালে মৌলভী লেন থেকেই।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. প্রকাশ মল্লিক। অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় পুত্র ‘বুলবুল’-কে নিবেদন করে ছায়ানট (কলকাতা) – এর বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ছায়ানটের সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। বুলবুলকে স্মরণ করে ছায়ানটের পক্ষ থেকে কবিতা পাঠ করেন রাজশ্রী বসু, শিউলি ভট্টাচার্য্য এবং রুনা মুখার্জী। নজরুল গবেষক সোমঋতা বলেন, ‘বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই নজরুল পুত্র বুলবুল – এর নাম নজরুলপ্রেমীদের অন্তরে চিরস্থায়ী করেছেন এস.এম.সিরাজুল ইসলাম। বুলবুলের জন্মশতবর্ষে নজরুল-অনুরাগী হিসেবে তাঁর প্রতি আমার অতল শ্রদ্ধা।’
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ড. দীপা দাস, ড. ফিরোজা বেগম, অধ্যাপক ড. শামিম ফিরদৌস, কবি সিদ্ধার্থ সিং, ড. সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ, ডা. নারায়ণ ভট্টাচার্য্য, কবি অভিজিৎ বিশ্বাস, কবি শিবশঙ্কর বক্সী, ডা. নারায়ণ ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।
