সুফিয়া কামাল: একালে সেকালের কবি

আজ ২০ নভেম্বর নারীমুক্তি, গণতন্ত্র, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯৯৯ সালের আজকের দিনে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯১১ সালে বরিশালের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯) সেকালের কবি। এটা যতটা না কালের বিচারে, তার চেয়ে বেশি কাব্যের বিচারে। তবে স্কুলপাঠ্যে একালেও সুফিয়া কামালকে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। প্রথম কারণ, তাঁর কবিতাগুলো সরল। আর দ্বিতীয় কারণ, যে কারণটি বেশি জোরালো-কবিতার রাজ্যে বাঙালি মেয়েদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে! তাই নারী কবির অংশগ্রহণ প্রয়োজন হলে তিনি প্রায় অবধারিতভাবে চলে আসেন।

সুফিয়া কামাল মনে করতেন, সময় খুব দ্রুত বদলায়। তাঁর ৮৮ বছরের জীবন এই বিবেচনায় বেশ দীর্ঘ। এ সময়ে বাংলা কবিতায় প্রবল ঝংকার নিয়ে হাজির হয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম, গভীর অনুভবকে গভীরতর কল্পনায় রূপ দিয়েছেন জীবনানন্দ দাশ, গ্রামকে আধুনিক চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন আল মাহমুদ। এ সময়ে বাংলা কবিতার ভাব-ভাষা বদলেছে, বাংলাদেশের কবিতার রাজনীতি-রাজধানীও বদলেছে। কবি হিসেবে, সম্পাদক হিসেবে সুফিয়া কামাল সেসবের খবর রাখতেন। কিন্তু তিনি আসলে কেমন কবিতা লিখতেন? লিখতেন প্রায় একই ধাঁচের কবিতা—লেখালেখির দীর্ঘকাল পার করেও তাঁর কবিতা বদলায়নি। প্রথম ও শেষ দিকের কাব্য থেকে দুটি উদাহরণ দেওয়া যাক।

প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাঁঝের মায়া প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে। এর নাম-কবিতাটি এ রকম—
অনন্ত সূর্যাস্ত-অন্তে আজিকার সূর্যাস্তের কালে
সুন্দর দক্ষিণ হস্তে পশ্চিমের দিকপ্রান্ত-ভালে
দক্ষিণা দানিয়া গেল, বিচিত্র রঙের তুলি তার—
বুঝি আজি দিনশেষে নিঃশেষে সে করিয়া উজাড়…
(‘সাঁঝের মায়া’, সাঁঝের মায়া)

১৮ মাত্রার অক্ষরবৃত্তে লেখা-দুটি পর্ব ৮ ও ১০ মাত্রায় বিভক্ত। অন্ত্যমিল আছে, প্রবহমানতা আছে। বেলাশেষে প্রকৃতির রূপ কবিমনে যে ভাব তৈরি করেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে লেখা এটি একটি পুরোদস্তুর রোমান্টিক কবিতা।

আবার ১৯৭০ সালে প্রকাশিত মৃত্তিকার ঘ্রাণ কাব্যের একটি কবিতায় আছে—
দীপ্ত দ্বিপ্রহরে যবে চাহি এই ধরণীর পানে,
ধরণীও চাহে যেন রৌদ্র-দগ্ধ ক্লান্ত দু’নয়ানে!
শুষ্ক তপ্ত ক্লান্ত চোখে ফুটে ওঠে নির্মম নিরাশা—
ব্যর্থ ভালবাসা ভরা ধরার বুকের মৌন ভাষা।…
(‘দীপ্ত দ্বিপ্রহরে’, মৃত্তিকার ঘ্রাণ)

বিন্যাস ও ছন্দের দিক থেকে এটিও ৮ ও ১০ মাত্রার সম্মিলনে ১৮ মাত্রার অক্ষরবৃত্ত। তার মানে, একই তাল, একই গতি। আগের মতোই অন্ত্যমিলযুক্ত, তবে এবার প্রবহমানতা হারিয়েছে। রৌদ্রতপ্ত দুপুর কবিহৃদয়কে নাড়া দিয়ে আরেকটি রোমান্টিক কবিতার জন্ম দিয়েছে। কেউ বলে না দিলে বোঝা কঠিন, এ দুটি কাব্যের ব্যবধান তিন দশকের বেশি এবং এ সময়ের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে তাঁর আরও ছয়টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

উনিশ শতকের শুরুতে মধ্যযুগের পয়ার ছন্দ ভেঙে যায়। একই সঙ্গে কবিতার আরেকটি বদল ঘটে। মধ্যযুগের এলানো দীর্ঘ কাহিনির বদলে কবিতা হয়ে ওঠে সুসংবদ্ধ ও ছোট। সুফিয়া কামালের আগে-পরের আধুনিক কবিরা কবিতা বলতে সুসংবদ্ধ ছোট আয়তনের পঙ্ক্তি-বিন্যাসকেই বুঝে থাকেন। এই সীমায়িত কাঠামোর মধ্যেও বড় কবিরা নিজ নিজ কাব্যভাষা ও প্রকাশভঙ্গি তৈরি করে নেন। যেমন আবুল হোসেন যুগের পরিবর্তনকে কবিতার উপকরণ করেছেন, ফররুখ আহমদ শব্দ ও প্রতীক ব্যবহারে আরব ভূমির দিকে মুখ ঘুরিয়েছেন, শামসুর রাহমান কবিতায় পরিচিত গল্প শুনিয়েছেন, হাসান হাফিজুর রহমান সময়ের বদলকে বিন্যস্ত করেছেন, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ উচ্ছ্বাসকে গীতল ছড়ার ছন্দে রূপ দিয়েছেন। এর মানে, কবিরা বড় ও বিশেষ হয়ে ওঠেন তাঁদের নিজেদের অঙ্গীভূত কাব্যভাষা ও প্রকাশভঙ্গি দিয়ে।

সুফিয়া কামালকে কবিতায় আলাদা করে চেনা যায় তাঁর ‘সেকেলে’ পদ্যের ভঙ্গি দিয়ে। ‘সেকেলে’ বলতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানসী (১৮৯০) কাব্যের কাল-পর্যায়টি বিবেচনায় নিন এবং এই কাব্যের একটি কবিতার সঙ্গে সুফিয়া কামালের আগে উদ্ধৃত কবিতাংশ দুটি মিলিয়ে দেখুন—
অন্ধকার তরুশাখা দিয়ে
সন্ধ্যার বাতাস বহে যায়।
আয় নিদ্রা, আয় ঘনাইয়ে
শ্রান্ত এই আঁখির পাতায়।
কিছু আর নাহি যায় দেখা,
কেহ নাই, আমি শুধু একা—
মিশে যাক জীবনের রেখা
বিস্মৃতির পশ্চিমসীমায়।
(‘গোধূলি’, মানসী)
এ ধরনের ‘সেকেলে’ কবিতায় বিশেষভাবে দুই ধরনের শব্দের প্রয়োগ ঘটে—ভারী ও কোমল। মূলত কবিতায় ছন্দ মিলানোর প্রয়োজনে এবং ভাবোচ্ছ্বাস প্রকাশের আয়োজনে ভারী শব্দের প্রয়োগ ঘটে। আবার এই একই কারণে কবিতায় কোমল শব্দেরও প্রয়োগ ঘটে। তবে কোমল শব্দগুলো জায়গা করে নেয় নিজের রূপের বদল ঘটিয়ে। গদ্যভাষায় সাধারণভাবে এই দুই বিশেষ ধরনের শব্দের প্রয়োগ হয় না। এগুলো বিশেষত পদ্যেরই ভাষা। সুফিয়া কামালের কবিতায় তাই ‘সূর্যাস্ত-অন্তে’, ‘দক্ষিণ হস্তে’, ‘দিকপ্রান্ত-ভালে’, ‘দ্বিপ্রহরে’, ‘ধরণীর’, ‘রৌদ্র-দগ্ধ’ ইত্যাদি ভারী শব্দ যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি ‘আজিকার’, ‘দানিয়া গেল’, ‘তুলি’, ‘যবে চাহি’, ‘পানে’, ‘নয়ানে’ ইত্যাদি কোমল শব্দও পাওয়া যাবে।

সুফিয়া কামাল-কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৭৪ সালে তুলেছেন সাজেদ কামাল।

গদ্যভাষায় এসব শব্দের বদলে দেখা যাবে-‘সূর্যাস্তের শেষে’, ‘ডান হাতে’, ‘দিকের কিনারায়’, ‘দুপুরে’, ‘পৃথিবীর’, ‘রোদে পোড়া’, ‘আজকের’, ‘দান করে গেল’, ‘তুলে’, ‘যখন তাকাই’, ‘দিকে’, ‘চোখে’ ইত্যাদি শব্দ।

পদ্যভাষা ও গদ্যভাষার পার্থক্য সেকালের কবি সুফিয়া কামাল বেশ বুঝতেন। তাঁর স্মৃতিচারণামূলক একটি বইয়ের প্রথম অংশ থেকে গদ্যভাষার নমুনা দেখা যাক—
কবি, সাহিত্যিক, সঙ্গীতকার সিকান্দার আবু জাফর আমাকে অনুরোধ করেছেন সেকালের কথা কিছু কিছু লিখে যেতে। আমি যা লিখতে পারি লিখে যাব। কিন্তু সে কথা যেন আত্মজীবনী বলে কেউ মনে না করেন। আত্মজীবনী মহাত্মা গান্ধীই সার্থকভাবে লিখেছেন। অন্য মানুষে তা অসাধ্য। আমি মাত্র সেকালে আমাদের পারিবারিক, সামাজিক, দেশীয় প্রচলিত বিধি-ব্যবস্থার যতটুকু জানতে পেরেছি, তাই লিখে রাখবার চেষ্টা করব। জানি না বর্তমান কালে সে লেখার মান কতটুকু হবে। (একালে আমাদের কাল)

কী ঝরঝরে গদ্য! তবে শুধু ‘ঝরঝরে’ বললে তাঁর গদ্যভাষার সাধারণ প্রবণতাটি বোঝা যাবে না। ‘সেকেলে’ কবিতার মতো এখনে ভারী শব্দ নেই, কোমল শব্দও নেই। এখানে একই সঙ্গে লক্ষণীয়, বিশ শতকের সুফিয়া কামাল কবিতায় উনিশ শতকীয় কাব্যভাষাকে অতিক্রম করতে পারেননি, অথচ গদ্যভাষায় একুশ শতককে স্পর্শ করতে পেরেছেন।

তাই বলা যায়, সুফিয়া কামালের কবিতা নিকট ভবিষ্যতে পাঠক হারাবে, কেবল ইতিহাসের অংশ হয়ে বেঁচে থাকবে। কিন্তু তাঁর গদ্য নিঃসন্দেহে বহু বছর পাঠযোগ্যতা ধরে রাখবে। প্রবন্ধের মতো গল্পের ভাষাতেও সুফিয়া কামাল সময়ের চেয়ে এগিয়ে। একমাত্র গল্পের বই কেয়ার কাঁটার প্রথম গল্পের শুরুর অংশ পড়া যাক—
বহুদিন পরে দেশে ফিরে এসেছি-প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর। পরিবর্তনশীল জগতে পরিবর্তন হয়েছে—কত জায়গায়, কত রকম, কত অভিনব ভাবে! যাকে রেখে গেছ্লাম সলজ্জা কুণ্ঠিতা কিশোরী, তাকে এসে পেয়েছি-সৌভাগ্য গর্বে গর্বিতা, তন্বী, সুন্দরী, রানির মতো মহিমাময়ী। ও যেন আমার দুঃখের দুয়ারে সান্ত্বনা। প্রবাসের জটিল পথ-রেখা আমায় কত রূপে পথ-ভ্রান্ত করতে চেয়েছে, কিন্তু ওর কাজল কালো আঁখির কোমল দৃষ্টির আলোক চকিতে আমায় সাবধান করে দিয়েছে ধ্রুবতারার উজ্জ্বল আলো দিয়ে। (কেয়ার কাঁটা)

সুফিয়া কামালের নানা ছিলেন নবাব। বনেদি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় সুফিয়া কামালকে বাংলা শিখতে হয়েছে ‘আতরাফের ভাষা’ হিসেবে। এই শেখার কাজটি বিদ্যালয়ে ঘটেনি, তাঁর মা সাবেরা খাতুন মেয়েকে বাংলা পড়া শিখিয়েছেন। সুফিয়া খাতুনের এই ঘরোয়া শিক্ষা কতটুকু পূর্ণতা পেয়েছিল, তা খানিক বোঝা যায় সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের স্মৃতিচারণা থেকে। নাসিরউদ্দীন বলেছেন, ‘১৩৩৩ সালের ফাল্গুন মাসে সুফিয়া এন হোসেনের একটি কবিতা আমার হস্তগত হয়। কবিতাটি তিনি একটানা লিখে গেছেন। কোথাও দাঁড়ি-কমা দেননি। তাঁর হাতের আঁকাবাঁকা অক্ষরের লেখা পাঠোদ্ধার করাও ছিল কষ্টকর। কবিতাটির কোনো নামও তিনি দেননি। তিন-চারবার পড়ে লাইন ঠিক করে, যথাস্থানে কমা, দাঁড়ি ইত্যাদি বসিয়ে কবিতাটি আবার পড়লাম। এবার লেখাটি ভালো লাগল।’ কবিতাটি বাসন্তী নামে ছাপা হয় সওগাতের চৈত্রসংখ্যায়—
আমার এ বনের পথে
কাননে ফুল ফোটাতে
ভুলে কেউ করত না গো
কোন দিনে আসা-যাওয়া।
সেদিন ফাগুন প্রাতে
অরুণের উদয় সাথে
সহসা দিল দেখা
উদাসী দক্ষিণ হাওয়া।

নাসিরউদ্দীন আরও লিখেছেন, ‘তিনি এমন সহজ-সরল ভাষায় ভাব ব্যক্ত করেছেন, যা দেখে মনে হলো উচ্চশিক্ষিত না হলেও ইনি একজন স্বভাবকবি।’ সুফিয়া কামালের কবিতায় মুগ্ধ হয়েছেন কাজী নজরুল ইসলামও। তবে তাঁর মুগ্ধতা কবিতার ভাষায় নয়, ভাবে। সাঁঝের মায়া সম্পর্কে নজরুল বলেছেন—
সাঁঝের মায়ার কবিতাগুলি সাঁঝের মায়ার মতোই যেমন বিষাদঘন, তেমনি রঙিন—গোধূলির রংয়ের মতো রঙিন। এ সন্ধ্যা কৃষ্ণা-তিথির সন্ধ্যা নয়, শুক্লা চতুর্দশীর সন্ধ্যা। প্রতিভার পূর্ণচন্দ্র আবির্ভাবের জন্য বুঝি এমনি বেদনাপুঞ্জিত অন্ধকারের, বিষাদের প্রয়োজন আছে। নিশীথ-চম্পার পেয়ালায় চাঁদনীর শিরাজী এবার বুঝি কানায় কানায় পুরে উঠবে। বিরহ যে ক্ষতি নয়, সাঁঝের মায়াই তার অনুপম নিদর্শন।

প্রথম কাব্যের পর বের হয় মায়া কাজল (১৯৫১), মন ও জীবন (১৯৫৭), উদাত্ত পৃথিবী (১৯৬৪), দীওয়ান (১৯৬৬), প্রশস্তি ও প্রার্থনা (১৯৬৮), অভিযাত্রিক (১৯৬৯), মৃত্তিকার ঘ্রাণ (১৯৭০) এবং মোর যাদুদের সমাধি পরে (১৯৭২)। কাব্যভাষায় ও ভাবপ্রকাশে সুফিয়া কামাল যে অপরিবর্তিত রয়ে গেলেন, এটি তাঁর প্রথম ও শেষ দিকের কবিতা দিয়ে দেখানো গেছে। এখন কাব্যচর্চার মধ্য পর্যায়ের একটি কবিতা দিয়ে বিষয়টি আরেকবার মিলিয়ে নেওয়া যাক—
মৌসুমি ফুলের গান মোর কণ্ঠে জাগে নাকো আর
চারিদিকে শুনি হাহাকার।
ফুলের ফসল নেই, নেই কারো কণ্ঠে আর গান
ক্ষুধার্ত ভয়ার্ত দৃষ্টি প্রাণহীন সব মুখ ম্লান।
(‘জাগো তবে অরণ্য কন্যারা’, উদাত্ত পৃথিবী)

৮ ও ১০ মাত্রার অক্ষরবৃত্তে রচিত। লক্ষ করা যায়, সুফিয়া কামালে ৮ + ১০ মাত্রার অক্ষরবৃত্ত বেশি। তবে ৬ মাত্রার মাত্রাবৃত্তও আছে—
শুরুর দিকের কবিতায়:
/বরষার গান/ সারা হয়ে হলো/ শরতের ঋতু/ শেষ।
/হরিৎ বসনে/ আবরি অঙ্গ/ ধরণী তাপস/ বেশ
/ধরিয়াছে হেরি/ আজি—
/মেঘমল্লার/ শেষ করি বাঁশি/ পূরবীতে ওঠে/ বাজি।
(‘শরৎ আবার যেদিন আসিবে’, সাঁঝের মায়া)
শেষের দিকের কবিতায়:
/তখনও নেশা/ কাটেনি নিশির,/ নয়নে আবেশ/ ভরা,
/শিউলির পাঁতি/ শিথিল হয়েছে,/ গন্ধ-বিধুর/ ধরা।
/গৃহ-বাতায়ন/ রেখেছিনু খুলে/ নিভায়ে প্রদীপ/ মোর—
/শিশির পশিয়া/ জুড়াইবে বলি/ হৃদি-হাহাকার/ ঘোর!
(‘সোহাগ-ভীতু’, মৃত্তিকার ঘ্রাণ)
মাত্রাবৃত্তে সুফিয়া কামালের স্বচ্ছন্দ বিচরণ দেখা যায়। এই ছন্দে কবির ভাব ও ভাষার সহজ প্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে, অক্ষরবৃত্তের দীর্ঘ চরণে কবি মাত্রাবিন্যাস ঠিক রাখতে বেশি মনোযোগী থাকায় কবিতার ভাব ও ভাষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুফিয়া কামালের কবিতার প্রধান গুণ রোমান্টিকতা। এই রোমান্টিকতাকে হাসান হাফিজুর রহমান বলেছেন ‘আটপৌরে ব্যবহারিক রোমান্টিকতা’। আংশিক অর্থে কথাটি সত্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আটপৌরে ঘরগৃহস্থালির প্রসঙ্গ তাঁর কবিতার কাঠামো তৈরি করেছে বটে, কিন্তু প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে পঙ্ক্তিতে বিন্যস্ত হৃদয়ের অনুভব চোখে-দেখা প্রকৃতি থেকে উৎসারিত।

তারিক মনজুর : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

(লেখাটি বইচারিতার প্রিন্ট সংস্করণের ২০২৩ সালের জুন মাসে প্রকাশিত হয়।)

আরও পড়ুন